রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

স্বর্গের ছোঁয়া কুমিল্লার ডালপা বিল: বর্ষায় সৌন্দর্যে ভাসছে প্রকৃতি

Mohammad Shariful Alam Chowdhury প্রকাশিত: বুধবার, ২ জুলাই, ২০২৫, ২:২২ পিএম
স্বর্গের ছোঁয়া কুমিল্লার ডালপা বিল: বর্ষায় সৌন্দর্যে ভাসছে প্রকৃতি

Oplus_16777216

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ডালপা বিল—কুমিল্লার মুরাদনগরের এক অনন্য প্রাকৃতিক রত্ন। বর্ষা এলেই এই বিল পানিতে থইথই করে, চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে সবুজ ও শান্তির এক অপরূপ পরিবেশ। এই সময়টায় ডালপা বিলে প্রতিদিন হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণা ঘটে, যারা প্রকৃতির কোলে কিছুটা প্রশান্তি খুঁজতে আসেন।

ডালপা বিল কোথায় এবং কেন এত জনপ্রিয়?

কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর উপজেলার আন্দিকোট ইউনিয়নের ডালপা গ্রাম ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মকিমপুর এলাকার সংযোগস্থলে অবস্থিত এই বিল। হাওরের মতো বিশাল আয়তনের বিলটি আষাঢ়-শ্রাবণ-ভাদ্রে পরিপূর্ণ থাকে জলে, আর শুষ্ক মৌসুমে রূপ নেয় সবুজ ফসলের রাজ্যে।

ডালপা বিল
স্বর্গের ছোঁয়া কুমিল্লার ডালপা বিল: বর্ষায় সৌন্দর্যে ভাসছে প্রকৃতি। ছবি : দৈনিক আজকের কথা।

পর্যটকদের আকর্ষণ কী?

  • সবুজ পথের ভেতর দিয়ে পানির মাঝে হাঁটার অভিজ্ঞতা
  • পানিতে প্রতিফলিত মেঘ, পাখির ছায়া আর সন্ধ্যার আলো
  • নৌকা ভ্রমণ ও বিল ভ্রমণের সুযোগ
  • স্থানীয় দোকানে মুখরোচক খাবার
  • বিলের মাঝখানে ফ্লোটিং রেস্টুরেন্ট তৈরির পরিকল্পনা

কী বলছেন স্থানীয়রা ও প্রশাসন?
ডালপা বিলে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, কর্মসংস্থানের সুযোগ পেয়েছেন অনেকেই।

সমিতির সভাপতি আবুল কালাম জানান, প্রতিদিন ৮-১০ হাজার দর্শনার্থী আসছেন এই বিলে। সাবেক সভাপতি স্বপন মিয়া জানিয়েছেন, শিগগিরই বিলের মধ্যে ফ্লোটিং রেস্টুরেন্ট চালু হবে, যেখানে থাকবে বাংলা ও চাইনিজ খাবার।

ডালপা বিল
স্বর্গের ছোঁয়া কুমিল্লার মুরাদনগর, বর্ষায় সৌন্দর্যে ভাসছে প্রকৃতি। ছবি : দৈনিক আজকের কথা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুর রহমান বলেন, “পর্যটন সুবিধা বাড়াতে তথ্য সংগ্রহ করে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

পর্যটকদের অভিমত-

দেবীদ্বার থেকে আসা মো. আল আমিন বলেন—
“আমি বিশ্বাস করতে পারছিলাম না কুমিল্লাতেই এমন সুন্দর বিল আছে। দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছিল, যেন স্বর্গে এসে পড়েছি।”

ডালপা বিল
স্বর্গের ছোঁয়া কুমিল্লার টাঙ্গুয়ার বিল: বর্ষায় সৌন্দর্যে ভাসছে প্রকৃতি। ছবি : দৈনিক আজকের কথা।

