মব সৃষ্টি করে হত্যা: বিচার হবে, এক মাঘে শীত যাবে না—শাজাহান খান
মব সৃষ্টি করে হত্যা—এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান। ছবি : দৈনিক আজকের কথা।
আদালতে হাজিরা শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশে মব সৃষ্টি করে হত্যা বন্ধে কঠোর অবস্থানের হুঁশিয়ারি দিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান।
মব সৃষ্টি করে হত্যা—এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শাজাহান খান। সোমবার (২৩ জুন) ঢাকার একটি আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এক মাঘে শীত যায় না, যারা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করছে, তাদের বিচার হবেই। কেউ ভাববেন না যে পার পেয়ে যাবেন।”
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান। তারা সবাই আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন। আদালত কক্ষে প্রবেশের সময় তাদের পরনে ছিল হ্যান্ডকাফ, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট এবং মাথায় হেলমেট। কাঠগড়ায় তোলার পর পুলিশ হেলমেট ও হ্যান্ডকাফ খুলে দেয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে দেশের পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি হেসে বলেন, “আপনারা তো দেখছেনই… এক হাতে তালি বাজে না।” পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে স্বাভাবিক হাস্যোজ্জ্বল আচরণ করেন।
এর আগে যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের হওয়া সাজেদুর রহমান ওমর হত্যা মামলায় আদালত শাজাহান খান, আনিসুল হক ও সালমান এফ রহমানকে দুই দিনের রিমান্ডে দেন। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, গত জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় গণভবনে বসে তারা নীতিনির্ধারণী বৈঠক করেছেন এবং পরে সংঘটিত সহিংসতার দায় এড়াতে পারেন না।
শুনানিতে শাজাহান খান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিজ্ঞ পিপি সাহেব তো বিএনপির বড় নেতা। তিনিই বারবার আমাদের রিমান্ডে নিচ্ছেন। এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
রাষ্ট্রপক্ষ থেকে বলা হয়, “গণঅধিকার পরিষদের কর্মী সায়মনকে হত্যাচেষ্টা, রিটন হত্যা, রাসেল হত্যা—এসবই একই ধারাবাহিকতার অংশ। এরা কেবল রাজনীতিবিদ না, অপারেশন প্ল্যানেও যুক্ত ছিলেন।”
একইদিন, চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল সোহাইলকে ৩ দিনের, ঢাকা-৫ এর সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুকে পৃথক দুটি মামলায় ১ ও ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এছাড়া মোহাম্মদপুর থানা এবং পল্টন থানার পৃথক মামলায় আ কা ম সরওয়ার জাহান বাদশা এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী তাজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
সব মামলার মূল বিষয়বস্তু ঘুরে ফিরে একটাই—অরাজকতা করে পরিকল্পিত হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করতে পূর্বপরিকল্পিত হামলা ও সহিংসতা। অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে ও হামলা করে একাধিক ব্যক্তি নিহত হয়েছিলেন।
তথ্যসূত্রে জানা যায়, ২১ জুলাই কাজলা ফুটওভার ব্রিজের নিচে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সাজেদুর রহমান ওমর মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। ২৪ আগস্ট তিনি মারা যান। এই ঘটনায় ৮১ জনকে আসামি করে মামলা হয়, যেখানে প্রধান আসামি শেখ হাসিনা।
অন্যদিকে, ২৮ অক্টোবর পল্টনে গণঅধিকার পরিষদের সায়মনকে হত্যাচেষ্টার মামলায় শেখ হাসিনাসহ ২৪৫ জনকে আসামি করা হয়। রিটন ও রাসেল হত্যা মামলা নিয়েও আদালতে দীর্ঘ শুনানি হয়।
দলীয় কর্মীদের হত্যা বিষয়ে শাজাহান খান বলেন, “গণপিটুনির নামে মানুষ হত্যা কোনো সভ্য সমাজে চলতে পারে না। এসব ঘটনার বিচার করতে হবে। যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলের লোকজনকে টার্গেট করছে, তাদের রক্ষা হবে না।”
তিনি বলেন, “এটা রাজনৈতিক গণহত্যার নতুন রূপ। আমরা বিচার চাই, বিচার হবেই। জনগণও এসব হত্যার জবাব চায়।”
বিশৃঙ্খলা করে সারাদেশে যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শাজাহান খান। তার মতে, এটি এখন একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক অস্ত্র, যা জনগণের জানমালের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে ফেলছে। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই ধরনের মব জাস্টিস যারা করছে, তাদের বিচার হবে—এক মাঘে শীত যায় না, সেটাই হবে প্রমাণ।”
অভিযানে উদ্ধার ইয়াবা ট্যাবলেট
দেবীদ্বারে ইয়াবাসহ আটক মাদক কারবারি, আদালতে প্রেরণ
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলায় ইয়াবা বিক্রির সময় এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট ও মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩১ মে) ভোর রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার থানার এসআই বাধন দাসের নেতৃত্বে একটি দল উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের বরকামতা গ্রামে অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ওই গ্রামের মনোরঞ্জন সিংহের ছেলে দিপক সিংহ (৩৯)কে আটক করা হয়।
