মুরাদনগরে ধর্ষককে বিএনপি নেতা বলায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এক হাজার কোটি টাকার মানহানি মামলা
ধর্ষণ মামলা ঘিরে বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশের জেরে রাজনৈতিক পরিচয় ঘিরে উত্তেজনা, বিএনপি নেতার দাবি—ধর্ষক নয়, তিনি আওয়ামী লীগের কর্মী, মামলা করলেন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে।

মুরাদনগরে ধর্ষণ মামলা ঘিরে রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে উত্তেজনা বিরাজ করছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে সংঘটিত ধর্ষণ মামলার একমাত্র আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা হিসেবে উল্লেখ করে সংবাদ প্রকাশ করায়, একজন স্থানীয় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে এক হাজার কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোমবার (৮ জুলাই) কুমিল্লার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১১-এর বিচারক মমিনুল হকের আদালতে এই মামলা করেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া। বুধবার বিকেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে মুরাদনগর ও সাংবাদিক সমাজে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।
মামলার এজাহারে বলা হয়, সাংবাদিক মাহবুব আলম (আরিফ) তার পরিচালিত “মুরাদনগর লাইভ টিভি” নামের একটি ফেসবুক পেজে ধর্ষণ মামলার আসামি ফজর আলীকে বিএনপি নেতা বলে উল্লেখ করেন, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর। বাদীর দাবি, ফজর আলী ও তার পরিবার কখনোই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়—”মিথ্যা সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সাংবাদিক মাহবুব আলম শুধু একজন ব্যক্তির না, পুরো বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন। এতে দলে রাজনৈতিকভাবে ও আর্থসামাজিকভাবে এক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
মামলার বাদী কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, “কোনো ব্যক্তিকে বিএনপির নেতা দাবি করলে তার পদ-পদবি থাকতে হবে। অথচ ফজর আলীর কোনো পদ নেই, এমনকি প্রাথমিক সদস্যপদও না। তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন এবং তা তার বাবা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ্যেই বলেছেন।”
ধর্ষণ মামলা- ঘূর্ণিপাকে রাজনৈতিক পরিচয় বিতর্ক, সাংবাদিক বলছেন—স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতেই সংবাদ, তা কখনো বিতর্কিত সংবাদ প্রকাশ বলে অভিযোগ হতে পারেনা
এ বিষয়ে অভিযুক্ত সাংবাদিক মাহবুব আলম বলেন, “আমি স্থানীয়দের সরাসরি বক্তব্যের ভিত্তিতে রিপোর্ট করেছি। এলাকাবাসীর অনেকে ফজর আলীকে বিএনপি-ঘনিষ্ঠ বলছেন। তাছাড়া ২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর রামচন্দ্রপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফজর আলীকে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে উপস্থিত দেখা গেছে, যার ভিডিও ও ছবিসহ আমার কাছে প্রমাণ আছে।”
সাংবাদিক আরো বলেন, “আমি স্থানীয়দের বক্তব্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রকাশ করেছি।” তবে, মামলার বাদীর দাবি—আসামির রাজনৈতিক পরিচয় মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
এ মামলায় আদালত প্রাথমিক শুনানি শেষে ১৮ আগস্ট সাংবাদিক মাহবুব আলমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেছে। মামলাটি এখন মুরাদনগরবাসী, সাংবাদিক মহল এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রে।
যদিও, মুরাদনগর ধর্ষণ মামলা এখন আর শুধু একটি ফৌজদারি অপরাধ নয়, এটি এক স্পর্শকাতর রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সম্পর্কিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। সাংবাদিকরা যখন জনমত ও তথ্যসূত্রের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করেন, তখন সত্য-মিথ্যার সীমারেখা কোথায়, সেটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। তবে মানহানির মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া বা ভয় দেখানো হলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করতে পারে। একইসঙ্গে সাংবাদিকদেরও উচিত—তথ্য যাচাই করে, রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা।
জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল চুরি
ট্রেনে যাত্রীদের মোবাইল ছিনতাই: ভৈরবে ৫ ছিনতাইকারীকে কারাদণ্ড
