রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির ক্ষমতা ও দায়িত্ব তুলে ধরলেন অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫৭ এএম
অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ আইনজীবী ও শিক্ষা-উন্নয়ন বিষয়ক সচেতনতা কর্মী।

অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ আইনজীবী ও শিক্ষা-উন্নয়ন বিষয়ক সচেতনতা কর্মী। ছবির গ্রাফিতি দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নিং বডি’: গঠন, ক্ষমতা, দায়িত্ব ও শৃঙ্খলামূলক কাঠামোর আইনি বিশ্লেষণ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) সার্বিক প্রশাসনিক স্থায়িত্ব, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘গভর্নিং বডি’, ‘ম্যানেজিং কমিটি’, ‘নির্বাহী কমিটি’, ‘অ্যাডহক কমিটি’ বা ‘বিশেষ পরিস্থিতি কমিটি’র ক্ষমতা ও দায়িত্বের একটি বিস্তারিত আইনি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে।
  • শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা ও সরকারি নির্দেশনার আলোকে সংকলিত এই নীতিমালায় পরিচালনা পর্ষদের কাজের সীমানা, আর্থিক এখতিয়ার এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে।
  • সুষ্ঠু প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই আইনি কাঠামো ও দায়িত্বসমূহের বিবরণ প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ‘গভর্নিং বডি’: গঠন, ক্ষমতা, দায়িত্ব ও শৃঙ্খলামূলক কাঠামোর আইনি বিশ্লেষণ

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের (নিম্ন মাধ্যমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক) সার্বিক প্রশাসনিক স্থায়িত্ব, শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ‘গভর্নিং বডি’, ‘ম্যানেজিং কমিটি’, ‘নির্বাহী কমিটি’, ‘অ্যাডহক কমিটি’ বা ‘বিশেষ পরিস্থিতি কমিটি’র ক্ষমতা ও দায়িত্বের একটি বিস্তারিত আইনি নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়েছে। শিক্ষা বোর্ডের বিধিমালা ও সরকারি নির্দেশনার আলোকে সংকলিত এই নীতিমালায় পরিচালনা পর্ষদের কাজের সীমানা, আর্থিক এখতিয়ার এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশাসনিক শৃঙ্খলার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে বিন্যস্ত করা হয়েছে।

সুষ্ঠু প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে এই আইনি কাঠামো ও দায়িত্বসমূহের বিবরণ প্রকাশ করেছেন অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ।

১. পরিচালনা পর্ষদের মৌলিক দায়িত্ব ও কাজের সীমানা

প্রবিধানমালার বিধি ৪১ অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, আর্থিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা তদারকীকরণ, লেখাপড়ার মান নিশ্চিতকরণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ সংক্রান্ত কাজের মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট কমিটির ওপর ন্যস্ত থাকে।

একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য কমিটির কার্যপ্রক্রিয়া ও সাধারণ ক্ষমতা মূলত ৩টি প্রধান স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত:

  • কমিটির নিয়মিত সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ: প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে অনুষ্ঠিত নিয়মিত সভার মাধ্যমেই যে কোনো সিদ্ধান্ত আইনি বৈধতা পায়।
  • সম্পদ সংগ্রহ ও তহবিল গঠন: শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন পরিচালনা ও উন্নয়নের প্রয়োজনে সম্পদ সংগ্রহ করা, সম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা করা এবং প্রয়োজনীয় তহবিল গঠন করা কমিটির মৌলিক কাজ।
  • সার্বিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা: প্রতিষ্ঠান যাতে অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক দিক দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়, তার সার্বিক দেখভাল নিশ্চিত করা।

২. আর্থিক ও প্রশাসনিক এখতিয়ার

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ এবং সম্পদ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদকে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ও আইনি এখতিয়ার দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো নিচে আলোচনা করা হলো:

ক. তহবিল সংগ্রহ ও সম্পদ নিয়ন্ত্রণ

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সংগৃহীত যাবতীয় সম্পদ এবং গঠিত তহবিলের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং তা সার্বিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কমিটির দায়িত্ব।

