বাংলাদেশে এখন নতুন গালি 'বিশ্ব বাটপার ইউনূস'
হারিয়ে গেছে পুরোনো গালি মীরজাফর, সবার মুখে মুখে এখন নতুন গালি ‘বিশ্ব বাটপার ইউনূস’

মীরজাফরের জায়গা নিল ‘বাটপার ইউনূস’, দেশজুড়ে তীব্র জনরোষের নতুন বহিঃপ্রকাশ। ছবি : আজকের কথা
ইতিহাসে বেইমানি বা বিশ্বাসঘাতকতার প্রাচীন প্রতীক বাংলাদেশের সেই মীরজাফরকেও পেছনে ফেলে সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এখন তীব্র ক্ষোভের নতুন প্রতীক হয়ে উঠেছে ‘বিশ্বাবাটপার ইউনূস’ শব্দটি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ওঠা তীব্র জনরোষ, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং গুরুতর আইনি লঙ্ঘনের প্রেক্ষাপটে এই নতুন সম্বোধনটি এখন মুখে মুখে ঘুরছে।
জাতীয় দৈনিক ‘কালের কণ্ঠ’, ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল ‘দৈনিক আজকের কথা’ এবং প্রবীণ সাংবাদিকদের রাজনৈতিক বিশ্লেষণে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এই নজিরবিহীন গণঅসন্তুোষের চিত্রটি বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে।
‘৮০ ভাগ মানুষের দাবি বিশ্ববাটপার ইউনুসের ফাঁসি চাই’
পত্রিকার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ ড. ইউনূসের ফাঁসির শাস্তি কামনা করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে ১৮ মাসের শাসনামলে মব সহিংসতা, শত শত মানুষের হত্যা, খুন এবং ধর্ষণের মতো চরম অপরাধে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, তাঁর আমলে দেশের স্বাভাবিক আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় নজিরবিহীন ধিক্কার: এক পোস্টে ৪,০০০ গালি
দৈনিক আজকের কথা পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ড. ইউনূসের একটি ঈদ শুভেচ্ছা পোস্টে নেটিজেনরা তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন।
মন্তব্যের অনুপাত: পোস্টটিতে আসা মোট ৬,০০০টি মন্তব্যের মধ্যে ৪,০০০টিরও বেশি মন্তব্যই ছিল সরাসরি নেতিবাচক এবং আক্রমণাত্মক।
সাধারণ ব্যবহারকারীরা তাঁকে ‘বাটপার’, ‘চিটার’, ‘সুদখোর’ ‘বিশ্ব বাটপার ইউনুস’, ‘রাজাকার’ এবং ‘দেশ ধ্বংসকারী’ বলে আখ্যায়িত করে গালিগালাজ করেছেন।
নোবেল বিতর্ক: ফেসবুকের মন্তব্যগুলোতে অনেকেই লিখেছেন, ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারটি গ্রামীণ ব্যাংকের দরিদ্র নারীদের কিস্তির টাকায় কেনা, যা তিনি নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন।
সাংবাদিক আনিস আলমগীরের কড়া চাবুক: ‘ইউনূস একটি বিশ্ব বাটপার’
ড. ইউনূসের এই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক আনিস আলমগীর। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা থেকে স্থায়ী জামিন পাওয়ার পর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এবং বিভিন্ন টকশোতে তিনি ইউনূসের ১৮ মাসের আমলকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন।
‘দেশ বিক্রি ও ধ্বংসের’ অভিযোগ:
বার্তাবাজারের এক প্রতিবেদন অনুসারে আনিস আলমগীর সরাসরি অভিযোগ তোলেন, “ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদায় নেওয়ার আগে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দিয়ে গেছেন। তিনি একজন ‘বিশ্ব বাটপার’।
ডাস্টবিন সংস্কৃতি ও বিভেদের রাজনীতি: একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসের বরাতে বলা হয়, ইউনূস দেশে চরম প্রতিহিংসা এবং বিভক্তির রাজনীতি কায়েম করে সমাজকে টুকরো টুকরো করে দিয়েছেন এবং দেশে একটি ‘ডাস্টবিন সংস্কৃতি’ চালু করেছিলেন।
প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের উৎসব: আনিস আলমগীর আরও বলেন, বিশ্ব বাটপার ইউনুস ১৮ মাসে বাংলাদেশের প্রতিটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করেছেন এবং নিজে কীভাবে চুরিচামারি করে লাভবান হওয়া যায়, তা নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন। এমনকি দেশে হামের টিকাদানে ব্যর্থতার কারণে শত শত শিশুর মৃত্যুর দায়ও তিনি ইউনূস প্রশাসনের ওপর চাপান।
সংবিধান লঙ্ঘন ও শপথ ভঙ্গের অকাট্য প্রমাণ
জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ-এর একটি সম্পাদকীয় বিশ্লেষণে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের উদ্ধৃতি দিয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে সংবিধান লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে।
১৪৭ অনুচ্ছেদের লঙ্ঘন: বাংলাদেশের সংবিধানের ১৪৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালীন লাভজনক কোনো পদের সুবিধা নিতে পারেন না।
ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ: ড. ইউনূস প্রধান উপদেষ্টা পদে থেকে তাঁর নিজের ইউনূস সেন্টার এবং গ্রামীণ কল্যাণ সংস্থাকে বিপুল পরিমাণ কর অব্যাহতি ও আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দিয়েছেন, নিজ নামে নিয়েছেন বিটকয়েন ব্যবসার ওয়ালেট লাইসেন্স ও আদম বেপারীর লাইসেন্স যা সুস্পষ্টভাবে সংবিধান লঙ্ঘন এবং শপথ ভঙ্গের শামিল।
‘জাতীয় প্রতারণার ১৮ মাস’: রাজনীতি ও অর্থনীতি ধ্বংসের অভিযোগ
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং সাবেক মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে কালের কণ্ঠে উল্লেখ করেছে, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসের শাসনকাল ছিল মূলত ‘জাতীয় প্রতারণার এক দীর্ঘ দলিল’।
রাজনৈতিক বিভেদ: দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কারের নাম করে ড. ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কৃত্রিম বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন।
অর্থ পাচার ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়: তাঁর সময়ে দেশ থেকে বিগত আমলের চেয়েও কয়েকগুণ বেশি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে বলে টকশো ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র দাবি উঠেছে।