কিশোরগঞ্জের ভৈরব রেলওয়ে জংশনে ট্রেনে ওঠার সময় কৃত্রিম জটলা সৃষ্টি করে যাত্রীদের মোবাইল ছিনতাইয়ের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের একটি চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে রেলওয়ে থানা পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এএইচএম আজিমুল হকের পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের সাজা দেওয়া হয়।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন— ভৈরব পৌর শহরের পঞ্চবটী এলাকার ফুল মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়া (২৮), নরসিংদীর পলাশ উপজেলার উত্তর চন্দন এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে সবুজ মিয়া (২২), কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার এতরায়পুর এলাকার মবিন মিয়ার ছেলে হাসান (২০), কুমিল্লা সদর কোতোয়ালি এলাকার মুরাপাড়া গ্রামের বাতেন মিয়ার ছেলে নুর আলম (২০) এবং শুভপুর এলাকার আবু তাহের মিয়ার ছেলে বিপ্লব আহসান (২৬)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (৬ জুন) রাতে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পশ্চিম আউটার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নোয়াখালীগামী উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনে যাত্রী ওঠার মুহূর্তে কৃত্রিম ভিড় ও জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা চালায় একটি চক্র। গোপন নজরদারির মাধ্যমে ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করে রেলওয়ে পুলিশ।
এদিকে রবিবার দুপুরের দিকে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক যাত্রীর মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টাকালে বাবুল মিয়াকে হাতেনাতে ধরে স্থানীয় জনতা। পরে তাকে রেলওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদ আহমেদ জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্টেশন এলাকায় যাত্রীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে মোবাইল ছিনতাই ও চুরির ঘটনা ঘটিয়ে আসছিল একটি চক্র। যাত্রীদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে তারা ট্রেনে ওঠা-নামার সময় জটলা সৃষ্টি করে মোবাইল ও মূল্যবান সামগ্রী হাতিয়ে নিত।
তিনি বলেন, “বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে। এরপর আদালত তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড প্রদান করেন।”
আদালতের রায়ে নুর আলম ও বিপ্লব আহসানকে তিন মাস করে কারাদণ্ড, সবুজ মিয়া ও হাসান মিয়াকে দুই মাস করে কারাদণ্ড এবং বাবুল মিয়াকে ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
ওসি আরও জানান, রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় যাত্রী হয়রানি, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্টেশনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
শেরপুর সীমান্তে ৫টি ভারতীয় গরু জব্দ
শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার সীমান্তবর্তী বাবেলাকোনা এলাকা থেকে মালিকবিহীন ৫টি ভারতীয় গরু জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রবিবার (৭ জুন) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কর্ণঝোড়া বিওপির টহল কমান্ডার নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি অভিযানিক দল বাবেলাকোনা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় মালিকবিহীন ৫টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়। এসময়
বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা গরুগুলো ফেলে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
৩৯ বিজিবি ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের কর্ণঝোড়া বিওপির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার সাইদুর রহমান গরু জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, জব্দকৃত ৫টি ভারতীয় গরুর আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ৩ লাখ টাকা। তিনি আরও জানান, জব্দকৃত গরুগুলোর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নিলামে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।
পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান শেখের উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন
সিরাজগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান শেখের উপর হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
রোববার (৭ জুন) সকাল ১০ টায় সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
পৌর ছাত্রদলের যুগ্ন আহবায়ক রায়হান শেখ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে বলেন – গত ২ জুন অফিস থেকে বের হয়ে বাসায় যাবার পথে রিকসা ঠেকিয়ে আমার পথ রোধ করে সমন্বয়ক ও শিবির নেতাসহ কতিপয় দলবাজ।
এ সময় বহিস্কৃত শিবির নেতা জুয়েল রানা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক মুনতাসির মেহেদী হাসান ও তাজসহ পৌর ছাত্রদলের নেতৃত্বে ১০/১২ জন রড হকিস্টিক ও পাইপ দ্বারা আমার উপর হামলা চালিয়ে এলোপাথারী মারপিট শুরু করে। এসময় জেলা ছাত্রদলের সহসভাপতি আলীম ভাই এর সহযোগীতায় প্রাণে রক্ষা পাই। ইতিপুর্বে মুনতাসির মেহেদী হাসান এর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দেবার কারনে আমার উপর হামলা চালানো হয়।
বহিস্কৃত শিবির নেতা জুয়েল রানা ও সাবেক সমন্বয়ক মুনতাসির মেহেদী হাসান এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাংগঠনিক শাস্তির দাবী জানান ছাত্রদলের আংশিক নেতৃবৃন্দরা। সংবাদ সম্মেলনে পৌর ছাত্রদলের একাংশ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
