খ. দান ও অর্পিত সম্পত্তি পরিচালনা

কোনো ব্যাংক, ব্যক্তি, দাতা সংস্থা বা অন্য কোনো মাধ্যম কর্তৃক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে উইলকৃত, দানকৃত কিংবা হস্তান্তরকৃত সকল প্রকার স্থাবর বা অস্থাবর সম্পত্তি গ্রহণ করা, সঠিক খাতে বিনিয়োগ করা এবং তা সঠিকভাবে পরিচালনা করা পরিচালনা পর্ষদের এখতিয়ারভুক্ত।

গ. উদ্বৃত্ত অর্থের নিরাপদ বিনিয়োগ

প্রতিষ্ঠানের বাৎসরিক আয় থেকে সকল ব্যয় মিটিয়ে যদি কোনো উদ্বৃত্ত অর্থ জমা থাকে, তবে তা প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে কোনো লাভজনক বা নিরাপদ খাতে বিনিয়োগ করার বিধান রাখা হয়েছে।

ঘ. কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি ও গ্র্যাচুইটি মঞ্জুর

শিক্ষক ও কর্মচারীদের অনুমোদিত অগ্রিম প্রদান এবং গ্র্যাচুইটি মঞ্জুর করার চূড়ান্ত ক্ষমতা পরিচালনা পর্ষদের হাতে থাকে। এছাড়া ছুটির বিধানের ক্ষেত্রে:

  • চাকরির শর্তাবলি অনুসরণপূর্বক শিক্ষক ও কর্মচারীদের প্রাপ্য সাধারণ ছুটি মঞ্জুর করা।
  • সরকারি নির্দেশনার আলোকে নৈমিত্তিক ছুটি ও অন্যান্য ছুটির বাৎসরিক তালিকা অনুমোদন নিশ্চিত করা।

ঙ. অবকাঠামো, সরঞ্জাম ও আসবাবপত্র সুরক্ষা

প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাডেমিক মান ঠিক রাখতে শ্রেণিকক্ষের বিজ্ঞানাগারের যন্ত্রপাতি, অন্যান্য শিক্ষাপোকরণ, আসবাবপত্র ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ক্রয়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান প্রণয়ন ও প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

চ. সহ-পাঠ্যক্রম ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম

শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানে বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এবং সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করার দায়িত্ব কমিটির উপর ন্যস্ত।

৩. শৃঙ্খলামূলক কার্যাবলি ও প্রশাসনিক বিচারিক ক্ষমতা

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ ডিসিপ্লিন বা শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পরিচালনা পর্ষদকে প্রশাসনিক ও বিচারিক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

  • শিক্ষক-কর্মচারীদের শৃঙ্খলা বিধান: প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের উপযুক্ত পরিবেশ ও পেশাগত নৈতিকতা বজায় রাখার জন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের ওপর শৃঙ্খলা রক্ষা করা গভর্নিং বডির মূল দায়িত্ব।
  • দণ্ড ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ: প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী চাকরির শর্তাবলি লঙ্খন করলে বা বিভাগীয় অনাচার করলে নিয়ম অনুযায়ী তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যথাযথ দণ্ড অনুমোদনের সিদ্ধান্ত কমিটি নিতে পারবে।
  • অতিরিক্ত পারিশ্রমিক গ্রহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা: পরিচালনা পর্ষদের নিরপেক্ষতা রক্ষায় প্রবিধানমালায় বলা হয়েছে— সভাপতি ও সদস্যগণ নিয়োগ পরীক্ষার সম্মানি বাদে অন্য কোনো কারণে বা উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো রূপ অতিরিক্ত পারিশ্রমিক গ্রহণ করতে পারবেন না।

