মালয়েশিয়ায় পুলিশের অভিযানে ২৯৭ অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী গ্রেপ্তার

🟨 হাইলাইটস: মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী গ্রেপ্তার
মালয়েশিয়ায় পুলিশের ‘অপ সাপু’ অভিযানে ২৯৭ জন অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী গ্রেপ্তার
পেনাং রাজ্যের বায়ান লেপাসের নির্মাণ সাইটে অভিযান পরিচালিত হয়
মোট ৫২০ জনের কাগজপত্র যাচাই করে ৩১৪ জনকে অবৈধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে অধিকাংশই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ; নারী ও শিশু ছিল না
অভিযানে অংশ নেয় সাঁজোয়া যান ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা
ভিডিওতে দেখা গেছে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে পরিচয় যাচাই
মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে
অভিবাসন আইন অনুযায়ী আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে
যাচাই শেষে অনেককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনা
মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী গ্রেপ্তার নিয়ে উদ্বেগ
নিউ স্ট্রেইটস টাইমসের বরাত দিয়ে পেনাং অভিবাসন বিভাগ জানায়, ওই এলাকায় গড়ে ওঠা একটি গাড়ি পার্ক নির্মাণস্থলে ৫২০ জন অভিবাসীর কাগজপত্র যাচাই করা হয়। যাচাই শেষে দেখা যায়, তাদের মধ্যে ৩১৪ জনের বৈধ কাগজপত্র নেই। এদের মধ্যে ২৯৭ জনই মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী।
গ্রেপ্তার হওয়া অভিবাসীদের সবাই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ। এদের মধ্যে বাংলাদেশের ২৯৭ জন ছাড়াও রয়েছে পাকিস্তানের ১৩ জন, মিয়ানমারের ২ জন, ভারতের ১ জন এবং ইন্দোনেশিয়ার ১ জন নাগরিক। তবে অভিযানে কোনো নারী, শিশু বা নিয়োগদাতাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
অভিযান চলাকালে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সাঁজোয়া যান ব্যবহার করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, অভিবাসীদের সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুরো এলাকায় চিরুনি অভিযানের মাধ্যমে তল্লাশি চালানো হয়।
মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নির্মাণ, পরিষেবা ও কৃষি খাতে বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কাজ করে থাকলেও, অনেকেই কাজের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে অবস্থান করছে বলে দাবি করে দেশটির অভিবাসন বিভাগ।
পেনাং অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আইন অনুযায়ী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যাচাই-বাছাই শেষে অনেককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে। এরই মধ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকেও আটককৃতদের খোঁজখবর নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
🇲🇾 মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের নিয়ে চিন্তিত সরকার
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করছে দেশটির সরকার। বিশেষ করে অভিবাসন নীতিমালা কঠোর করার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে এই অভিযান আরও জোরদার করা হয়েছে।
মালয়শিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসী অভিযানের কোডনাম ‘অপ সাপু’
এমন অভিযানের মাধ্যমে মালয়েশিয়া সরকার স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে যে, মালয়েশিয়ায় অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসী কিংবা অন্য কোনো দেশের অবৈধ অভিবাসীদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। নিয়ম না মেনে অবস্থান ও কাজ করা অভিবাসীদের জন্য দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে সে দেশের পরিবেশ। বাংলাদেশ সরকার এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উচিত এই বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, যাতে প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা পায়। একইসঙ্গে বৈধভাবে বিদেশে কাজের সুযোগ বাড়িয়ে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ তৈরি করতে হবে।
