রূপ নয়, মানুষের পরিচয় তার চরিত্রে—আলেয়া মান্নানের কবিতায় আত্মশুদ্ধির আহ্বান
“রূপের সাগর: সৌন্দর্যের অহংকারে হারিয়ে যাওয়া মানুষকে কবির সতর্কবার্তা”

কবি আলেয়া মান্নান—রূপের মোহ, অহংকার ও মিথ্যা ভালোবাসার বিরুদ্ধে তাঁর কবিতায় তীক্ষ্ণ উচ্চারণ। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
রূপের সাগর
রূপের মোহে হারিয়ে যাওয়া এক মানুষের প্রতি সতর্ক উচ্চারণ
কবি: আলেয়া মান্নান
রূপের কী যে বাহার তোমার—
যেন রূপের সাগর,
চোখে-মুখে রূপের মেলা,
অঙ্গে রূপের জোয়ার।
রূপ নিয়ে এত অহংকার,
এত কিসের গরব?
রূপের আলো ম্লান হয়ে যায়—
মন যদি হয় পাথর।
রূপনগরে থাকো বুঝি,
রূপই তোমার ধ্যান,
অঙ্গে যেন রূপের বন্যা,
মনে কোথায় প্রাণ?
হাসির আড়াল, মিষ্টি কথায়
জয় করো কত মন,
কিন্তু ভেতর শূন্য হলে
কীসের এত আয়োজন?
অহংকারে মত্ত তুমি,
ভুলে গেছো ভালো-মন্দ,
হাজার মানুষের প্রেমের খেলায়
কখন যে হলে নিঃসঙ্গ!
এখানে-ওখানে ছুটে বেড়াও
প্রেমেরই সন্ধানে,
একদিন দেখবে—আপন মানুষ
নেই আর পাশে টানে।
ও রূপের মানুষ, রূপ ফুটেছে
তোমার অঙ্গে ভরা,
তাই বলে কি প্রেম কুড়াতে
হবে না কোনো সীমানা?
সকাল পেরিয়ে দুপুর আসে,
দুপুর গড়িয়ে রাত,
প্রেমের নামে ছুটে বেড়াও—
কত হৃদয়ে আঘাত!
আকাশ থেকে পাতাল অবধি
খুঁজে ফেরো ভালোবাসা,
কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছো—
কোথায় সত্যিকারের আশা?
নেই কি মনে আল্লাহ-রাসুলের
একটুও কোনো ভয়?
ভেবেছো কি অভিনয় করে
জীবনে মিলবে জয়?
দুনিয়ার চোখ ফাঁকি দিলেও
ফাঁকি কি দেওয়া যায়?
নীরব রাতের গোপন কান্না
কারও কি অগোচর রয়?
হোয়াটসঅ্যাপে মিষ্টি কথা,
ফেসবুকে প্রেমের ছল,
মেসেঞ্জারে আবেগ ঝরে—
বাড়ে হৃদয়ের জল।
টেলিফোনে শুভেচ্ছা পাঠাও,
ইমুতে পাঠাও ছবি,
ইনস্টাগ্রামে ‘হাই-হ্যালো’,
টেলিগ্রামে—‘তোমারই হব আমি’!
কথার জালে, মায়ার ছলে
কত হৃদয় নাও জিতে,
‘ভালোবাসি’ শব্দটি দিয়ে
কত মানুষ যাও রীতিমতো ভেঙে দিতে।
রূপের বাহার তোমার অঙ্গে,
রূপের যেন বন্যা,
কত হৃদয়ে ঢেলেছো তুমি
মিথ্যে প্রেমের ঝর্ণা?
কত চোখে জাগিয়েছো স্বপ্ন,
কত মনে দিয়েছো ঘা,
কত মানুষ তোমার ছলনায়
হারিয়েছে আপন ঠিকানা!
‘ভালোবাসি’ বলার আগে
একবার ভেবো তবে—
ভাঙা হৃদয়ের কান্নাগুলো
কার কাছে গিয়ে রবে?
রূপ তো একদিন ঝরে যাবে,
যৌবন হবে ক্ষয়,
অহংকারের প্রাসাদ ভেঙে
থাকবে শুধু পরিচয়।
যে হৃদয় নিয়ে খেলেছো তুমি,
যে চোখে দিয়েছো জল,
সেই অশ্রুরও হিসাব আছে—
ভুলো না সেই কথা বল।
আজও সময় আছে তোমার,
ফিরে এসো নিজের কাছে,
মিথ্যে প্রেমের পথ ছেড়ে দাও,
সত্যকে রাখো পাশে।
সব মোহ, মায়া, অহংকার ছেড়ে
শুদ্ধ করো চরিত্র,
মানুষের হৃদয় নিয়ে খেলা
নয় জীবনের কৃতিত্ব।
ভাবো—এই পৃথিবী চিরস্থায়ী নয়,
সবাই যাবে একদিন,
রূপ-যৌবন, অর্থ-অহংকার
থাকবে না তো কোনো দিন।
প্রভুর দরবারে যেদিন তুমি
পড়ে যাবে ধরা,
সেদিন বুঝবে—রূপ নয়, মানুষ হওয়াই
জীবনের সবচেয়ে বড় সওগাত সারা।
সেদিন কোনো অভিনয় নয়,
চলবে না কোনো ছল,
নিজের কর্মের আয়নায় তখন
দেখবে নিজেরই মুখখানি অবিকল।
তাই বলি আজ, ও রূপের মানুষ—
থামাও মিথ্যে খেলা,
রূপের অহংকার ভুলে গিয়ে
মানুষ হও, মন মেলা।
কারণ রূপের সাগর শুকিয়ে যায়,
ঝরে যায় ফুলের ঘ্রাণ—
কিন্তু ভালো মানুষের ভালোবাসা
বেঁচে থাকে যুগের পর যুগ, অম্লান।
কবি পরিচিতি
আলেয়া মান্নান নেত্রকোনা জেলার কলমাকান্দা উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মরহুম ইমাম হোসাইন এবং মাতা মোসা. জুবাইদা খাতুন।
তিনি একাধারে একজন সংসারী, কর্মজীবী ও জীবনসংগ্রামী মা। ভ্রমণপিপাসু ও দুরন্ত শৈশবের স্মৃতিবাহী কবি সহজ-সরল জীবনযাপন পছন্দ করেন। বিপদে-আপদে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা তাঁর জীবনদর্শনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