৪. শিক্ষা বোর্ড ও সরকারি আদেশের বাধ্যবাধকতা

আইনগত কাঠামোর সর্বশেষ ধারায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, গভর্নিং বডি, ম্যানেজিং কমিটি, নির্বাহী কমিটি, অ্যাডহক কমিটি বা বিশেষ পরিস্থিতি কমিটিকে সময়ে সময়ে শিক্ষা বোর্ড এবং সরকার কর্তৃক অর্পিত অন্যান্য সকল অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে হবে। একই সাথে, শিক্ষা বোর্ড ও সরকারের জারিকৃত যে কোনো আদেশ, নির্দেশ বা প্রজ্ঞাপন বাস্তবায়ন ও পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক তা প্রয়োগ করা বাধ্যতামূলক।

সচেতনতায়—

অ্যাডভোকেট মো আবুল কালাম আজাদ আইনজীবী ও শিক্ষা-উন্নয়ন বিষয়ক সচেতনতা কর্মী।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ফেসবুকে খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূর আকুতি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৯:৩২ পিএম
‘আমার নিরাপত্তা কোথায়?’ ফেসবুকে খন্দকার মোশাররফের পুত্রবধূর আকুতি, হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ

প্রাণনাশের আশঙ্কা জানিয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলেন নাইমা খন্দকার; ২০ দিন ধরে থানায় জানিয়েও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি, লিখিত অভিযোগ চেয়েছে পুলিশ

নিজের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের পুত্রবধূ সমাজকর্মী নাইমা খন্দকার। শুক্রবার রাতে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে কয়েকটি ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে প্রাণনাশের হুমকি, মানহানিকর অপপ্রচার ও নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘আমার নিরাপত্তা কোথায়? একজন নারী হিসেবে আজ আমি কার কাছে বিচার চাইব?’

নাইমা খন্দকার জে. হুদা ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক ও সচিব। পাশাপাশি তিনি জাতীয় মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, কুমিল্লা জেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ফেসবুক পোস্টে নাইমা লেখেন, দাউদকান্দির সর্বস্তরের মানুষ, দেশের সচেতন নাগরিক, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন। যেকোনো সময় তাঁর প্রাণনাশসহ বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

নাইমার দাবি, তাঁর শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের চিকিৎসার জন্য স্বামী খন্দকার মাহবুব হোসেন তুষার তাঁকে নিয়ে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। এই সুযোগে তিনি নিজ বাসায় একা থাকায় বিভিন্ন ফেসবুক আইডি থেকে তাঁকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

পোস্টে তিনি আরও দাবি করেন, এসব বিষয়ে গত ২০ দিন ধরে দাউদকান্দি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানালেও কার্যকর কোনো প্রতিকার পাননি।

নাইমা লেখেন, চলমান মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যেই তাঁকে আইনের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়েছে। চরম মানসিক ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষার হলে তাঁর প্রায় জ্ঞান হারানোর উপক্রম হয়েছিল।

শনিবার সন্ধ্যায় নাইমা খন্দকার বলেন, ‘আমি একটি রাজনৈতিক পরিবারের পুত্রবধূ হয়েও যদি নিজের এলাকায় এমন হেনস্তা ও অপপ্রচারের শিকার হই, তবে সাধারণ পরিবারের মেয়েদের নিরাপত্তা কোথায়? আমার শ্বশুর ড. খন্দকার মোশাররফ এবং স্বামী মাহবুব হোসেন তুষার বলে আমি কোনো বাড়তি সুবিধা চাই না। একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে শুধু সম্মান, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার চাই। কার ইন্ধনে ফেসবুক আইডি থেকে এমন অপপ্রচার ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তা পুলিশকে খুঁজে বের করার অনুরোধ জানিয়েছি।’

এদিকে দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজেদুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নাইমা খন্দকার মৌখিকভাবে ফেসবুকে তাঁকে নিয়ে লেখালেখির অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট ফেসবুক অ্যাকাউন্টগুলো শনাক্ত করতে সাইবার ক্রাইম ইউনিটে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

কুমিল্লায় মববাজদের দৌরাত্ম্য! শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙল এনসিপি নেতারা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম
কুমিল্লায় মববাজদের দৌরাত্ম্য! শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড ভাঙল এনসিপি নেতারা

