তীব্র গরমে মানবিক উদ্যোগ
তীব্র গরমে পথচারীদের পাশে সাপাহার মুক্ত স্কাউট, শরবত বিতরণে প্রশংসা

সাপাহার উপজেলা সদরের জিরোপয়েন্ট এলাকায় তীব্র গরমে পথচারী ও শ্রমজীবী মানুষের মাঝে ঠান্ডা শরবত বিতরণ করছেন মুক্ত স্কাউটের সদস্যরা। ছবি : আজকের কথা
যানজট নিরসনের পাশাপাশি মানবিক উদ্যোগ
তীব্র গরমে তৃষ্ণার্ত পথচারীদের স্বস্তি দিতে নওগাঁর সাপাহারে মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে মুক্ত স্কাউট। যানজট নিরসনের পাশাপাশি সংগঠনটির উদ্যোগে পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ঠান্ডা শরবত বিতরণ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা সদরের জিরোপয়েন্ট এলাকায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় আম ব্যবসায়ী, রিকশাচালক, পথচারী, শ্রমজীবী মানুষসহ সাধারণ মানুষের হাতে শরবত তুলে দেন মুক্ত স্কাউটের সদস্যরা।
🌿 হাইলাইটস
- তীব্র গরমে পথচারীদের মাঝে ঠান্ডা শরবত বিতরণ
- সাপাহার মুক্ত স্কাউটের মানবিক উদ্যোগ
- যানজট নিরসনের কাজও করেন সদস্যরা
- প্রধান অতিথি ছিলেন সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু)
- জনকল্যাণে এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা
কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপাহার মুক্ত স্কাউটের কমিশনার ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার জাহান চৌধুরী (লাবু)। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুক্ত স্কাউটের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আব্দুর রহমান (কল্লোল), সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম, পরিচালক সাহাবুদ্দীন এবং সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাদেকুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সারোয়ার জাহান চৌধুরী বলেন, মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও জনকল্যাণমূলক ও মানবিক কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, তীব্র গরমে পথচারীদের মাঝে শরবত বিতরণের মতো এমন মানবিক আয়োজন সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক ও প্রশংসনীয়।
কর্মসূচিতে মুক্ত স্কাউটের নেতাকর্মী, সদস্য এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এবারের এসএসসিতে পরীক্ষার ফলাফলে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভা। ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় সে পেয়েছে ১২১৭ নম্বর। তার এই অসাধারণ ফলাফলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেবীদ্বার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে আনন্দের পরিবেশ।
সোমবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জাকিয়া সুলতানা ইভার এই সাফল্যের বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।
তবে বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভার ১২১৭ নম্বর অর্জন। ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পেয়ে সে বিদ্যালয়ের ফলাফলে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জাকিয়া সুলতানা ইভা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
তিনি বলেন, “জাকিয়ার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। তার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্যও অনন্য গৌরবের বিষয়।”
জাকিয়া সুলতানা ইভাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান আরও বলেন, “তোমার সাফল্যে আমরা গর্বিত।”
বিদ্যালয়ের এমন সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ১২১৭ নম্বর পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জাকিয়া সুলতানা ইভার এই ফলাফল তার দীর্ঘদিনের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন। একই সঙ্গে ৬১ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন এবং ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ পাসের হার বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।
জাকিয়ার এমন সাফল্যে দেবীদ্বারের শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও জাকিয়া তার মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।
দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যাকাণ্ড: দা, সোনা ও টাকা উদ্ধার; হাত-পা এখনো নিখোঁজ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর পুলিশ হত্যার কাজে ব্যবহৃত দা, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। তবে এখনও মরদেহের হাত ও পায়ের অংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এসব গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক লাইলী আক্তারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার পাকের ঘরে তল্লাশি চালায়। সেখানে পরিত্যক্ত একটি ড্রামের আড়ালে লুকানো কানের এক জোড়া দুল, একটি গলার চেইন, একটি আংটি এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে লাইলীর তথ্যানুযায়ী, টয়লেটের কমোট থেকে আলমারির চাবি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়।
নিহত ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ঐ বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। অন্যদিকে ঘাতক লাইলী আক্তার পারিবারিক কলহের কারণে ঐ বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। লাইলী ইতিপূর্বে একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাড়ে ৪ বছর জেল খেটেছিলেন।
হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোকাতে ঘাতকরা মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে প্যাকেট করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রাখে। কিছু অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সোমবার রাতে দেবীদ্বার থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, মামলার তদন্ত চলছে। লাইলী আক্তার প্রাথমিকভাবে একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং পরে ঠান্ডা মাথায় মরদেহের অংশগুলি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। CC ক্যামেরার ফুটেজে তার কর্মকাণ্ড স্পষ্ট দেখা গেছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।
প্রেমঘটিত টানাপোড়েনে মর্মান্তিক মৃত্যু
দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রবাসী ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আফরিন আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন তার মা। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে দেবীদ্বার সদর এলাকার মোল্লাবাড়ী মসজিদ সংলগ্ন ‘খান মঞ্জিল’-এর চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আফরিন আক্তার দেবীদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে। সে পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে আফরিনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তার মা তাকে নিয়ে দেবীদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত দুই বছর ধরে তারা ‘খান মঞ্জিল’-এর ওই বাসায় থাকছিলেন।
পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য জামসেদ মিয়ার ছেলে ও পেশায় ক্যামেরাম্যান সাখাওয়াত হোসেন সানি (২৬)-এর সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা ও তার প্রবাসী দুই ভাই।
মরিয়ম বেগমের ভাষ্য, সোমবার দুপুরে সৌদি প্রবাসী ছোট ছেলে আজাদ ফোন করে তাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বলেন। আজাদ জানান, সানি তাকে মেসেজ করে জানিয়েছেন যে তিনি আফরিনকে বিয়ে করবেন না এবং আফরিন আত্মহত্যা করতে পারেন।
পরে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ দেখতে পান মরিয়ম বেগম। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় সানিকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নিহতের মা।
বাড়ির মালিক শাহ আলম খান বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্মতি থাকায় সোমবার দুই পরিবারের অভিভাবকদের নিয়ে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসার কথা ছিল।
পুলিশের বক্তব্য
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও পারিবারিক মনোমালিন্যের বিষয়টি সামনে রেখে ঘটনাটি তদন্ত করছে।




















