সীমান্তে মানবতার পরীক্ষা
ভূ-সীমানার চেয়ে মানুষ বড়

সীমান্তের ঘাসে বসে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের অপেক্ষা—মায়ের কোলজুড়ে শিশুর নীরব আর্তনাদ। ছবি : আজকের কথা
সীমান্তের কাঁটাতারে আটকে থাকা মানবতার গল্প
— পুলক ঘটক
দেড় বছরের একটি শিশু। কুষ্টিয়ার প্রাগপুর সীমান্তে মায়ের কোলে আধশোয়া হয়ে আছে। মাথার ওপরে তপ্ত রোদ, পায়ের নিচে ধুলোমাখা মাটি, সামনে কাঁটাতারের বেড়া, পেছনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। সে জানে না রাষ্ট্র কী, সীমান্ত কী, নাগরিকত্ব কী কিংবা কূটনীতি কী। সে শুধু জানে তার ক্ষুধা পেয়েছে, তৃষ্ণা পেয়েছে, সে ক্লান্ত।
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের বিভিন্ন এলাকা থেকে উঠে আসা এমন দৃশ্য শুধু একটি সীমান্ত বিরোধের গল্প নয়; এটি মানবতার এক নির্মম পরীক্ষার গল্প।
কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ, যশোর, ঝিনাইদহ, মেহেরপুর, জামালপুর, নেত্রকোনা কিংবা সিলেট—সীমান্তের একের পর এক এলাকায় দেখা গেছে অসহায় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের। কেউ কাঁটাতারের এপারে, কেউ ওপারে, আবার কেউ নো-ম্যানস-ল্যান্ডে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন—কোন দেশ তাদের নিজের বলে স্বীকার করবে সেই আশায়।
কেউ দাবি করছেন তারা বাংলাদেশের নাগরিক। কেউ বহু বছর আগে কাজের সন্ধানে ভারতে গিয়েছিলেন। কারও নাগরিকত্ব নিয়ে দুই দেশের প্রশাসনের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। কিন্তু একটি বিষয়ে কোনো মতবিরোধ থাকার কথা নয়—
তারা সবাই মানুষ।
দুর্ভাগ্যজনকভাবে সাম্প্রতিক বিতর্কে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হচ্ছে এই মানবিক সত্যটিই।
চারদিকে আমরা শুনছি ‘পুশ-ইন’, ‘পুশ-ব্যাক’, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ’, ‘জাতীয় নিরাপত্তা’, ‘সীমান্ত সুরক্ষা’, ‘কূটনৈতিক প্রতিবাদ’ কিংবা ‘রাজনৈতিক অবস্থান’—কিন্তু মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর আর্তনাদ যেন ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবির তথ্যমতে, চলতি বছরের জুন মাসের শুরুতেই সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক পুশ-ইনের ঘটনা ঘটেছে। বিভিন্ন সময়ে শত শত মানুষকে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংখ্যার হিসেবে কিছু অমিল থাকতে পারে, কিন্তু বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই—সমস্যাটি বাস্তব এবং ক্রমশ জটিল হয়ে উঠছে।
প্রশ্ন হলো, এই মানুষগুলো কারা?
তারা কি সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক?
নাকি তাদের মধ্যে এমন মানুষও আছেন, যাদের পরিচয় নিয়ে দুই দেশের প্রশাসনের মধ্যে বিভ্রান্তি রয়েছে?
জামালপুর সীমান্তে ষষ্টি চন্দ্র বর্মণের ঘটনাটি আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা তথ্য ছড়িয়ে পড়েছিল। কেউ বলেছিলেন তিনি ভারতের নাগরিক, কেউ দাবি করেছিলেন তিনি বাংলাদেশি। পরে প্রশাসনিক যাচাই-বাছাইয়ে জানা যায়, তিনি বাংলাদেশের রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী উপজেলার বাসিন্দা।
এই ঘটনাই দেখিয়ে দেয়, নাগরিকত্ব অনুমানের বিষয় নয়।
ভাষা, পোশাক কিংবা চেহারা দেখে কোনো মানুষের জাতীয়তা নির্ধারণ করা যায় না। প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য নথি, প্রশাসনিক তদন্ত এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সমন্বয়।
সেখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি উঠে আসে।
যদি এসব মানুষ সত্যিই বাংলাদেশের নাগরিক হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের কেন আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে?
