বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

গণমিনারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা! ভাঙা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫, ১১:৪৪ পিএম
গণমিনারের নামে ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা! ভাঙা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ঢাকার বিজয় সরণিতে ‘গণমিনার’ নির্মাণের নামে ভেঙে ফেলা হলো ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’—যা ছিল বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণে গঠিত সাতটি ম্যুরাল দেয়াল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার পর এবার পুরো স্থাপনাটিই নিশ্চিহ্ন করল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। বিতর্কের মুখে এই স্থানেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে নতুন করে ‘গণমিনার’ নির্মাণের।

শুক্রবার (২৭ জুন) সকাল থেকেই ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ভাঙার কাজ শুরু হয়। এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অনেকে একে “ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা” বলে আখ্যা দেন। কেউ কেউ বলেন, “যাদের স্মৃতি মুছতে চায়, তারাই একদিন ইতিহাসে মুছে যাবে।”

গণমিনার
‘গণমিনার’ যদি ইতিহাস লুকায়, তবে সেটি কি সত্যিই জনতার মিনার হতে পারে? ছবি : সংগৃহিত।

‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’ উদ্বোধন করা হয়েছিল ২০২৩ সালের ১০ নভেম্বর, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে। এতে বঙ্গবন্ধুর একটি বিশাল ভাস্কর্য ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন অধ্যায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল দেয়ালচিত্রে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের দিন ওই ভাস্কর্যটি ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে জায়গাটি পরিত্যক্ত পড়ে ছিল।

এখন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান’-এর স্মৃতিকে চিরস্মরণীয় করতে গণমিনার নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ২০ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে ‘গণমিনার বাস্তবায়ন কমিটি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, এটি জনগণের অর্থে তৈরি হবে, এবং ৫ আগস্টের মধ্যে একটি দৃশ্যমান রূপ দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

কমিটির সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খোরশেদ আলম বলেন, “আমরা বিজয় সরণিকে কেন্দ্র করেই বড় পরিসরে পরিকল্পনা করছি, যা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হবে।”
বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, “জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন ১ হাজার ৪০০ জন। তাদের স্মরণেই এই গণমিনার নির্মিত হবে।”

এদিকে ২৫ জুন, ডিএনসিসির সপ্তম সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়—ভাঙা ‘মৃত্যুঞ্জয়ী প্রাঙ্গণ’-এর জায়গায় জুলাই শহীদদের স্মরণে উন্মুক্ত স্থান ও একটি ভাস্কর্য নির্মিত হবে। ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেন জানান, “ইতিমধ্যে কনসেপ্ট প্রস্তুত। ১০-১২ দিনের মধ্যে বিস্তারিত জানানো হবে।”

তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—’গণমিনার’ নির্মাণের নামে বিজয় সরণির পূর্ববর্তী ইতিহাস মুছে ফেলার এই উদ্যোগ কি যথার্থ? মুক্তিযুদ্ধের আত্মত্যাগ আর বঙ্গবন্ধুর প্রতীকী উপস্থিতিকে বাদ দিয়ে নির্মিত গণমিনার আদৌ গণমানুষের প্রতিনিধিত্ব করবে তো?

‘গণমিনার’ যদি ইতিহাস লুকায়, তবে সেটি কি সত্যিই জনতার মিনার হতে পারে?

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি

‘সময় হলে দেশের মানুষের কাছেই ফিরবো’—নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বার্তা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫ এএম
‘সময় হলে দেশের মানুষের কাছেই ফিরবো’—নয়াদিল্লি থেকে শেখ হাসিনার বার্তা

‘পদত্যাগের সুযোগ পাইনি, টুঙ্গিপাড়ায় যেতে চেয়েছিলাম’ : নয়াদিল্লিতে শেখ হাসিনা

ভারতের প্রভাবশালী বাংলা সংবাদমাধ্যম এই সময়-কে দেওয়া এক দীর্ঘ একান্ত সাক্ষাৎকারে গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নয়াদিল্লি থেকে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, আকস্মিক উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ পাননি এবং তাঁর পরিকল্পনা ছিল গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাওয়ার।

সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ৫ আগস্ট গণভবন ছাড়ার সময় তিনি জানতেন না যে দেশত্যাগ করতে হবে। তাঁর ভাষায়, “আমাকে পদত্যাগ করার সময় দেওয়া হয়নি। আমি ভেবেছিলাম টুঙ্গিপাড়ায় চলে যাব, কিন্তু পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যায়।”

তিনি আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার সুযোগও তিনি পাননি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সময়ের স্বল্পতার কারণে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

