মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রেস কনফারেন্স ঘিরে বিতর্ক

মূলধারার সাংবাদিকদের বাদ দিয়ে প্রেস কনফারেন্স, কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ১:০৫ পিএম
কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন

কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার চৌধুরী। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস কনফারেন্সে মূলধারার সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ না জানানো নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে সিভিল সার্জন কার্যালয়। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
  • জেলার মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের বাদ দিয়ে বাছাইকৃত কয়েকজনকে নিয়ে অবহিতকরণ সভা ও প্রেস কনফারেন্স আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিরুদ্ধে।
  • এ ঘটনায় জেলার জাতীয় ও মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কুড়িগ্রামে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। জেলার মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের বাদ দিয়ে বাছাইকৃত কয়েকজনকে নিয়ে অবহিতকরণ সভা ও প্রেস কনফারেন্স আয়োজনের অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলার জাতীয় ও মূলধারার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ (প্রথম রাউন্ড) উপলক্ষে বুধবার কুড়িগ্রাম সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একটি অবহিতকরণ সভা এবং পরবর্তীতে প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, জেলার অধিকাংশ জাতীয়, আঞ্চলিক ও মূলধারার সংবাদমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। বরং সীমিত পরিসরে পছন্দের কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে দায়সারাভাবে কর্মসূচি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের ভাষ্য, জনসচেতনতা তৈরির সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম গণমাধ্যম। শিশুস্বাস্থ্য ও পুষ্টি সংশ্লিষ্ট এমন একটি জাতীয় কর্মসূচিতে মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে উপেক্ষা করা শুধু দায়িত্বহীনতার পরিচয় নয়, বরং জনস্বার্থবিরোধী পদক্ষেপ বলেও মনে করছেন তারা।

জাতীয় দৈনিক কালবেলা’র কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি এবং ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য এশিয়ান এজ’-এর রংপুর ব্যুরো প্রধান সিনিয়র সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, বর্তমানে শিশুদের হাম প্রতিরোধ ও শিশু মৃত্যুহার কমাতে সরকার নানা কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন সেই উদ্যোগগুলোর অন্যতম। তিনি বলেন, “এ ধরনের কর্মসূচির গুরুত্ব জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে মূলধারার গণমাধ্যমের কোনো বিকল্প নেই। অথচ সিভিল সার্জন পরিকল্পিতভাবে তার পছন্দের কয়েকজনকে নিয়ে দায়সারাভাবে অবহিতকরণ সভা ও প্রেস কনফারেন্স সম্পন্ন করেছেন। একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে এমন স্বজনপ্রীতিমূলক আচরণ কাম্য নয়।”

দৈনিক আজকালের খবর-এর জেলা প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক এম এ আযমও সিভিল সার্জনের এ ধরনের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানান।

ইন্ডিপেনডেন্ট টেলিভিশন ও দৈনিক আগামীর সময়-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি তামজিদ হাসান তুরাগ বলেন, “জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এর প্রচার ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে মূলধারার মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু পরিকল্পিতভাবে সাংবাদিকদের একটি বড় অংশকে বাদ দিয়ে প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করা হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং দুঃখজনক।”

দৈনিক আমার দেশ-এর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি আব্দুল্লাহ আল মুজাহিদ বলেন, “যার কাছে মূলধারার গণমাধ্যমের গুরুত্ব নেই, তার কাছে জনস্বাস্থ্যের গুরুত্ব কতটুকু তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জনগণকে সচেতন করার প্রধান মাধ্যমকে উপেক্ষা করা মানে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে ঝুঁকির মুখে ফেলা।”

কুড়িগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সদস্য সচিব ও এটিএন নিউজ প্রতিনিধি মনোয়ার হোসেন লিটন বলেন, “জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে জেলার বৃহত্তম সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ না জানানো অত্যন্ত দুঃখজনক। এতে স্পষ্ট হয়েছে যে মূলধারার সাংবাদিকদের ইচ্ছাকৃতভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে।”

