সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

শিক্ষায় অনন্য সাফল্যের স্বীকৃতি

জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা মুরাদনগরের নাজনীন

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
মীর হাছিনা নাজনীন

জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা মুরাদনগরের নাজনীন। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার সাতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মীর হাছিনা নাজনীন।
  • জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে জেলার সেরা প্রধান শিক্ষিকার এই গৌরবজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন তিনি।
  • মঙ্গলবার (২ জুন) কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান এবং সদস্য সচিব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার এ সাফল্যের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রেখে কুমিল্লা জেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (মহিলা) নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার সাতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মীর হাছিনা নাজনীন। জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ উপলক্ষে জেলার সেরা প্রধান শিক্ষিকার এই গৌরবজনক স্বীকৃতি অর্জন করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ জুন) কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান এবং সদস্য সচিব জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে তার এ সাফল্যের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়।

জানা গেছে, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬ এর আওতায় জেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক যোগ্যতা, শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি, ঝরে পড়া রোধ, ডিজিটাল শিক্ষা কার্যক্রম এবং সামগ্রিক নেতৃত্বের বিষয়গুলো মূল্যায়ন করে জেলা বাছাই কমিটি। কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) ক্যাটাগরিতে সেরা নির্বাচিত হন মীর হাছিনা নাজনীন।

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে তিনি মুরাদনগর উপজেলার শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকা (মহিলা) নির্বাচিত হন। উপজেলা পর্যায়ে সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবার জেলা পর্যায়েও সেরার স্বীকৃতি অর্জন করে তিনি মুরাদনগর তথা কুমিল্লার শিক্ষা অঙ্গনে নতুন গৌরব যোগ করেছেন।

২০১৩ সালে সাতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মীর হাছিনা নাজনীন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের পাঠদানে আগ্রহ বৃদ্ধি এবং আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসারে নিরলসভাবে কাজ করে আসছেন তিনি।

তার নেতৃত্বে বিদ্যালয়ে ডিজিটাল ক্লাসরুম কার্যক্রম চালু ও সম্প্রসারিত হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, সহশিক্ষা কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে বিদ্যালয়টিকে একটি আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

শুধু শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নই নয়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, বৃক্ষরোপণ, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ গঠনের ক্ষেত্রেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। তার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও দক্ষ নেতৃত্বে বিদ্যালয়টি স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।

শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন মীর হাছিনা নাজনীন। তিনি জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার মাস্টার ট্রেইনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন এবং অন্যান্য শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার নেতৃত্বে শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক, ক্রীড়া ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করছে। বিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং শিক্ষার মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে।

এর আগেও ২০২৪ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষিকার স্বীকৃতি পেয়েছিলেন তিনি। ধারাবাহিক সাফল্য, সততা, কর্মনিষ্ঠা এবং শিক্ষার প্রতি গভীর দায়বদ্ধতার কারণে তিনি শিক্ষক সমাজে একজন অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন।

এ অর্জনে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন মীর হাছিনা নাজনীন। তিনি বলেন, “এই সম্মাননা আমাকে আরও দায়িত্বশীল করে তুলেছে। ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে এবং বিদ্যালয়কে আরও এগিয়ে নিতে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব।”

তার এই কৃতিত্বে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহল, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, মীর হাছিনা নাজনীনের এ অর্জন মুরাদনগরের শিক্ষা ক্ষেত্রে একটি অনুপ্রেরণার নাম হয়ে থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুকে ধারাবাহিক পোস্ট, আইডি চালাচ্ছেন কে?

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৫ পিএম
অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুকে ধারাবাহিক পোস্ট, আইডি চালাচ্ছেন কে?