ঐতিহ্য সংরক্ষণের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তিতে হস্তক্ষেপ, বৈধ ওয়ারিশ আরমা দত্তের সাইনবোর্ড গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ-নিন্দা

কুমিল্লায় এবার ভাষাসৈনিক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের পৈতৃক বাড়ির সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মহানগর শাখার নেতাদের বিরুদ্ধে। ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ ও স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবির আড়ালে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) রাতে নগরীর ধর্মসাগরের পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত বাড়িটিতে এ ঘটনা ঘটে। বাড়িটির বৈধ ওয়ারিশ আরমা দত্তের মালিকানা-সংক্রান্ত সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলার ঘটনায় ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

শনিবার সাইনবোর্ড ভাঙচুরের একাধিক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের নাতনি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আরমা দত্ত।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটি সংস্কার, সংরক্ষণ এবং সেখানে স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠার দাবি উঠলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এর মধ্যে আরমা দত্ত উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তির মালিকানা উল্লেখ করে বাড়িতে একটি সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। তিনি শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের একমাত্র ছেলে সঞ্জিব দত্তের মেয়ে।

সাইনবোর্ডে লেখা ছিল, ‘এই জমির প্রকৃত মালিক ওয়ারিশ সূত্রে আরমা দত্ত। পিতা মৃত সঞ্জিব দত্ত। দাগ নং ১৮০০, মৌজা ছোটরা, কুমিল্লা।’

ঐতিহ্য রক্ষার নামে সাইনবোর্ড ভাঙচুর

এনসিপির কুমিল্লা মহানগর শাখার নেতাদের দাবি, বাড়িটি ভাষা আন্দোলন ও মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। তাদের অভিযোগ, বাড়িটি বিক্রির প্রচেষ্টা হিসেবে সেখানে সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে এবং পুরোনো স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। বাড়ি বিক্রি ঠেকাতেই সাইনবোর্ডটি ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে তারা জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর এনসিপির নেতারা বাড়িটিতে গিয়ে প্রথমে স্থাপনাটি সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে বক্তব্য দেন। পরে তাঁরা সাইনবোর্ডটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কুমিল্লা মহানগর শাখার সদস্যসচিব মাসুমুল বারী কাওসারের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি কোনো সাধারণ স্থাপনা নয়। এটি ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ঐতিহ্য। তাই বাড়িটি ব্যক্তিগত কেনাবেচার বিষয় না করে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সংরক্ষণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন জানাবেন তাঁরা।

শনিবার মাসুমুল বারী কাওসার বলেন, ‘একটি ঐতিহাসিক বাড়ি রক্ষা করতে আমরা সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলেছি। এখানে অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেই। এ কাজে আশা করি সরকার ও ওয়ারিশ হিসেবে আরমা দত্তকে পাশে পাব। এ জায়গা বিক্রি কিংবা বহুতল ভবন করতে চাইলে জনগণ নিয়ে প্রতিহত করা হবে।’

‘আমার সম্পত্তি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আমার’

এদিকে আরমা দত্ত বলেন, ‘এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমি এর বৈধ ওয়ারিশ। এটা কুমিল্লাবাসীও জানেন। তাই এ বাড়ির জায়গা আমি কী করব, রাখব নাকি বিক্রি করব—সেটি একান্তই আমার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু রাতে এভাবে একটি বাড়ির বৈধ সাইনবোর্ড ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি দুঃখজনক। আমি এ বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণের দাবি থাকলেও ব্যক্তিমালিকানাধীন সম্পত্তিতে এভাবে হস্তক্ষেপের এখতিয়ার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, কোনো সম্পত্তি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করলেই কি তার মালিক বা বৈধ ওয়ারিশের অধিকার উপেক্ষা করে কেউ নিজ উদ্যোগে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারেন? সংরক্ষণের দাবি থাকলে তা বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্রীয় ও আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের কথা বলছেন তাঁরা।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ধীরেন্দ্রনাথ দত্তের বাড়ির সাইনবোর্ড ভেঙে ফেলার বিষয়ে তাঁরা কোনো অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে এ বিষয়ে তদন্ত করা হবে।

ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত

উল্লেখ্য, ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদে উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবি উত্থাপন করে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছেন ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত।

১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ রাতে কুমিল্লার নিজ বাসভবন থেকে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাঁকে ও তাঁর ছেলে দিলীপ কুমার দত্তকে ধরে নিয়ে যায়। এরপর তাঁদের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৯৭ সালে তাঁকে মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দিলীপ কুমার দত্তের মেয়ে আরমা দত্ত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।

খাল পরিষ্কারে নেমে কাদায় আটকে গেলেন ইউএনও, তবু থামেননি কাজ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০২৬, ৩:১০ পিএম
খাল পরিষ্কারে নেমে কাদায় আটকে গেলেন ইউএনও, তবু থামেননি কাজ

সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষা না করে স্বেচ্ছাশ্রমে দুই কিলোমিটার খাল পরিষ্কারের উদ্যোগ, ইউএনওর সঙ্গে শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী

বরিশালের উজিরপুরে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনায় ভরাট হয়ে থাকা একটি খাল পরিষ্কারের অভিযানে নিজেই নেমে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়ে একপর্যায়ে কাদায় আটকে যান তিনি। পরে স্বেচ্ছাসেবীরা তাঁকে টেনে উদ্ধার করেন। তবে এতে দমে না গিয়ে আবারও খাল পরিষ্কারের কাজে যোগ দেন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) উজিরপুর উপজেলা পরিষদসংলগ্ন প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ খালে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন বরিশালের সহযোগিতায় আয়োজিত কর্মসূচিতে ইউএনওর পাশাপাশি শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী, স্থানীয় তরুণ-তরুণী ও যুবসমাজের সদস্যরা অংশ নেন।

সকাল ৯টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত টানা পাঁচ ঘণ্টা চলে পরিচ্ছন্নতা অভিযান। এ সময় খাল থেকে কচুরিপানা, প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য অপসারণ করা হয়। এতে খালের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একসময় খালটি ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছিল। কচুরিপানা ও প্লাস্টিক বর্জ্যে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আশপাশের এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ত। দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে খালটির এমন দুরবস্থা চলছিল।

অভিযানে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আসে ইউএনও মো. আলী সুজার সরাসরি অংশগ্রহণ। বিডি ক্লিনের টি-শার্ট পরে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে তিনিও খালের ময়লা পরিষ্কারে নেমে পড়েন। একপর্যায়ে কাদায় আটকে গেলে স্বেচ্ছাসেবীরা তাঁকে টেনে তুলে সহযোগিতা করেন। এরপর আবারও কাজে যোগ দেন তিনি।

ইউএনওর খাল পরিষ্কারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে একজন সরকারি কর্মকর্তার সরাসরি অংশগ্রহণকে দায়িত্ববোধ, জনসম্পৃক্ততা ও নেতৃত্বের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন অনেকে।

বিডি ক্লিনের বিভাগীয় সমন্বয়ক জাহেদ ইরফান বলেন, উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজার আহ্বানে দীর্ঘদিনের অপরিচ্ছন্ন খালটি পরিষ্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থানীয় তরুণ-তরুণীসহ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবীর অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছে। ইউএনও নিজে স্বেচ্ছাসেবীদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করায় সবাই আরও উৎসাহিত হয়েছেন।

ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, খালের পাশের বাসিন্দাদের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিনসহ বিভিন্ন বর্জ্যে পানিপ্রবাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সরকারি বরাদ্দের অপেক্ষায় না থেকে সম্মিলিত স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে উদ্যোগী হলে সমাজের অনেক সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান তারই একটি উদাহরণ।

তিনি আরও বলেন, তরুণ-তরুণী ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত রাখা অত্যন্ত জরুরি। অবসর সময়ের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে অনেকেই নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়তে পারে। পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে তারা মাদকাসক্তি ও মোবাইল ফোনের অপব্যবহারসহ বিভিন্ন নেতিবাচক প্রবণতা থেকে দূরে থেকে সমাজের ইতিবাচক পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারবে।

×
ENG