পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের নামে সাজিয়ে ২৯ লাখ টাকার অভিযোগ, দারোরা চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতে বিএনপি নেতা রমিজের ‘ষড়যন্ত্র’!

‘পুরোনো প্রকল্পে নতুন কেলেঙ্কারির গল্প, ২৯ লাখ আত্মসাতের অভিযোগ—চেয়ারম্যানকে ফাঁসাতেই রমিজের ষড়যন্ত্র!’ ছবি : দৈনিক আজকের কথা
চেয়ারম্যানের বিস্ফোরক দাবি: ‘২০১৩-১৪ সালের বরাদ্দের প্রকল্পকে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দেখিয়ে রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে অভিযোগ’
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকারের বিরুদ্ধে ১৪টি কথিত উন্নয়ন প্রকল্পের নামে প্রায় ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ নিয়ে নতুন করে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য সামনে এসেছে। অভিযোগকারী বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিনের আনা অভিযোগকে ‘কাল্পনিক’, ‘ভিত্তিহীন’ এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান।
সম্প্রতি কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রমিজ উদ্দিন এসব প্রকল্পের অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। অভিযোগে ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকার। তাঁর দাবি, অভিযোগে যেসব প্রকল্পকে ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে, সেগুলো আসলে আরও পুরোনো বরাদ্দের আওতাভুক্ত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলোর কাজ ২০২২-২০২৩ অর্থবছরেই সম্পন্ন হয়েছে এবং বরাদ্দ ছিল ২০১৩-২০১৪ অর্থবছরের।

আমার বিরুদ্ধে আনা ১৪টি প্রকল্পে প্রায় ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ সম্পূর্ণ কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের নামে দেখিয়ে রাজনৈতিক ক্ষোভ থেকে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ, নথিপত্র ও বাস্তব কাজ যাচাই করলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।
চেয়ারম্যান বলেন, পুরোনো প্রকল্প ও বরাদ্দকে পরবর্তী অর্থবছরের সঙ্গে মিলিয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে। রাজনৈতিক বিরোধ, ক্ষোভ ও হয়রানির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এমন অভিযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।
তিনি বলেন, “আমি চাই প্রকল্পগুলোর মূল ফাইল, বরাদ্দের কাগজপত্র, বিল-ভাউচার, প্রকল্প বাস্তবায়নের নথি এবং সরেজমিন কাজ—সবকিছু যাচাই করা হোক। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য পরিষ্কার হয়ে যাবে।”
অভিযোগকারীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন চেয়ারম্যানের
চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকারের দাবি, জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে অভিযোগকারী নিজেকে ১৯ নম্বর দারোরা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক হিসেবে পরিচয় দিয়েছেন। তাঁর মতে, কোনো প্রশাসনিক অভিযোগে অভিযোগকারীর রাজনৈতিক পদ-পদবি উল্লেখ করার বিষয়টি অভিযোগটির রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
চেয়ারম্যানের ভাষ্য, অভিযোগে যেসব প্রকল্পের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর অর্থবছর, বরাদ্দ ও বাস্তবায়নের তথ্য সঠিকভাবে যাচাই করা হয়নি। ফলে পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের প্রকল্প হিসেবে উপস্থাপন করে তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এসব বক্তব্য চেয়ারম্যানের দাবি হিসেবে উল্লেখযোগ্য; অভিযোগটি নিয়ে প্রশাসনিক তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষের দাবিকেই চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।
রমিজের অভিযোগ কী
এর আগে দারোরা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রমিজ উদ্দিন জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে দাবি করেন, ২০২৪-২০২৫ ও ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ইউনিয়নে ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।
অভিযোগে বলা হয়, এসব প্রকল্পের কয়েকটির বাস্তব অস্তিত্ব নেই কিংবা প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়নি। অভিযোগকারীর দাবি, কাগজপত্রে কাজ সম্পন্ন দেখিয়ে এসব প্রকল্পের বিপরীতে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগে টি-আর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পেও অনিয়মের কথা বলা হয়েছে। একই স্থানে একাধিকবার প্রকল্প দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
এ ছাড়া সংরক্ষিত নারী সদস্য আয়েশা বেগম একটি গাইড ওয়াল নির্মাণ প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, প্রকল্পটি বাতিল হওয়ার কথা জানানো হলেও পরবর্তীতে ওই প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ উত্তোলনের বিষয়টি তিনি জানতে পারেন।
প্রশাসনের তদন্তে বের হবে প্রকৃত সত্য
অভিযোগটি পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা জেলা প্রশাসন। গত ১৫ জুলাই স্থানীয় সরকার শাখার সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন অভিযোগটি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন।
মুরাদনগরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব হাছান খান জানিয়েছেন, অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন খন্দকারও তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “অভিযোগ যদি সত্য হয়, তদন্তে তা প্রমাণিত হবে। আর যদি পুরোনো প্রকল্পকে নতুন অর্থবছরের প্রকল্প বানিয়ে অভিযোগ করা হয়ে থাকে, সেটিও তদন্তেই বেরিয়ে আসবে। আমি নিরপেক্ষ তদন্ত চাই।”
অন্যদিকে অভিযোগকারীদের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পের সরকারি নথি, বরাদ্দপত্র, বিল-ভাউচার এবং সরেজমিন বাস্তবতা যাচাই করলেই অভিযোগের সত্যতা স্পষ্ট হবে।
ফলে ২৯ লাখ টাকার অভিযোগকে ঘিরে চেয়ারম্যানের পাল্টা ‘ষড়যন্ত্রের’ দাবি এবং অভিযোগকারীদের অনিয়মের অভিযোগ—দুই পক্ষের বক্তব্যের মধ্যেই এখন প্রশাসনিক তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষা। তদন্ত প্রতিবেদনই শেষ পর্যন্ত অভিযোগগুলোর প্রকৃত ভিত্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা দেবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
