অপ্রতিম হত্যার পর মায়ের ফেসবুক পোস্ট ঘিরে নতুন প্রশ্ন, সামনে এলো ৫ হাজার টাকা ও আইফোনের তথ্য

ছেলের শোকে কাতর মা, তবু ফেসবুকে একের পর এক পোস্ট; হত্যার নেপথ্য নিয়ে নিজেই দিলেন নতুন তথ্য

কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর তার মা ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমকে নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একের পর এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকাহত এই মায়ের ব্যক্তিগত ফেসবুক কার্যক্রমও এখন আলোচনায় এসেছে।

‘নাদিদা নাহিদ’ নামের ফেসবুক আইডি থেকে নিয়মিত পোস্ট ও অপ্রতিমকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য শেয়ার করা হচ্ছে। সর্বশেষ, এই প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা আগেও ওই আইডি থেকে অপ্রতিমের হত্যা নিয়ে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেওয়া হয়। পোস্টের সঙ্গে অপ্রতিম ও আইফোনসহ চারটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে অপ্রতিমের মা দাবি করেছেন, শুধু আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাই নয়, অপ্রতিমের কাছ থেকে ধার নেওয়া ৫ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টিও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ভূমিকা রাখতে পারে।

পোস্টে তিনি লেখেন, অপ্রতিম মায়ের আইফোন নিয়ে টিকটক ভিডিও বানাতে বের হয়েছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যরা আগে থেকেই ফোনটি নেওয়ার জন্য তাকে চাপ দিচ্ছিল এবং তাদের পরিকল্পনা ছিল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া। এ পরিকল্পনার সঙ্গে ‘তুহিন’ নামের একজন জড়িত ছিলেন বলেও পোস্টে দাবি করা হয়।

পোস্টের বর্ণনা অনুযায়ী, তুহিন অপ্রতিমকে নিয়ে পাহাড়ের প্রায় দেড় কিলোমিটার ভেতরে চলে যায়। পরে আরও দুজন সেখানে যোগ দেয়। তিনজন মিলে অপ্রতিমের কাছ থেকে মোবাইল ফোন নেওয়ার চেষ্টা করে এবং তার মাথায় আঘাত করে। সেখানেই অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হয় বলে দাবি করেছেন তার মা।

তবে পোস্টে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে—অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে কাজ করা এক কিশোরকে অপ্রতিম ৫ হাজার টাকা ধার দিয়েছিল। সম্প্রতি অপ্রতিম সেই টাকা ফেরত চাইছিল। এতে ওই কিশোর বিরক্ত হয়ে পড়েছিল এবং টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে সরিয়ে দেওয়ার চিন্তা করতে পারে বলে পোস্টে দাবি করা হয়েছে।

পোস্টে আরও বলা হয়, তুহিনকে আটক করার পরও সে অন্যদের বিষয়ে তথ্য দেয়নি। ওই সময় তুহিনের মোবাইলে বারবার ফোন আসছিল। পোস্টদাতার দাবি, ফোনগুলো করছিল সেই কিশোর—যে অপ্রতিমের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ধার নিয়েছিল।

অপ্রতিমের মা আরও দাবি করেন, ওই কিশোর পাহাড়ে যাওয়ার সময় নিজের মোবাইল সঙ্গে নেয়নি, যাতে তার অবস্থান শনাক্ত করা না যায়। পোস্টে তার বয়স ১৫ বছর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে অপ্রতিমের মায়ের দাবি, অপ্রতিমের বন্ধুদের অধিকাংশই তার চেয়ে বয়সে বড় ছিল। একই সঙ্গে অপ্রতিম নিজে কোথা থেকে ৫ হাজার টাকা পেয়েছিল এবং কেন অন্য একজনকে সেই টাকা ধার দিয়েছিল—সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এর আগে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির মানববন্ধনে অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার জানান, ফাহাদ ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে কাজ শুরু করেছিলেন।

এ ছাড়া ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর থাকাকালে মাদকবিরোধী অভিযানে স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলেও মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অপ্রতিমের মা মনে করেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনা প্রয়োজন।

অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তার মা। তিনি ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের বয়স-সংক্রান্ত বিষয় নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। প্রয়োজনে অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের একটি ফেসবুক পোস্টও অপ্রতিমের মৃত্যুর পর নতুন করে আলোচনায় আসে। কুমিল্লার কোটবাড়ি বিশ্বরোড এলাকায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংঘর্ষের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে ওই পোস্ট করেছিলেন ড. নাহিদা বেগম। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের পাশাপাশি আহত শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার চেষ্টা করার কথা জানিয়েছিলেন।