শেখ হাসিনার ভাষ্যমতে, গণভবনের দিকে মিছিল এগিয়ে আসার সময় তাঁর হাতে মাত্র ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় ছিল। তিনি বলেন, “আমার কাছে কোনো প্রস্তুত পদত্যাগপত্র ছিল না। আমি কোনো কাগজে স্বাক্ষরও করিনি।”

সাক্ষাৎকারে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন একটি পরিকল্পিত ‘রেজিম চেঞ্জ’-এর অংশ। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি একটি শক্তি দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে ক্ষমতার পরিবর্তনে ভূমিকা রেখেছে।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, “আমি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস করিনি। সেন্ট মার্টিন লিজ দেওয়ার বিষয়ে রাজি না হওয়ায় আমাকে নানা চাপের মুখে পড়তে হয়েছে।”

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ ও নিজের রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একসময় সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার কথা ভাবলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছেন। দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে চলমান মামলা ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “আমি আমার কর্মীদের ফেলে বিশ্রামে যেতে পারি না। সময় হলে দেশের মানুষের কাছে অবশ্যই ফিরে যাব।”

সাক্ষাৎকারে ৫ আগস্ট গণভবনে সংঘটিত ঘটনাকে শেখ হাসিনা তাঁর ও বোন শেখ রেহানার জীবনের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি দাবি করেন, ওইদিনের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ এবং সেটিকে তিনি হত্যাচেষ্টার অংশ হিসেবেই দেখেন।

ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের অবসর সংক্রান্ত পূর্ববর্তী বক্তব্যের প্রসঙ্গেও কথা বলেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন মন্তব্য করা হলেও বর্তমান বাস্তবতায় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর দেশ ছেড়ে ভারতে অবস্থান নেওয়ার পর এটাই শেখ হাসিনার সবচেয়ে বিস্তারিত ও বিস্তৃত সাক্ষাৎকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তাঁর সাম্প্রতিক এই বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

‘আমি কোনো ভিসা এজেন্ট নই’

ভিসা প্রসেসিং নয়, তথ্যভিত্তিক সচেতনতাই লক্ষ্য: সমালোচকদের জবাব দিলেন সাংবাদিক লাকমিনা জেসমিন সোমা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:৫৫ পিএম
ভিসা প্রসেসিং নয়, তথ্যভিত্তিক সচেতনতাই লক্ষ্য: সমালোচকদের জবাব দিলেন সাংবাদিক লাকমিনা জেসমিন সোমা

প্রবাস ও অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নির্মাতা এবং অভিজ্ঞ সাংবাদিক লাকমিনা জেসমিন সোমা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ঘিরে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। বুধবার নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি জানান, তিনি কখনোই ভিসা প্রসেসিং, ফাইল পরিচালনা কিংবা কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “আপনারা কি কখনো আমার কোনো ভিডিও, পোস্ট বা ছবিতে দেখেছেন যে আমি ভিসা বা ফাইল প্রসেস করি?” তিনি দাবি করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার জনপ্রিয়তা এবং তথ্যভিত্তিক কনটেন্টের কারণে বিরূপ মনোভাব পোষণ করছে।

লাকমিনা জেসমিন সোমা তার ফেসবুক পোস্টে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তিনি কখনোই ভিসা প্রসেসিং, ফাইল ম্যানেজমেন্ট বা কোনো ধরনের ভিসা ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নন। বরং তিনি নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনলাইন গবেষণার ভিত্তিতে প্রবাস ও অভিবাসন বিষয়ক তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট তৈরি করেন। তার দাবি, সঠিক তথ্য প্রচারের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে, কারণ এতে সাধারণ মানুষ আর সহজে প্রতারিত হচ্ছে না। তিনি সবাইকে আহ্বান জানিয়েছেন যেন তার নাম ব্যবহার করে ছড়ানো ভুয়া তথ্য ও প্রতারণামূলক পেজ সম্পর্কে সতর্ক থাকে এবং প্রয়োজনে এর প্রতিবাদ করে।

সোমার ভাষ্য অনুযায়ী, এক শ্রেণির ব্যক্তি তার কনটেন্টের ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত, অন্যদিকে আরেক শ্রেণির মানুষ সঠিক তথ্য প্রচারের কারণে ক্ষুব্ধ। কারণ সচেতনতা বাড়লে সাধারণ মানুষ সহজে প্রতারিত হন না এবং নানা বিষয়ে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেন।

তিনি আরও বলেন, আগে অনেকেই ভুল তথ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতে পারতেন। কিন্তু বর্তমানে মানুষ আগের চেয়ে বেশি সচেতন হওয়ায় এসব অসাধু চক্রের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিভিন্নভাবে তাকে নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

