মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে রাজনৈতিক ব্যবসা করতে চাই না: ধর্মমন্ত্রী

মুরাদনগরে মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে নিজস্ব তহবিল থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। ছবি : দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগরে মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ১০ লাখ টাকা অনুদান প্রদান
মুক্তিযুদ্ধের চেতনা কিংবা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে কোনো ধরনের ব্যবসা করতে চান না বলে মন্তব্য করেছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে ব্যবসা করেছে, এখন আরেকটি দল জুলাইয়ের চেতনাকে নিয়ে ব্যবসা করছে। বিএনপি কোনো চেতনাকে পুঁজি করে রাজনীতি করতে চায় না; বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চায়।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নিজস্ব তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুক্তিযুদ্ধ কিংবা জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে আমরা কোনো রাজনৈতিক ব্যবসা করতে চাই না। মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।
কায়কোবাদ বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ও দেশপ্রেমিকের সন্তান। তিনি সবসময় দেশের দরিদ্র, অসহায় ও সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করেন। চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাকে অনেক দিন সময় দিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ জন্য তিনি ও তার পরিবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে কৃতজ্ঞ। দেশের মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ২০০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। কৃষি কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও প্রবাসী কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক খাল খনন কর্মসূচিও নতুন করে বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য মাসিক তিন হাজার টাকা ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মাত্র আট মাসে এসব উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নের কাজ শুরু করায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর জন্য দেশবাসীর দোয়া কামনা করেন।
অনুদান বিতরণ প্রসঙ্গে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ বলেন, নিজস্ব তহবিল থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য আরও পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উপযুক্ত উপকারভোগীদের মধ্যে এ অর্থ বিতরণের ব্যবস্থা করবেন। সমাজের অসচ্ছল ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সামর্থ্য অনুযায়ী সবাইকে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের প্রশংসা করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫ কোটি চারা রোপণের উদ্যোগ নিয়েছেন। এ কর্মসূচি সফল করতে যারা আন্তরিকভাবে কাজ করেছেন, তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। কর্মসূচিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের যথাক্রমে ১০ হাজার, সাত হাজার ও পাঁচ হাজার টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মুরাদনগর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাকিব হাসান, মুরাদনগর সার্কেল পুলিশ সুপার কামরুজ্জামান, মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, বাঙ্গরা থানার ওসি শফিউল আলম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও আব্দুল আজিজ মোল্লা, নজরুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশাহ, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল আহসান ও সদস্য সচিব সুমন মাস্টারসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
নাশকতার প্রমাণ ছাড়াই কুমিল্লা শহর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন গ্রেপ্তার

অভিযোগের সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি পুলিশ, গ্রেপ্তার ঘিরে উঠেছে প্রশ্ন
কুমিল্লা শহর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন গ্রেপ্তার
নাশকতার প্রমাণ কোথায়? অভিযোগের বিস্তারিত না জানিয়েই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সুমনকে গ্রেপ্তার
কুমিল্লা শহর নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সুমন দাশকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সোমবার (২ নভেম্বর) দিবাগত রাতে কুমিল্লা নগরীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশ।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, কোথায় বা কী ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করা হয়েছিল—এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য জানায়নি পুলিশ। ফলে গ্রেপ্তারের পেছনে অভিযোগের ভিত্তি ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ওসি বলেন, নাশকতার পরিকল্পনার অভিযোগে সুমন দাশকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
তবে পুলিশের বক্তব্যে নাশকতার পরিকল্পনার সুনির্দিষ্ট ধরন, ঘটনার সময়-স্থান, সংশ্লিষ্ট অন্য ব্যক্তিদের পরিচয় কিংবা অভিযোগের পক্ষে কোনো আলামতের উল্লেখ পাওয়া যায়নি। এ-সংক্রান্ত মামলা বা তদন্তের বিস্তারিত তথ্যও জানানো হয়নি।
নাশকতার মতো গুরুতর অভিযোগে কাউকে গ্রেপ্তার করা হলে অভিযোগের ভিত্তি ও প্রমাণ সম্পর্কে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা জরুরি। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
দমন-পীড়নের অভিযোগের মধ্যেই কুমিল্লায় পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, আটক ৩৮৫

শ্রমিক অসন্তোষ, রাজনৈতিক সংগঠনের সদস্য ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযানের নামে ব্যাপক ধরপাকড়
কুমিল্লায় এক রাতের সাঁড়াশি অভিযানে ৩৮৫ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। সোমবার (২ নভেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়। শিল্পকারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উসকানি, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, কিশোর গ্যাং, ছিনতাইকারী ও মাদক কারবারিদের লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে শ্রমিক অসন্তোষে উসকানি দেওয়ার অভিযোগে মাসুদ রানা (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। তবে আটক ৩৮৫ জনের মধ্যে কারা কোন অভিযোগে আটক হয়েছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানায়নি জেলা পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহানগরীর বিভিন্ন স্থানসহ জেলার প্রতিটি থানার অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালানো হয়। জেলা পুলিশের সব ইউনিট ও ডিবি পুলিশ সমন্বিতভাবে এতে অংশ নেয়। অভিযানে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, ছিনতাইকারী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য এবং বিভিন্ন মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি রয়েছেন। কুমিল্লা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, কিশোরদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা এবং তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত এ ধরনের অভিযান চালানো হচ্ছে। নিরাপদ নগরী গড়ে তোলা ও কিশোর অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।
একই সঙ্গে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে নজরদারি রাখার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তবে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে আটকের ঘটনায় অভিযোগের সুনির্দিষ্ট ভিত্তি, ব্যক্তিভিত্তিক যাচাই এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হয়েছেন কি না—তা নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
১৩১ বারেও শেষ হয়নি সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত, বিচার দেখার আকুতি মায়ের

