সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির ক্ষমতা ও দায়িত্ব তুলে ধরলেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৭ এএম
অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ আইনজীবী ও শিক্ষা-উন্নয়ন বিষয়ক সচেতনতা কর্মী।

অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ আইনজীবী ও শিক্ষা-উন্নয়ন বিষয়ক সচেতনতা কর্মী। ছবির গ্রাফিতি দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নিং বডি’: গঠন, ক্ষমতা, দায়িত্ব ও শৃঙ্খলামূলক কাঠামোর আইনি বিশ্লেষণ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) সার্বিক প্রশাসনিক স্থায়িত্ব, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘গভর্নিং বডি’, ‘ম্যানেজিং কমিটি’, ‘নির্বাহী কমিটি’, ‘অ্যাডহক কমিটি’ বা ‘বিশেষ পরিস্থিতি কমিটি’র ক্ষমতা ও দায়িত্বের একটি বিস্তারিত আইনি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।
  • শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা ও সরকারি নির্দেশনার আলোকে সংকলিত এই নীতিমালায় পরিচালনা পর্ষদের কাজের সীমানা, আর্থিক এখতিয়ার এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
  • সুষ্ঠু প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই আইনি কাঠামো ও দায়িত্বসমূহের বিবরণ প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নিং বডি’: গঠন, ক্ষমতা, দায়িত্ব ও শৃঙ্খলামূলক কাঠামোর আইনি বিশ্লেষণ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) সার্বিক প্রশাসনিক স্থায়িত্ব, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘গভর্নিং বডি’, ‘ম্যানেজিং কমিটি’, ‘নির্বাহী কমিটি’, ‘অ্যাডহক কমিটি’ বা ‘বিশেষ পরিস্থিতি কমিটি’র ক্ষমতা ও দায়িত্বের একটি বিস্তারিত আইনি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা ও সরকারি নির্দেশনার আলোকে সংকলিত এই নীতিমালায় পরিচালনা পর্ষদের কাজের সীমানা, আর্থিক এখতিয়ার এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

সুষ্ঠু প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই আইনি কাঠামো ও দায়িত্বসমূহের বিবরণ প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ।

১. পরিচালনা পর্ষদের মৌলিক দায়িত্ব ও কাজের সীমানা

প্রবিধানমালার বিধি ৪১ অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তদারকীকরণ, লেখাপড়ার মান নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কাজের মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কমিটির ওপর ন্যস্ত থাকে।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমিটির কার্যপ্রক্রিয়া ও সাধারণ ক্ষমতা মূলত ৩টি প্রধান স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত:

  • কমিটির নিয়মিত সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ: প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সভার মাধ্যমেই যে কোনো সিদ্ধান্ত আইনি বৈধতা পায়।
  • সম্পদ সংগ্রহ ও তহবিল গঠন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন পরিচালনা ও উন্নয়নের প্রয়োজনে সম্পদ সংগ্রহ করা, সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা এবং প্রয়োজনীয় তহবিল গঠন করা কমিটির মৌলিক কাজ।
  • সার্বিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা: প্রতিষ্ঠান যাতে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দিক দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, তার সার্বিক দেখভাল নিশ্চিত করা।

২. আর্থিক ও প্রশাসনিক এখতিয়ার

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

ক. তহবিল সংগ্রহ ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সংগৃহীত যাবতীয় সম্পদ এবং গঠিত তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তা সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কমিটির দায়িত্ব।

খ. দান ও অর্পিত সম্পত্তি পরিচালনা

কোনো ব্যাংক, ব্যক্তি, দাতা সংস্থা বা অন্য কোনো মাধ্যম কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে উইলকৃত, দানকৃত কিংবা হস্তান্তরকৃত সকল প্রকার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করা, সঠিক খাতে বিনিয়োগ করা এবং তা সঠিকভাবে পরিচালনা করা পরিচালনা পর্ষদের এখতিয়ারভুক্ত।

গ. উদ্বৃত্ত অর্থের নিরাপদ বিনিয়োগ

প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক আয় থেকে সকল ব্যয় মিটিয়ে যদি কোনো উদ্বৃত্ত অর্থ জমা থাকে, তবে তা প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে কোনো লাভজনক বা নিরাপদ খাতে বিনিয়োগ করার বিধান রাখা হয়েছে।

ঘ. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি ও গ্র্যাচুইটি মঞ্জুর

শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনুমোদিত অগ্রিম প্রদান এবং গ্র্যাচুইটি মঞ্জুর করার চূড়ান্ত ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের হাতে থাকে। এছাড়া ছুটির বিধানের ক্ষেত্রে:

