সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩

রনির প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধের সময় কি ড. ইউনূসের নামে স্লোগান দিয়েছিলেন ফারুক ই আজম?

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫, ৮:৪৩ পিএম
রনির প্রশ্ন: মুক্তিযুদ্ধের সময় কি ড. ইউনূসের নামে স্লোগান দিয়েছিলেন ফারুক ই আজম?

পদ বাঁচাতে ইতিহাস বিকৃতির চেষ্টা করছেন ফারুক ই আযম

👉 গোলাম মাওলা রনি ফারুক ই আজমের বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণে দ্বিধা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধা হয়েও কেন তিনি ‘শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ করে সংকোচ করছেন?


বঙ্গবন্ধু বিষয়ে ফারুকের মন্তব্যে ক্ষুব্ধ গোলাম মাওলা রনি

👉 রনির সরাসরি প্রশ্ন করেন—মুক্তিযুদ্ধে ফারুক ই আজম কি ড. ইউনূসের নামে স্লোগান দিয়েছিলেন, নাকি বঙ্গবন্ধুর নামে?

গোলাম মাওলা রনি, সাবেক সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক, সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজমকে নিয়ে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেওয়া বক্তব্যে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধা হয়েও বঙ্গবন্ধুর নাম নিতে দ্বিধা প্রকাশ করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক।

রনি বলেন, “আপনি যখন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছেন, তখন কি আপনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নামে স্লোগান দিয়েছিলেন? নিশ্চয়ই না। আপনি ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ বলেই মাঠে নেমেছিলেন। আজ যখন ড. ইউনূসের পক্ষে অবস্থান নেন, তখন বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করতে গিয়ে এত দ্বিধা কেন?”

তিনি আরও বলেন, “শেখ মুজিব বলছেন বারবার, কিন্তু ‘বঙ্গবন্ধু’ বলছেন না। এটা কি স্বাভাবিক? শুধু একটি চেয়ার বা পদের আশায় ইতিহাসকে এভাবে বিকৃত করা যায় না।”

তার মতে, মুক্তিযুদ্ধের মূল চেতনা হলো ‘জয় বাংলা’ ও ‘জয় বঙ্গবন্ধু’। এই দুটি স্লোগান মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। এমনকি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানও ওই স্লোগান ব্যবহার করেছেন। কাজেই একজন মুক্তিযোদ্ধার মুখে সেই স্লোগান নিয়ে সংকোচ থাকা উচিত নয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ফারুক ই আজম একটি দায়িত্বশীল পদে থেকেও বারবার পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিচ্ছেন, যা সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তিনি বলেন, “কখনো অধ্যাদেশ জারি করছেন, আবার নিজেই তা অস্বীকার করছেন। এটি আত্মকেন্দ্রিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আচরণ।”


পুরো বিষয়টি নিয়ে গোলাম মাওলা রনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও একটি পোস্ট দেন, যা নেটিজেনদের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন তোলে।

ALO READ

🟢 বঙ্গবন্ধুকে ‘সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে নতুন সংজ্ঞা: প্রশ্নের মুখে দখলদার ইউনূস বাহিনী

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন শরিফুল আলম চৌধুরী

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬, ২:৩০ এএম
সাংবাদিকতায় আন্তর্জাতিক ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড’ পেলেন শরিফুল আলম চৌধুরী

আন্তর্জাতিক ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড’ জয় করলেন প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

পেশাদারিত্ব ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মাননা ‘বিজিসি স্টার অ্যাওয়ার্ড-২০২৬’ অর্জন করেছেন প্রবীণ সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। ভারতের হায়দরাবাদের হোটেল রেডিসন ব্লুতে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তাকে এই আন্তর্জাতিক সম্মাননা প্রদান করা হয়।

​আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানায়, দীর্ঘ সাতাশ বছর ধরে অত্যন্ত দায়িত্বশীলতা, বস্তুনিষ্ঠতা ও সাহসিকতার সঙ্গে সাংবাদিকতায় ধারাবাহিক ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার কারণে তাকে এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ গ্র্যাজুয়েট কলেজ (বিজিসি), হায়দরাবাদ-ভারত এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

