শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

গণমিনারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা! ভাঙা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫, ১১:৪৪ পিএম
গণমিনারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা! ভাঙা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’

ঢাকার বিজয় সরণিতে ‘গণমিনার’ নির্মাণের নামে ভেঙে ফেলা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’—যা ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে গঠিত সাতটি ম্যুরাল দেয়াল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার পর এবার পুরো স্থাপনাটিই নিশ্চিহ্ন করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বিতর্কের মুখে এই স্থানেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে নতুন করে ‘গণমিনার’ নির্মাণের।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকে একে “ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা” বলে আখ্যা দেন। কেউ কেউ বলেন, “যাদের স্মৃতি মুছতে চায়, তারাই একদিন ইতিহাসে মুছে যাবে।”

গণমিনার
‘গণমিনার’ যদি ইতিহাস লুকায়, তবে সেটি কি সত্যিই জনতার মিনার হতে পারে? ছবি : সংগৃহিত।

‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। এতে বঙ্গবন্ধুর একটি বিশাল ভাস্কর্য ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অধ্যায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল দেয়ালচিত্রে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের দিন ওই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে জায়গাটি পরিত্যক্ত পড়ে ছিল।

এখন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে গণমিনার নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি জনগণের অর্থে তৈরি হবে, এবং ৫ আগস্টের মধ্যে একটি দৃশ্যমান রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা বিজয় সরণিকে কেন্দ্র করেই বড় পরিসরে পরিকল্পনা করছি, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।”
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জন। তাদের স্মরণেই এই গণমিনার নির্মিত হবে।”

এদিকে ২৫ জুন, ডিএনসিসির সপ্তম সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়—ভাঙা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর জায়গায় জুলাই শহীদদের স্মরণে উন্মুক্ত স্থান ও একটি ভাস্কর্য নির্মিত হবে। ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, “ইতিমধ্যে কনসেপ্ট প্রস্তুত। ১০-১২ দিনের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে।”

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—’গণমিনার’ নির্মাণের নামে বিজয় সরণির পূর্ববর্তী ইতিহাস মুছে ফেলার এই উদ্যোগ কি যথার্থ? মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ আর বঙ্গবন্ধুর প্রতীকী উপস্থিতিকে বাদ দিয়ে নির্মিত গণমিনার আদৌ গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে তো?

‘গণমিনার’ যদি ইতিহাস লুকায়, তবে সেটি কি সত্যিই জনতার মিনার হতে পারে?

এলাকার খবর

নোয়াখালীতে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, আদালতের নির্দেশে কারাগারে

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ এএম
নোয়াখালীতে মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে বাবা গ্রেপ্তার, আদালতের নির্দেশে কারাগারে

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলায় ১৮ বছর বয়সী মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেলে সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহিম সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে বুধবার বিকেলে উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়ন থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া (৫০)। তিনি উপজেলার ডমুরুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রায় দুই বছর ধরে মেয়েকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই পর্যন্ত একাধিকবার মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরে ভুক্তভোগী বিষয়টি তার চাচা ও জ্যাঠাদের জানালে গত ২৮ জুলাই রাতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্তকে বেত্রাঘাত, জুতার মালা পরানো এবং নাকে খত দেওয়ার মতো শাস্তি দেওয়া হয়।

সালিশের ঘটনা জানাজানি হলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

ওসি আব্দুর রহিম সরকার জানান, ভুক্তভোগী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় অভিযুক্তকে আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লা প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের রুল, জবাব দিতে নির্দেশ সংশ্লিষ্টদের

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৫ পিএম
কুমিল্লা প্রেসক্লাব নির্বাচন নিয়ে হাইকোর্টের রুল, জবাব দিতে নির্দেশ সংশ্লিষ্টদের

কুমিল্লা প্রেসক্লাবের ২০২৬-২০২৮ মেয়াদের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে সংশ্লিষ্টদের প্রতি রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে কুমিল্লা প্রেসক্লাবের প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আদালতে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিকেলে রিট আবেদনকারী সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মানছুর-এর পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আজকের কথাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

রিট আবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের বর্তমান কমিটি ত্রুটিপূর্ণ ও বিতর্কিত ভোটার তালিকার ভিত্তিতে গত ১৩ জুলাই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। পরে ২০ জুলাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ভোটার তালিকা সংশোধনের আবেদন ও আইনগত নোটিশ দেওয়া হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় ৩০ জুলাই নির্বাচন আয়োজনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়।

রিটে ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা সংশোধন, নতুন ও নির্ভুল ভোটার তালিকা প্রণয়ন, নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা এবং পুনর্নির্ধারিত তারিখে নির্বাচন আয়োজনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসান-এর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে রুল জারি করেন। একই সঙ্গে নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের আদালতে জবাব দিতে নির্দেশ দেন।

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান জানান, গত ২৯ জুলাই হাইকোর্টে রিটটি দাখিল করা হয়। এতে নির্বাচন পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিষ্ক্রিয়তাকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আদালতের পরবর্তী নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার কার্যক্রম চলবে।

‘খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিংয়ে হত্যা করা হয়েছে’—দেবীদ্বারে এমপি রাশেদা হীরা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬, ৭:৩৯ পিএম
‘খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিংয়ে হত্যা করা হয়েছে’—দেবীদ্বারে এমপি রাশেদা হীরা

দেবীদ্বারে বিএনপির মতবিনিময় সভা: খালেদা জিয়াকে নিয়ে মন্তব্য করলেন এমপি রাশেদা বেগম হীরা

কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা ও পৌর বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বিকেল ৪টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, “বেগম খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জনিংয়ের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। তাঁর শরীরে বিষ প্রবেশ করিয়ে লিভার নষ্ট করা হয়েছে।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না হয়ে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হচ্ছে। কমিউনিটি ক্লিনিকের অর্থ লুটপাটেরও অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দিয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে প্রতিটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে।

দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে রাশেদা বেগম হীরা বলেন, দলকে বিভক্ত না করে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন এবং বেগম খালেদা জিয়াও গণতন্ত্রের জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলাম-সংগ্রাম করেছেন। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নেতাকর্মীদের সক্রিয়ভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি আরও বলেন, “এখন আর ১০টা হোন্ডা, ২০টা গুন্ডার দিন নেই। কেউ আর জান্নাতের টিকিট বিক্রি করতে পারবে না। জান্নাতের টিকিট দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।”

দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসীম উদ্দিন-এর সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহমান-এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুফিয়া বেগম, গুলশান থানা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এম এ আউয়াল খান, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ এবং পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. শাহজাহান মোল্লাসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

×
CLOSE X