অভিযানকালে তার কাছ থেকে ১৬ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট এবং মাদক বিক্রির নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আটক দিপক সিংহ দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে রোববার বিকেলে তাকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কারাগারে পাঠানো হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে দিপক সিংহকে ইয়াবা ও মাদক বিক্রির টাকা সহ আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদকের বিস্তার রোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।”
সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল
দেবীদ্বারে ভাড়াটিয়া সেজে চুরির অভিযোগ, আদালতে পাঠানো হলো অভিযুক্তকে
ভাড়া নিয়ে বসবাস, সুযোগ বুঝে হাতিয়ে নিল ৪ লাখ টাকার মালামাল
কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের বেগমাবাদ গ্রামে ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বাড়িতে অবস্থান করে মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত কাঁসা, পিতল ও অ্যালুমিনিয়ামের মূল্যবান তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তি হলেন উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের ছংছাইল গ্রামের গৌরাঙ্গ সূত্রধরের ছেলে দিলিপ সূত্রধর (৩৭)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত দুর্গাপূজা উপলক্ষে দিলিপ সূত্রধরের সঙ্গে বেগমাবাদ গ্রামের বাসিন্দা রতন সাহার পরিচয় হয়। রতন সাহা মূলত কুমিল্লা শহরে বসবাস করলেও তার গ্রামের বাড়িটি অধিকাংশ সময় তালাবদ্ধ থাকে। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া তিনি সেখানে খুব কমই আসেন।
পরিচয়ের সূত্র ধরে দিলিপ সূত্রধর রতন সাহার কাছে নিজেকে ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া চান। তিনি জানান, জাফরগঞ্জ বাজারে কাঠের ব্যবসা পরিচালনার সুবিধার্থে ওই এলাকায় থাকার প্রয়োজন রয়েছে। বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে এবং ভাড়াও পাওয়া যাবে—এমন চিন্তা থেকে রতন সাহা তাকে একটি কক্ষ ভাড়া দেন।
কিন্তু সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে বাড়িতে এসে রতন সাহা দেখতে পান, তার ঘরে সংরক্ষিত কয়েক প্রজন্মের ব্যবহৃত পিতল, কাঁসা, অ্যালুমিনিয়ামের তৈজসপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী উধাও। তার দাবি, চুরি যাওয়া মালামালের আনুমানিক মূল্য চার লাখ টাকারও বেশি।
ঘটনার পর রতন সাহা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় দিলিপ সূত্রধরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ শনিবার (৩০ মে) দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে আটক করে।
রোববার (৩১ মে) দুপুরে তাকে কুমিল্লার আদালতে পাঠানো হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, “ভাড়াটিয়া পরিচয়ে বসবাস করে বাড়ির মালিকের অনুপস্থিতির সুযোগে পুরনো ঐতিহ্যবাহী কাঁসা ও পিতলের তৈজসপত্র চুরির অভিযোগে দিলিপ সূত্রধরকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের আবেদন করা হয়েছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
মহাসড়কে হঠাৎ শক্তি প্রদর্শন
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের বিশাল শোডাউন, চাঙ্গা তৃণমূল
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, পুলিশের উপস্থিতিতেই ছত্রভঙ্গ নেতাকর্মীরা
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার এলাকায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের আকস্মিক মিছিল ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার (৩১ মে) সকাল ৭টার দিকে অনুষ্ঠিত এ মিছিলে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন বলে দাবি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর থেকেই আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে জড়ো হতে শুরু করেন। পরে সকাল ৭টার দিকে নিমসার ও কোরপাই এলাকায় মিছিল বের করেন তারা। মিছিল চলাকালে বিভিন্ন স্লোগানও দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
আয়োজকদের দাবি, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক এহেতাসামুল হাসান রুমির পৃষ্ঠপোষকতায় বুড়িচং উপজেলা যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন মিছিলের আয়োজন করেন।
যুবলীগ নেতা জালাল উদ্দিন বলেন, “প্রায় এক হাজার নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার বাজারের পশ্চিম পাশে শান্তিপূর্ণ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।”
এদিকে মিছিলের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবু নাসের মুন্সী বলেন, “আওয়ামী লীগ গোপনে মিছিল করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন এবং উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রশাসন কেন কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি, সেটিও জানতে চাওয়া হবে।”
তবে পুলিশের বক্তব্যে ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. লুৎফুর রহমান বলেন, “কোরপাই এলাকায় কিছু লোকজন জড়ো হওয়ার চেষ্টা করেছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তারা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
মিছিলকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলেও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি নিয়ে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে।

