শৈশবের চাতুরী থেকে বিশ্ব বাটপারির অভিযোগ
সমালোচকরা তাঁর অতীত জীবন ও আত্মজীবনীর তথ্য টেনে এনে বলছেন, ছোটবেলায় বিনামূল্যে সোভিয়েত ইউনিয়ন পত্রিকা পাওয়ার জন্য কুইজ বিজয়ীদের নাম ভাঙিয়ে ঠিকানা বদলের যে চাতুরী তিনি করেছিলেন, সেই মানসিকতা তিনি আজও ধরে রেখেছেন। নোবেল পদকের লবিংয়ের জন্য অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ডলার সংগ্রহ এবং সর্বশেষ রাষ্ট্রক্ষমতায় বসে কারাগার থেকে চিহ্নিত অপরাধীদের ছেড়ে দিয়ে বিলিয়ন ডলার আয়ের যে অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে উঠেছে, তা তাঁকে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কিত করে তুলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে যে ড. ইউনূসের এজেন্ডা জনকল্যাণমূলক ছিল না, যার কারণে দেশ আজ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ‘আমও হারালো, ছালাও হারালো’র মতো অবস্থায় পড়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কড়া বার্তা
দেবীদ্বারে হাসনাত আব্দুল্লাহকে বিএনপির সতর্কবার্তা, ‘দাঁতভাঙা জবাব’ দেওয়ার হুঁশিয়ারি

এইচএসসি ইস্যুতে রাজনৈতিক উত্তাপ
হাসনাত আব্দুল্লাহকে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে কড়া সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের এই সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান সংগঠককে উদ্দেশ করে দেওয়া ওই বার্তায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বক্তব্যে সংযম ও শালীনতা বজায় রাখতে হবে এবং পরিস্থিতি ঘোলাটে করার মতো কোনো বক্তব্য বা কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে হবে।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাতে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির দলীয় প্যাডে আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন ও সদস্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।
“রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রেখে বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপি বলেছে, পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা হলে তা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে।”
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চলমান এইচএসসি পরীক্ষা ঘিরে সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলা হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একটি মহল চলমান পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার চেষ্টা করছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের ব্যবহার করে কেউ ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এতে অভিযোগ করা হয়, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে অশালীন ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা রাজনৈতিক সৌজন্যবোধের পরিপন্থী। বিএনপির পক্ষ থেকে তাকে সংযত ভাষায় বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, যৌক্তিক সমালোচনা গ্রহণযোগ্য হলেও রাজনৈতিক শালীনতা বজায় রাখা সবার দায়িত্ব। অন্যথায় বিএনপি পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হবে না।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে হাসনাত আব্দুল্লাহকে অতিকথন ও অতিরঞ্জিত বক্তব্য পরিহারেরও আহ্বান জানানো হয়।
এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, “আমাদের ধৈর্যের সীমা অতিক্রম করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষামন্ত্রী তার অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এরপরও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে অসৌজন্যমূলক বক্তব্য দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করছেন। আমরা তার কাছ থেকে দায়িত্বশীল ও সৌজন্যমূলক আচরণ প্রত্যাশা করি। এর ব্যত্যয় ঘটলে রাজনৈতিকভাবে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বুধবার রাত প্রায় ১১টার দিকে সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ফেসবুক-ইমোতে ফাঁদ পাতা
পত্নীতলায় হানিট্র্যাপ চক্রের দুই তরুণীসহ ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, মুক্তিপণ আদায়ের ভয়ংকর কৌশল উন্মোচন

নওগাঁর পত্নীতলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের মাধ্যমে তরুণদের হানিট্র্যাপে ফেলে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে দুই তরুণীসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তরা ফেসবুক ও ইমো অ্যাপ ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের নির্জন বাসায় ডেকে এনে মারধর, আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ এবং সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় গত ১৪ জুলাই রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পত্নীতলা সার্কেল) ও পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) নেতৃত্বে নজিপুর পৌরসভার সর্দারপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে হানিট্র্যাপ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মাহফুজুর রহমান বাঁধন (২৬), মমিনুর ইসলাম (২২), রুমা খাতুন (২০) এবং সাদিয়া আক্তার মায়া (১৯)।
পুলিশের দাবি, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুক পেজ ও ইমো অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে পরিচয় গড়ে তুলত। পরে কৌশলে তাদের নির্দিষ্ট বাসায় ডেকে এনে মারধর করাসহ আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হতো। এরপর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করত তারা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা অপরাধে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, চক্রটির সঙ্গে জড়িত অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তরুণদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, হানিট্র্যাপসহ এ ধরনের প্রতারণা প্রতিরোধে পুলিশ নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
