সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

উদ্বোধনী ম্যাচেই কার্ডের ঝড়

উদ্বোধনী ম্যাচেই ৩ লাল কার্ড! আলোচনায় কে সেই ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬, ১১:৩৭ এএম
উইলটন সাম্পাইও

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শেষ হলেও আলোচনা থামছে না ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইওকে ঘিরে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এই অভিজ্ঞ রেফারি। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও।
  • ম্যাচে সরাসরি ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি গড়েছেন বিরল রেকর্ড।
  • ২০২২ বিশ্বকাপের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচিত এই রেফারি ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই কঠোর রেফারিংয়ে আবারও শিরোনামে উঠে এসেছেন।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে মেক্সিকো-দক্ষিণ আফ্রিকা লড়াইয়ের চেয়ে বেশি আলোচনায় ব্রাজিলিয়ান রেফারি উইলটন সাম্পাইও। ম্যাচে সরাসরি ৩টি লাল কার্ড দেখিয়ে তিনি গড়েছেন বিরল রেকর্ড। ২০২২ বিশ্বকাপের বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে সমালোচিত এই রেফারি ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই কঠোর রেফারিংয়ে আবারও শিরোনামে উঠে এসেছেন।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ শেষ হলেও আলোচনা কিছুতেই থামছে না ব্রাজিলিয়ান সেই রেফারি উইলটন সাম্পাইওকে ঘিরে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখিয়ে আবারও তিনি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন এই রেফারি। এ নিয়ে অনেকে বলেছেন অভিজ্ঞ রেফারি আবার অনেকে ভিন্নমতও পোষণ করেছেন।

ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সাম্পাইও নতুন কোনো নাম নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড-ফ্রান্সের কোয়ার্টার ফাইনালে হ্যারি কেইনের একাধিক পেনাল্টি আবেদনে সাড়া না দেওয়াসহ কয়েকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণে তিনি ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। একই বিশ্বকাপে পোল্যান্ড-সৌদি আরব ম্যাচেও তার ভিএআর ও কার্ড ব্যবস্থাপনা নিয়ে তখন প্রশ্ন উঠেছিল।

তবে সেই বিতর্ককে পেছনে ফেলে দিয়ে আবারও তার ওপরই আস্থা রাখে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাকে।

মেক্সিকোর ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে সাম্পাইওর সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন ব্রাজিলের সহকারী রেফারি ব্রুনো পিরেস ও ব্রুনো বোসকিলিয়া। চতুর্থ কর্মকর্তা ছিলেন প্যারাগুয়ের হুয়ান গ্যাব্রিয়েল বেনিতেজ। ভিএআর পরিচালনা করেন কলম্বিয়ার নিকোলাস গাইয়ো, সহকারী ভিএআর ছিলেন চিলির হুয়ান লারা এবং সাপোর্ট ভিএআর হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন ফ্রান্সের জেরোম ব্রিসার্ড।

ম্যাচের শুরু থেকেই কঠোর অবস্থানে ছিলেন রেফারি সাম্পাইও। ৯ মিনিটে হুলিয়ান কিনোনেসের গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিক মেক্সিকো। ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন তিনি।

প্রথমার্ধে দুটি হলুদ কার্ড দেখানো হয়। ১৬ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার তেবোহো মোকোয়েনা এবং ২২ মিনিটে মেক্সিকোর ব্রায়ান গুতিয়েরেজ সতর্কবার্তা পান।

তবে ম্যাচের আসল নাটক শুরু হয় দ্বিতীয়ার্ধে। ৪৯ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পেফেহলো সিথোলে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও।

এরপর ৮৩ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকার থেমবা জোয়ানে প্রতিপক্ষের মুখে আঘাত করলে ভিএআর পর্যালোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় লাল কার্ড প্রদর্শন করা হয়।

নাটকীয়তার শেষ অধ্যায় আসে যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে। মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্তেস প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ ঠেকাতে ফাউল করলে তাকেও সরাসরি লাল কার্ড দেখান সাম্পাইও। ফলে ম্যাচ শেষ হওয়ার আগেই দুই দল মিলে মাঠে দেখে তিনটি লাল কার্ডের নজির।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে এত সংখ্যক লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা বিরল। ফুটবল পরিসংখ্যানবিদদের মতে, এটি বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত উদ্বোধনী ম্যাচ হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।

