বুধবার, ১০ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গণমিনারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা! ভাঙা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫, ১১:৪৪ পিএম
গণমিনারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা! ভাঙা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ঢাকার বিজয় সরণিতে ‘গণমিনার’ নির্মাণের নামে ভেঙে ফেলা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’—যা ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে গঠিত সাতটি ম্যুরাল দেয়াল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার পর এবার পুরো স্থাপনাটিই নিশ্চিহ্ন করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বিতর্কের মুখে এই স্থানেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে নতুন করে ‘গণমিনার’ নির্মাণের।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকে একে “ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা” বলে আখ্যা দেন। কেউ কেউ বলেন, “যাদের স্মৃতি মুছতে চায়, তারাই একদিন ইতিহাসে মুছে যাবে।”

গণমিনার
‘গণমিনার’ যদি ইতিহাস লুকায়, তবে সেটি কি সত্যিই জনতার মিনার হতে পারে? ছবি : সংগৃহিত।

‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। এতে বঙ্গবন্ধুর একটি বিশাল ভাস্কর্য ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অধ্যায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল দেয়ালচিত্রে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের দিন ওই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে জায়গাটি পরিত্যক্ত পড়ে ছিল।

এখন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে গণমিনার নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি জনগণের অর্থে তৈরি হবে, এবং ৫ আগস্টের মধ্যে একটি দৃশ্যমান রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা বিজয় সরণিকে কেন্দ্র করেই বড় পরিসরে পরিকল্পনা করছি, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।”
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জন। তাদের স্মরণেই এই গণমিনার নির্মিত হবে।”

এদিকে ২৫ জুন, ডিএনসিসির সপ্তম সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়—ভাঙা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর জায়গায় জুলাই শহীদদের স্মরণে উন্মুক্ত স্থান ও একটি ভাস্কর্য নির্মিত হবে। ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, “ইতিমধ্যে কনসেপ্ট প্রস্তুত। ১০-১২ দিনের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে।”

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—’গণমিনার’ নির্মাণের নামে বিজয় সরণির পূর্ববর্তী ইতিহাস মুছে ফেলার এই উদ্যোগ কি যথার্থ? মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ আর বঙ্গবন্ধুর প্রতীকী উপস্থিতিকে বাদ দিয়ে নির্মিত গণমিনার আদৌ গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে তো?

‘গণমিনার’ যদি ইতিহাস লুকায়, তবে সেটি কি সত্যিই জনতার মিনার হতে পারে?

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

রিয়াদে দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:০০ পিএম
২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেমকে কৃতজ্ঞতা

২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দক্ষতা, সুশৃঙ্খল সমন্বয় ও সফল পরিচালনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সৌদি আরবের হজ ও উমরাহমন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল-রাবিয়াহ।

বুধবার সকালে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত ‘দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টার’-এ বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ প্রশংসা করেন।

বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসার দাবিদার। বিশেষ করে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবা, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

ড. আল-রাবিয়াহ ধর্মমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশি হাজিদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং সফল হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বৈঠকে আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব করার লক্ষ্যে সৌদি সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ তুলে ধরেন সৌদি মন্ত্রী। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) হজ ব্যবস্থাপনার অভূতপূর্ব আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্মার্ট ভিড় ব্যবস্থাপনা, পরিবহন সমন্বয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, মাশায়ের অঞ্চলে সেবার সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিশেষ প্রশংসা করেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের লাখো মুসল্লির নির্বিঘ্ন হজ পালন নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার যে আন্তরিকতা, দূরদর্শিতা ও ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে, তা মুসলিম বিশ্বের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র হজের সফল আয়োজন এবং হাজিদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিত করায় দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আল্লাহর মেহমানদের সেবায় সৌদি আরব যে ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।”

বৈঠকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

যৌতুক-চুরির মামলায় হাজত

একে অপরকে আসামি করে জেলে গেলেন স্বামী-স্ত্রী

ফাহিমা বেগম প্রিয়া, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১০:৪১ পিএম
একে অপরকে আসামি করে জেলে গেলেন স্বামী-স্ত্রী