রূপ-সৌন্দর্য ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু মানুষের চরিত্র ও কর্মই তার প্রকৃত পরিচয়। রূপের অহংকারে অন্যের হৃদয় নিয়ে খেলা, মিথ্যা ভালোবাসার অভিনয় কিংবা সম্পর্ককে বিনোদনে পরিণত করার পরিণতি একদিন না একদিন মানুষকে বুঝতেই হয়। তাই সময় থাকতে অহংকার, প্রতারণা ও মিথ্যা প্রেমের পথ ছেড়ে নিজেকে সংশোধন করা উচিত।
সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা থেকেই তাঁর কবিতার পথচলা। ইতোমধ্যে তাঁর লেখা ৩৫টিরও বেশি কবিতা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখায় ব্যক্তি-জীবনের অভিজ্ঞতা, মানবিক সম্পর্ক, সামাজিক বাস্তবতা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আত্মশুদ্ধির আহ্বান বিভিন্নভাবে উঠে আসে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

সামাজিক সালিসে অভিযুক্ত ও তার দুই ছেলেকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ, পরিবারকে নিয়ে উঠেছে মানবাধিকার প্রশ্ন
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার পৈরাংকুল গ্রামে বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীকে (৪০) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পৈরাংকুল আব্দু মার্কেট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার একমাত্র আসামি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার শুরুতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ‘সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা’র কথা বলে মামলা দায়েরে বিলম্ব ঘটিয়েছেন।

বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় থানা ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
পরে মামলা হলেও অভিযুক্ত এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।
সামাজিক সালিসে অভিযুক্তসহ দুই ছেলেকে গ্রামছাড়া
এদিকে ঘটনার পর গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এক সালিসে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের সঙ্গে তাঁর দুই কর্মক্ষম ছেলেকেও গ্রাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
তাঁর দুই ছেলে—রাজমিস্ত্রি খায়রুল ইসলাম (২৩) ও অটোরিকশাচালক মো. রুহুল আমিন (২০)। তবে পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যদের মানবিক বিবেচনায় বাড়িতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
এ ঘটনায় সামাজিক সালিসের সিদ্ধান্ত নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সালিসদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধের অভিযোগ যার বিরুদ্ধে, তার সঙ্গে পরিবারের উপার্জনক্ষম দুই ছেলেকে গ্রামছাড়া করা যুক্তিসঙ্গত হয়নি। এতে পরিবারটির জীবিকা ও মানবিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
‘বাবাকে আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করেনি’—সালিসদারের দাবি
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. আলী হোসেন বলেন, “সালিসে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনসহ তাঁর দুই ছেলেকে গ্রাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কারণ, তাঁরা তাঁদের অভিযুক্ত বাবাকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করেননি। ফারুক গ্রেপ্তার হলে তাঁর দুই ছেলে গ্রামে ফিরে আসতে পারবে।”
তবে এ সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় এক সালিসদার। তাঁর মতে, ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের দায় পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর চাপানো উচিত নয়।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্র ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, ইউছুফপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৈরাংকুল-কোনাহাটি এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে একই এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের মুদি দোকানের পেছনে ওই বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং মামলা দায়েরে বিলম্বের অভিযোগ ওঠে।
পরে ভুক্তভোগী নারীর ভাই মো. হান্নান মিয়া বাদী হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে দেবীদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় ফারুক হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।
পুলিশের অভিযান অব্যাহত
এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।”
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য মো. বাছির, মো. খাইরুল আমীন, আবুল হাসেম, মো. ছোটন মিয়া, মো. রায়হান মোরশেদ, মো. সোহেলসহ স্থানীয়রা।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পরিবারের নিরপরাধ সদস্যদের সামাজিকভাবে হয়রানি বা শাস্তির আওতায় না আনার বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

মুরাদনগর সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ! তদন্তে প্রমাণ, ইউপি কর্মকর্তা বরখাস্ত

পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের নামে সাজিয়ে ২৯ লাখ টাকার অভিযোগ, দারোরা চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে বিএনপি নেতা রমিজের ‘ষড়যন্ত্র’!

কৃষকের কান্না আদালতে পৌঁছাল আবুল কালাম আজাদের হাত ধরে, মুরাদনগরে ড্রেজার বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
গুরুতর অসদাচরণে স্থায়ী বরখাস্ত
মুরাদনগর সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ! তদন্তে প্রমাণ, ইউপি কর্মকর্তা বরখাস্ত

মুরাদনগর সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ কাণ্ড, ইউপি কর্মকর্তা বরখাস্ত
তদন্তে সংশ্লিষ্টতা প্রমাণ, স্থায়ী বরখাস্ত
কুমিল্লার মুরাদনগর সদর ইউনিয়নে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও নিবন্ধন সহকারী মো. ইসমাইল হোসেনকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাকে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে স্থায়ী বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) গত ১২ আগস্ট সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে রোহিঙ্গা নাগরিকদের জন্মসনদ প্রদানের ঘটনায় ইসমাইল হোসেনের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গুরুতর অসদাচরণের অভিযোগ প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) কর্মচারী চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী তাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের সিদ্ধান্ত তার চাকরির সার্ভিস বইয়ে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা হবে। একই সঙ্গে বিধি অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্তকালীন প্রাপ্য জীবিকা ভাতা পাওয়ার কথাও অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
আগেও কারাগারে ছিলেন, উঠেছে নানা অভিযোগ
স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, রোহিঙ্গাদের জন্মসনদ দেওয়ার অভিযোগে এর আগেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন ইসমাইল হোসেন। এ ঘটনায় তিনি প্রায় সাত মাস কারাগারে ছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান।
কারাগার থেকে মুক্তির পরও তিনি একই ধরনের অনিয়মে জড়িয়েছেন—এমন অভিযোগ রয়েছে স্থানীয়দের। এছাড়া ট্রেড লাইসেন্স, জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সনদসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবায় সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।
এ ঘটনায় মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, একজন ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তা নাগরিক সেবা দেওয়ার দায়িত্বে থেকে এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, বরং নাগরিকদের সরকারি সেবা ব্যবস্থার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
অভিযোগের বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেনের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দেবীদ্বারে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের নামে সাজিয়ে ২৯ লাখ টাকার অভিযোগ, দারোরা চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে বিএনপি নেতা রমিজের ‘ষড়যন্ত্র’!

