‘সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে’—কায়েস মীর

‘সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে’—কায়েস মীর। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগরে পুটিয়াজুরী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার উদ্বোধন
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়নের কাজিয়াতল এলাকায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার প্রসারে নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘পুটিয়াজুরী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা’র শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেল ৩টায় পুটিয়াজুরী এলাকার মাদ্রাসা হলরুমে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নতুন এই মাদ্রাসাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ ও আগ্রহ দেখা যায়। বিশেষ করে এলাকার শিশু-কিশোরদের ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন সংশ্লিষ্টরা।

সবাইকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হতে হবে এবং সত্য প্রতিষ্ঠায় সৎ সাহস রাখতে হবে।
তিনি বলেন, একটি আদর্শ সমাজ গঠনে শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নয়, শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মানবিকতা, সততা ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার মানসিকতা তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে তারা সমাজ ও দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।
কায়েস মীর আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার, শিক্ষক ও সমাজের সবার। অন্যায় দেখেও নীরব থাকা উচিত নয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো সাহস এবং সত্যকে প্রতিষ্ঠিত করার মতো মানসিকতা প্রত্যেকের মধ্যে তৈরি করতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ১৭ নম্বর জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর-এর। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখার কথা ছিল মুরাদনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী-এর।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য উপস্থাপন করেন সোনাকান্দা কামিল মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হযরত মাওলানা মো. সাইদুল ইসলাম আলামিন মাহমুদী। তিনি ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা এবং শিশু-কিশোরদের নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোচনা করেন।
তিনি বলেন, একটি শিশুর শিক্ষাজীবনের শুরুতেই তার মধ্যে সঠিক মূল্যবোধ তৈরি করা জরুরি। কোরআন শিক্ষা শুধু ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; এর মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থী সত্যবাদিতা, শৃঙ্খলা, মানবিকতা, পরোপকার ও ন্যায়বোধের শিক্ষা লাভ করতে পারে। তাই আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, এলাকার শিশু-কিশোরদের প্রাথমিক কোরআন শিক্ষা, নূরানী শিক্ষা ও হিফজুল কোরআনের সুযোগ তৈরি করার লক্ষ্যেই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষার একটি উপযুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের চরিত্রবান ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে গোপালনগর মাদ্রাসা জামে মসজিদের খতিব আলহাজ্ব হযরত মাওলানা জয়নাল আবেদীন-এর পরিচালনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে মাদ্রাসার উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার সফলতা কামনা করা হয়।
এ সময় মাদ্রাসার ছাত্রদের কোরআন শিক্ষার সবক প্রদান করা হয়। নতুন শিক্ষার্থীদের কোরআন শিক্ষার আনুষ্ঠানিক যাত্রাকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানে এক আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. আনোয়ার হোসেন মাস্টার বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার সুযোগ তৈরির উদ্দেশ্যেই এ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে মাদ্রাসাটিকে আরও উন্নত ও আধুনিক শিক্ষার পরিবেশে রূপ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু কোরআন পড়তে শেখানো নয়, কোরআনের শিক্ষা অনুযায়ী জীবন পরিচালনার জন্যও প্রস্তুত করাই আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। আমরা চাই, এখান থেকে এমন শিক্ষার্থী বের হয়ে আসুক, যারা পরিবার, সমাজ ও দেশের জন্য কল্যাণকর মানুষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় আলেম-ওলামা, অভিভাবক এবং এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, এলাকায় একটি নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার ফলে শিশু-কিশোরদের কোরআন ও ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি অভিভাবকরাও নিজেদের সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় শিক্ষিত করার ক্ষেত্রে নতুন একটি সুযোগ পাবেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘পুটিয়াজুরী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন (কায়কোবাদ) নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ ভবিষ্যতে শুধু একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধসম্পন্ন প্রজন্ম গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে মাদ্রাসাটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে নতুন আশাবাদ। তাদের প্রত্যাশা, নিয়মিত পাঠদান ও দক্ষ শিক্ষকমণ্ডলীর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার শিক্ষা ও ধর্মীয় চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।
পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।
সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।
পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।
তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।
কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।
পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।
পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।
কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।
কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


