আরও একটি কৌতূহলোদ্দীপক তথ্য হলো—বিশ্বকাপে যে অল্প কয়েকটি ম্যাচে তিনটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছে, সেগুলোর একটি ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ডেনমার্ক ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ। সেবারও দক্ষিণ আফ্রিকা একটি লাল কার্ড দেখেছিল।

শেষ পর্যন্ত মেক্সিকো ২-০ গোলের জয় নিয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও ম্যাচের ফলের চেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন রেফারি উইলটন সাম্পাইও। তার দেখানো তিনটি লাল কার্ডের কারণে বহিষ্কৃত তিন ফুটবলারই গ্রুপ ‘এ’-এর পরবর্তী ম্যাচে খেলতে পারবেন না।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

সালিশে রাস্তা নির্ধারণের পরও বন্ধ, জুড়ীতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

জালালুর রহমান, মৌলভী বাজার থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:১৪ এএম
সালিশে রাস্তা নির্ধারণের পরও বন্ধ, জুড়ীতে প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

সালিশে নির্ধারিত চলাচলের পথ আটকে গোয়ালঘর-বাথরুম, বিপাকে পরিবার

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামে বসতবাড়িতে চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেওয়ার এবং এর প্রতিবাদ করায় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আব্দুল কাদিরের ছেলে কামরুল ইসলাম (২৮) জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত তিনজন কামরুল ইসলামের চাচা। তারা হলেন—দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে আব্দুল জলিল (৬০), আব্দুল মনাফ (৫৫) ও আব্দুর রহিম (৫০)।

কামরুল ইসলামের অভিযোগ, বসতবাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানানো হলে সালিশ বৈঠকের মাধ্যমে তাঁর পরিবারের চলাচলের জন্য একটি রাস্তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।

তবে সালিশে রাস্তা নির্ধারণের পরও অভিযুক্তরা ওই চলাচলের পথের মধ্যে গোয়ালঘর, বাথরুম এবং বিভিন্ন ধরনের ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাস্তা বন্ধ করে দেন বলে অভিযোগ করেছেন কামরুল ইসলাম। এতে তাঁর পরিবারের সদস্যদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, রাস্তা পরিষ্কার করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার কথা বললে অভিযুক্তরা উত্তেজিত হয়ে কামরুল ইসলামকে ভয়ভীতি দেখান এবং হুমকি দেন। এমনকি মামলা-মোকদ্দমা করলে সুযোগমতো তাঁকে প্রাণে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

দৈনিক আজকের কথা
অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
— মো. রফিকুল ইসলাম
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), জুড়ী থানা।

অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে দক্ষিণ বড়ডহর গ্রামে তাঁর বসতবাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, চলাচলের রাস্তা বন্ধ থাকায় তারা অনেকটা গৃহবন্দী অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। এ ঘটনায় তারা প্রশাসনের কাছে প্রতিকার ও সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে জুড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছবি ও অভিযোগের কপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিয়ে চলে গেলেন মা, বাবা পুলিশ হেফাজতে

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৪৭ পিএম
হাসপাতালে সন্তান জন্ম দিয়ে চলে গেলেন মা, বাবা পুলিশ হেফাজতে

“বিয়ে ছাড়াই সন্তানের জন্ম, দুই পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বিয়ের উদ্যোগ পুলিশের”

কুমিল্লার দেবীদ্বার স্কয়ার হাসপাতালে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর নবজাতককে তার কথিত বাবার হাতে তুলে দিয়ে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন এক তরুণী। এ ঘটনায় খবর পেয়ে নবজাতকের বাবা হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. মমিনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে লিজা আক্তার নামে ওই তরুণী দেবীদ্বার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে স্বাভাবিক প্রসবের মাধ্যমে একটি পুত্রসন্তানের জন্ম দেন তিনি। বিকেল ৪টার দিকে নবজাতককে মো. মমিনের হাতে তুলে দিয়ে তিনি হাসপাতাল থেকে চলে যান।

জানা গেছে, লিজা আক্তার ও মো. মমিনের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ের আগেই লিজা আক্তার গর্ভবতী হন। তবে তাদের সম্পর্ক ও নবজাতককে গ্রহণের বিষয়ে দুই পরিবারের মধ্যে আপত্তি ছিল বলে জানা গেছে।

