রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

গণমিনারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা! ভাঙা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫, ১১:৪৪ পিএম
গণমিনারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা! ভাঙা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ঢাকার বিজয় সরণিতে ‘গণমিনার’ নির্মাণের নামে ভেঙে ফেলা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’—যা ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে গঠিত সাতটি ম্যুরাল দেয়াল।
  • আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার পর এবার পুরো স্থাপনাটিই নিশ্চিহ্ন করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
  • বিতর্কের মুখে এই স্থানেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে নতুন করে ‘গণমিনার’ নির্মাণের।

ঢাকার বিজয় সরণিতে ‘গণমিনার’ নির্মাণের নামে ভেঙে ফেলা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’—যা ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে গঠিত সাতটি ম্যুরাল দেয়াল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার পর এবার পুরো স্থাপনাটিই নিশ্চিহ্ন করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বিতর্কের মুখে এই স্থানেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে নতুন করে ‘গণমিনার’ নির্মাণের।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকে একে “ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা” বলে আখ্যা দেন। কেউ কেউ বলেন, “যাদের স্মৃতি মুছতে চায়, তারাই একদিন ইতিহাসে মুছে যাবে।”

গণমিনার
‘গণমিনার’ যদি ইতিহাস লুকায়, তবে সেটি কি সত্যিই জনতার মিনার হতে পারে? ছবি : সংগৃহিত।

‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। এতে বঙ্গবন্ধুর একটি বিশাল ভাস্কর্য ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অধ্যায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল দেয়ালচিত্রে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের দিন ওই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে জায়গাটি পরিত্যক্ত পড়ে ছিল।

এখন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে গণমিনার নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি জনগণের অর্থে তৈরি হবে, এবং ৫ আগস্টের মধ্যে একটি দৃশ্যমান রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা বিজয় সরণিকে কেন্দ্র করেই বড় পরিসরে পরিকল্পনা করছি, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।”
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জন। তাদের স্মরণেই এই গণমিনার নির্মিত হবে।”

এদিকে ২৫ জুন, ডিএনসিসির সপ্তম সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়—ভাঙা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর জায়গায় জুলাই শহীদদের স্মরণে উন্মুক্ত স্থান ও একটি ভাস্কর্য নির্মিত হবে। ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, “ইতিমধ্যে কনসেপ্ট প্রস্তুত। ১০-১২ দিনের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে।”

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—’গণমিনার’ নির্মাণের নামে বিজয় সরণির পূর্ববর্তী ইতিহাস মুছে ফেলার এই উদ্যোগ কি যথার্থ? মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ আর বঙ্গবন্ধুর প্রতীকী উপস্থিতিকে বাদ দিয়ে নির্মিত গণমিনার আদৌ গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে তো?

‘গণমিনার’ যদি ইতিহাস লুকায়, তবে সেটি কি সত্যিই জনতার মিনার হতে পারে?

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

তিনজনের কারও নেই পুলিশ রেকর্ড

অপ্রতিম হত্যা: আটক আনাসকে ছেড়ে দিল এসআরবি

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
অপ্রতিম হত্যা: আটক আনাসকে ছেড়ে দিল এসআরবি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার ঘটনায় আটক শাহরিয়া আনাসকে ছেড়ে দিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) আনাসকে আটক করে হেফাজতে নেয় এসআরবি। তবে অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাহিনীটি। পরে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

দৈনিক আজকের কথা
আটক হওয়া অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে আনাসের যোগাযোগের একটা তথ্য ছিল আমাদের কাছে। সেজন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তেমন কিছু পাওয়া যায়নি। তাই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে ডাকা হতে পারে।
— মেজর সাদমান ইবনে আলম
অধিনায়ক, এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২

এসআরবি-১১-এর সিপিসি-২ অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, আটক অন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে আনাসের যোগাযোগের একটি তথ্য তাদের কাছে ছিল। এ কারণে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আবারও ডাকা হতে পারে।

আনাস আটক হওয়ার পর তার একটি ফেসবুক পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই পোস্টে তিনি কিশোর অপ্রতিমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন।

এর আগে পুলিশের সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকরা আনাসকে আটকের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পুলিশ তাকে আটক করেনি। পরে জানা যায়, এসআরবি তাকে হেফাজতে নিয়েছিল এবং রোববার সকালে ছেড়ে দিয়েছে।

এদিকে শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা গ্রামের লালমাই পাহাড়ের একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

দৈনিক আজকের কথা
আমার ছেলে কী অন্যায় করেছে? আমি এর উত্তর চাই। আমার একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে আমরা কীভাবে বাঁচব? কেমনে আমার জীবন কাটাবো—কীভাবে এই ছেলেকে ছাড়া বাঁচব?
— ড. নাহিদা বেগম
সহযোগী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়; নিহত ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মা।

