চারা উপড়ে পুকুরে নিক্ষেপ
ইজারা বিরোধের জেরে রাতের আঁধারে সবজি ক্ষেত তছনছের অভিযোগ, কৃষকের ক্ষতি প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকা

রাজবাড়ীর বাগমারা এলাকায় দুর্বৃত্তদের তাণ্ডবে ক্ষতিগ্রস্ত সবজি ক্ষেত পরিদর্শন করছেন স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা; পাশে উপড়ে ফেলা চারাগাছ সংগ্রহ করছেন ভুক্তভোগী কৃষক সোহেল মন্ডল। ছবি : আজকের কথা
রাজবাড়ীর সদর উপজেলায় ইজারা বিরোধের জেরে এক কৃষকের সবজি ক্ষেত ও পুকুরপাড়ের নিরাপত্তা বেড়া ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা হাজার হাজার সবজির চারা উপড়ে পুকুরে ফেলে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক। এতে তার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বুধবার (২৪ জুন) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার মিজানপুর ইউনিয়নের বাগমারা গ্রামের খন্দকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক সোহেল মন্ডল ৬ জনের নাম উল্লেখ করে রাজবাড়ী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগকারী সোহেল মন্ডল বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা এবং বিলায়েত মন্ডলের ছেলে।
অভিযোগে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে তারা হলেন— রুহুল আমিনের ছেলে রোমান (২৬), হাকিম মোল্লার ছেলে মোহন মোল্লা (৪২), ছালামের ছেলে বিপুল (৪০), জমির শিকদারের ছেলে জহুরুল শিকদার ওরফে গেদা (৪৬), হাকিম মোল্লার ছেলে বাশি মোল্লা (৩৫) এবং জিল্লু খন্দকারের ছেলে রুবেল খন্দকার (৩৫)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে মোছা. মুনমুন নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে পুকুরসহ প্রায় পৌনে দুই একর জমি তিন বছরের জন্য ইজারা নেন সোহেল মন্ডল। ইজারা নেওয়ার পর তিনি সেখানে মাছ চাষ শুরু করেন এবং পুকুর ও ফসলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চারপাশে নেটজালের বেড়া নির্মাণ করেন।
পরবর্তীতে পুকুরপাড়ে তিনি প্রায় ৬ হাজার শসা, ২ হাজার ৩০০টি করলা এবং ২৬০টি লাউয়ের বীজ বপন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই বীজগুলো অঙ্কুরিত হয়ে চারা বড় হতে শুরু করে। কৃষকের অভিযোগ, বুধবার গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা নেটজালের বেড়া কেটে কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করে এবং সবজির চারা উপড়ে পুকুরে ফেলে দেয়।
সোহেল মন্ডল বলেন, “আমি যখন পুকুরটি ইজারা নিই, তখন রোমান ও মোহন মোল্লারাও এটি নিতে চেয়েছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় আমি ইজারা পাই। এরপর থেকেই তারা আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। তারা বলেছিল, আমি কীভাবে এই জমি ও পুকুরে চাষাবাদ করি, তা দেখে নেবে। তাদের ছাড়া আমার অন্য কোনো শত্রু নেই। আমি বিশ্বাস করি, তারাই পরিকল্পিতভাবে এই ক্ষতি করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “এক রাতেই আমার প্রায় পৌনে দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অনেক আশা নিয়ে মাছ ও সবজি চাষ শুরু করেছিলাম। এখন আমি চরম ক্ষতির মুখে পড়েছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বাগমারা-ধাওয়াপাড়া সড়কের পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনে অবস্থিত পুকুরটির চারপাশে নেটজালের বেড়া বিভিন্ন স্থানে কাটা অবস্থায় রয়েছে। পুকুরপাড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে উপড়ে ফেলা সবজির চারা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নিজেই সেগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এবং মিজানপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জনি খান।
তিনি বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। একটি সম্ভাবনাময় সবজি বাগান নষ্ট করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সঠিক তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।”
এ বিষয়ে রাজবাড়ী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, “সোহেল মন্ডল নামে একজন কৃষক লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয়দের ধারণা, পুকুর ইজারা নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
মুরাদনগরে ঘুস-চাঁদা চলবে না, চাইলে থানায় সোপর্দ: ধর্মমন্ত্রী

‘চাঁদাবিহীন, ঘুষবিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত’ মুরাদনগর গড়ার ঘোষণা
মুরাদনগরে চাঁদাবাজি, ঘুস ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, মুরাদনগরে কাউকে চাঁদা বা ঘুস দিতে হবে না। কেউ চাঁদা বা ঘুস দাবি করলে তাকে থানায় সোপর্দ করতে হবে, অথবা সরাসরি তাকে জানাতে হবে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর-বাঞ্ছারামপুর সড়কের মুরাদনগর-রামচন্দ্রপুর অংশের উন্নয়নকাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ৫২ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির উন্নয়নকাজ করা হচ্ছে।