আর যদি তারা বাংলাদেশের নাগরিক না হন, তাহলে কী ভিত্তিতে তাদের বাংলাদেশ সীমান্তে এনে ফেলে রাখা হচ্ছে?
এই প্রশ্নের উত্তর শুধু সীমান্তে নয়, দুই দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেও খুঁজতে হবে।
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ‘অবৈধ অভিবাসন’ বহুদিনের একটি আলোচিত ইস্যু। বিশেষ করে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে এটি নির্বাচনী রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বছরের পর বছর ধরে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ প্রশ্নটি রাজনৈতিক বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
ভারতের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি নিরাপত্তা ও অভিবাসন ব্যবস্থাপনার প্রশ্ন।
বাংলাদেশের দৃষ্টিকোণ থেকে এটি রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্ন।
কিন্তু সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের কাছে এটি বেঁচে থাকার প্রশ্ন।
এটাই সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
একজন মা যখন শিশুকে বুকে নিয়ে দিনের পর দিন সীমান্তে অপেক্ষা করেন, তখন তার কাছে কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ নয়; গুরুত্বপূর্ণ একটি নিরাপদ আশ্রয়। একজন বৃদ্ধ যখন জানেন না তিনি কোন দেশে ফিরবেন, তখন তার কাছে জাতীয় রাজনীতির চেয়ে বেশি জরুরি একবেলা খাবার এবং নিরাপত্তা।
সমস্যার আরেকটি দিকও আমাদের স্বীকার করতে হবে।
বাংলাদেশ থেকে বহু মানুষ বছরের পর বছর ধরে জীবিকার সন্ধানে ভারতে গেছেন। কেউ শ্রমিক হিসেবে, কেউ নির্মাণকর্মী, কেউ গৃহকর্মী হিসেবে। এটি কোনো গোপন সত্য নয়।
তবে এটিও সত্য যে উন্নত জীবন ও কর্মসংস্থানের আশায় সীমান্ত অতিক্রম করা শুধু বাংলাদেশিদের বৈশিষ্ট্য নয়।
মেক্সিকো থেকে যুক্তরাষ্ট্র, আফ্রিকা থেকে ইউরোপ, দক্ষিণ এশিয়া থেকে মধ্যপ্রাচ্য—বিশ্বের সর্বত্র মানুষ জীবিকার তাগিদে সীমান্ত পাড়ি দেয়।
এটি বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বৈষম্যের বাস্তব চিত্র।
কাজ যেখানে আছে, মানুষ সেখানে যাবে। সুযোগ যেখানে আছে, মানুষ সেখানে পৌঁছাতে চাইবে।
তাই অভিবাসনের প্রশ্নকে শুধু আইন-শৃঙ্খলা বা নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে সমাধান আসবে না।
আবার রাষ্ট্রের সীমান্ত রক্ষার অধিকারও অস্বীকার করা যায় না।
তাই সমাধান হতে হবে যৌথ, ন্যায়সঙ্গত এবং মানবিক।
ভারত যদি মনে করে কোনো ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক, তাহলে তার পরিচয় যাচাইয়ের সুযোগ দিতে হবে। বাংলাদেশ যদি যাচাই করে নাগরিকত্ব নিশ্চিত করে, তাহলে তাকে গ্রহণ করতে হবে। বিশ্বের বহু দেশ এভাবেই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।
প্রয়োজন কার্যকর দ্বিপক্ষীয় কাঠামো, দ্রুত তথ্য যাচাই ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা।
দুঃখজনকভাবে পুরো আলোচনায় আরেকটি বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—অতি-জাতীয়তাবাদ।
একপক্ষ সব দায় ভারতের ওপর চাপাচ্ছে।
অন্যপক্ষ সীমান্ত পার হওয়া প্রতিটি মানুষকে অপরাধী হিসেবে চিত্রিত করছে।
দুই অবস্থানই মানবিক ও বাস্তবসম্মত নয়।
ভারতকে গালমন্দ করলে সীমান্তে আটকে থাকা শিশুটির ক্ষুধা মিটবে না।
