সোমবার, ১ জুন ২০২৬, ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গাছের জন্য ‘পাগল’ ডাক্তার নাঈম: নিজের আঙিনায় গড়েছেন বিরল উদ্ভিদের স্বর্গভূমি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫, ১২:৩৩ এএম
গাছের জন্য ‘পাগল’ ডাক্তার নাঈম: নিজের আঙিনায় গড়েছেন বিরল উদ্ভিদের স্বর্গভূমি
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চিকিৎসক হয়েও গাছের জন্য ‘পাগল’ হয়ে ওঠা আবু মোহাম্মদ নাঈমের বাড়ি এখন বিরল বৃক্ষের এক জীবন্ত সংগ্রহশালা। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের দুর্লভ এক নজির স্থাপন করেছেন তিনি। নিজের আয়ের বড় অংশ ব্যয় করে গড়ে তুলেছেন এমন একটি উদ্ভিদ উদ্যান, যেখানে শুধু গাছই নয়, গাছের মাধ্যমে তিনি ছড়াচ্ছেন ভালোবাসা, সচেতনতা এবং সামাজিক পরিবর্তনের বার্তা।

পেশায় অ্যানেসথেসিয়া বিশেষজ্ঞ হলেও চিকিৎসক আবু মোহাম্মদ নাঈমের (৩৬) মন পড়ে থাকে গাছের সঙ্গেই। কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার গুণানন্দী গ্রামের বাসিন্দা নাঈমের বাড়ির নামই ‘আরণ্যক’। বাড়ির ফটক থেকে ছাদ, সিঁড়ি, বারান্দা, এমনকি শোবার ঘর—সবখানেই গাছের রাজত্ব। পরিচিত সব গাছের পাশাপাশি রয়েছে দেশের এবং বিদেশের বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির গাছের সম্ভার।

গাছের জন্য পাগল
গাছের জন্য ‘পাগল’ হয়ে ওঠা আবু মোহাম্মদ নাঈমের বাড়ি এখন বিরল বৃক্ষের এক জীবন্ত সংগ্রহশালা। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের দুর্লভ এক নজির স্থাপন করেছেন তিনি। নিজের আয়ের বড় অংশ।

চিকিৎসকদের অনেকেই যখন দায়িত্ব শেষ করে ব্যস্ত হন ব্যক্তিগত চেম্বারে, তখন নাঈম ব্যস্ত থাকেন গাছ পরিচর্যায়। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে অন্তত ২ হাজার গাছ ও কয়েকশ প্রজাতি। বাগানের বয়স এক যুগ পেরিয়েছে। একাই করেন পরিচর্যা। রাত যতই হোক, হাসপাতাল থেকে ফিরে গাছের খোঁজ-খবর নিতেই হবে—এ যেন তাঁর আত্মার চাহিদা।

‘আরণ্যকে’ রয়েছে সুন্দরবনের সুন্দরীগাছ, গোলপাতা, খাসি কলসি, রিঠা, কুঁচ, লতাবটসহ সংরক্ষিত উদ্ভিদ। বাগানভরা গাছের জন্য রয়েছে বিশেষ র‍্যাক, পাথরের বেদি, দোলনা, টব—সবকিছুতেই শিল্পের ছোঁয়া। ছাদজুড়ে টবে ফুটে আছে ডুলিচাঁপা, ভুঁইচাঁপা, দোলনচাঁপা, কুসুমচাঁপা, বিদেশি কিছু প্রজাতিও।

নাঈমের প্রতিষ্ঠা ‘কুমিল্লা গার্ডেনার্স সোসাইটি’ এখন ছাদকৃষি ও পরিবেশ প্রেমীদের জন্য বৃহৎ অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, যার সদস্য ৫৬ হাজারেরও বেশি। সেখানে গাছের পরিচর্যা, বীজ সংরক্ষণ, ছাদবাগান বিষয়ে নিয়মিত আলোচনার পাশাপাশি রয়েছে গাছ বিনিময়ের উদ্যোগ। এখন পর্যন্ত বিনামূল্যে প্রায় ৭০ হাজারের বেশি গাছ, বীজ ও কাটিং বিতরণ করেছেন তিনি।

