১৪ পলিব্যাগে অর্ধশত টুকরা
ফরিদা হত্যায় ভাড়াটিয়া লাইলী আটক, মামলায় আসামি আরও ৩; মাথা মিললেও এখনো নিখোঁজ পা-হাত

হত্যাকাণ্ডে আটক লাইলী বেগম (৩৫)। ছবি : আজকের কথা
সিসি ক্যামেরা দেখে ডাস্টবিনে মিলল মাথা, হত্যায় ভাড়াটিয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা
কুমিল্লার দেবীদ্বারে গৃহবধূ ও বাড়ির মালিক ফরিদা বেগমকে (৫৫) হত্যার পর মরদেহ অর্ধশতাধিক টুকরো করে ১৪টি পলিব্যাগে প্যাকেট করার অভিযোগ উঠেছে। রোববার দিনভর অভিযানে বাড়ির আশপাশের ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত ঘর ও ড্রেন থেকে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ডাস্টবিন/ড্রেন থেকে নিহতের মাথার অংশও উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাঁর পা, হাত ও শরীরের আরও কিছু অংশ উদ্ধার করা যায়নি।
এ ঘটনায় নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া (৭২) বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় নিহতের বাসার ভাড়াটিয়া ও ঘটনায় আটক লাইলী বেগম (৩৫) ছাড়াও আরও তিনজনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁরা হলেন—দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের আবুল কালামের স্ত্রী লাইলী বেগম, একই বাড়ির জহিরুল ইসলামের ছেলে মো. আমির হোসেন (২৮), মৃত ফারুক মিয়ার ছেলে মো. সোহেল (৩৫) এবং মৃত লিলু মিয়ার ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২৪)।
রোববার দুপুরে আটক লাইলী বেগমকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার অন্য আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
১৪ পলিব্যাগে মরদেহের খণ্ডিত অংশ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোটআলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। দেবীদ্বার দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসার পেছনে পলিথিনে মোড়ানো কয়েকটি প্যাকেট দেখতে পান নিহতের বোনের ছেলে মামুন। পরে প্যাকেটগুলোতে খণ্ডিত মরদেহের অংশ দেখতে পেয়ে তিনি পুলিশে খবর দেন।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে একাধিক প্যাকেট উদ্ধার হলেও পরবর্তী সময়ে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মোট ১৪টি পলিব্যাগে মরদেহের খণ্ডিত অংশ পাওয়ার কথা জানায়।
রোববার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত পুলিশ বাড়ির আশপাশের ময়লার ভাগাড়, ঝোপঝাড়, পরিত্যক্ত ঘর ও ড্রেনসহ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। এ সময় দুটি পলিব্যাগে থাকা মাংস ও নিহতের পরিধেয় কাপড় উদ্ধার করা হয়। পরে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে একটি ড্রেন/ডাস্টবিন থেকে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়।
তবে এখনো নিহতের পা, হাত ও শরীরের আরও কিছু অংশ পাওয়া যায়নি। এসব অংশ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
চেহারা বিকৃত করতে চামড়া ছিলে ফেলার অভিযোগ
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হত্যার পর চেহারা বিকৃত করার উদ্দেশ্যে প্রথমে মরদেহের শরীরের চামড়া ছিলে ফেলা হয়। এরপর মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
ওসি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ডাস্টবিন থেকে নিহতের মাথার অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। পা ও শরীরের অন্যান্য অংশ উদ্ধারে অভিযান চলছে।
তিনি আরও বলেন, আটক লাইলী বেগমকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, কারা এতে জড়িত এবং কোথায় মরদেহের অন্যান্য অংশ ফেলা হয়েছে—এসব তথ্য বের করতে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
লাইলীর দাবি, হত্যায় সরাসরি জড়িত নন
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে লাইলী বেগম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি দাবি করেছেন, অন্যরা ফরিদা বেগমকে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ আলাদা করার পর তিনি সেগুলো টুকরো করে প্যাকেটজাত করতে সহযোগিতা করেছেন বলে জানিয়েছেন।
লাইলীর দাবি অনুযায়ী, মরদেহের কিছু অংশ পলিথিনে মুড়িয়ে পুড়িয়ে বস্তাবন্দি করে বাড়ির পেছনে রাখা হয়। বাকি অংশ কোথায় ফেলা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি জানেন না বলে পুলিশকে জানিয়েছেন।
তবে তাঁর এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করছে পুলিশ। হত্যার প্রকৃত কারণ, কার নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে এবং ঘটনায় মোট কতজন জড়িত—এসব বিষয়ে তদন্ত চলছে।
গহনা লুটের সন্দেহ স্বজনদের
নিহতের প্রতিবেশী আমেনা বেগমের দাবি, হত্যার আগের দিন শুক্রবার ফরিদা বেগম গহনা পরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁর ধারণা, গহনা লুটের উদ্দেশ্যে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়ে থাকতে পারে।
নিহতের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়াও জানান, ফরিদা ও তাঁর দুই মেয়ের প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ছিল। হত্যাকাণ্ডের পর সেসব স্বর্ণালঙ্কার ঘরে পাওয়া যাচ্ছে না। একটি আলমারির চাবিও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আলমারি খোলা সম্ভব হলে আরও কোনো মালামাল খোয়া গেছে কি না, তা জানা যাবে বলে তিনি জানান।
তবে স্বর্ণালঙ্কার লুটের বিষয়টি এখনো তদন্তে নিশ্চিত হয়নি। পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য সব কারণই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
