সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩

রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ ব্যবহার, ব্যয় ৬ কোটি টাকা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫, ৪:০০ পিএম
রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ ব্যবহার, ব্যয় ৬ কোটি টাকা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ, প্রশিক্ষকদের হাতে ল্যাপটপ-প্রজেক্টর, মাঠে নামছে বুয়েটের ই-রিকশা রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ ব্যবহার এবং ছয় কোটি টাকা ব্যয়ের সরকারি উদ্যোগ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার ঝড়।
  • ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রথম ধাপে ৩০০ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রস্তুত করছে, যারা ই-রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণ দেবেন।
  • প্রতিটি ট্রেইনারকে দেওয়া হবে একটি করে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর।

রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ, প্রশিক্ষকদের হাতে ল্যাপটপ-প্রজেক্টর, মাঠে নামছে বুয়েটের ই-রিকশা

রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ ব্যবহার এবং ছয় কোটি টাকা ব্যয়ের সরকারি উদ্যোগ ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক ও আলোচনার ঝড়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এই প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রথম ধাপে ৩০০ জন মাস্টার ট্রেইনার প্রস্তুত করছে, যারা ই-রিকশা চালকদের প্রশিক্ষণ দেবেন।

প্রতিটি ট্রেইনারকে দেওয়া হবে একটি করে ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর। শুধুমাত্র এই সরঞ্জাম কেনার জন্যই বরাদ্দ রাখা হয়েছে প্রায় ৬ কোটি টাকা। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাস্টার ট্রেইনাররা বুয়েটের তৈরি আধুনিক ই-রিকশার বিষয়ে চালকদের সচেতন করবেন।

📊 বাজেট ও বিতর্ক

ডিএনসিসির হিসাব অনুসারে, ৩০০ জন প্রশিক্ষকের জন্য প্রশিক্ষণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
প্রশিক্ষণ চলাকালে দেওয়া হয়েছে নাশতা, ভাতা ও অন্যান্য খরচ বাবদ দৈনিক ১,০০০ টাকা।
প্রত্যেক ট্রেইনার পাবে একটি ল্যাপটপ ও একটি প্রজেক্টর, যার সম্ভাব্য খরচ একত্রে দুই লাখ টাকা।

এই ল্যাপটপ ও প্রজেক্টর দিয়ে কীভাবে রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, তা জানতে চাইলে ব্র্যাক রোড সেফটি প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপক জানান—ডাটাবেজ তৈরি, ট্রাফিক সাইন বোঝানো, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় ইত্যাদি ভিজ্যুয়াল কনটেন্ট দেখাতেই এসব উপকরণ ব্যবহার হবে।

🚦 মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি

এই মাসেই পল্টন, ধানমন্ডি ও উত্তরার সড়কে পরীক্ষামূলকভাবে বুয়েটের তৈরি হাইড্রোলিক ব্রেকসহ ই-রিকশা নামানো হবে। প্রতিটি রিকশার দাম ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এই মডেলের রিকশা ধীরে ধীরে সড়কে বিদ্যমান অবৈধ ব্যাটারিচালিত রিকশার পরিবর্তে চালু করা হবে।

এ জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (MRA) থেকে চালকদের জন্য সহজ ঋণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন চালকদের প্রশিক্ষণ ও নিবন্ধনের মাধ্যমে লাইসেন্সিং সিস্টেমে আনবে।

🧑‍🏫 প্রশিক্ষণ কীভাবে চলছে?