স্মৃতির পাতায় শৈশব
বাল্যবন্ধু থেকে সফল ব্যবসায়ী: আবু সুফিয়ান মল্লিককে নিয়ে কিছু স্মৃতি ও ভালোবাসার কথা

চার দশকের বন্ধুত্বের গল্প: বাল্যবন্ধু আবু সুফিয়ান মল্লিক আজ সফল ব্যবসায়ী
বাল্যবন্ধু আবু সুফিয়ান মল্লিক আজ জীবনের পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন। কিন্তু সময়ের দীর্ঘ ব্যবধানও আমাদের শৈশবের বন্ধুত্বকে এতটুকু ম্লান করতে পারেনি। মানুষের জীবনে এমন কিছু সম্পর্ক থাকে, যা বয়সের সঙ্গে পুরোনো হয় না; বরং সময়ের পরতে পরতে আরও গভীর, আরও মূল্যবান হয়ে ওঠে। শৈশবের বন্ধুত্ব ঠিক তেমনই এক নির্মল অনুভূতি—যেখানে নেই কোনো স্বার্থের হিসাব, নেই কোনো কৃত্রিমতা; আছে শুধু আন্তরিকতা, বিশ্বাস আর অগণিত স্মৃতির আলো। জীবনের ব্যস্ততা, কর্মজীবন, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা দূরত্ব আমাদের ভিন্ন পথে নিয়ে গেলেও কিছু মানুষ হৃদয়ের খুব কাছেই থেকে যান। আমার জীবনের তেমনই একজন প্রিয় মানুষ, আমার বাল্যবন্ধু আবু সুফিয়ান মল্লিক। তাঁর সঙ্গে কাটানো শৈশবের দিনগুলো আজও আমার স্মৃতির পাতায় ঠিক ততটাই উজ্জ্বল, যতটা ছিল প্রথম পরিচয়ের সেই নিষ্পাপ দিনগুলোতে।
বর্তমানে তার বয়স আনুমানিক ৪৭ থেকে ৪৯ বছর। তবে বয়সের হিসাবের চেয়ে অনেক বেশি মূল্যবান আমাদের সেই শৈশবের দিনগুলো, যেগুলো আজও মনে পড়লে হৃদয়টা আবেগে ভরে ওঠে। আমার সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় সম্ভবত ১৯৮৪ কিংবা ১৯৮৫ সালের দিকে। তখন আমরা দু’জনই ছোট্ট শিশু। আমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কাজিয়াতল দক্ষিণ পাড়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায়, যা সে সময় এলাকাবাসীর কাছে কাজিয়াতল বড়বাড়ি মাদ্রাসা নামেই বেশি পরিচিত ছিল।
চার দশকের বন্ধুত্ব: কাজিয়াতল বড়বাড়ি মাদ্রাসার একই বেঞ্চে বসে শুরু হয়েছিল দুই বন্ধুর পথচলা। সময় বদলেছে, জীবন বদলেছে; কিন্তু আবু সুফিয়ান মল্লিক ও লেখকের সেই শৈশবের বন্ধুত্ব আজও অটুট। সফল ব্যবসায়ী হয়েও সুফিয়ান এলাকার মানুষের কাছে একজন ভদ্র, বিনয়ী ও পরোপকারী মানুষ হিসেবে পরিচিত।
সেই মাদ্রাসাতেই আমরা প্রথম শ্রেণি থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত একসঙ্গে লেখাপড়া করেছি। একই বেঞ্চে বসা, একসঙ্গে ক্লাস করা, টিফিনের সময় মাঠে দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা আর দুরন্তপনায় ভরা অসংখ্য দিন আজও স্পষ্ট মনে আছে। শৈশবের সেই দিনগুলো ছিল নিষ্পাপ, নির্মল আর অফুরন্ত আনন্দে ভরা।
পরে পারিবারিক সিদ্ধান্তে আমরা দু’জনই কাজিয়াতল দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হই। মজার বিষয় হলো, সেখানে আবারও প্রথম শ্রেণি থেকেই পড়াশোনা শুরু করতে হয়েছিল। এরও আগে আমি ঢাকার আজিমপুর ছাপড়া মসজিদ সংলগ্ন একটি বিদ্যালয়ে কিছুদিন প্রথম শ্রেণিতে পড়েছিলাম। জীবনের নানা পরিবর্তনের মধ্যেও গ্রামের সেই বিদ্যালয় এবং সেখানে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বই সবচেয়ে গভীর ছাপ রেখে গেছে।
বন্ধু আবু সুফিয়ান মল্লিক আজ একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। দীর্ঘ পরিশ্রম, সততা ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে তিনি সমাজে নিজের একটি সম্মানজনক অবস্থান তৈরি করেছেন। জীবনের প্রতিটি ধাপ তিনি ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে অতিক্রম করেছেন। একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে তিনি যেমন পরিচিত, তেমনি একজন ভদ্র, বিনয়ী এবং পরোপকারী মানুষ হিসেবেও এলাকাবাসীর কাছে সমানভাবে শ্রদ্ধার পাত্র।
জীবনের আরেকটি বড় দায়িত্বও তিনি সফলভাবে পালন করেছেন। শুনেছি, তিনি তার বড় মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন। এছাড়া তার আরও দুই ছেলে রয়েছে, যারা এখন সাবালক এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছে। একজন বাবার জন্য এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কী হতে পারে!