আবার জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে একজন বৃদ্ধকে দিনের পর দিন নো-ম্যানস-ল্যান্ডে ফেলে রাখাও কোনো সভ্য রাষ্ট্রের আচরণ হতে পারে না।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু সীমান্ত পাহারা দেওয়া নয়; মানুষের মর্যাদা রক্ষা করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
আজ সীমান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলোর চোখে যে আতঙ্ক, তা শুধু তাদের ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়; এটি আমাদের সময়েরও একটি নির্মম প্রতিচ্ছবি।
বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়। ইতিহাস, ভাষা, সংস্কৃতি, নদী, অর্থনীতি এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিতে দুই দেশ গভীরভাবে সংযুক্ত।
সেই সম্পর্কের মাঝখানে কোনো শিশুর রাত কাটানো উচিত নয় কাঁটাতারের বেড়ার পাশে।
আজ প্রয়োজন উত্তেজনা নয়, সমাধান।
প্রয়োজন নতুন করে একটি কার্যকর প্রত্যাবাসন চুক্তি।
প্রয়োজন দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আধুনিক ব্যবস্থা।
প্রয়োজন সীমান্তে আটকে পড়া মানুষদের জন্য মানবিক সহায়তা।
প্রয়োজন রাজনৈতিক স্লোগানের পরিবর্তে বাস্তব পদক্ষেপ।
কারণ কুষ্টিয়ার সেই শিশুটি, জামালপুরের সেই বৃদ্ধ কিংবা পঞ্চগড়ের সেই পরিবার—তারা কেউ ভূরাজনীতির খেলোয়াড় নয়। তারা শুধু মানুষ।
আর ইতিহাস শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রকে তার সীমান্তের কড়াকড়ি দিয়ে নয়, মানুষের প্রতি আচরণ দিয়েই বিচার করে।
সেই বিচারে আজ বাংলাদেশ ও ভারতের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন একটাই—
তারা কি সীমান্তকে বড় করবে, নাকি মানুষকে?
কারণ সত্যটি খুবই সহজ—
ভূ-সীমানার চেয়ে মানুষ বড়।
লেখক: সাংবাদিক, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ হিন্দু আইন সংস্কার পরিষদ। ghatack@gmail.com
মাত্র ৫ ফুট চওড়া, তবু পূর্ণাঙ্গ সংসার : কুমিল্লার ‘ভাইরাল বাড়ি’ দেখতে মানুষের ঢল

৫ ফুট চওড়া, ৮৫ ফুট লম্বা—কুমিল্লায় ‘সরু বাড়ি’ এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্র
দাউদকান্দিতে জমি-সংকট ও মামলার চাপে এক শতাংশ জমিতে ব্যতিক্রমী বাড়ি নির্মাণ; সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল, প্রতিদিন ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় মাত্র ৫ ফুট চওড়া ও ৮৫ ফুট লম্বা একটি ব্যতিক্রমী বাড়ি নির্মাণ করে আলোচনায় এসেছেন সৌদি আরবপ্রবাসী মো. শাহজালাল। এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত এই সরু বাড়িতে রয়েছে শোবার ঘর, রান্নাঘর, সংরক্ষণ কক্ষ, শৌচাগারসহ বসবাসের প্রয়োজনীয় সব সুবিধা। বাড়িটির ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এটি দেখতে ভিড় করছেন।
উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের স্বল্পপেন্নাই গ্রামের এ বাড়িতে বর্তমানে শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন। জায়গা সীমিত হলেও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা করে স্বাভাবিকভাবেই সংসার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