  • চাকরির শর্তাবলি অনুসরণপূর্বক শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রাপ্য সাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা।
  • সরকারি নির্দেশনার আলোকে নৈমিত্তিক ছুটি ও অন্যান্য ছুটির বাৎসরিক তালিকা অনুমোদন নিশ্চিত করা।

ঙ. অবকাঠামো, সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র সুরক্ষা

প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক মান ঠিক রাখতে শ্রেণিকক্ষের বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি, অন্যান্য শিক্ষাপোকরণ, আসবাবপত্র ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

চ. সহ-পাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম

শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানে বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করার দায়িত্ব কমিটির উপর ন্যস্ত।

৩. শৃঙ্খলামূলক কার্যাবলি ও প্রশাসনিক বিচারিক ক্ষমতা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পরিচালনা পর্ষদকে প্রশাসনিক ও বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

  • শিক্ষক-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বিধান: প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর শৃঙ্খলা রক্ষা করা গভর্নিং বডির মূল দায়িত্ব।
  • দণ্ড ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ: প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী চাকরির শর্তাবলি লঙ্খন করলে বা বিভাগীয় অনাচার করলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যথাযথ দণ্ড অনুমোদনের সিদ্ধান্ত কমিটি নিতে পারবে।
  • অতিরিক্ত পারিশ্রমিক গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা: পরিচালনা পর্ষদের নিরপেক্ষতা রক্ষায় প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে— সভাপতি ও সদস্যগণ নিয়োগ পরীক্ষার সম্মানি বাদে অন্য কোনো কারণে বা উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো রূপ অতিরিক্ত পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবেন না।

৪. শিক্ষা বোর্ড ও সরকারি আদেশের বাধ্যবাধকতা

আইনগত কাঠামোর সর্বশেষ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি, নির্বাহী কমিটি, অ্যাডহক কমিটি বা বিশেষ পরিস্থিতি কমিটিকে সময়ে সময়ে শিক্ষা বোর্ড এবং সরকার কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য সকল অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। একই সাথে, শিক্ষা বোর্ড ও সরকারের জারিকৃত যে কোনো আদেশ, নির্দেশ বা প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন ও পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক তা প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক।

সচেতনতায়—

অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ আইনজীবী ও শিক্ষা-উন্নয়ন বিষয়ক সচেতনতা কর্মী।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুকে ধারাবাহিক পোস্ট, আইডি চালাচ্ছেন কে?

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুকে ধারাবাহিক পোস্ট, আইডি চালাচ্ছেন কে?

অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন, সামনে এলো ৫ হাজার টাকা ও আইফোনের তথ্য

ছেলের শোকে কাতর মা, তবু ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট; হত্যার নেপথ্য নিয়ে নিজেই দিলেন নতুন তথ্য

কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত এই মায়ের ব্যক্তিগত ফেসবুক কার্যক্রমও এখন আলোচনায় এসেছে।

‘নাদিদা নাহিদ’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিত পোস্ট ও অপ্রতিমকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। সর্বশেষ, এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেও ওই আইডি থেকে অপ্রতিমের হত্যা নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের সঙ্গে অপ্রতিম ও আইফোনসহ চারটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে অপ্রতিমের মা দাবি করেছেন, শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাই নয়, অপ্রতিমের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।

পোস্টে তিনি লেখেন, অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে টিকটক ভিডিও বানাতে বের হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যরা আগে থেকেই ফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিল এবং তাদের পরিকল্পনা ছিল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া। এ পরিকল্পনার সঙ্গে ‘তুহিন’ নামের একজন জড়িত ছিলেন বলেও পোস্টে দাবি করা হয়।

পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে পাহাড়ের প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে চলে যায়। পরে আরও দুজন সেখানে যোগ দেয়। তিনজন মিলে অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার মাথায় আঘাত করে। সেখানেই অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হয় বলে দাবি করেছেন তার মা।

তবে পোস্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোরকে অপ্রতিম ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সম্প্রতি অপ্রতিম সেই টাকা ফেরত চাইছিল। এতে ওই কিশোর বিরক্ত হয়ে পড়েছিল এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করতে পারে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, তুহিনকে আটক করার পরও সে অন্যদের বিষয়ে তথ্য দেয়নি। ওই সময় তুহিনের মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল। পোস্টদাতার দাবি, ফোনগুলো করছিল সেই কিশোর—যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল।