গাছের জন্য পাগল
গাছের জন্য ‘পাগল’ হয়ে ওঠা আবু মোহাম্মদ নাঈমের বাড়ি এখন বিরল বৃক্ষের এক জীবন্ত সংগ্রহশালা। পরিবেশ রক্ষা ও সবুজায়নের দুর্লভ এক নজির স্থাপন করেছেন তিনি। নিজের আয়ের বড় অংশ।

শুধু নিজে নয়, পরিবারও তাঁর এই বৃক্ষভালোবাসায় গর্বিত। স্ত্রী কানিজ ফাতেমা বলেন, “আমাদের সংসারের চেয়ে গাছই যেন তাঁর বড় ভালোবাসা।” মা নাসরিন আক্তার জানান, “ছোটবেলা থেকেই এক ইঞ্চি জায়গাও খালি রাখতে পারে না ছেলেটা, ঘর-ছাদ-বারান্দা সব গাছে ভরা।”

কুমিল্লা বাপার সাধারণ সম্পাদক আলী আকবার বলেন, “নাঈমের কাজ কেবল বৃক্ষরোপণ নয়, একটি সবুজ সমাজ গড়ার আন্দোলন। এ কাজকে জাতীয়ভাবে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।”

আবু মোহাম্মদ নাঈম দেখিয়ে দিচ্ছেন, একটিমাত্র মানুষও চাইলে প্রকৃতিকে ভালোবেসে সমাজকে বদলে দিতে পারেন। গাছের জন্য পাগল- তাঁর এ ‘গাছপাগলামি’ নিছক শখ নয়—এ এক সামাজিক আন্দোলন। ইট-পাথরের শহরে গাছের ছায়ায় বাঁচার পথ দেখাচ্ছেন তিনি, যেখানে সবুজই একমাত্র ভবিষ্যৎ।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

শোকে স্তব্ধ পরিবার-এলাকা

ডাব পাড়তে গিয়ে প্রাণ গেল সাংবাদিকপুত্রের, পলাশবাড়ীতে কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

সিরাজুল ইসলাম রতন, গাইবান্ধা থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৮:৪৪ এএম
ডাব পাড়তে গিয়ে প্রাণ গেল সাংবাদিকপুত্রের, পলাশবাড়ীতে কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু

পলাশবাড়ীতে নারিকেল গাছ থেকে পড়ে কলেজছাত্রের মৃত্যু, সাংবাদিক মহলে শোক

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ডাব পাড়তে গিয়ে নারিকেল গাছ থেকে পড়ে মাসুদ সরকার (২২) নামে এক কলেজছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিশেষ করে তিনি স্থানীয় এক সাংবাদিকের ছেলে হওয়ায় সাংবাদিক মহলেও গভীর শোক বিরাজ করছে।

রোববার (৩১ মে) সকাল প্রায় ১১টার দিকে পলাশবাড়ী পৌর শহরের রাইগ্রাম এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মাসুদ সরকার পলাশবাড়ী প্রেসক্লাবের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সাংবাদিক শাহ আলম সরকারের কনিষ্ঠ ছেলে। তিনি পলাশবাড়ী সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন।

স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে একটি নারিকেল গাছে ডাব পাড়ার জন্য ওঠেন মাসুদ। একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত তার হাত ফসকে যায় এবং তিনি গাছ থেকে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন।

পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পলাশবাড়ী মডেল প্রেসক্লাবের সভাপতি ও নিহতের নিকটাত্মীয় রবিউল হোসেন পাতা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স তার গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছে বলে স্বজনরা জানিয়েছেন।

এদিকে তরুণ শিক্ষার্থী মাসুদের অকাল মৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের মাতম বিরাজ করছে। একই সঙ্গে পলাশবাড়ীতে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যেও গভীর শোক নেমে এসেছে।

পলাশবাড়ীর সাংবাদিক নেতারা শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

তেহরানে রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে

ইরানের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি, রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৭:২৪ এএম
ইরানের প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের দাবি, রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র জল্পনা

ইরানে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব চরমে! পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান—দাবি প্রতিবেদনের

ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে দাবি করেছে লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল। তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান সরকার কিংবা দেশটির সর্বোচ্চ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।