এ বিল হতে পারে কুমিল্লার বড় পর্যটন কেন্দ্র
ডালপা বিলের এই প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, দর্শনার্থীদের ভিড় এবং স্থানীয় উদ্যোগ প্রমাণ করে, এটি শুধু মুরাদনগরের নয়—পুরো কুমিল্লার সম্ভাবনাময় একটি পর্যটন স্পট। উপযুক্ত সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা পেলে ডালপা বিল হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় ভ্রমণ কেন্দ্র।

পর্যটকদের আনন্দ ও কর্মসংস্থান

প্রতিদিন প্রায় ৮-১০ হাজার দর্শনার্থী ভিড় জমাচ্ছেন এই বিলে। মাঝখানে গড়ে উঠেছে দোকানপাট, নৌকাভ্রমণের ব্যবস্থা আর স্থানীয় তরুণদের নিরাপত্তা টিম—সব মিলিয়ে জমে উঠেছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ। দর্শনার্থীরা বলছেন, কুমিল্লায় এমন নয়নাভিরাম বিল আর দ্বিতীয়টি নেই।

মুরাদনগরের আরো একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান নিয়ে জানতে পড়তে পারেন এ প্রতিবেদনটি-

তিন জেলার তিন দিকে, এক সেতু! তিতাসের বুকে জেগে ওঠা বিস্ময় ‘ওয়াই সেতু’ এখন পর্যটকের পছন্দের শীর্ষে

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

মুরাদনগরের ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী

‘মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে’

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ১০ মে, ২০২৬, ২:৫৩ এএম
‘মাদকমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চলবে’

মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়ে মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেছেন, তিনি এ থানায় দায়িত্বে থাকা পর্যন্ত কোনো মাদকসেবী কিংবা মাদক কারবারিকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে।

শনিবার বিকেলে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাখরাবাদ এলাকায় মাদক, সন্ত্রাস, ইভটিজিং, চাঁদাবাজি, অনলাইন জুয়া ও বিভিন্ন অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত জনসচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাদকবিরোধী অভিযান প্রসঙ্গে ওসি আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, মুরাদনগরকে মাদকমুক্ত করতে মাননীয় ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। সেই নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, মাদক সমাজের জন্য ভয়াবহ অভিশাপ। এটি শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, পুরো পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক নির্মূলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে।

মাদকমুক্ত করতে স্থানীয়দের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে পুলিশের কাছে তথ্য দিতে হবে। জনগণ ও পুলিশ একসঙ্গে কাজ করলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

বাখরাবাদ বাজারে ৮ নম্বর বিট পুলিশিং ও জাহাপুর ইউনিয়নের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জাহাপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ তৌফিক আহমেদ মীর। সভা পরিচালনা করেন আজিজুর রহমান মমিন।

সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইউপি সদস্য মো. বাহার উদ্দিন, বাদল ডাক্তার, খলিল মেম্বার, আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বক্তারা বলেন, বর্তমান যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে রক্ষা করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তরুণদের সচেতন করে আগামী প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে হবে।

তারা আরও বলেন, বাখরাবাদ এলাকাকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি। এজন্য সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রশাসন ও জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন এসআই সুলতান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হাজী মো. দেলোয়ার হোসেন চিশতী, সাবেক মেম্বার আলী নেওয়াজ, মোশারফ হোসেন, মোফাজ্জল হোসেন সরকার, মিলন মেম্বার, দানু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি ও যুবসমাজ।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণ সহায়তার ঘোষণা

হাওরে নেমে কৃষকদের পাশে কৃষিমন্ত্রী, ফসল হারানোর কষ্টের কথা বললেন হাজী ইয়াছিন

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:২২ পিএম
হাওরে নেমে কৃষকদের পাশে কৃষিমন্ত্রী, ফসল হারানোর কষ্টের কথা বললেন হাজী ইয়াছিন

হাওর পরিদর্শন করতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরের মেদির হাওরে গিয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, কৃষকের কষ্টের ফসল হারানোর বেদনা অনেক বড়। দেশের ৭৫ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত, তাই কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওর পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। এসময় স্থানীয় সংসদ সদস্য এম এ হান্নান, জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইমরান হোসাইনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