ফেনীতে পাল্টাপাল্টি মামলায় স্বামী-স্ত্রী কারাগারে, আদালতের নির্দেশে দুজনই হাজতে

ফেনীতে একে অপরের বিরুদ্ধে দায়ের করা পৃথক মামলায় আদালতের নির্দেশে স্বামী ও স্ত্রীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে করা দুটি মামলার শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে উভয় পক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে ফেনীর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজ উদ্দিন এ আদেশ প্রদান করেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সোনাপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. সুমন ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে একই উপজেলার ভোয়াগ গ্রামের নাসিমা আক্তারকে বিয়ে করেন। বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে বিরোধ দেখা দেয়।

স্বামীর পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের প্রায় দুই মাস পর নাসিমা আক্তার পূর্বপরিচিত এক ব্যক্তির সহযোগিতায় বাড়ি থেকে ৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও নগদ ১ লাখ টাকা নিয়ে চলে যান। এ ঘটনায় সুমনের বাবা বাচ্চু মিয়া বাদী হয়ে নাসিমা আক্তারের বিরুদ্ধে আদালতে চুরির মামলা দায়ের করেন।

অন্যদিকে নাসিমা আক্তার অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে তাকে যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। এ অভিযোগে তিনি তার স্বামী মো. সুমন এবং শ্বশুর-শাশুড়ির বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন।

বুধবার আদালতে উভয় মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। শুনানি শেষে স্ত্রীর দায়ের করা যৌতুক মামলায় স্বামী মো. সুমনকে এবং স্বামীর পরিবারের দায়ের করা চুরির মামলায় স্ত্রী নাসিমা আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।

এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের এ আদেশের ফলে একই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই পৃথক মামলায় কারাগারে যেতে হয়েছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

ধাওয়া খেয়ে থানায় আশ্রয়

‘পুলিশ হত্যা করেছি’ বলে আলোচনায় আসা সেই মাহদী এবার আশ্রয় নিলেন পুলিশের কাছেই

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ৮:৩২ পিএম
‘পুলিশ হত্যা করেছি’ বলে আলোচনায় আসা সেই মাহদী এবার আশ্রয় নিলেন পুলিশের কাছেই

‘পুলিশ হত্যা করেছি’ বলে আলোচনায় আসা সেই মাহদী এবার আশ্রয় নিলেন থানায়

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্যসচিব মাহদী হাসান আবারও আলোচনায়। বিভিন্ন সময় বিতর্কিত বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচিত এই ছাত্রনেতা এবার নিজের নিরাপত্তার দাবি তুলে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন।

বুধবার (১০ জুন) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের পুরাতন হাসপাতাল সড়ক এলাকায় একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় থাকা অবস্থায় ফেসবুক লাইভে এসে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে ধাওয়া করে হামলার চেষ্টা করছেন। পরে তিনি সরাসরি হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় প্রবেশ করেন।

লাইভ ভিডিওতে মাহদী অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের জেরে একটি পক্ষ তার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে এবং তাকে অনুসরণ করে হামলার পরিকল্পনা করছে। এ কারণে তিনি নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় আশ্রয় নিয়েছেন বলে জানান।

তবে মাহদীর এই অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। সংগঠনটির নেতারা দাবি করেছেন, ফেসবুক লাইভে তার অভিযোগের পক্ষে কোনো দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিওতে মাহদীর আশপাশে কাউকে তাড়া করতে বা ধাওয়া দিতে দেখা যায়নি বলেও তারা উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, “মাহদী হাসানের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তার লাইভ ভিডিও পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যায়, সেখানে কোনো ধাওয়া বা হামলার চিত্র নেই। ছাত্রদলকে বিতর্কিত করতেই এ ধরনের অভিযোগ আনা হয়েছে।”

ঘটনার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাশেদুল হক খান বলেন, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে পুলিশের একটি জরুরি বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় তথ্য জানানো হবে।

উল্লেখ্য, মাহদী হাসান এর আগেও একাধিক ঘটনায় আলোচনায় ও সমালোচনায় এসেছেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া একটি ফেসবুক লাইভ এবং বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।

এছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ এবং বানিয়াচং থানার এক উপপরিদর্শকের বিরুদ্ধে হুমকিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনায় সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।

সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরেও হবিগঞ্জের রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে, আবার মাহদীর নিরাপত্তা শঙ্কার বিষয়টিও তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ঘটনাটির প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×