ইউনাইটেড প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক ও চ্যানেল ওয়ানের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি রাশিদুল ইসলাম বলেন, “সিভিল সার্জন দীর্ঘদিন ধরেই জেলার মূলধারার গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি থেকে দূরে রাখছেন। একজন সরকারি কর্মকর্তার এমন আচরণ সরকারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে। সাংবাদিকদের প্রতি এই বৈষম্যমূলক মনোভাব দীর্ঘদিনের।”

সাংবাদিকদের অভিযোগ, কুড়িগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন কার্যক্রমে দীর্ঘদিন ধরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক যোগাযোগের ঘাটতি রয়েছে। জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে গণমাধ্যমকে সম্পৃক্ত না করে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ও পক্ষপাতমূলক পন্থা অনুসরণ করায় সরকারের স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত প্রচার ও জনসম্পৃক্ততা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে জেলার সাংবাদিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকের মতে, জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কর্মসূচিতে মূলধারার গণমাধ্যমকে বাদ দেওয়া শুধু প্রশাসনিক উদাসীনতাই নয়, বরং তথ্যপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের একটি অস্বচ্ছ প্রবণতারও ইঙ্গিত বহন করে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপন কুমার চৌধুরী বলেন, “আমি মূলধারার সাংবাদিকদের আমন্ত্রণ জানাতে বলেছিলাম। কিন্তু অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত স্টাফরা তা করেনি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো মূলধারার সাংবাদিক এ ধরনের কর্মসূচি থেকে বাদ না পড়েন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

উল্লেখ্য, আগামী ২৮ জুন সারাদেশের মতো কুড়িগ্রামেও জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ (প্রথম রাউন্ড) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শিশুস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এ কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা অপরিহার্য বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এবারের এসএসসিতে পরীক্ষার ফলাফলে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভা। ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় সে পেয়েছে ১২১৭ নম্বর। তার এই অসাধারণ ফলাফলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেবীদ্বার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে আনন্দের পরিবেশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জাকিয়া সুলতানা ইভার এই সাফল্যের বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

তবে বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভার ১২১৭ নম্বর অর্জন। ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পেয়ে সে বিদ্যালয়ের ফলাফলে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জাকিয়া সুলতানা ইভা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

জাকিয়া সুলতানা ইভার এমন ফলাফল শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো বিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। তার এই সাফল্যে বিদ্যালয় পরিবারের সবাই আনন্দিত ও গর্বিত।
মো. মজিবুর রহমান
প্রধান শিক্ষক- দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

তিনি বলেন, “জাকিয়ার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। তার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্যও অনন্য গৌরবের বিষয়।”

জাকিয়া সুলতানা ইভাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান আরও বলেন, “তোমার সাফল্যে আমরা গর্বিত।”

বিদ্যালয়ের এমন সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ১২১৭ নম্বর পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জাকিয়া সুলতানা ইভার এই ফলাফল তার দীর্ঘদিনের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন। একই সঙ্গে ৬১ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন এবং ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ পাসের হার বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।

জাকিয়ার এমন সাফল্যে দেবীদ্বারের শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও জাকিয়া তার মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যাকাণ্ড: দা, সোনা ও টাকা উদ্ধার; হাত-পা এখনো নিখোঁজ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:২০ এএম
দেবীদ্বারে ফরিদা হত্যাকাণ্ড: দা, সোনা ও টাকা উদ্ধার; হাত-পা এখনো নিখোঁজ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর পুলিশ হত্যার কাজে ব্যবহৃত দা, স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা উদ্ধার করেছে। তবে এখনও মরদেহের হাত ও পায়ের অংশ খুঁজে পাওয়া যায়নি। সোমবার সন্ধ্যায় দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় ফরিদা ইয়াসমিনের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে পুলিশ এসব গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করে।

​হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আটক লাইলী আক্তারকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। লাইলীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ফরিদা ইয়াসমিনের বাসার পাকের ঘরে তল্লাশি চালায়। সেখানে পরিত্যক্ত একটি ড্রামের আড়ালে লুকানো কানের এক জোড়া দুল, একটি গলার চেইন, একটি আংটি এবং নগদ ১৭ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে লাইলীর তথ্যানুযায়ী, টয়লেটের কমোট থেকে আলমারির চাবি এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়।