হাওর পরিদর্শন শেষে কৃষিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকার কৃষকদের মনেপ্রাণে বিশ্বাস করে এবং কৃষকের উন্নয়নে বহুমাত্রিক পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকরা যেন তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য পান, সেজন্য সরকার কাজ করছে।

কৃষকদের কাছ থেকে ভেজা ধান সংগ্রহের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহের কোটা নির্ধারণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনা হবে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষকরা ন্যায্য দাম পাবেন।

হাওর পরিদর্শন চলাকালে তিনি কিশোরগঞ্জের অল ওয়েদার রোড নিয়েও কথা বলেন। তিনি জানান, সড়কটির কারণে পানি প্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি হচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে কয়েকদিনের অনুকূল আবহাওয়া ও ভারি বৃষ্টিপাত না থাকায় মেদির হাওরসহ আশপাশের বিভিন্ন হাওরের পানি কিছুটা কমেছে। পানির নিচে তলিয়ে থাকা অনেক ধানি জমি এখন দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে কৃষকদের মাঝে।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘসময় পানির নিচে থাকায় অধিকাংশ ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কাটার পর ধান শুকানোর সুযোগ মিললেও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি বলে দাবি তাদের। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই হাজার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।

হাওর পরিদর্শন শেষে বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনের কথা রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

চলতি মৌসুমে নাসিরনগর হাওরে প্রায় ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, আকস্মিক ঢলের পানিতে অন্তত ৩০৫ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৩ কোটি টাকা। তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও বেশি।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

মা-ছেলেসহ তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার

কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, গোপালগঞ্জে শোকের মাতম

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:১৬ পিএম
কাপাসিয়ায় একই পরিবারের ৫ জনকে গলা কেটে হত্যা, গোপালগঞ্জে শোকের মাতম

কাপাসিয়ায় হত্যার ঘটনায় তোলপাড় হচ্ছে সারাদেশ ও নেটদুনিয়া। গাজীপুরে কাপাসিয়ায় একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার পর গোপালগঞ্জের গ্রামের বাড়িতেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। শনিবার ভোরে কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে ফোরকান মিয়ার ভাড়া বাসা থেকে মা-ছেলেসহ তিন শিশুর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহতরা হলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাত মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩০), তার ছেলে রসুল মোল্লা (১৮), এবং তিন মেয়ে মিম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ২০ বছর আগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বাসাবাড়ি গ্রামের আতিয়ার মোল্লার ছেলে ফোরকান মোল্লার সঙ্গে সামাজিকভাবে শারমিনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর কয়েক বছর শ্বশুরবাড়িতে থাকার পর তারা ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। পরে প্রায় ছয় মাস আগে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় গিয়ে নতুন করে সংসার গড়ে তোলেন। ফোরকান মোল্লা প্রাইভেটকার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

এক বছর আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দিলে শারমিন বাবার বাড়িতে চলে আসেন। পরে ফোরকান মোল্লা শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে বুঝিয়ে আবার স্ত্রীকে নিজের কাছে ফিরিয়ে নেন বলে জানিয়েছে পরিবার।

নিহত শারমিনের মা ফিরোজা বেগম জানান, শুক্রবার ফোরকান মোল্লা চায়না কোম্পানিতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রসুল মোল্লাকে কাপাসিয়ার বাসায় ডেকে নেন। রসুল তার বড় বোন ফাতেমা বেগমের বাসায় থেকে গাজীপুরের একটি গার্মেন্টসে চাকরি করতেন।

শনিবার সকালে ফোরকানের ভাই জব্বার মোল্লা ফোন করে জানান, বাসার সবাই মারা গেছে। এরপর রসুলসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও সবগুলো ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে স্বজনরা কাপাসিয়ায় গিয়ে ঘরের ভেতরে পাঁচজনের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন।

কাপাসিয়ায় হত্যার ওই ঘটনায় গোপালগঞ্জের পাইকান্দি উত্তর চরপাড়া গ্রামে চলছে শোকের মাতম। নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় ভারী পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে। কারা এবং কী কারণে এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×