কৃষকের কান্না আদালতে পৌঁছাল আবুল কালাম আজাদের হাত ধরে, মুরাদনগরে ড্রেজার বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশ
পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের নামে সাজিয়ে ২৯ লাখ টাকার অভিযোগ, দারোরা চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে বিএনপি নেতা রমিজের ‘ষড়যন্ত্র’!

চেয়ারম্যানের বিস্ফোরক দাবি: ‘২০১৩-১৪ সালের বরাদ্দের প্রকল্পকে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দেখিয়ে রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে অভিযোগ’
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে ১৪টি কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। অভিযোগকারী বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিনের আনা অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’, ‘ভিত্তিহীন’ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান।
সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিন এসব প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগে ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার। তাঁর দাবি, অভিযোগে যেসব প্রকল্পকে ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো আসলে আরও পুরোনো বরাদ্দের আওতাভুক্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বরাদ্দ ছিল ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের।

আমার বিরুদ্ধে আনা ১৪টি প্রকল্পে প্রায় ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের নামে দেখিয়ে রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ, নথিপত্র ও বাস্তব কাজ যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
চেয়ারম্যান বলেন, পুরোনো প্রকল্প ও বরাদ্দকে পরবর্তী অর্থবছরের সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধ, ক্ষোভ ও হয়রানির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
তিনি বলেন, “আমি চাই প্রকল্পগুলোর মূল ফাইল, বরাদ্দের কাগজপত্র, বিল-ভাউচার, প্রকল্প বাস্তবায়নের নথি এবং সরেজমিন কাজ—সবকিছু যাচাই করা হোক। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
অভিযোগকারীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন চেয়ারম্যানের
চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকারের দাবি, জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারী নিজেকে ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো প্রশাসনিক অভিযোগে অভিযোগকারীর রাজনৈতিক পদ-পদবি উল্লেখ করার বিষয়টি অভিযোগটির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
চেয়ারম্যানের ভাষ্য, অভিযোগে যেসব প্রকল্পের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অর্থবছর, বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব বক্তব্য চেয়ারম্যানের দাবি হিসেবে উল্লেখযোগ্য; অভিযোগটি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
রমিজের অভিযোগ কী
এর আগে দারোরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রমিজ উদ্দিন জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে দাবি করেন, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইউনিয়নে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, এসব প্রকল্পের কয়েকটির বাস্তব অস্তিত্ব নেই কিংবা প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে এসব প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগে টি-আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পেও অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। একই স্থানে একাধিকবার প্রকল্প দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য আয়েশা বেগম একটি গাইড ওয়াল নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার কথা জানানো হলেও পরবর্তীতে ওই প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি তিনি জানতে পারেন।
প্রশাসনের তদন্তে বের হবে প্রকৃত সত্য
অভিযোগটি পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। গত ১৫ জুলাই স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
মুরাদনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাছান খান জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকারও তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “অভিযোগ যদি সত্য হয়, তদন্তে তা প্রমাণিত হবে। আর যদি পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের প্রকল্প বানিয়ে অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সেটিও তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। আমি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
অন্যদিকে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পের সরকারি নথি, বরাদ্দপত্র, বিল-ভাউচার এবং সরেজমিন বাস্তবতা যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে।
ফলে ২৯ লাখ টাকার অভিযোগকে ঘিরে চেয়ারম্যানের পাল্টা ‘ষড়যন্ত্রের’ দাবি এবং অভিযোগকারীদের অনিয়মের অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই এখন প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা। তদন্ত প্রতিবেদনই শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেবে।



























