‘সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে’—কায়েস মীর

‘সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে’—কায়েস মীর। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগরে পুটিয়াজুরী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্বোধন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল এলাকায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘পুটিয়াজুরী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা’র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৩টায় পুটিয়াজুরী এলাকার মাদ্রাসা হলরুমে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই মাদ্রাসাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যায়। বিশেষ করে এলাকার শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় সৎ সাহস রাখতে হবে।
তিনি বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, সততা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার মানসিকতা তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে তারা সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কায়েস মীর আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবার। অন্যায় দেখেও নীরব থাকা উচিত নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার মতো মানসিকতা প্রত্যেকের মধ্যে তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৭ নম্বর জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর-এর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা ছিল মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী-এর।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন সোনাকান্দা কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হযরত মাওলানা মো. সাইদুল ইসলাম আলামিন মাহমুদী। তিনি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা এবং শিশু-কিশোরদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরুতেই তার মধ্যে সঠিক মূল্যবোধ তৈরি করা জরুরি। কোরআন শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, পরোপকার ও ন্যায়বোধের শিক্ষা লাভ করতে পারে। তাই আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, এলাকার শিশু-কিশোরদের প্রাথমিক কোরআন শিক্ষা, নূরানী শিক্ষা ও হিফজুল কোরআনের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষার একটি উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চরিত্রবান ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে গোপালনগর মাদ্রাসা জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা জয়নাল আবেদীন-এর পরিচালনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মাদ্রাসার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সফলতা কামনা করা হয়।
এ সময় মাদ্রাসার ছাত্রদের কোরআন শিক্ষার সবক প্রদান করা হয়। নতুন শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষার আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যেই এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মাদ্রাসাটিকে আরও উন্নত ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু কোরআন পড়তে শেখানো নয়, কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্যও প্রস্তুত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। আমরা চাই, এখান থেকে এমন শিক্ষার্থী বের হয়ে আসুক, যারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কল্যাণকর মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় আলেম-ওলামা, অভিভাবক এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় একটি নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ফলে শিশু-কিশোরদের কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি অভিভাবকরাও নিজেদের সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে নতুন একটি সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘পুটিয়াজুরী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ ভবিষ্যতে শুধু একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাদ্রাসাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে নতুন আশাবাদ। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত পাঠদান ও দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।




