​নিহত ফরিদা ইয়াসমিন (৫৫) দেবীদ্বার পৌর এলাকার ফতেহাবাদ ভূঁইয়া বাড়ির মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্ত্রী। তারা দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ঐ বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। অন্যদিকে ঘাতক লাইলী আক্তার পারিবারিক কলহের কারণে ঐ বাসার একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে থাকতেন। লাইলী ইতিপূর্বে একটি শিশু হত্যাকাণ্ডের মামলায় সাড়ে ৪ বছর জেল খেটেছিলেন।

​হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ লোকাতে ঘাতকরা মরদেহ টুকরো টুকরো করে পলিথিনে প্যাকেট করে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে রাখে। কিছু অংশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সোমবার রাতে দেবীদ্বার থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, মামলার তদন্ত চলছে। লাইলী আক্তার প্রাথমিকভাবে একাই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে এবং পরে ঠান্ডা মাথায় মরদেহের অংশগুলি বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়। CC ক্যামেরার ফুটেজে তার কর্মকাণ্ড স্পষ্ট দেখা গেছে। মরদেহের বাকি অংশ উদ্ধারে চেষ্টা চলছে।

প্রেমঘটিত টানাপোড়েনে মর্মান্তিক মৃত্যু

দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ১০ আগস্ট, ২০২৬, ১০:০৬ পিএম
দেবীদ্বারে প্রবাসী ভাইয়ের ফোন, ঘরে মিলল কিশোরীর ঝুলন্ত মরদেহ

কুমিল্লার দেবীদ্বারে প্রবাসী ছোট ভাইয়ের ফোন পেয়ে বাসায় ফিরে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় আফরিন আক্তার (১৭) নামে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করেছেন তার মা। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১টার দিকে দেবীদ্বার সদর এলাকার মোল্লাবাড়ী মসজিদ সংলগ্ন ‘খান মঞ্জিল’-এর চতুর্থ তলায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আফরিন আক্তার দেবীদ্বার পৌর এলাকার বিনাইপাড় গ্রামের মৃত আব্দুল আউয়ালের মেয়ে। সে পারুয়ারা আব্দুল মতিন খসরু কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ১০ বছর আগে আফরিনের বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে তার মা তাকে নিয়ে দেবীদ্বার সদরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত দুই বছর ধরে তারা ‘খান মঞ্জিল’-এর ওই বাসায় থাকছিলেন।

পরিবারের দাবি, প্রতিবেশী অবসরপ্রাপ্ত বিডিআর সদস্য জামসেদ মিয়ার ছেলে ও পেশায় ক্যামেরাম্যান সাখাওয়াত হোসেন সানি (২৬)-এর সঙ্গে আফরিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তবে এ সম্পর্ক মেনে নিতে পারেননি আফরিনের মা ও তার প্রবাসী দুই ভাই।

সানি প্রায় ছয় মাস ধরে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। বিষয়টি নিয়ে রোববার বাড়ির মালিক শাহ আলম খান ও তার ভাইয়ের উপস্থিতিতে সানিকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাগ করে মেয়েকে বাসায় একা রেখে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান।
মরিয়ম বেগম
নিহত আফরিনের মা

মরিয়ম বেগমের ভাষ্য, সোমবার দুপুরে সৌদি প্রবাসী ছোট ছেলে আজাদ ফোন করে তাকে দ্রুত বাসায় ফিরতে বলেন। আজাদ জানান, সানি তাকে মেসেজ করে জানিয়েছেন যে তিনি আফরিনকে বিয়ে করবেন না এবং আফরিন আত্মহত্যা করতে পারেন।

পরে বাসায় ফিরে দরজা বন্ধ দেখতে পান মরিয়ম বেগম। স্থানীয়দের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান তিনি। এ ঘটনায় সানিকে দায়ী করে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন নিহতের মা।

বাড়ির মালিক শাহ আলম খান বলেন, ছেলে-মেয়ে উভয়ের সম্মতি থাকায় সোমবার দুই পরিবারের অভিভাবকদের নিয়ে বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা বৈঠকে বসার কথা ছিল।

পুলিশের বক্তব্য

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে প্রেমঘটিত টানাপোড়েন ও পারিবারিক মনোমালিন্যের বিষয়টি সামনে রেখে ঘটনাটি তদন্ত করছে।

×
CLOSE X
ENG