অন্যদিকে, আমার জীবনের পথ কিছুটা ভিন্ন। ব্যক্তিগত কারণে আমার বিয়ে হয়েছে অনেক দেরিতে। তাই সংসার জীবনের যে পর্যায়ে বন্ধু সুফিয়ান অনেক আগেই পৌঁছে গেছেন, আমি এখনো সেখানে পৌঁছাতে পারিনি। তবে এ নিয়ে কখনো আফসোস নয়; বরং বন্ধুর সাফল্য ও সুখের খবর শুনে নিজেরই ভালো লাগে। সত্যিকারের বন্ধুত্ব এমনই—বন্ধুর আনন্দে নিজের আনন্দ খুঁজে পাওয়া।
আবু সুফিয়ান মল্লিকের বাবা ছিলেন মরহুম হাজী আবদুল মালেক মল্লিক। তিনি ছিলেন একজন সম্মানিত ও সৎ মানুষ। তাদের পরিবারে পাঁচ ভাই ও দুই বোন। ভাইবোনদের মধ্যে সুফিয়ানই সবচেয়ে ছোট। পরিবারের সবার স্নেহ-ভালোবাসার মধ্যে বড় হলেও কখনো অহংকার তাকে স্পর্শ করেনি। ছোটবেলা থেকেই সে ছিল অত্যন্ত নম্র, শান্ত স্বভাবের এবং সবার প্রতি আন্তরিক।
আমাদের ছোটবেলার স্মৃতিগুলো এখনো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। স্কুলে যাওয়া, বই-খাতা ভাগাভাগি করে পড়া, মাঠে খেলাধুলা, কখনো একসঙ্গে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফেরা—এসব মুহূর্ত আজও হৃদয়ের গভীরে গেঁথে আছে। তখন জীবন ছিল অনেক সহজ। না ছিল মোবাইল ফোন, না ছিল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। ছিল শুধু আন্তরিক সম্পর্ক, বিশ্বাস আর নিখাদ বন্ধুত্ব।
জীবনের ব্যস্ততা আমাদের অনেক দূরে নিয়ে গেছে। আজ হয়তো আগের মতো প্রতিদিন দেখা হয় না, ঘণ্টার পর ঘণ্টা গল্পও হয় না। কিন্তু দেখা হলে মনে হয়, সময় যেন থেমে আছে সেই শৈশবেই। সম্পর্কের উষ্ণতায় কোনো ভাটা পড়েনি।
সুফিয়ানের সবচেয়ে বড় গুণ হলো, সে মানুষের উপকার করতে ভালোবাসে। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী অন্যের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের বিপদে সহযোগিতা করা এবং সবার সঙ্গে সুন্দর আচরণ করা তার স্বভাবের অংশ। ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি এই মানবিক গুণগুলোই তাকে আরও বড় মানুষ হিসেবে পরিচিত করেছে।
একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার সম্পদে নয়, তার চরিত্রে। আর সেই বিচারে আবু সুফিয়ান মল্লিক একজন সত্যিকারের ভালো মানুষ। সততা, ভদ্রতা, বিনয় ও মানবিকতা—এই চারটি গুণ তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
আজ যখন পেছন ফিরে প্রায় চার দশকেরও বেশি সময়ের স্মৃতির দিকে তাকাই, তখন মনে হয়—সময় বদলেছে, মানুষ বদলেছে, জীবন বদলেছে; কিন্তু শৈশবের বন্ধুত্ব বদলায়নি। সেই বন্ধুত্ব এখনো হৃদয়ের গভীরে একইভাবে বেঁচে আছে।
আমার প্রিয় বাল্যবন্ধু আবু সুফিয়ান মল্লিকের জন্য রইল আন্তরিক শুভকামনা। মহান আল্লাহ তাআলা যেন তাকে সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু, ব্যবসায় আরও সমৃদ্ধি এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে সুখী ও শান্তিময় জীবন দান করেন। আমাদের শৈশবের সেই নির্মল বন্ধুত্ব যেন আজীবন অটুট থাকে—এই কামনাই করি।
শহীদদের স্মরণে দোয়া
নতুন কমিটিকে ঘিরে শক্তির মহড়া, দেবীদ্বারে বিএনপির আনন্দ মিছিল

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির নতুন আহ্বায়ক কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিল, আলোচনা সভা এবং জুলাই গণ-আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে উপজেলা প্রাঙ্গণ থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউমার্কেট এলাকা হয়ে মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বার্তা একটাই, ঐক্যবদ্ধ বিএনপি—
বক্তারা বলেন, নতুন আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে দেবীদ্বারে বিএনপিকে আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত করা হবে। একই সঙ্গে চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসী ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের দলে কোনো স্থান হবে না।