এর আগের দিন শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে কোটবাড়ি এলাকার ভাড়া বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় অপ্রতিম। সে কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপ্রতিমের সঙ্গে ঘোরাফেরা করা প্রথম সন্দেহভাজন সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে আটক করা হয়।

তুহিন আটকের পর সদর সার্কেল পুলিশের এএসপি মুস্তাইন বিল্লাহও জানিয়েছিলেন, আনাস হেফাজতে রয়েছেন।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতিম হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন—কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার সাইফুল ইসলাম ওরফে তুহিন (১৯), সালমানপুর এলাকার ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর এবং কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার হাতিগাড়া এলাকার ১৬ বছর বয়সী আরেক কিশোর।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিনজনের কারও বিরুদ্ধে এর আগে কোনো পুলিশ রেকর্ড (পিসিপিআর) নেই।

রহস্য ঘনীভূত

জামায়াত এমপির সঙ্গে হোটেলকাণ্ডে আলোচিত মরিয়ম, এবার লাশ পাওয়া গেল ন্যাম ভবনে

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:০২ পিএম
জামায়াত এমপির সঙ্গে হোটেলকাণ্ডে আলোচিত মরিয়ম, এবার লাশ পাওয়া গেল ন্যাম ভবনে

ন্যাম ভবনে এমপি নজরুলের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ

রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত ৭টার দিকে খবর পেয়ে ন্যাম ভবনে যায় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পরে ভবনের একটি কক্ষে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ দেখতে পায় পুলিশ।

মরিয়ম খাতুনকে এর আগে একটি হোটেলকেন্দ্রিক ভিডিওকাণ্ড ঘিরে আলোচনায় আসা সংসদ সদস্য জিএম নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে। তবে তার মৃত্যুর কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দৈনিক আজকের কথা
খবর পেয়ে আমিসহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসেছি। ভবনের একটি রুমের জানালা দিয়ে মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা গেছে। পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। এরপর থানা পুলিশ রুমে প্রবেশ করবে। তবে কখন তিনি আত্মহত্যা করেছেন, এ বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
— ইবনে মিজান
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), তেজগাঁও বিভাগ, ডিএমপি

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, খবর পেয়ে তিনি ও থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গেছেন। ভবনের একটি কক্ষের জানালা দিয়ে মরদেহটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।

তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পিবিআই ও সিআইডির ফরেনসিক দলকে ডাকা হয়েছে। তাদের উপস্থিতিতে পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

মরিয়ম খাতুন কখন মারা গেছেন এবং মৃত্যুর পেছনে কী কারণ রয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন পুলিশ কর্মকর্তা।

পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যেতে পারে।

দেবীদ্বারে হত্যা-নাশকতা মামলায় ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম
দেবীদ্বারে হত্যা-নাশকতা মামলায় ছাত্রলীগের দুই নেতা গ্রেপ্তার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে হত্যা ও সন্ত্রাসবিরোধী নাশকতা মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে দেবীদ্বার থানা পুলিশ। গ্রেপ্তার দুজনের মধ্যে একজন সাব্বির হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি এবং অপরজন সন্ত্রাসবিরোধী নাশকতা মামলার আসামি।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে পৃথক স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—দেবীদ্বার উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক ও এলাহাবাদ গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে মো. আল-আমিন অভি (২৯) এবং দেবীদ্বার বরকামতা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি ও একই ইউনিয়নের বাগুর গ্রামের বাবুল সরকারের ছেলে মো. আশরাফুল সরকার রাতুল (২০)।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আমিনুল ইসলাম সাব্বিরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে পিটিয়ে আহত করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার আল-আমিন অভি এজাহারভুক্ত ৪৪ নম্বর আসামি।

দৈনিক আজকের কথা
সাব্বির হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি ছাত্রলীগ নেতা আল-আমিন অভি এবং নাশকতা মামলার আসামি আশরাফুল সরকার রাতুলকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
— মো. মনিরুজ্জামান
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দেবীদ্বার থানা।

মামলা দায়েরের পর থেকেই অভি পলাতক ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। এছাড়া সম্প্রতি ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুবলীগের ঝটিকা মিছিলের ঘটনায় মুরাদনগর থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী মামলায়ও তিনি এজাহারনামীয় ১৯ নম্বর আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অন্যদিকে, দেবীদ্বার থানাধীন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের খাদঘর এলাকায় ছাত্রলীগের প্ল্যাকার্ড হাতে সরকারবিরোধী মিছিল এবং নাশকতার প্রস্তুতির ঘটনায় তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশরাফুল সরকার রাতুলকে সন্ত্রাসবিরোধী নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

×
ENG