দৈনিক আজকের কথা
আমরা নবজাতকের বাবাকে থানা হেফাজতে রেখেছি। উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। রাতেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে পড়িয়ে নবজাতককে বাবা-মায়ের হেফাজতে দেওয়া হবে।
— মো. মনিরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা।

লিজা আক্তার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামের কবির হোসেনের মেয়ে। আর নবজাতকের বাবা হিসেবে পরিচয় দেওয়া মো. মমিন (২৪) একই এলাকার সাজু মিয়ার ছেলে।

এদিকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে মো. মমিনকে পুলিশ আটক করে। বর্তমানে নবজাতকটি দেবীদ্বার স্কয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা নোমান হোসাইন বলেন, “শিশু আইন, ২০১৩ অনুযায়ী পরিবারের কেউ যদি শিশুটিকে নিতে চান, তাহলে পরিবারের কাছে দেওয়া হবে। আর পরিবার যদি শিশুটিকে নিতে না চায়, তাহলে আমরা শিশুটিকে সরকারি হেফাজতে নেব।”

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “আমরা নবজাতকের বাবাকে থানা হেফাজতে রেখেছি। সমাজসেবা কর্মকর্তাও এসেছিলেন। উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে রাতেই বিয়ে পড়িয়ে নবজাতককে বাবা-মায়ের হেফাজতে দেওয়া হবে।”

দীর্ঘ দুর্ভোগের অবসান শুরু

ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ ভার্চুয়ালি, সাকিব হাসানের উপস্থিতিতে বাঙ্গরার নৈরপাড়-এলখাল সড়কের সংস্কার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৩৫ পিএম
ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদ ভার্চুয়ালি, সাকিব হাসানের উপস্থিতিতে বাঙ্গরার নৈরপাড়-এলখাল সড়কের সংস্কার

সাকিব হাসান খানের উপস্থিতিতে নৈরপাড়-এলখাল সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন

একসময় জমির আইলই ছিল বাঙ্গরার পূর্বধইর পূর্ব ইউনিয়নের নৈরপাড়-এলখাল এলাকার মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। সরু আইল দিয়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করতে গিয়ে দুর্ভোগ পোহাতে হতো শিক্ষার্থীসহ স্থানীয়দের। যোগাযোগব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে ছিল এ অঞ্চলের মানুষ।

পরে ওই আইলকে সড়কে উন্নীত করা হয় এবং এলাকায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। এতে নৈরপাড়-এলখালের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও শিক্ষার সংকট অনেকটাই দূর হয়। তবে পরবর্তী সময়ে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যক্তিগত অর্থায়নে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে দেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। একই সঙ্গে নির্বাচিত হলে সড়কটি স্থায়ীভাবে সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সেই প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় নৈরপাড়-এলখাল সড়কের উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে ভার্চুয়ালি সড়ক সংস্কারকাজের শুভ উদ্বোধন করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ (এমপি)।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুরাদনগর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান খান। স্বাগত বক্তব্য দেন সমাজসেবক মামুন মিয়া। বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও নাছির উদ্দিন।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ধর্মমন্ত্রীর উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ শরীফ আহমেদ, নবীয়াবাদ কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা বদিউল আলম এবং উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ।

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সেক্রেটারি জয়নাল মোল্লার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া, মুখলেছুর রহমান হিরন, অবিদ হোসেন অবিদ, আনিছ খান, গোলাম মোস্তফাসহ অনেকে।

দীর্ঘ দুর্ভোগের অবসানের আশায় স্থানীয়রা

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের পর সড়কটির সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও সড়কটি ব্যবহারকারী ভ্যানচালকসহ সাধারণ মানুষ এতে উপকৃত হবেন বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

দৈনিক আজকের কথা
আমি এই সড়কে ভ্যানে করে হকারি করি। সারাদিন গাড়ি চালিয়ে রাতে কোমর ব্যথায় কষ্ট পাই। দাদা আইল থেকে এই রাস্তা করেছেন, আবার দাদাই সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছেন।
— আবু মুসা
স্থানীয় ভ্যানচালক

সড়কটির উন্নয়নকাজ শেষ হলে নৈরপাড়-এলখাল এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ দুর্ভোগ কমবে এবং শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের চলাচল আরও সহজ হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

×
ENG