বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩

চারা উপড়ে পুকুরে নিক্ষেপ

ইজারা বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে সবজি ক্ষেত তছনছের অভিযোগ, কৃষকের ক্ষতি প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম
রাজবাড়ী সবজি ক্ষেত বিনষ্ট

রাজবাড়ীর বাগমারা এলাকায় দুর্বৃত্তদের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত সবজি ক্ষেত পরিদর্শন করছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা; পাশে উপড়ে ফেলা চারাগাছ সংগ্রহ করছেন ভুক্তভোগী কৃষক সোহেল মন্ডল। ছবি : আজকের কথা

google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় ইজারা বিরোধের জেরে এক কৃষকের সবজি ক্ষেত ও পুকুরপাড়ের নিরাপত্তা বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা হাজার হাজার সবজির চারা উপড়ে পুকুরে ফেলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক। এতে তার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের খন্দকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক সোহেল মন্ডল ৬ জনের নাম উল্লেখ করে রাজবাড়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী সোহেল মন্ডল বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং বিলায়েত মন্ডলের ছেলে।

অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— রুহুল আমিনের ছেলে রোমান (২৬), হাকিম মোল্লার ছেলে মোহন মোল্লা (৪২), ছালামের ছেলে বিপুল (৪০), জমির শিকদারের ছেলে জহুরুল শিকদার ওরফে গেদা (৪৬), হাকিম মোল্লার ছেলে বাশি মোল্লা (৩৫) এবং জিল্লু খন্দকারের ছেলে রুবেল খন্দকার (৩৫)।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে মোছা. মুনমুন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে পুকুরসহ প্রায় পৌনে দুই একর জমি তিন বছরের জন্য ইজারা নেন সোহেল মন্ডল। ইজারা নেওয়ার পর তিনি সেখানে মাছ চাষ শুরু করেন এবং পুকুর ও ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারপাশে নেটজালের বেড়া নির্মাণ করেন।

পরবর্তীতে পুকুরপাড়ে তিনি প্রায় ৬ হাজার শসা, ২ হাজার ৩০০টি করলা এবং ২৬০টি লাউয়ের বীজ বপন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বীজগুলো অঙ্কুরিত হয়ে চারা বড় হতে শুরু করে। কৃষকের অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা নেটজালের বেড়া কেটে কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করে এবং সবজির চারা উপড়ে পুকুরে ফেলে দেয়।

সোহেল মন্ডল বলেন, “আমি যখন পুকুরটি ইজারা নিই, তখন রোমান ও মোহন মোল্লারাও এটি নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় আমি ইজারা পাই। এরপর থেকেই তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। তারা বলেছিল, আমি কীভাবে এই জমি ও পুকুরে চাষাবাদ করি, তা দেখে নেবে। তাদের ছাড়া আমার অন্য কোনো শত্রু নেই। আমি বিশ্বাস করি, তারাই পরিকল্পিতভাবে এই ক্ষতি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “এক রাতেই আমার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনেক আশা নিয়ে মাছ ও সবজি চাষ শুরু করেছিলাম। এখন আমি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগমারা-ধাওয়াপাড়া সড়কের পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে অবস্থিত পুকুরটির চারপাশে নেটজালের বেড়া বিভিন্ন স্থানে কাটা অবস্থায় রয়েছে। পুকুরপাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে উপড়ে ফেলা সবজির চারা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নিজেই সেগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।

ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জনি খান।

তিনি বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি সম্ভাবনাময় সবজি বাগান নষ্ট করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।”

এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, “সোহেল মন্ডল নামে একজন কৃষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের ধারণা, পুকুর ইজারা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted

দামুড়হুদায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৭:২৩ পিএম
দামুড়হুদায় বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় মাঠে কাজ করা অবস্থায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। তারর নাম নাজমুল হোসেন, বয়স (২৫)।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর ২ টার দিকে রুদ্রনগর মাঠে পাওয়ার টিলার দিয়ে জমি চাষ করার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত নাজমুল হোসেন উপজেলার রুদ্রনগর গ্রামের জসীম উদ্দীনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকালে পাওয়ার টিলার নিয়ে নিজের জমি চাষ দিতে যায় নাজমুল হোসেন। দুপুর ২ টার দিকে বজ্রসহ বৃ‌ষ্টি শুরু হয়। এসময় মা‌ঠে কাজ কর‌ছি‌লেন নাজমুল হোসেন। মাঠেই বজ্রপাতে মারাত্মক ভাবে আহত হন তিনি।

পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন অগ্রগতি

সাংবাদিক ইমরুলের দাবির প্রেক্ষিতে আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও কবিতীর্থ দৌলতপুর পরিদর্শনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৫:০০ পিএম
সাংবাদিক ইমরুলের দাবির প্রেক্ষিতে আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও কবিতীর্থ দৌলতপুর পরিদর্শনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন আশার সঞ্চার, সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলনে নতুন গতি

বাস্তবায়নের পথে সাংবাদিক ইমরুলের স্বপ্ন, অবশেষে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও কবিতীর্থ দৌলতপুর পরিদর্শনে এলো প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর।

বাংলা সংগীতের কিংবদন্তি সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও স্মৃতিধন্য স্থাপনা এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত কবিতীর্থ দৌলতপুর সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও প্রচেষ্টার ধারাবাহিকতায় প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল সরেজমিন পরিদর্শন করেছে।

এক নজরে

  • জাহাঙ্গীর আলম ইমরুলের প্রস্তাবের পর মাঠে নামে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর
  • পরিদর্শন করা হয় ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা ও ঐতিহাসিক মসজিদ
  • ঘুরে দেখা হয় নজরুল স্মৃতিবিজড়িত কবিতীর্থ দৌলতপুর
  • সংরক্ষণের দাবিতে ২০২০ সাল থেকে চলছে ধারাবাহিক উদ্যোগ
  • ঐতিহ্য সংরক্ষণে নতুন আশার সঞ্চার স্থানীয়দের মাঝে

গত ২২ জুন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শিবপুরে অবস্থিত সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা, তাঁর নিজ হাতে নির্মিত মসজিদ এবং পিতা-মাতার সমাধিস্থল পরিদর্শন করেন। পরে একই দিনে তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার কবিতীর্থ দৌলতপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক আলী আকবর খাঁনের বাড়িও পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৬ মে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) সাবিনা আলম কুমিল্লা সফরে এলে ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’র সভাপতি ও সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা এবং কবিতীর্থ দৌলতপুরকে প্রত্নসম্পদ হিসেবে সংরক্ষণের লক্ষ্যে জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

পরবর্তীতে মহাপরিচালক বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক ড. নাহিদ সুলতানাকে সরেজমিন পরিদর্শনের নির্দেশনা প্রদান করেন। সেই নির্দেশনার আলোকেই এই পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

শিবপুরে পরিদর্শনের সময় ড. নাহিদ সুলতানার সঙ্গে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক কার্যালয়ের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে শিবপুর কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দল ওস্তাদজীর জন্মভিটা, ঐতিহাসিক মসজিদ এবং পারিবারিক কবরস্থান ঘুরে দেখেন এবং বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন।

শিবপুর পরিদর্শন শেষে আঞ্চলিক পরিচালক নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় সাংবাদিক গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, মাহবুব আলম লিটন, শাহীন রেজা টিটোসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে প্রতিনিধি দল কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ঐতিহাসিক দৌলতপুরে যান। সেখানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত লেখক, সমাজসংস্কারক ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ক্যাপ্টেন আলী আকবর খাঁনের ঐতিহাসিক বাড়ি পরিদর্শন করেন ড. নাহিদ সুলতানা।

পরিদর্শনের সময় ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’র সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল, বাবলু আলী খান, রায়হান খানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। তারা স্থাপনাটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, বর্তমান অবস্থা এবং সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, ১৯২১ সালে ক্যাপ্টেন আলী আকবর খাঁনের আমন্ত্রণে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম প্রথম কুমিল্লার দৌলতপুরে আসেন। এখানেই আলী আকবর খাঁনের ভাগ্নি সৈয়দা খাতুন, যিনি ‘নার্গিস’ নামে পরিচিত, তাঁর সঙ্গে নজরুলের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং পরে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ফলে দৌলতপুর শুধু একটি ঐতিহাসিক বাড়িই নয়, বরং বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতির ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বহন করে চলেছে।

এদিকে ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা এবং কবিতীর্থ দৌলতপুরকে সংরক্ষণের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’। সংগঠনটির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে আবেদন, গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছেন।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ‘ঐতিহ্য কুমিল্লা’র লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের তৎকালীন আঞ্চলিক পরিচালক ড. আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল শিবপুর ও দৌলতপুর পরিদর্শন করেছিল।

একই বছর প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর আরেকটি লিখিত আবেদনের পর সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ফরিদ হোসেন এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক লাভলী ইয়াসমিনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আরেকটি প্রতিনিধি দল শিবপুরে সরেজমিন পরিদর্শন করে।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালেও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের একটি প্রতিনিধি দল সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা পরিদর্শন করে এবং ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলোর সংরক্ষণ সম্ভাবনা নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করে।