খাদিজা আক্তারের ভাষ্য, পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও একাধিক মামলার কারণে বড় পরিসরে বাড়ি নির্মাণ সম্ভব হয়নি। পরে স্বামীর পাঠানো অর্থে চলতি বছরের জুনে এক শতাংশ জমি কিনে সেখানেই এই ব্যতিক্রমী বাড়ি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, জমিটির আকৃতি অত্যন্ত সরু ও লম্বা হওয়ায় এমন নকশায় বাড়ি নির্মাণ করতে হয়েছে। প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বাড়িটিই এখন শাহজালালের পরিবারের একমাত্র স্থায়ী ঠিকানা।
স্থানীয়রা জানান, আগে পরিবারটিকে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে থাকতে হতো। এখন ছোট হলেও নিজেদের একটি নিরাপদ ঠিকানা হয়েছে। তবে পাশের জমি নিয়ে চলমান বিরোধ নিষ্পত্তি হলে ভবিষ্যতে বাড়িটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, অস্বাভাবিক আকৃতির জমি, দীর্ঘদিনের মামলা এবং আর্থিক সীমাবদ্ধতার বাস্তবতা থেকেই এমন ব্যতিক্রমী বাড়ির জন্ম হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পর এটি এখন দাউদকান্দির অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।
আসামিরা কি জাদু জানে?
কাতার-সৌদিতে থেকেও দেবীদ্বারের মিছিলে! ‘গায়েবী’ ভিডিও ফুটেজে প্রবাসীদের নামে পুলিশের সন্ত্রাস বিরোধী মামলা

ব্যানারের চেয়ে আসামি বেশি! দেবীদ্বারে প্রবাসীদের জড়িয়ে পুলিশের ‘অদ্ভুত’ মামলা
কাতার-সৌদিতে অবস্থানরত প্রবাসী এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিও কি কোনো অলৌকিক ক্ষমতাবলে দেশে এসে মিছিলে অংশ নিতে পারেন? পুলিশি অনুসন্ধানের দাবির মুখে এমন প্রশ্নই এখন সর্বমহলে মুখরোচক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসী ও চিকিৎসাধীন রোগীদের নাম জড়িয়ে পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি ‘অদ্ভুত ও অলৌকিক’ মামলা দায়ের করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রাপ্ত নথিপত্র ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ আগস্ট ২০২৬ ইং সকালে দেবীদ্বার থানার ইউছুফপুর এলাকায় কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কে কার্যক্রম নিষিদ্ধ ও সরকারবিরোধী মিছিলের অভিযোগে দেবীদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অণুপ বড়ুয়া বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-০৪, তারিখ: ০২/০৮/২০২৬)। মামলায় ২০০৯ সালের সন্ত্রাস বিরোধী আইনের বিভিন্ন ধারায় ২৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করা হয়।
পুলিশের দাবি বনাম বাস্তবতা:
পুলিশের এজাহারে দাবি করা হয়, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ দেখে তারা ২৬ জন আসামিকে শনাক্ত করেছেন। অথচ মামলার এজাহার পর্যালোচনা করে দেখা গেছে—
১. প্রবাসে থেকেই মিছিলে উপস্থিত! মামলার ৬ নম্বর আসামি ইকবাল হোসেন রুবেল দীর্ঘদিন ধরে কাতার অবস্থান করছেন। ৭ নম্বর আসামি সাইদুল ইসলাম এবং ৯ নম্বর আসামি শাওন বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকেই তারা দেশে ফেরেননি। অথচ পুলিশের দাবি, তারা ভিডিও ফুটেজ দেখে এই প্রবাসীদের দেবীদ্বারের ইউছুফপুরে সশরীরে মিছিলে অংশ নিতে দেখেছেন! স্থানীয়দের প্রশ্ন—প্রবাসীরা কি কোন অলৌকিক বা অত্যাধুনিক বাহনে মুহূর্তের মধ্যে দেশে এসে মিছিল করে আবার ফিরে গেলেন?
