ব্রাহ্মণপাড়ার এসিল্যান্ডকে ফের বদলি, আগের আদেশের পরও ছাড়েননি কর্মস্থল

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তারেক রহমান। ছবি : আজকের কথা
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) (এসিল্যান্ড) তারেক রহমানকে আবারও বদলি করা হয়েছে। আগের বদলি আদেশের পরও তিনি কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় নতুন করে বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সাইফুল ইসলাম।
প্রশাসন সূত্র জানায়, গত ১৬ আগস্ট তারেক রহমানকে ব্রাহ্মণপাড়া থেকে ঢাকা জেলায় বদলি করা হয়। এর আগে গত ৩০ জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (রাজস্ব) গোলাম মোস্তফা মুন্নার স্বাক্ষরিত আদেশে তাকে কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় বদলি করা হয়েছিল। তবে ওই আদেশের পরও তিনি ব্রাহ্মণপাড়ার কর্মস্থল ছাড়েননি এবং দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, গত প্রায় এক বছর ধরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যক্রম নিয়ে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেজার মেশিনের ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। ভূমি অফিসে ঘুষ-বাণিজ্য এবং ড্রেজার-সংক্রান্ত অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন বাসিন্দা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা ইউএনও মুন্নি ইসলাম বদলির আদেশ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, তারেক রহমান ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে যোগদান করেন। নতুন বদলি আদেশের পর এবার তিনি কর্মস্থল ছাড়বেন কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গ্যাস সংকটে বন্ধ ৯০০-এর বেশি টেক্সটাইল মিল, ধসে পড়ছে শিল্প উৎপাদন

গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে ৯০০ এর বেশি শিল্প কলকারখানা। সরকারের পক্ষ থেকে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির আশ্বাস দেওয়া হলেও শিল্পাঞ্চলগুলোতে সংকট কাটেনি। দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটে দেশের ১ হাজার ৮০০টির বেশি টেক্সটাইল মিলের মধ্যে ৯০০-এরও বেশি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)। একই সঙ্গে গ্যাসনির্ভর তৈরি পোশাক, ইস্পাত, কাগজ, পার্টিকেল বোর্ড ও সিরামিকসহ বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
শিল্প মালিকদের অভিযোগ, নারায়ণগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। কয়েকটি এলাকায় সাময়িকভাবে সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও পরে আবার সংকট তীব্র হয়েছে।
গত ৬ আগস্ট বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ শিল্প মালিক ও ব্যবসায়ীদের গ্যাস পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপরও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হওয়ায় শিল্পোদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম জানান, নারায়ণগঞ্জে একদিন গ্যাস সরবরাহে সামান্য উন্নতি হলেও পরদিন পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।
“সোমবার নারায়ণগঞ্জে গ্যাস সরবরাহে সামান্য উন্নতি লক্ষ্য করা গেলেও, আজ পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।”
মোহাম্মদ হাতেম
সভাপতি, বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ)
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারের একটি স্পিনিং মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তাঁর কারখানায় গ্যাসের চাপ প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। এতে প্রতিদিন বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি।
তিনি জানান, প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকা ক্ষতির পাশাপাশি শ্রমিকদের বেতন ও গ্যাস-বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনেক কারখানা মালিককে সম্পদ বিক্রি করে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধের মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিনহাজ হক বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি।
“কয়েক দফা ডেডলাইন পার হয়ে যাওয়ার পর এখন তারা আমাদের আর কোনো আশার কথা শোনাতে পারছে না। পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে, সে সম্পর্কে আমরা সম্পূর্ণ অন্ধকারে আছি।”
মিনহাজ হক
ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ফতুল্লা ডাইং অ্যান্ড ক্যালেন্ডারিং লিমিটেড
এদিকে নরসিংদীর মাধবদীতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে তাঁত শ্রমিকদের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে। তবে মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন এ ধরনের কোনো বিক্ষোভের তথ্য অস্বীকার করেছেন।
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কারখানা বন্ধ থাকায় তাঁত শ্রমিকদের আয়ও বন্ধ হয়ে গেছে। কারণ অনেক শ্রমিক উৎপাদনভিত্তিক মজুরি পান।
“উৎপাদন বন্ধ থাকলে শ্রমিকদের আয়ও বন্ধ হয়ে যায়। তাই নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাবিতে তাঁরা সড়কে নেমেছিলেন।”
আবদুল্লাহ আল মামুন
সাবেক সভাপতি, নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি
শিল্প মালিকরা বলছেন, দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকট শুধু কারখানার উৎপাদন কমাচ্ছে না, এর প্রভাব পড়ছে শ্রমিকদের আয়, শিল্পের আর্থিক সক্ষমতা এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক না হলে আরও অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটির পর জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ হঠাৎ কমে যায়। এরপর থেকেই দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে।
রাত ৮টার পর দোকান খোলা, মুরাদনগরে ৯ ব্যবসায়ীকে জরিমানা; প্রশাসনের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখায় কুমিল্লার মুরাদনগর সদর বাজারে ৯ ব্যবসায়ীকে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের এভাবে জরিমানা করার পাশাপাশি উপজেলার সরকারি সম্পদ দখল, নদী-খাল ও খাসজমি উদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাত সাড়ে ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত মুরাদনগর সদর বাজারে এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাকিব হাছান খাঁন। এ সময় মুরাদনগর থানা-পুলিশের একটি দল ও আনসার সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে রাত ৮টার পর দোকান, শপিং মলসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে। ওই নির্দেশনা অমান্য করে দোকান খোলা রাখায় ৯ ব্যবসায়ীকে ১ হাজার টাকা করে মোট ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
তবে প্রশাসনের এ অভিযানের পর স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা বাস্তবায়ন যেমন জরুরি, তেমনি রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা ও সরকারি জমি-জলাশয় দখলমুক্ত করাও প্রশাসনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুরাদনগরের বিভিন্ন এলাকায় সরকারি খাসজমি, নদী-খাল ও সরকারি রাস্তা দখল, জলাশয় ভরাট এবং কৃষিজমি নষ্ট করার মতো গুরুতর ঘটনা রয়েছে। এসব কারণে রাষ্ট্রের বিপুল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ থাকলেও অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
এমনকি সরকারি সম্পদ ও দখলমুক্ত করার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা থাকলেও তা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না—এ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, সাধারণ ব্যবসায়ীরা রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখলে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে জরিমানা করা হলেও সরকারি সম্পদ দখল বা নষ্ট করার মতো বড় অভিযোগের ক্ষেত্রে একই ধরনের কঠোরতা দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়ন অবশ্যই প্রয়োজন। তবে আইন প্রয়োগে অগ্রাধিকার ও সামঞ্জস্য থাকা জরুরি। বৈধভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের জীবিকা ও ব্যবসায়িক বাস্তবতাও প্রশাসনকে বিবেচনায় রাখতে হবে।
তাদের প্রশ্ন, কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ রক্ষা, সরকারি খাসজমি, নদী-খাল ও রাস্তা দখলমুক্ত করা এবং কৃষিজমি রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে যদি কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে রাত ৮টার পর দোকান খোলা রাখার মতো বিষয়ে জরিমানা করাকেই প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে দেখা কতটা যৌক্তিক?
স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসন যেন শুধু ছোটখাটো বিষয়ে অভিযান পরিচালনার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সরকারি সম্পদ রক্ষা, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়।
২০ বছর পর মামলার রায়, জেএমবির দুই সদস্যের ২০ বছর করে কারাদণ্ড