জাহাঙ্গীর আলম ইমরুল ২০১৩ সালে মাছরাঙা টেলিভিশনে সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁকে নিয়ে একটি সচিত্র অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এছাড়া দেশে প্রথমবারের মতো সুরসম্রাটকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্রও নির্মাণ ও প্রচার করেন তিনি।

শুধু তাই নয়, সুরসম্রাটের স্মৃতি ও সম্পত্তি সংরক্ষণের দাবিতে ওয়াকফ এস্টেট, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ধারাবাহিকভাবে লিখিত আবেদন জানিয়ে আসছেন তিনি। পাশাপাশি কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সভা-সেমিনার, আলোচনা অনুষ্ঠান এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম আয়োজনের মাধ্যমেও বিষয়টি জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সর্বশেষ এই পরিদর্শন সুরসম্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ’র জন্মভিটা এবং কবিতীর্থ দৌলতপুরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণের দাবিকে নতুন গতি দেবে। একই সঙ্গে দেশের দুই অমূল্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণের পথ আরও সুগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী, গবেষক ও সচেতন নাগরিকরা।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

প্রিপেইড মিটার নিয়ে ক্ষোভ

রংপুরে পোস্টপেইড মিটার গ্রাহকদের বিল প্রদান বন্ধের প্রতিবাদে নেসকোকে স্মারকলিপি

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬, ৪:৩৮ পিএম
রংপুরে পোস্টপেইড মিটার গ্রাহকদের বিল প্রদান বন্ধের প্রতিবাদে নেসকোকে স্মারকলিপি

রংপুরে বিদ্যুতের পোস্টপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বিল গ্রহণ বন্ধের অভিযোগে নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেছে রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সংগঠনটির পক্ষ থেকে নেসকো রংপুর জোনের প্রধান প্রকৌশলীর কাছে এ স্মারকলিপি পেশ করা হয়।

রংপুর মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগের নেতৃত্বে স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য আব্দুল জব্বার সরকার, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, এবিএম মসিউর রহমান, আমিন মোস্তাজীদ, সুভাষ রায়, সবুজ রায় ও মাহবুব আলমসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, গ্রাহকদের মতামত উপেক্ষা করে নেসকো কর্তৃপক্ষ আবাসিক এলাকায় প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। যদিও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের গত বছরের ৪ জুলাই জারি করা অফিস আদেশে নতুন সংযোগ এবং নষ্ট মিটার প্রতিস্থাপনের ক্ষেত্রে স্মার্ট প্রিপেইড মিটার ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে, সেখানে বিদ্যমান পোস্টপেইড মিটার অপসারণ করে জোরপূর্বক প্রিপেইড মিটার বসানোর অভিযোগ উঠেছে।

নেতৃবৃন্দের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করে প্রিপেইড মিটার গ্রহণে বাধ্য করা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রিপেইড মিটারের মাসিক ভাড়া প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হলেও রিচার্জের সময় ডিমান্ড চার্জ, ভ্যাটসহ বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রিপেইড মিটারে রিচার্জকৃত ব্যালেন্স শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, যা সাধারণ গ্রাহকদের জন্য বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ বিদ্যুৎ আইন-২০১৮ অনুযায়ী বকেয়া বিলের কারণে কোনো গ্রাহকের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে হলে অন্তত ১৫ দিন আগে নোটিশ দেওয়ার বিধান রয়েছে। ফলে প্রিপেইড মিটার পদ্ধতি প্রচলিত আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক বলে দাবি করা হয়।

নাগরিক কমিটির নেতারা বলেন, বিদ্যুৎ একটি মৌলিক সেবামূলক খাত। সেখানে গ্রাহকদের আগাম অর্থ পরিশোধ করে বিদ্যুৎ কিনতে বাধ্য করা কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের ক্ষোভ ও আপত্তি থাকা সত্ত্বেও নেসকো একতরফাভাবে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

তারা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি রংপুর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পোস্টপেইড মিটার ব্যবহারকারী গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিল গ্রহণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপকে তারা চরম স্বেচ্ছাচারিতা ও জবরদস্তিমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্মারকলিপিতে জনদুর্ভোগ কমাতে পোস্টপেইড মিটার গ্রাহকদের বিল গ্রহণ অব্যাহত রাখা, প্রিপেইড মিটার স্থাপনে জোরজবরদস্তি বন্ধ করা, অতিরিক্ত ও অযৌক্তিক ফি প্রত্যাহার, প্রযুক্তিগত হয়রানি বন্ধ, সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x