১৫ বছরেও অধরা হত্যার রহস্য, জীবনের শেষ প্রান্তে ছেলে-পুত্রবধূর হত্যার বিচার চান সালেহা মনির
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রায় ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি মামলার তদন্ত। আদালত ১৩১ বার সময় নির্ধারণ করলেও এখনো জমা পড়েনি তদন্ত প্রতিবেদন। আগামী ৫ নভেম্বর ১৩২তম বারের মতো প্রতিবেদন জমার দিন ধার্য রয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষা আর হতাশার মধ্যে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সাগরের মা সালেহা মনিরের এখন একটাই আকুতি—জীবনের শেষ প্রান্তে এসে অন্তত ছেলে ও পুত্রবধূ হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি।
ছেলে ও পুত্রবধূকে হারানোর স্মৃতি মনে পড়তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন ৭৪ বছর বয়সী সালেহা মনির। এত বছরেও কেন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা সম্ভব হলো না, সেই প্রশ্ন তাঁর।
সালেহা মনির বলেন, “কোন মা তাঁর সন্তানের হত্যার বিচার চাইবেন না? ঘটনাটা তো একেবারেই স্পষ্ট ছিল। এত বছর পেরিয়ে গেল, অথচ কেউ কিছু বের করতে পারল না।”
ফোনে কথা বলার একপর্যায়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি বেঁচে থাকতে যেন বিচার দেখে যেতে পারি, এটাই আমার আশা।”
সালেহা মনির জানান, গণমাধ্যমে তিনি দেখেছেন, তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে টাস্কফোর্সের কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এর আগে পিবিআইয়ের কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
মামলার তদন্তের দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন মেহেরুন রুনির ভাই ও মামলার বাদী নওশের আলম রোমান। তাঁর অভিযোগ, তদন্তের নামে বারবার সময় বাড়ানোর আবেদন মামলাটিকে আরও দীর্ঘায়িত করছে।
রোমান বলেন, “টাস্কফোর্সের বারবার ছয় মাস করে সময় বাড়ানোর আবেদন আসলে তদন্ত বিলম্বিত করার কৌশল ছাড়া কিছু নয়। এতে প্রমাণ হয়, তদন্তে তারা কোনো অগ্রগতি করতে পারেনি।”
তবে হাইকোর্টের সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। ওই সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা এবং টাস্কফোর্সের প্রধানকে তলব করা হয়েছে। রোমানের মতে, তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকা জরুরি। প্রসিকিউটরের কাছে থাকা তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত কতটা এগিয়েছে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
১৫ বছরেও শেষ হয়নি তদন্ত
সাগর সরওয়ার ছিলেন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক। তাঁর স্ত্রী মেহেরুন রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক। ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোরে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের ভাড়া বাসায় তাঁদের হত্যা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের সময় বাসায় ছিল তাঁদের একমাত্র সন্তান মাহির সরওয়ার মেঘ। তখন তার বয়স ছিল মাত্র পাঁচ বছর।
এ ঘটনায় এ পর্যন্ত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, পলাশ রুদ্র পাল, আনামুল হক ওরফে হুমায়ুন কবির এবং তানভীর রহমান খান। তাঁদের মধ্যে তানভীর ও মিন্টু বর্তমানে জামিনে রয়েছেন। পলাশ পলাতক। অন্য আসামিরা কারাগারে আছেন।
এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর হাকিম আরিফুল ইসলাম তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য করেন।
তিন দফায় বদলেছে তদন্ত সংস্থা
২০১২ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা হওয়ার পর প্রথমে ওই থানার পুলিশ তদন্তের দায়িত্ব পায়। তিন দিন পর, ১৬ ফেব্রুয়ারি মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় (ডিবি) স্থানান্তর করা হয়। ওই বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ডিবি তদন্ত চালায়।
এরপর ২০১২ সালের এপ্রিলে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব)। ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত সংস্থাটি মামলাটির তদন্ত করে। বর্তমানে বাহিনীটির নাম স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
হাইকোর্টের নির্দেশে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর মামলাটি তদন্তে চার সদস্যের একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে এর আহ্বায়ক করা হয়। একই বছরের ৪ নভেম্বর পিবিআই তদন্তের দায়িত্ব গ্রহণ করে।
নতুন তদন্তে কতটা অগ্রগতি
গত ১৯ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে ২৭ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন জমা দেয় টাস্কফোর্স।
পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও তদন্ত কর্মকর্তা আজিজুল হক স্বাক্ষরিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, আগের তদন্তকারীরা ১৬৭ জন সাক্ষীর জবানবন্দি নিয়েছিলেন। টাস্কফোর্স দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও ৯০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান এবং একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মামলার ডিজিটাল আলামত ও তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সংরক্ষিত রয়েছে। এসব আলামত ও তথ্য তদন্তের স্বার্থে হস্তান্তরের অনুরোধ জানিয়ে ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় পর্যন্ত সেসব তথ্য পাওয়া যায়নি।
দীর্ঘ সময়ে তদন্ত সংস্থার পরিবর্তন, বারবার সময় বৃদ্ধি এবং নতুন করে আলামত সংগ্রহের উদ্যোগ—কোনোটিই এখনো মামলার তদন্ত শেষ করতে পারেনি। ফলে সাগর-রুনি হত্যার বিচার কবে শুরু হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছে না।
একদিকে দুই পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষা, অন্যদিকে বয়সের ভারে নুয়ে পড়া সালেহা মনিরের শেষ আকুতি—ছেলে ও পুত্রবধূ হত্যার বিচার দেখে যেতে চান তিনি। ১৫ বছরেও তাঁর সেই প্রত্যাশা পূরণ হয়নি।
