অপ্রতিমের মা আরও দাবি করেন, ওই কিশোর পাহাড়ে যাওয়ার সময় নিজের মোবাইল সঙ্গে নেয়নি, যাতে তার অবস্থান শনাক্ত করা না যায়। পোস্টে তার বয়স ১৫ বছর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অপ্রতিমের মায়ের দাবি, অপ্রতিমের বন্ধুদের অধিকাংশই তার চেয়ে বয়সে বড় ছিল। একই সঙ্গে অপ্রতিম নিজে কোথা থেকে ৫ হাজার টাকা পেয়েছিল এবং কেন অন্য একজনকে সেই টাকা ধার দিয়েছিল—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এর আগে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার জানান, ফাহাদ ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে কাজ শুরু করেছিলেন।

এ ছাড়া ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অপ্রতিমের মা মনে করেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার মা। তিনি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্টও অপ্রতিমের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় আসে। কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ওই পোস্ট করেছিলেন ড. নাহিদা বেগম। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার চেষ্টা করার কথা জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার মা জানিয়েছিলেন, “ওই ছিল আমাদের সব। ওকে ঘিরেই আমাদের কত স্বপ্ন ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল। ওর হাসি, ওর কথা, ওর ছোট ছোট আবদারেই আমাদের ঘরটা ভরে থাকত। আজ সেই ঘরেই ও নেই, ওর বই-খাতা আছে, বিছানায় ওর জিনিসপত্র আছে, কিন্তু ও নেই।”

অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারও ছেলের হত্যার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

অপ্রতিম ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, কারা কীভাবে জড়িত এবং ফেসবুক পোস্টে উঠে আসা নতুন তথ্যগুলোর সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা তদন্তের বিষয়।

দৈনিক আজকের কথা
অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
— ড. কামরুন নাহার
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৯ পিএম
অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে পুরোনো বিরোধের যোগসূত্র খতিয়ে দেখার দাবি, প্রয়োজনে আইন সংশোধনেরও আহ্বান

কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন তথ্য ও তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তার মা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে কিশোর কি না—তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে কুবি শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন, ইউট্যাব কুবি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও হলের প্রভোস্টরা।

মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার জানান, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে (১৬) ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অপ্রতিমের মা মনে করছেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তার দ্বিতীয় দাবি, মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

দৈনিক আজকের কথা
আমি অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
— ড. কামরুন নাহার
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আসামিদের ভূমিকা এবং তাদের বয়স নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন অপ্রতিমের মা।

আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স ১৫ বছর বেশি!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম
আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স ১৫ বছর বেশি!

এনআইডিতে মেয়ের জন্ম ১৯২২, জন্মনিবন্ধনে ১৯৮৯

বগুড়ার আদমদীঘিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভুলে অদ্ভুত বিড়ম্বনায় পড়েছেন রাজিয়া সুলতানা নামে এক নারী। সরকারি নথিতে তাঁর বয়স বাবার চেয়েও ১৫ বছর বেশি দেখাচ্ছে। এনআইডির তথ্য অনুযায়ী, রাজিয়ার জন্ম ১৯২২ সালের ২০ জুন। সে হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ১০৪ বছর। অথচ তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডিতে জন্মতারিখ ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে বাবার বয়স ৮৯ বছর।

অর্থাৎ সরকারি নথির হিসাব অনুযায়ী, মেয়ের বয়স বাবার চেয়ে ১৫ বছর বেশি!

জানা গেছে, রাজিয়া সুলতানা আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ইন্দইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম খন্দকারের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

রাজিয়ার জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ এপ্রিল। সেই হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল করে জন্মতারিখ ১৯২২ সালের ২০ জুন উল্লেখ হওয়ায় সরকারি নথিতে তাঁর বয়স দেখাচ্ছে ১০৪ বছর।

অন্যদিকে, রাজিয়ার বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডি অনুযায়ী জন্ম ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে তাঁর বয়স ৮৯ বছর। ফলে এনআইডির তথ্য অনুযায়ী বাবা-মেয়ের বয়সের হিসাবেই তৈরি হয়েছে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানার অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্টদের ভুলের কারণে তাঁর প্রকৃত জন্মসাল ১৯৮৯-এর পরিবর্তে ১৯২২ লেখা হয়েছে। এই ভুল সংশোধনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি তিনি।

এনআইডির তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বয়সের মিল না থাকায় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে তাঁকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলেও জানান রাজিয়া।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

×
ENG