শিক্ষার উন্নয়নে অঙ্গীকার ব্যক্ত
দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি নির্বাচিত কায়েস আহমেদ মীর, শিক্ষার মানোন্নয়নে নতুন প্রত্যাশা

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারোরা দীনেশ চন্দ্র (ডি.সি.) উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর। তার নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে নতুন গতি আসবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সুধীজন।
দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ে নতুন নেতৃত্ব, সভাপতি নির্বাচিত কায়েস আহমেদ মীর
নবনির্বাচিত সভাপতিকে বরণ করে নিতে সম্প্রতি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভা, পরিচিতি অনুষ্ঠান ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষানুরাগী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কায়েস আহমেদ মীরের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়ন, সহশিক্ষা কার্যক্রম এবং শিক্ষার পরিবেশ আরও সমৃদ্ধ হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
“দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়কে জেলার অন্যতম আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত সহযোগিতা চাই।”
— সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর
নবনির্বাচিত সভাপতি, ম্যানেজিং কমিটি
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল ওয়াহিদের সভাপতিত্বে এবং ফারুক মিয়ার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও দারোরা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর বলেন, শিক্ষা একটি জাতির মেরুদণ্ড। একটি এলাকার উন্নয়ন নির্ভর করে সেই এলাকার শিক্ষার মানের ওপর। দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসছে। নতুন সভাপতির নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি আরও এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান নয়, নৈতিক শিক্ষা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং মানবিক মূল্যবোধেও সমৃদ্ধ হতে হবে। এজন্য শিক্ষক, অভিভাবক ও ম্যানেজিং কমিটিকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান ম্যানেজিং কমিটির সদস্য বাবু সভজিৎ দাসগুপ্ত। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের উন্নয়নে অতীতেও সম্মিলিতভাবে কাজ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও সেই ধারা অব্যাহত থাকবে। নতুন সভাপতির প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. নজরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বিদ্যালয়ের উন্নয়নে সমাজের বিত্তবান ও প্রবাসীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার বলেন, একটি এলাকার উন্নয়ন শিক্ষা ছাড়া সম্ভব নয়। দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি এলাকার মানুষের গর্ব ও ঐতিহ্যের অংশ। বিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
এছাড়া অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দারোরা ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মুজিবুর রহমান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ছানু মিয়া মেম্বার, মোতাহের হোসেন, আবুল কাশেম, আব্দুল করিম এবং খোরশেদ আলম। বক্তারা নবনির্বাচিত সভাপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বিদ্যালয়ের উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ আরও উন্নত করতে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষা, বিজ্ঞান গবেষণাগার, গ্রন্থাগারের সম্প্রসারণ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর তার বক্তব্যে বলেন, দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া তার জন্য অত্যন্ত সম্মানের এবং একই সঙ্গে বড় দায়িত্বের বিষয়। তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, “এই বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি আমাদের এলাকার গৌরব ও ঐতিহ্য। আমি চাই বিদ্যালয়টি শিক্ষার মান, শৃঙ্খলা, ফলাফল এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমে জেলার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হোক।”
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি করা হবে। বিদ্যালয়ে একটি সুন্দর, নিরাপদ ও শৃঙ্খলাপূর্ণ শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।
বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শ্রেণিকক্ষের আধুনিকায়ন, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের প্রসার এবং মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার বিষয়েও কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
সভায় বক্তারা বলেন, দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এ অঞ্চলের হাজারো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। নতুন পরিচালনা কমিটির নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও আধুনিক জ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রেও নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, পরিচালনা কমিটির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দারোরা ডি.সি. উচ্চ বিদ্যালয়কে একটি আধুনিক, আদর্শ ও মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই হবে তার প্রধান লক্ষ্য।






