বিষ্ণুপুরে বিস্ফোরক উদ্ধারের মামলায় তিনজন দণ্ডিত
কুমিল্লায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে দায়ের করা আলোচিত একটি মামলার প্রায় ২০ বছর পর রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মামলার দুই আসামিকে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক নারী আসামিকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল-৬) আদালতের বিচারক খাইরুন নেছা এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন নওগাঁ জেলার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ওরফে মিন্টু ওরফে সামাদ ওরফে রাজীব এবং গাজীপুরের শ্রীপুর থানার চকপাড়া এলাকার মোহাম্মদ দুরুল হুদা ওরফে হাসান। অপর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানী।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ১৩ মার্চ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪/৬ ধারায় মামলা করা হয়। মামলাটির জিআর নম্বর ১০৬/০৬ এবং এসটি মামলা নম্বর ১৩৭/০৬।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০০৬ সালের মার্চে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার বিষ্ণুপুর এলাকায় র্যাব-৭ অভিযান চালায়। একটি বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন বিস্ফোরক ও রাসায়নিক পদার্থ, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম এবং বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন উপকরণ উদ্ধারের কথা মামলার এজাহার ও জব্দ তালিকায় উল্লেখ করা হয়।
উদ্ধার করা আলামতের মধ্যে সোডিয়াম সালফেট, লিড নাইট্রেট, সোডিয়াম নাইট্রেট, পটাসিয়াম ক্লোরাইড, সালফিউরিক অ্যাসিড, সালফার পাউডার, পটাসিয়াম ক্লোরেট ও অ্যালুমিনিয়াম পাউডারসহ বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের কথা মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া ইলেকট্রিক ডেটোনেটর, ব্যাটারি, বৈদ্যুতিক তার, সার্কিট, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও টেস্ট টিউবসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দের কথাও বলা হয়।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, তৎকালীন র্যাবের হেফাজতে থাকা শায়খ আবদুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিষ্ণুপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে এসব তথ্য ২০০৬ সালের এজাহার ও মামলার নথিতে উত্থাপিত তথ্য হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।
মামলার বিচারিক কার্যক্রমে বাদী ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন সময়ে মোট ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। সাক্ষীদের জবানবন্দি, আসামিদের বক্তব্য, জব্দ তালিকা ও অন্যান্য নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন।
রায়ে মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও মোহাম্মদ দুরুল হুদাকে প্রত্যেককে ২০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অন্যদিকে দুরুল হুদার স্ত্রী খালেদা আক্তার রানীকে ৮ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালতের রায়সংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়েছে, খালেদা আক্তার রানীর সাজা নির্ধারণের ক্ষেত্রে তার তিন সন্তান থাকা, স্বামী কারাগারে থাকা এবং তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকার বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর দণ্ডপ্রাপ্তদের সাজা পরোয়ানামূলে প্রয়োজনীয় পুলিশ পাহারায় প্রিজন ভ্যানে করে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের দুপুর ১টা ২০ মিনিটে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণার পর দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে তাদের কারাগারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয় এবং দুপুর ২টা ৪ মিনিটে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছানো হয়।
দীর্ঘ দুই দশকের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০০৬ সালের বিষ্ণুপুরে বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলাটির নিষ্পত্তি হলো। সাক্ষ্য, জব্দ করা আলামত ও মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত তিন আসামিকে পৃথক মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

