​এবারের আয়োজনে বিনোদন ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ থেকে আরও সম্মাননা লাভ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূর, রুনা খান, তানজিকা আমিন, অভিনেতা রাশেদ মামুন অপু, সাইফুর রহমান ইভান, সৈয়দা কামরুন্নাহার শাহনুর এবং আল মাসিদ রণ।

​ড. হুসাইন আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেদারল্যান্ড গদানস্ক দ্য ইউনিভার্সিটি অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হোটেল ম্যানেজমেন্টের রেক্টর ইয়ান জাখারেভিচ এবং বিশ্ববিদ্যালয় সহযোগিতা বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মি. তোমাস ইয়ানোশ।

​অতিথি হিসেবে আরও অংশ নেন রোক্লোর ফ্রান্সের অনারারি কনসাল দিদিয়ের গুইজি, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, ওয়ারশ’র প্রতিনিধি মাহবুব সিদ্দিকী, জেনারেল সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. মো. খলিলুল কাইয়ুম এবং স্কুল অব টেরা নোভা’র পরিচালক সেরগিউশ চুলকোভস্কি। এছাড়াও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেশিয়া অঞ্চলে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল ওমর ফারুক এবং ড. হুবার্ট কোস্তা সারগন।

​আন্তর্জাতিক সম্মাননাপ্রাপ্ত মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী গত ২৭ বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় সুনামের সঙ্গে কাজ করে আসছেন। বর্তমানে তিনি লন্ডন বাংলা পত্রিকার কূটনৈতিক অ্যাসাইনমেন্টে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি গ্লোবাল টেলিভিশন, সমকাল, ভোরের কাগজ, যুগান্তর, কালের কণ্ঠ, মানবকণ্ঠ ও সংবাদ সংস্থা এফএনএসসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন।

​সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি দেশের অন্যতম পাঠকপ্রিয় নিউজ পোর্টাল ‘দৈনিক আজকের কথা’ এবং ইংরেজি পোর্টাল ‘জয় বাংলার জয় ডটকম’ (joybanglarjoy.com)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক হিসেবে সফলভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

দেবীদ্বারে পিতার মৃত্যুর ৯ দিনের মাথায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
দেবীদ্বারে পিতার মৃত্যুর ৯ দিনের মাথায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু

পিতার মৃত্যুর শোক না পেরুতেই কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ধামতী ইউনিয়নের তেবারিয়া গ্রামের এক কলেজশিক্ষার্থী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মর্মান্তিকভাবে নিহত হয়েছেন। নিহত ওয়াকিল মিয়া (১৮) ওই গ্রামের প্রয়াত জাকির মিয়ার ছেলে এবং দুয়ারিয়া এজিএস কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

বাবার মৃত্যুর মাত্র ৯ দিনের মাথায় তার এমন করুণ মৃত্যুতে পরিবার ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেলে চান্দিনা উপজেলার খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে ওয়াকিল খালার বাড়ির ছাদে হাঁটাহাঁটি করতে যান। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে ছাদের পাশ দিয়ে টানা বৈদ্যুতিক তারের ওপর পড়ে যান। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন। বিকট শব্দ শুনে স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয়রা জানান, মাত্র ৯ দিন আগে ওয়াকিলের বাবা জাকির মিয়া মারা যান। পরিবারের সেই শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই একমাত্র ছেলের আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চান্দিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নুরুজ্জামান বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ অবগত করেননি। এ পর্যন্ত কোনো অভিযোগও পাওয়া যায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা দেখানো: দেবীদ্বারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, শিক্ষা বোর্ডের ফৌজদারি আইনে প্রথম মামলা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম
এসএসসির উত্তরপত্র মূল্যায়নে শিক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা দেখানো: দেবীদ্বারে শিক্ষক-শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, শিক্ষা বোর্ডের ফৌজদারি আইনে প্রথম মামলা