রোববার (৩১ মে) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের বরাতে জানায়, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগপত্র সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পদত্যাগপত্রে পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেছেন যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া থেকে সরকার ও প্রেসিডেন্টের কার্যালয়কে কার্যত দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। এর ফলে ক্ষমতার ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর কট্টরপন্থি অংশ রাষ্ট্র পরিচালনায় অধিক প্রভাব বিস্তার করছে।

সূত্রের দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন এবং কার্যকরভাবে সরকার পরিচালনা করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণেই তিনি পদত্যাগের অনুমোদন চেয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে কি না, কিংবা এ বিষয়ে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না—সেসব বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির কার্যালয়ও বিষয়টি নিয়ে নীরব রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরানের সরকার ও সামরিক-নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ে যে টানাপোড়েন চলছিল, এই খবর তারই একটি প্রতিফলন হতে পারে। ইরান ইন্টারন্যাশনাল এর আগেও দাবি করেছিল, আইআরজিসি ধীরে ধীরে প্রেসিডেন্টের কিছু প্রশাসনিক ক্ষমতা সীমিত করেছে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে নিজেদের প্রভাব বাড়িয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিস্থিতির কারণে পেজেশকিয়ান প্রশাসন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এতে সরকারের সংস্কার উদ্যোগ, মন্ত্রিসভার কার্যক্রম এবং কূটনৈতিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করেছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে দাবি করা হয়। এরপর নতুন সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত দেশটির নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে আইআরজিসির প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

তবে প্রেসিডেন্টের কথিত পদত্যাগ নিয়ে এখনো কোনো স্বাধীন বা সরকারি সূত্রে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে জল্পনা-কল্পনা বাড়লেও আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন পর্যবেক্ষকরা।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

বীরত্বের স্বীকৃতি বিশ্বমঞ্চে

ড্রোন হামলায় শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: সোমবার, ১ জুন, ২০২৬, ৩:৩১ এএম
ড্রোন হামলায় শহীদ ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পাচ্ছেন জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা

মরণোত্তর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ সম্মাননা পাচ্ছেন ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী

আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে নিহত ছয় বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ‘ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদক’ প্রদান করা হবে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষীদের সর্বোচ্চ এ সম্মাননা আগামী ৫ জুন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক অনুষ্ঠানে তুলে দেবেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

জাতিসংঘের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, পদকপ্রাপ্ত বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা হলেন— মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. সবুজ মিয়া, মো. মাসুদ রানা, মো. মোমিনুল ইসলাম, শামীম রেজা এবং সান্ত মণ্ডল।

তারা ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর আফ্রিকার আবেই অঞ্চলে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ)-তে দায়িত্ব পালনকালে সশস্ত্র ড্রোন হামলায় নিহত হন। দায়িত্ব পালনের সময় তাদের আত্মত্যাগ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৯৪৮ সাল থেকে বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে প্রাণ হারানো প্রায় সাড়ে চার হাজার শান্তিরক্ষীর স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

এবারের অনুষ্ঠানে গত এক বছরে নিহত ৫৯ জনসহ মোট ৬৮ জন সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষীকে মরণোত্তর ড্যাগ হ্যামারশোল্ড পদকে ভূষিত করা হবে। এর মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের ছয় বীর শান্তিরক্ষী।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অবদান বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। বর্তমানে শান্তিরক্ষা মিশনে সামরিক ও পুলিশ সদস্য প্রেরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অবদানকারী দেশ। আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র, সাইপ্রাস, গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, লেবানন, লিবিয়া, দক্ষিণ সুদান ও পশ্চিম সাহারাসহ বিভিন্ন মিশনে ২৭৭ জন নারী সদস্যসহ চার হাজারের বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী দায়িত্ব পালন করছেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৫০ হাজারেরও বেশি সামরিক, পুলিশ ও বেসামরিক শান্তিরক্ষী কর্মরত রয়েছেন। ১১৮টি দেশ জাতিসংঘের ১১টি শান্তিরক্ষা মিশনে জনবল সরবরাহ করছে।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০২ সালে ২৯ মে-কে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৪৮ সালে প্রথম শান্তিরক্ষা মিশন ‘ইউনাইটেড নেশনস ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন (UNTSO)’ প্রতিষ্ঠার স্মরণে প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়। এ বছরের প্রতিপাদ্য ছিল— ‘শান্তিতে বিনিয়োগ’ (Investing in Peace)।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×