৪৩৬ হজ এজেন্সি বন্ধ সৌদিতে, গ্রেপ্তার ৪৬২

চলতি হজ মৌসুমে ৪৩৬ হজ এজেন্সি বন্ধ সৌদির কর্তৃপক্ষ। ভুয়া হজ ক্যাম্পেইনের বিরুদ্ধে নেওয়া এই কঠোর পদক্ষেপে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অন্তত ৪৬২ জন। হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার কঠিন বার্তা দিল রিয়াদ।
ভুয়া হজ ক্যাম্পেইনের বিরুদ্ধে অভিযান
শনিবার (৭ জুন) গালফ নিউজ জানায়, সৌদির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালিত বিশেষ অভিযানে এসব ভুয়া হজ কার্যক্রম বন্ধ করা হয়। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন অননুমোদিত ক্যাম্পেইন প্রচারকারী এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই পবিত্র স্থানে হাজিদের প্রবেশে সহায়তাকারী ব্যক্তি।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল তালাল আল শালহুব জানান, “হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং পবিত্র ধর্মীয় আচার শান্তিপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।”
মক্কায় অনুমতি ছাড়া প্রবেশ: ৫৮ জন আটক
অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া মক্কায় প্রবেশের চেষ্টা করার দায়ে ৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সবাই এখন আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।
কঠোর শাস্তির মুখে গ্রেপ্তাররা
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, হজ অনুমতি ছাড়া মক্কায় ১৯৭ জনকে পরিবহন করার ঘটনায় ৪৯টি আলাদা আইন লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে ১৮ জন প্রবাসী এবং ৩১ জন সৌদি নাগরিক।
এসব অপরাধে অভিযুক্তদেরকে সর্বোচ্চ ১ লাখ সৌদি রিয়াল জরিমানা, কারাদণ্ড, নিষেধাজ্ঞা, যানবাহন বাজেয়াপ্ত এবং প্রবাসীদের বহিষ্কারের মুখোমুখি হতে হবে। অননুমোদিত হাজিদের জন্য জরিমানা হতে পারে ২০ হাজার রিয়াল পর্যন্ত।
কর্নেল আল শালহুব হাজিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, তারা যেন সৌদি সরকারের নির্দেশনা অনুসরণ করেন। বিশেষ করে তাশরিকের দ্বিতীয় দিনে মিনায় অবস্থান এবং নির্ধারিত সময় অনুযায়ী তাঁবু ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।
হজের নিয়ম না মানলে শাস্তি নিশ্চিত
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, নিরাপদ ও সুষ্ঠু হজ নিশ্চিত করতে সকল নাগরিক ও বাসিন্দাকে নিয়ম মেনে চলতে হবে। ভুয়া হজ কার্যক্রমে জড়িতদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ার করেছে মন্ত্রণালয়।
৪৩৬ হজ এজেন্সি বন্ধ সৌদির এই পদক্ষেপ প্রমাণ করে, ভুয়া ও অননুমোদিত হজ কার্যক্রম বরদাশত করবে না দেশটি। হাজিদের নিরাপত্তা, সুষ্ঠু হজ ব্যবস্থাপনা এবং নিয়মশৃঙ্খলা রক্ষায় সৌদি সরকারের এমন কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশা করছে আন্তর্জাতিক মহল।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দেবীদ্বারে নিজেরা করি ও ভূমিহীন সংগঠনের ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘নিজেরা করি সংস্থা’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’-এর ৪৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ৩ নম্বর রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে সংগঠন দুটির যৌথ উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ আয়োজন করা হয়।
ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মো. ফজর আলী মেম্বারের সভাপতিত্বে এবং ‘নিজেরা করি সংস্থা’র কুমিল্লা জেলা সমন্বয়ক আব্দুল জব্বারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি পরেশ কর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ‘নিজেরা করি’র চট্টগ্রাম বিভাগীয় সংগঠক খায়রুল ইসলাম, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার এবং সিপিবি কুমিল্লা জেলা কমিটির সদস্য কমরেড আব্দুল ওয়াদুদ।
এ ছাড়া আলোচনায় অংশ নেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাসেম, কবি হান্নান মুন্সী, রসুলপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বাছের মেম্বার, ভূমিহীন সংগঠনের আঞ্চলিক সাধারণ সম্পাদক আবু মিয়া এবং ভূমিহীন আঞ্চলিক কমিটির সহ-সভাপতি মনোয়ারা বেগমসহ অনেকে।
আলোচনা সভার আগে রসুলপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি। পরে আলোচনা সভা শেষে পরিবেশিত হয় গণসংগীত ও জীবনমুখী একাধিক নাটক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরেশ কর বলেন, প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই ‘নিজেরা করি’ ও ‘ভূমিহীন সংগঠন’ ভূমিহীন ও প্রান্তিক মানুষের অধিকার আদায়, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছে।
দেবীদ্বারে সাপের কামড়ে জেলে নিহত

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বিষধর সাপের কামড়ে মোসলেম উদ্দিন খান (৫৮) নামে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নিহত মোসলেম উদ্দিন খান উপজেলার মোহনপুর ইউনিয়নের ভৈষেরকুট গ্রামের বাহর খানের বাড়ির মৃত ফজর আলীর ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি স্থানীয় খাল-বিলে ভেল জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে খালে পাতা ভেল জাল তুলতে যান মোসলেম উদ্দিন। জালে ধরা মাছ হাত দিয়ে সংগ্রহ করার সময় অসাবধানতাবশত একটি বিষধর সাপকে মাছ মনে করে ধরে ফেলেন তিনি। এ সময় সাপটি তার হাতে কামড় দেয়।
সাপের কামড়ের পর স্বজনরা দ্রুত তাকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার রক্ত পরীক্ষা করা হয়। তবে ভ্যাকসিন দেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লায় এক রাতে আটক ৬২৪, দাউদকান্দিতে থানা ভাংচুর করে বেরিয়ে যায় ২৮ কিশোর

কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে ১৮ থানায় সাঁড়াশি অভিযান
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে এক রাতেই ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে এ অভিযান চালানো হয়।
এর মধ্যে দাউদকান্দি মডেল থানায় আটক করা হয় ৫৯ কিশোরকে। তাদের মধ্যে ২৮ কিশোর থানার একটি কক্ষ থেকে বেরিয়ে যায়। এ সময় থানার ভেতরে ভাংচুরের ঘটনাও ঘটে। ঘটনাটির ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
তবে থানায় ভাংচুরের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম পলাশ। তাঁর দাবি, অভিভাবক ও স্থানীয় লোকজন থানায় এসে হট্টগোল করেন। বাইরে থেকেও উত্তেজনা ছড়ানো হয় এবং কেউ কেউ ঢিল ছোড়েন। এ সময় একটি পুরোনো দরজার অংশ খুলে যায় ও কয়েকটি চেয়ার উল্টে পড়ে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে কিশোরদের জড়িয়ে একের পর এক অপরাধের ঘটনায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে জেলার ১৮টি থানার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে আটক ৬২৪ জনকে বিভিন্ন অপরাধে তাদের সংশ্লিষ্টতা ও পূর্বের রেকর্ড রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।
কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) লুৎফুর রহমান জানান, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় নগরীসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালিত হয়েছে। কিশোর গ্যাং ও উঠতি বয়সী অপরাধীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।
দাউদকান্দির ঘটনায় পুলিশের দাবি, আটক কিশোরদের সংখ্যা বেশি হওয়ায় পরিস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। অন্যদিকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন কিশোরকে থানার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে এবং সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দেখা যায়।





