চেয়ারম্যানের দাবি—বাংলাদেশে এই আইনে বোর্ডের প্রথম মামলা, শিক্ষক সমাজের জন্য কঠোর সতর্কবার্তা

এসএসসির উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা মূল্যায়নের অভিযোগে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়াকে (৫৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে সহযোগিতার অভিযোগে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকেও (১৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র নিজে মূল্যায়ন না করে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে দিয়ে খাতা মূল্যায়নের অভিযোগে দেবীদ্বারের আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া (৫৫) এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান (১৫)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, এটি শিক্ষক সমাজের জন্য কলঙ্কজনক ঘটনা। তাঁর দাবি, এই আইনে শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এটিই বাংলাদেশের প্রথম ফৌজদারি মামলা।

গত ২৩ জুন উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় শিক্ষার্থী দিয়ে নম্বর দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে তদন্ত শেষে শিক্ষা বোর্ড মামলা দায়ের করে।

মামলাটি দায়ের করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা। বোর্ডের চেয়ারম্যানের দাবি, ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর আওতায় শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এটি বাংলাদেশে প্রথম ফৌজদারি মামলা।

শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) পাপিয়া আক্তার শনিবার (১১ জুলাই) দেবীদ্বার থানায় হাজির হয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে আসামি করে লিখিত এজাহার দায়ের করেন। এজাহারের ভিত্তিতে ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় দেবীদ্বার থানায় মামলা (মামলা নং-০৮, তারিখ: ১১/০৭/২০২৬) রুজু করা হয়।

রোববার বিকেলে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং শিক্ষক সমাজের জন্য কলঙ্কজনক। দায়িত্বপ্রাপ্ত একজন শিক্ষক এ ধরনের গর্হিত কাজ করে চরম দায়িত্বহীনতার পরিচয় দিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “এ ধরনের অনিয়ম যাতে ভবিষ্যতে আর না ঘটে, সে জন্যই ‘পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইন, ১৯৮০’-এর ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে এই আইনে দায়ের হওয়া এটিই দেশের প্রথম মামলা। আইনটি আগে থাকলেও বাস্তবে এর প্রয়োগ হয়নি। অতীতে বোর্ড নিজস্ব বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিত।”

চেয়ারম্যান আরও জানান, রোববার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষা উপদেষ্টা (বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী) এএনএম এহসানুল হক মিলন পরীক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরীক্ষকদের সতর্ক করে বলেন, “দেবীদ্বারের এক শিক্ষক বোর্ডের খাতা একজন ছাত্রকে দিয়ে মূল্যায়ন করাচ্ছিলেন। গত রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মই ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি ঘটনা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”

এদিকে, শিক্ষা বোর্ডের মামলার পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় দেবীদ্বার সার্কেলের সিনিয়র এএসপি মো. শাহীনের নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দেবীদ্বার থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এবং শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরে রোববার দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়।
রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৪টায় দেবীদ্বার থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সিনিয়র এএসপি মো. শাহীন বলেন, “এই আইন মূলত পাবলিক পরীক্ষার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, অননুমোদিত ব্যক্তি এবং অপরাধে সহায়তাকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান নিশ্চিত করে। অপরাধ সংঘটিত হলে সংশ্লিষ্ট থানায় এই আইনের আওতায় মামলা রুজু করা হয়। শিক্ষা ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই ঘটনাটি শিক্ষক সমাজের জন্য একটি কঠোর সতর্কবার্তা।”

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুই আসামিই মামলার এজাহারে উল্লেখিত ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততার বিষয়ে তথ্য দিয়েছেন।

দেবীদ্বার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইমাম হাসান বলেন, “ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা মামলার অভিযোগের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। আজ (১২ জুলাই) তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”

উল্লেখ্য, গত ২৩ জুন আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় এক দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে নম্বর প্রদান করতে দেখা যায়। ঘটনাটি আরেক শিক্ষার্থী ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে বিষয়টি তদন্ত করে শিক্ষা বোর্ড মামলা দায়ের করলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

×
CLOSE X