কর্মসূচিতে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটির সদস্যবৃন্দ, দেবীদ্বার উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দ এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন। কর্মসূচির শুরুতে জুলাই গণ-আন্দোলনের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, নবগঠিত কুমিল্লা উত্তর জেলা ও দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির নেতৃত্বে সংগঠন আরও শক্তিশালী ও সুসংগঠিত হবে। জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বেগবান করতে নতুন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বক্তারা আরও বলেন, বিএনপিতে অন্য দল থেকে আসা বিতর্কিত ব্যক্তি, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু ও সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। দলকে পরিচ্ছন্ন ও সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী করতে কঠোর অবস্থান বজায় রাখা হবে বলেও জানান তারা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ব্যারিস্টার রিজভিউল আহসান মুন্সী, দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন এবং সদস্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ। তারা নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থেকে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার আহ্বান জানান।
গার্ড অব অনারে শ্রদ্ধা
রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিরনিদ্রায় শায়িত বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বিন আব্দুস সালাম নান্নু

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গাজী বিন আব্দুস সালাম নান্নু (৭৬)-কে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়েছে। গার্ড অব অনার, জানাজা ও সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় উপজেলার গুনাইঘর আলিম মাদ্রাসা মাঠে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এসআই শাহাদাতের নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল বিউগলের করুণ সুরে শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে। এ সময় সালাম গ্রহণ করেন দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।
রাষ্ট্রীয় সম্মানে শেষ বিদায়: দেবীদ্বারের গুনাইঘর আলিম মাদ্রাসা মাঠে গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বিন আব্দুস সালাম নান্নুকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান অনুষ্ঠানে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী বিন আব্দুস সালাম নান্নু বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২ নম্বর সেক্টরের অধীনে সম্মুখযুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধকালীন সময়ে আফসার উদ্দিন রাজাকারের ঘাঁটি ধ্বংসসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় রাখেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি হালিমা আক্তার, দুই ছেলে প্রকৌশলী গাজী রাসেল বিন সালাম ও গাজী আশরাফ বিন সালাম, কন্যা উপসচিব ড. উর্মি বিনতে সালাম, আত্মীয়-স্বজন, সহযোদ্ধা এবং অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। কর্মজীবনে তিনি দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন শেষে অবসর গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান শেষে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এর আগে বুধবার বাদ আসর ঢাকার মনিরাড়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
জানাজার আগে মরহুমের বর্ণাঢ্য জীবন, মুক্তিযুদ্ধে অবদান এবং কর্মময় জীবনের নানা দিক তুলে ধরে স্মৃতিচারণ করেন সাবেক উপসচিব মো. ফজলুল করিম সরকার, এসএ সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যাপক বীর মুক্তিযোদ্ধা আলী ইমাম, সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু হানিফ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মো. সফিউদ্দিন সফি, সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সামাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. রফিকুল ইসলাম, ডেপুটি কমান্ডার ডা. মো. রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বশির আহমেদ ভূঁইয়া, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, সাবেক পৌর মেয়র মো. সাইফুল ইসলাম শামীম, লন্ডন থেকে অডিও কলে ব্যারিস্টার মো. আবু বকর, মো. নজরুল ইসলাম সরকার, ঢাকাস্থ দেবীদ্বার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন, আব্দুল মান্নান মোল্লা, মো. আবুল কালাম আজাদ, মো. আবু বকর, মো. শুভ আহমেদ এবং মরহুমের দুই ছেলে প্রকৌশলী গাজী রাসেল বিন সালাম ও গাজী আশরাফ বিন সালাম।
জানাজার নামাজে ইমামতি করেন মাওলানা মো. লিয়াকত আলী। তাঁর মৃত্যুতে দেবীদ্বারসহ সর্বস্তরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।























