রূপ নয়, মানুষের পরিচয় তার চরিত্রে—আলেয়া মান্নানের কবিতায় আত্মশুদ্ধির আহ্বান
“রূপের সাগর: সৌন্দর্যের অহংকারে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে কবির সতর্কবার্তা”

কবি আলেয়া মান্নান—রূপের মোহ, অহংকার ও মিথ্যা ভালোবাসার বিরুদ্ধে তাঁর কবিতায় তীক্ষ্ণ উচ্চারণ। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
রূপের সাগর
রূপের মোহে হারিয়ে যাওয়া এক মানুষের প্রতি সতর্ক উচ্চারণ
কবি: মোসাঃ আলেয়া খাতুন
রূপের কী যে বাহার তোমার—
যেন রূপের সাগর,
চোখে-মুখে রূপের মেলা,
অঙ্গে রূপের জোয়ার।
রূপ নিয়ে এত অহংকার,
এত কিসের গরব?
রূপের আলো ম্লান হয়ে যায়—
মন যদি হয় পাথর।
রূপনগরে থাকো বুঝি,
রূপই তোমার ধ্যান,
অঙ্গে যেন রূপের বন্যা,
মনে কোথায় প্রাণ?
হাসির আড়াল, মিষ্টি কথায়
জয় করো কত মন,
কিন্তু ভেতর শূন্য হলে
কীসের এত আয়োজন?
অহংকারে মত্ত তুমি,
ভুলে গেছো ভালো-মন্দ,
হাজার মানুষের প্রেমের খেলায়
কখন যে হলে নিঃসঙ্গ!
এখানে-ওখানে ছুটে বেড়াও
প্রেমেরই সন্ধানে,
একদিন দেখবে—আপন মানুষ
নেই আর পাশে টানে।
ও রূপের মানুষ, রূপ ফুটেছে
তোমার অঙ্গে ভরা,
তাই বলে কি প্রেম কুড়াতে
হবে না কোনো সীমানা?
সকাল পেরিয়ে দুপুর আসে,
দুপুর গড়িয়ে রাত,
প্রেমের নামে ছুটে বেড়াও—
কত হৃদয়ে আঘাত!
আকাশ থেকে পাতাল অবধি
খুঁজে ফেরো ভালোবাসা,
কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছো—
কোথায় সত্যিকারের আশা?
নেই কি মনে আল্লাহ-রাসুলের
একটুও কোনো ভয়?
ভেবেছো কি অভিনয় করে
জীবনে মিলবে জয়?
দুনিয়ার চোখ ফাঁকি দিলেও
ফাঁকি কি দেওয়া যায়?
নীরব রাতের গোপন কান্না
কারও কি অগোচর রয়?
হোয়াটসঅ্যাপে মিষ্টি কথা,
ফেসবুকে প্রেমের ছল,
মেসেঞ্জারে আবেগ ঝরে—
বাড়ে হৃদয়ের জল।
টেলিফোনে শুভেচ্ছা পাঠাও,
ইমুতে পাঠাও ছবি,
ইনস্টাগ্রামে ‘হাই-হ্যালো’,
টেলিগ্রামে—‘তোমারই হব আমি’!
কথার জালে, মায়ার ছলে
কত হৃদয় নাও জিতে,
‘ভালোবাসি’ শব্দটি দিয়ে
কত মানুষ যাও রীতিমতো ভেঙে দিতে।
রূপের বাহার তোমার অঙ্গে,
রূপের যেন বন্যা,
কত হৃদয়ে ঢেলেছো তুমি
মিথ্যে প্রেমের ঝর্ণা?
কত চোখে জাগিয়েছো স্বপ্ন,
কত মনে দিয়েছো ঘা,
কত মানুষ তোমার ছলনায়
হারিয়েছে আপন ঠিকানা!
‘ভালোবাসি’ বলার আগে
একবার ভেবো তবে—
ভাঙা হৃদয়ের কান্নাগুলো
কার কাছে গিয়ে রবে?
রূপ তো একদিন ঝরে যাবে,
যৌবন হবে ক্ষয়,
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে
থাকবে শুধু পরিচয়।
যে হৃদয় নিয়ে খেলেছো তুমি,
যে চোখে দিয়েছো জল,
সেই অশ্রুরও হিসাব আছে—
ভুলো না সেই কথা বল।
আজও সময় আছে তোমার,
ফিরে এসো নিজের কাছে,
মিথ্যে প্রেমের পথ ছেড়ে দাও,
সত্যকে রাখো পাশে।
সব মোহ, মায়া, অহংকার ছেড়ে
শুদ্ধ করো চরিত্র,
মানুষের হৃদয় নিয়ে খেলা
নয় জীবনের কৃতিত্ব।
ভাবো—এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়,
সবাই যাবে একদিন,
রূপ-যৌবন, অর্থ-অহংকার
থাকবে না তো কোনো দিন।
প্রভুর দরবারে যেদিন তুমি
পড়ে যাবে ধরা,
সেদিন বুঝবে—রূপ নয়, মানুষ হওয়াই
জীবনের সবচেয়ে বড় সওগাত সারা।
সেদিন কোনো অভিনয় নয়,
চলবে না কোনো ছল,
নিজের কর্মের আয়নায় তখন
দেখবে নিজেরই মুখখানি অবিকল।
তাই বলি আজ, ও রূপের মানুষ—
থামাও মিথ্যে খেলা,
রূপের অহংকার ভুলে গিয়ে
মানুষ হও, মন মেলা।
কারণ রূপের সাগর শুকিয়ে যায়,
ঝরে যায় ফুলের ঘ্রাণ—
কিন্তু ভালো মানুষের ভালোবাসা
বেঁচে থাকে যুগের পর যুগ, অম্লান।
কবি পরিচিতি
মোসাঃ আলেয়া খাতুন প্রকাশ আলেয়া মান্নান নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইমাম হোসাইন এবং মাতা মোসা. জুবাইদা খাতুন।
তিনি একাধারে একজন সংসারী, কর্মজীবী ও জীবনসংগ্রামী মা। ভ্রমণপিপাসু ও দুরন্ত শৈশবের স্মৃতিবাহী কবি সহজ-সরল জীবনযাপন পছন্দ করেন। বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁর জীবনদর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

রূপ-সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু মানুষের চরিত্র ও কর্মই তার প্রকৃত পরিচয়। রূপের অহংকারে অন্যের হৃদয় নিয়ে খেলা, মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় কিংবা সম্পর্ককে বিনোদনে পরিণত করার পরিণতি একদিন না একদিন মানুষকে বুঝতেই হয়। তাই সময় থাকতে অহংকার, প্রতারণা ও মিথ্যা প্রেমের পথ ছেড়ে নিজেকে সংশোধন করা উচিত।
সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁর কবিতার পথচলা। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা ৩৫টিরও বেশি কবিতা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখায় ব্যক্তি-জীবনের অভিজ্ঞতা, মানবিক সম্পর্ক, সামাজিক বাস্তবতা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আত্মশুদ্ধির আহ্বান বিভিন্নভাবে উঠে আসে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।




