মুরাদনগরে কেউ চাঁদা বা ঘুস চাইলে তাকে থানায় সোপর্দ করবেন, না হয় আমাকে জানাবেন।
ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘যে ভাই ঠিকাদারের কাজ পেয়েছেন, তাঁকে অনুরোধ করব, সড়কের কাজটা সঠিকভাবে করবেন। মুরাদনগরের কাউকে চাঁদা দিতে হবে না, কাউকে ঘুস দিতে হবে না। যদি কেউ চাঁদা চায়, ঘুস চায়, তাকে থানায় সোপর্দ করবেন। না হয় আমাকে জানাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মুরাদনগর হবে চাঁদাবিহীন, ঘুষবিহীন ও দুর্নীতিমুক্ত।’
সড়কের নির্মাণকাজের মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে কায়কোবাদ বলেন, ঠিকাদারকে ভালোভাবে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করতে হবে। সড়কটি মানসম্মতভাবে নির্মাণ করা হলে সাধারণ মানুষ নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারবেন। পাশাপাশি উন্নয়নকাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হচ্ছে কি না, সেদিকেও সবাইকে নজর রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মুরাদনগরের বিভিন্ন সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমাদের তারেক রহমান সাহেব প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বলেই আজ এ সড়কটির সংস্কারকাজ হচ্ছে।’ গত কয়েক মাসে মুরাদনগরে বেশ কয়েকটি সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করার সুযোগ হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের রাজনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে কায়কোবাদ বলেন, ‘আপনারা আবার আমাকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করেছেন। আল্লাহ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দিয়েছেন। আপনারা আমাকে মাননীয় মন্ত্রী বলবেন না, আমি আপনাদের কামলা। ছয়বার আমাকে নির্বাচিত করেছেন আপনাদের কাজ করার জন্য। আমি আপনাদের কাজ করে যাচ্ছি, কাজ করে যাব যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সড়ক ও জনপথ বিভাগের কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা।
উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নাজিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সদস্য মোল্লা গোলাম মহিউদ্দিন, বিএনপি নেতা শরীফ আহমেদ মীর, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া, সদস্য সচিব মোল্লা মজিবুল হক, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ হাসান আহমেদ, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক আহমেদ বাদশা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খায়রুল হাছান প্রমুখ।
এ সময় উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম, সদস্য সোহেল আহমেদ বাবু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সোহেল সামাদ, উত্তর জেলা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি চৌধুরী রকিবুল হক শিপন, উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি নায়েব আলী, বিএনপি নেতা মো. মাহমুদ, মারফত আলী, ওমর ফারুক সোহাগ, মো. আলী, ইকবাল হোসেন, ঠিকাদার দেলোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক

জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক-২০২৬-এর জেলা পর্যায়ের বাছাইয়ে কুমিল্লার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামের সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরীর স্বাক্ষরিত চিঠিতে সোনিয়া সরকার নিপাকে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে মনোনীত করা হয়। এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর তিনি আদর্শ সদর উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন তাকে উপজেলা পর্যায়ে মনোনীত করেন।
সোনিয়া সরকার নিপার বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার আমপাল গ্রামে। তিনি ওই গ্রামের বীর মুক্তিযুদ্ধা মরহুম দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে। ২০১৩ সালে আমপাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ২০১৯ সালে স্বামীর ঠিকানার সূত্রে কুমিল্লা নগরের বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যোগ দেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি সামাজিক ও সহশিক্ষা কার্যক্রমেও সক্রিয় সোনিয়া সরকার নিপা। তিনি জেলা পর্যায়ে ওয়ারেন্ট গাইডার এবং বিভাগীয় পর্যায়ে হলদে পাখি গার্লস গাইডের প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার অনুভূতি জানিয়ে সোনিয়া সরকার নিপা বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে মহান রবের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। যেকোনো কাজের স্বীকৃতি ও সম্মাননা কাজের গতি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আমি আরও বেশি পেশাদারির সঙ্গে শিক্ষকতাকে উপভোগ করতে চাই।”
তিনি আরও বলেন, “শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হতে পেরে সত্যিই খুব সম্মানিত ও গর্বিত অনুভব করছি। আমার এ প্রতিযোগিতা বিভাগীয় পর্যায় পর্যন্ত। এখন আমার লক্ষ্য কুমিল্লা জেলার প্রতিনিধিত্ব করা। জেলার একজন প্রতিযোগী হিসেবে জেলাকে সম্মানসূচক কিছু এনে দিতে পারি—এ জন্য সবার দোয়া চাই।”
নিজের এ অর্জনের পেছনে বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের অবদানের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। সোনিয়া সরকার নিপার ভাষ্য, তার প্রিয় কর্মস্থল ও শিক্ষার্থীরাই তাকে জেলার শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে পরিচিত করেছে।
এ অর্জনের জন্য বাগিচাগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান সোনিয়া সরকার নিপা।
হোমনার একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, মেঘনায় এখনো নিখোঁজ বাবা

নারায়ণগঞ্জের মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন পরিবারের বাবা হেলাল উদ্দিন।
ট্রলারডুবির দুই দিন পর শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে এবং শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নারায়ণগঞ্জের বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল-মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশ।
উদ্ধার হওয়া তিনজন হলেন—হেলাল উদ্দিনের ছেলে সজীব, শামীম এবং মেয়ে সামিয়া।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিখোঁজ চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এখনও নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ট্রলারে করে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার যাওয়ার পথে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি মেঘনা নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ট্রলারে থাকা পাঁচজন পানিতে পড়ে নিখোঁজ হন।
দুর্ঘটনার পরপরই রায়েসা বেগম নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের একই পরিবারের চারজনের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
দুই দিন ধরে নদীতে উদ্ধার অভিযান চালানোর পর শনিবার ভোরে মেঘনায় সামিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে সোনারগাঁ থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তার মরদেহ হোমনার শ্রীমদ্দি গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।
এরপর সজীব ও শামীমের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। পরিবারের একমাত্র নিখোঁজ সদস্য হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ-পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।