পোস্টে লাকমিনা জেসমিন সোমা অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কোথাও তার বিরুদ্ধে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হলে নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে তার প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ করা উচিত। তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তির বিভ্রান্তিকর পোস্টের বিরুদ্ধে তার অনুসারীরা শক্ত অবস্থান নিয়েছেন, যা তাকে অনুপ্রাণিত করেছে।

নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি কোনো আইনগত পরামর্শদাতা নই। আমি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এবং অনলাইন গবেষণার ভিত্তিতে তথ্য শেয়ার করি। আমি কোনো ভিসা এজেন্ট, রিক্রুটমেন্ট এজেন্সি বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি নই এবং আমার নিজস্ব কোনো ভিসা ব্যবসাও নেই।”

তিনি আরও জানান, তিনি কোনো ফোন নম্বর প্রকাশ করেন না এবং তার নাম ব্যবহার করে তৈরি হওয়া ভুয়া পেজ বা চ্যানেল সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। কোনো প্রতারকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার দায় তিনি নেবেন না বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।

লাকমিনা জেসমিন সোমা বাংলাদেশের একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। ২০১০ সালে জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে সাংবাদিকতা পেশায় যাত্রা শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করে পেশাগত দক্ষতা, তথ্যনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতার মাধ্যমে নিজস্ব অবস্থান তৈরি করেন।

বর্তমানে তিনি ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করে প্রবাসীদের জীবনযাপন, কর্মসংস্থান, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং বিদেশে বসবাসের বাস্তব অভিজ্ঞতা নিয়ে নিয়মিত ভিডিও ও তথ্যবহুল কনটেন্ট প্রকাশ করছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার কনটেন্ট বিপুল দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং অনেক প্রবাসপ্রত্যাশী তার তথ্য থেকে উপকৃত হচ্ছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ভিসা ও অভিবাসন সংক্রান্ত বিষয়ে অনলাইনে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়ার এই সময়ে তথ্যভিত্তিক ও সচেতনতামূলক কনটেন্ট সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কারণেই লাকমিনা জেসমিন সোমার মতো কনটেন্ট নির্মাতাদের প্রতি মানুষের আগ্রহ ও আস্থা দিন দিন বাড়ছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

রিয়াদে দ্বিপাক্ষিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬, ১১:০০ পিএম
২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা সৌদি হজমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দুই পবিত্র মসজিদের খাদেমকে কৃতজ্ঞতা

২০২৬ সালের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের দক্ষতা, সুশৃঙ্খল সমন্বয় ও সফল পরিচালনার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন সৌদি আরবের হজ ও উমরাহমন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল-রাবিয়াহ।

বুধবার সকালে সৌদি আরবের রিয়াদে অবস্থিত ‘দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টার’-এ বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে তিনি এ প্রশংসা করেন।

বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ যে দক্ষতা, দায়িত্বশীলতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছে, তা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রশংসার দাবিদার। বিশেষ করে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের সেবা, নিরাপত্তা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কার্যকর সমন্বয় অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে।

ড. আল-রাবিয়াহ ধর্মমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশি হাজিদের জন্য সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ধর্মমন্ত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন এবং সফল হজ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন।

বৈঠকে আগামী বছরের হজ ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব করার লক্ষ্যে সৌদি সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা ও উদ্যোগ তুলে ধরেন সৌদি মন্ত্রী। পাশাপাশি হজ ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) হজ ব্যবস্থাপনার অভূতপূর্ব আধুনিকায়ন ও সেবার মানোন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি হজযাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, স্মার্ট ভিড় ব্যবস্থাপনা, পরিবহন সমন্বয়, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার, মাশায়ের অঞ্চলে সেবার সম্প্রসারণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিশেষ প্রশংসা করেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের লাখো মুসল্লির নির্বিঘ্ন হজ পালন নিশ্চিত করতে সৌদি সরকার যে আন্তরিকতা, দূরদর্শিতা ও ব্যাপক বিনিয়োগ করেছে, তা মুসলিম বিশ্বের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পবিত্র হজের সফল আয়োজন এবং হাজিদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ইবাদত নিশ্চিত করায় দুই পবিত্র মসজিদের খাদেম বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ, সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

ধর্মমন্ত্রী বলেন, “আল্লাহর মেহমানদের সেবায় সৌদি আরব যে ব্যতিক্রমী নেতৃত্ব ও আন্তরিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। হজ ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিক উন্নয়ন এবং মুসলিম উম্মাহর কল্যাণে বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।”

বৈঠকে সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলাম এবং দুই দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×