২. হাসপাতালের শয্যা থেকে রাজপথে? কেবল প্রবাসীরাই নন, ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে শয্যাশায়ী চিকিৎসাধীন রোগীও ছাড় পাননি এই অলৌকিক ডিজিটাল অনুসন্ধানের হাত থেকে। তাঁকেও বানানো হয়েছে এজাহারনামীয় আসামি।
৩. মিছিলকারীর চেয়ে আসামির সংখ্যা বেশি! স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ব্যানার হাতে মিছিলে যে কয়জন লোক দেখা গিয়েছিল, পুলিশ মামলায় তার চেয়েও বেশি সংখ্যক মানুষকে আসামি করেছে।
গ্রেফতার ও বর্তমান অবস্থা:
মামলা দায়েরের পর গত ২ আগস্ট পুলিশ উপজেলার ৩টি ইউপির আওয়ামী লীগের ৩ সহ-সভাপতি—ফরিদুল ইসলাম (৩৬), শাহিন সরকার (৪৫) এবং আবু তাহের সরকার (৫৮)-কে গ্রেফতার করে কুমিল্লা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই পাভেল মল্লিক এবং ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান নথিপত্রে স্বাক্ষর করে আসামিদের জেলহাজতে রাখার আবেদন জানিয়েছেন।
জনমনে আতঙ্ক ও প্রশ্ন:
বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে শনাক্ত করে মিছিলে উপস্থিত দেখানোর ঘটনাকে সুশীল সমাজ ও আইন বিশেষজ্ঞরা ‘ভৌতিক বা গায়েবী মামলা’ বলে আখ্যা দিচ্ছেন। সামনে ৫ আগস্ট, ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্ট কেন্দ্র করে হয়রানি করতেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা তথ্য দিয়ে এই এজাহার তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
প্রবাসে অবস্থানরতদের স্বজনদের দাবি, “পুলিশ না দেখে, না নিশ্চিত হয়ে কীভাবে প্রবাসী ও হাসপাতালে থাকা ব্যক্তিদের ভিডিও ফুটেজে পাওয়ার কথা বলে মামলা দিল? এটি পরিষ্কারভাবে হয়রানি এবং আইনি ব্যবস্থার অপব্যবহার।”
আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এই দায়িত্বজ্ঞানহীন আইনি পদক্ষেপ এখন পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও হাস্যরসের সৃষ্টি করেছে।
শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের প্যানেলে থাকছেন সাকিব আল হাসান

রাজনীতিতে যুক্ত হওয়ার পর প্রথমবার আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে অংশ নিচ্ছেন সাবেক টাইগার অধিনায়ক
বাংলাদেশের সাবেক জাতীয় ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান আগামী ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য একটি আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনের প্যানেলে অংশ নিতে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আয়োজকদের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, সাকিব আল হাসানের পাশাপাশি প্যানেলে থাকবেন সজীব ওয়াজেদ জয়, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাবেক কূটনীতিক আমিনুল হক পলাশ, বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মহাসচিব মাহাম্মদ আলী সিদ্দিক, বিশ্লেষক আবু ওবাইদাহ আরিন এবং শাহ মো. বখতিয়ার।
রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর এই প্রথমবার শেখ হাসিনার সঙ্গে একই আন্তর্জাতিক ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে দেখা যাবে সাকিবকে। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও ওই বছরের ৫ আগস্ট জঙ্গি হামলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অবৈধভাবে জোর করে সংসদ বিলুপ্ত করে নেয়ায় তার সংসদ সদস্য পদও বিলুপ্ত হয়।
দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করা সাকিব আল হাসান প্রকাশ্যে রাজনৈতিক বিষয়ে খুব কমই মন্তব্য করেছেন। ফলে আসন্ন এই আন্তর্জাতিক সংবাদ সম্মেলনে তার অংশগ্রহণ ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
জানা গেছে, ভারতের নয়াদিল্লির স্যার মার্ক টালি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য এই ভার্চুয়াল সেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।

