স্বামী ছিলেন চট্টগ্রামে
নিহত ফরিদা বেগম দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। প্রায় ৩০ বছর আগে তাঁরা ছোটআলমপুরের মোহনা আবাসিক এলাকায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করেন।
মফিজুল ইসলাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তারের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বেগম বাড়িতে অনেকটা একাই থাকতেন। তাঁদের একমাত্র ছেলে ইব্রাহীম খলিল ২০১০ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান।
মামলার বাদী মফিজুল ইসলাম বলেন, হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি চট্টগ্রামে কর্মস্থলে ছিলেন। গত ২২ জুলাই লাইলী বেগম তাঁর বাসার একটি কক্ষ মাসিক ১ হাজার ৬০০ টাকা ভাড়ায় নেন। বাসা মেরামত এবং স্ত্রীকে নিয়ে ওমরাহ পালনের জন্য তিনি ৭ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানান তিনি।
মাত্র ১৮ দিন আগে ভাড়া নেন লাইলী
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেবীদ্বার পৌর এলাকার চাপানগর গ্রামের ট্রাক্টরচালক আবুল কালামের স্ত্রী লাইলী বেগম পারিবারিক কলহের কারণে গত ২২ জুলাই ফরিদা বেগমের বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের মাত্র ১৮ দিন আগে তিনি ওই বাড়িতে ওঠেন। লাইলীর স্বামী আবুল কালাম চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ফরিদার বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে লাইলী বসবাস করলেও হত্যাকাণ্ডের আগে তাঁদের মধ্যে কোনো বিরোধ ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
সকাল থেকে নিখোঁজ ছিলেন ফরিদা
স্বজনেরা জানান, শনিবার সকাল থেকেই ফরিদা বেগমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। ডায়াবেটিসের কারণে তিনি নিয়মিত সকালে হাঁটতে বের হতেন। ওইদিনও তাঁকে না পেয়ে স্বজনেরা প্রথমে ধারণা করেন, হয়তো কোথাও গেছেন। পরে আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করা হয়।
সন্ধান না পেয়ে এলাকায় মাইকিংও করা হয়। স্বজনদের দাবি, থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পুলিশ জিডি নেয়নি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পরে ফরিদা বেগমের বোনের ছেলে মামুন বাড়ির পেছনে পলিথিনে মোড়ানো প্যাকেট দেখতে পান। সেখানেই খণ্ডিত মরদেহের সন্ধান মেলে।
ঘটনার পর লাইলীকে গণধোলাই
মরদেহ উদ্ধারের পর হত্যাকাণ্ডে লাইলী বেগমের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাঁকে আটক করে মারধর করে এবং পার্শ্ববর্তী বালুর মাঠে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে।
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাইলীকে উদ্ধার করে। আহত অবস্থায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়ার পর থানায় নেওয়া হয়।
এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লাইলীর বিরুদ্ধে পুরোনো হত্যা মামলার তথ্য
এদিকে লাইলী বেগমের বিরুদ্ধে একটি পুরোনো শিশু হত্যা মামলার তথ্যও সামনে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে সাত বছর বয়সী শিশু ফাহিমা হত্যার ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছিল। ওই মামলায় অভিযোগ ছিল, শিশুটি তার বাবা আমির হোসেন ও লাইলী বেগমকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেছিল। পরে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে কাচিসাইর পুলের নিচে ফেলে দেওয়া হয়।
ওই বছরের ১৪ নভেম্বর বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। পরে তাঁরা জামিনে মুক্তি পান।
তবে ওই পুরোনো মামলার সঙ্গে ফরিদা বেগম হত্যার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। পুলিশও এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য দেয়নি।
মামলায় চারজন আসামি
শনিবার দিবাগত রাতে নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় মামলা করেন। মামলায় লাইলী বেগমসহ চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
অন্য আসামিরা হলেন—আমির হোসেন (২৮), সোহেল (৩৫) ও রবিউল ইসলাম (২৪)। তাঁদের মধ্যে লাইলী ছাড়া অন্যরা এখনো পলাতক রয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত পুলিশ লাইলী বেগম ছাড়া আর কাউকে আটক করতে পারেনি।
একাধিক দল মাঠে পুলিশের
দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, আসামিরা পলাতক থাকায় হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং মরদেহের বিভিন্ন অংশ কোথায় গোপন করা হয়েছে—এসব তথ্য সংগ্রহে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আটক লাইলী বেগমকে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক দল বিভিন্ন দিক থেকে কাজ করছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে তথ্য সংগ্রহ চলছে।
নিহতের স্বজনেরা দ্রুত মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধার, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
প্রেমঘটিত টানাপোড়েনে মর্মান্তিক মৃত্যু
দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রবাসী ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আফরিন আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন তার মা। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে দেবীদ্বার সদর এলাকার মোল্লাবাড়ী মসজিদ সংলগ্ন ‘খান মঞ্জিল’-এর চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আফরিন আক্তার দেবীদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে। সে পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে আফরিনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তার মা তাকে নিয়ে দেবীদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত দুই বছর ধরে তারা ‘খান মঞ্জিল’-এর ওই বাসায় থাকছিলেন।
পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য জামসেদ মিয়ার ছেলে ও পেশায় ক্যামেরাম্যান সাখাওয়াত হোসেন সানি (২৬)-এর সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা ও তার প্রবাসী দুই ভাই।
মরিয়ম বেগমের ভাষ্য, সোমবার দুপুরে সৌদি প্রবাসী ছোট ছেলে আজাদ ফোন করে তাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বলেন। আজাদ জানান, সানি তাকে মেসেজ করে জানিয়েছেন যে তিনি আফরিনকে বিয়ে করবেন না এবং আফরিন আত্মহত্যা করতে পারেন।
পরে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ দেখতে পান মরিয়ম বেগম। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় সানিকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নিহতের মা।
বাড়ির মালিক শাহ আলম খান বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্মতি থাকায় সোমবার দুই পরিবারের অভিভাবকদের নিয়ে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসার কথা ছিল।
পুলিশের বক্তব্য
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও পারিবারিক মনোমালিন্যের বিষয়টি সামনে রেখে ঘটনাটি তদন্ত করছে।
জামিনে মুক্তদের বরণে প্রস্তুতি
ফুলের মালা হাতে কারাফটকে ‘শোডাউন’, আ.লীগের ৪ নেতাকর্মী আটক

নোয়াখালী জেলা কারাগারের সামনে ফুলের মালা নিয়ে ‘শোডাউন’ করার অভিযোগে আওয়ামী লীগের চার নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে সদর উপজেলার জেলা কারাগারের ফটক থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক ব্যাগ ফুলের মালা উদ্ধার করা হয়।
আটকরা হলেন—সদর উপজেলার এওজবালিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম এওজবালিয়া গ্রামের ছেরাজল হক চৌধুরী (৬৩), মেহেদী হাসান হৃদয় (২০), মো. ফারুক হোসেন (১৮) ও মো. নাজিম (১৮)। পুলিশের দাবি, আটক চারজনই আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ৫ জুন জুমার নামাজের পর নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজারে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের উদ্যোগে প্রায় তিন হাজার নেতাকর্মী বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। ওই কর্মসূচির পর এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
রোববার তাদের মধ্যে কয়েকজন জামিনে মুক্তি পেলে খবর পেয়ে একদল নেতাকর্মী ফুলের মালা নিয়ে কারাগারের সামনে জড়ো হন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, আটক চারজন মুক্তিপ্রাপ্তদের আত্মীয় নন এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে ছবি তুলে শোডাউন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।
পুলিশের চোখে ফুলের মালা, উদ্দেশ্য ‘শোডাউন’
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
বিশেষ বক্তব্য:
কারামুক্ত ব্যক্তিকে স্বজনদের ফুল দিয়ে বরণ করা স্বাভাবিক হলেও, দলীয় পরিচয়ে একাধিক ব্যক্তির সংগঠিতভাবে কারাফটকে অবস্থান ও শোডাউনের প্রস্তুতি নেওয়ার অভিযোগ নতুন করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে আটক ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে এ অভিযোগের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের নয়া চেয়ারম্যান আশিকুর রহমান মাহমুদ

সরকার কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে আশিকুর রহমান মাহমুদকে নিয়োগ দিয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা: আকতারুন নেছা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগ প্রদান করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, “পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬”-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী তিন বছরের জন্য তাকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সরকারি আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার মুন্সেফ বাড়ির বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম হাজী আব্দুর রহিম মাহমুদ এবং মায়ের নাম জাহানারা মাহমুদ। নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট ২১টি দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে আশিকুর রহমান মাহমুদ কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনীত হওয়ায় তাকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কুমিল্লার বিশিষ্ট সমাজসেবক, ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মামাতো ভাই এবং মুরাদনগর উপজেলার জাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া।
এক অভিনন্দন বার্তায় সৈয়দ আতিকুল্লাহ প্রিয়া বলেন, “আশিকুর রহমান মাহমুদের মতো একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিত্ব কুমিল্লা ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। তাঁর এই নেতৃত্বের মাধ্যমে কুমিল্লার সুপেয় পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবনীয় উন্নয়ন সাধিত হবে এবং নাগরিক সেবা পৌঁছাবে জনগণের দোড়গোড়ায়। আমি তাঁর জীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য, দীর্ঘায়ু ও সার্বিক কল্যাণ কামনা করছি