অন্যদিকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তার মা জানিয়েছিলেন, “ওই ছিল আমাদের সব। ওকে ঘিরেই আমাদের কত স্বপ্ন ছিল, কত পরিকল্পনা ছিল। ওর হাসি, ওর কথা, ওর ছোট ছোট আবদারেই আমাদের ঘরটা ভরে থাকত। আজ সেই ঘরেই ও নেই, ওর বই-খাতা আছে, বিছানায় ওর জিনিসপত্র আছে, কিন্তু ও নেই।”

অপ্রতিমের বাবা কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারও ছেলের হত্যার উপযুক্ত বিচার দাবি করেছেন।

অপ্রতিম ছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম ও ব্যবসায়ী কেএম ফিরোজ শাহরিয়ারের একমাত্র সন্তান। সে কুমিল্লা বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি গন্ধমতি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর অপ্রতিম নিখোঁজ হয়। প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন ছিল। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, কারা কীভাবে জড়িত এবং ফেসবুক পোস্টে উঠে আসা নতুন তথ্যগুলোর সঙ্গে ঘটনার কোনো যোগসূত্র আছে কি না—তা তদন্তের বিষয়।

দৈনিক আজকের কথা
অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
— ড. কামরুন নাহার
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২৯ পিএম
অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে পুরোনো বিরোধের যোগসূত্র খতিয়ে দেখার দাবি, প্রয়োজনে আইন সংশোধনেরও আহ্বান

কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন তথ্য ও তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তার মা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে কিশোর কি না—তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার বক্তব্য দেন।

মানববন্ধনে কুবি শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন, ইউট্যাব কুবি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও হলের প্রভোস্টরা।

মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার জানান, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে (১৬) ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।

এ ছাড়া অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।

অপ্রতিমের মা মনে করছেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

তার দ্বিতীয় দাবি, মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।

এ ছাড়া অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

দৈনিক আজকের কথা
আমি অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
— ড. কামরুন নাহার
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আসামিদের ভূমিকা এবং তাদের বয়স নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন অপ্রতিমের মা।

আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স ১৫ বছর বেশি!

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:০৭ পিএম
আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স ১৫ বছর বেশি!

এনআইডিতে মেয়ের জন্ম ১৯২২, জন্মনিবন্ধনে ১৯৮৯

বগুড়ার আদমদীঘিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভুলে অদ্ভুত বিড়ম্বনায় পড়েছেন রাজিয়া সুলতানা নামে এক নারী। সরকারি নথিতে তাঁর বয়স বাবার চেয়েও ১৫ বছর বেশি দেখাচ্ছে। এনআইডির তথ্য অনুযায়ী, রাজিয়ার জন্ম ১৯২২ সালের ২০ জুন। সে হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ১০৪ বছর। অথচ তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডিতে জন্মতারিখ ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে বাবার বয়স ৮৯ বছর।

অর্থাৎ সরকারি নথির হিসাব অনুযায়ী, মেয়ের বয়স বাবার চেয়ে ১৫ বছর বেশি!

জানা গেছে, রাজিয়া সুলতানা আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ইন্দইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম খন্দকারের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

রাজিয়ার জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ এপ্রিল। সেই হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল করে জন্মতারিখ ১৯২২ সালের ২০ জুন উল্লেখ হওয়ায় সরকারি নথিতে তাঁর বয়স দেখাচ্ছে ১০৪ বছর।

অন্যদিকে, রাজিয়ার বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডি অনুযায়ী জন্ম ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে তাঁর বয়স ৮৯ বছর। ফলে এনআইডির তথ্য অনুযায়ী বাবা-মেয়ের বয়সের হিসাবেই তৈরি হয়েছে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানার অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্টদের ভুলের কারণে তাঁর প্রকৃত জন্মসাল ১৯৮৯-এর পরিবর্তে ১৯২২ লেখা হয়েছে। এই ভুল সংশোধনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি তিনি।

এনআইডির তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বয়সের মিল না থাকায় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে তাঁকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলেও জানান রাজিয়া।

এ বিষয়ে বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

×
ENG