তিন দিনের প্রশিক্ষণ হয়েছে জুন মাসে

ব্র্যাকের সহযোগিতায় উপস্থাপনা ও প্রশিক্ষণ কনটেন্ট তৈরি

প্রশিক্ষকের জন্য কমিউনিকেশন স্কিল, আত্মবিশ্বাস ও কারিগরি জ্ঞান শেখানো হয়েছে

শেষদিন বুয়েটের ই-রিকশার কারিগরি বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ

🚗 বুয়েটের ই-রিকশার বৈশিষ্ট্য

গতি: ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩০ কিমি

নিরাপত্তা: উন্নত হাইড্রোলিক ব্রেক ও যাত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থা

কাঠামো: মাইল্ড স্টিল ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি

ওজন বহন: ৩২৫–৪২৫ কেজি

পরিবেশবান্ধব: বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ও চার্জিং স্টেশন উপযোগী

📣 সমালোচনা ও সুপারিশ

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন,

“প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ-প্রজেক্টরের ব্যবহার যদি ঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ না করা হয়, তাহলে এটি হতে পারে আরেকটি ব্যর্থ প্রকল্প। এইবার যেন সড়কে শৃঙ্খলা ফেরে, তা নিশ্চিত করতে হবে।”

রিকশাচালকদের প্রশিক্ষণে ল্যাপটপ ব্যবহার সরকারের আধুনিকীকরণ প্রচেষ্টারই একটি অংশ। তবে এ উদ্যোগ বাস্তব রূপ পাবে কি না, তা নির্ভর করবে বাস্তবায়নের স্বচ্ছতা, মনিটরিং ও সঠিক ব্যবহার নিশ্চয়তার ওপর। অতীতের ব্যর্থতা যেন বর্তমানেও পুনরাবৃত্তি না ঘটে—এটাই এখন সময়ের দাবি।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

স্কুলে বোরকা-নেকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ ইতালিতে, জানালেন মেলোনি

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৩ এএম
স্কুলে বোরকা-নেকাব নিষিদ্ধের উদ্যোগ ইতালিতে, জানালেন মেলোনি

বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যায়ও সীমা, অভিভাবকদের ইতালীয় ভাষা শেখার প্রস্তাব

ইতালির স্কুলগুলোতে বোরকা ও নেকাব পরা নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি রোববার এ ঘোষণা দিয়েছেন।

নিজের দল ব্রাদার্স অব ইতালির (এফডিআই) যুব শাখার এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় মেলোনি জানান, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ কতজন বিদেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবে, তা আইনি কাঠামোর আওতায় আনতে শিগগিরই মন্ত্রিসভায় একটি প্রস্তাব তোলা হবে।

মেলোনি বলেন, যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী ইতালির শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাওয়াতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ছে, তাদের মা-বাবাকেও ইতালীয় ভাষা শেখার প্রয়োজন হবে। একই প্রস্তাবে স্কুলে বোরকা ও নেকাব পরা নিষিদ্ধ করার বিষয়টিও রাখা হবে।

দৈনিক আজকের কথা
স্কুলে বোরকা ও নেকাব নিষিদ্ধ করা এবং শ্রেণিকক্ষে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
— জর্জিয়া মেলোনি
ইতালির প্রধানমন্ত্রী, ব্রাদার্স অব ইতালি (FdI) দলের সভাপতি

ইউরোপে প্রবেশের ক্ষেত্রে ইতালি অভিবাসীদের অন্যতম প্রধান ট্রানজিট দেশ। আগামী বছর দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে অভিবাসীদের ইতালীয় সমাজের সঙ্গে একীভূত হওয়ার বিষয়টি দেশটির রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে গত জুলাইয়ে স্কুলে বোরকা ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের দাবি জানিয়েছিল ন্যাশনাল ফিউচার (এফএন) পার্টি। দলটি ক্ষমতাসীন জোটের অংশ নয়। রাজনৈতিক অবস্থানের দিক থেকে এফএনকে মেলোনির দলের চেয়েও ডানপন্থী হিসেবে বর্ণনা করা হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশের পর দলটির সমর্থন জনমত জরিপে বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইতালিতে বর্তমানে স্কুল বা জনসমাগমস্থলে সরাসরি বোরকা নিষিদ্ধ করার নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। তবে ১৯৭৫ সালের একটি আইনে সংগত কারণ ছাড়া মুখ বা পরিচয় ঢেকে রাখে এমন পোশাক কিংবা হেলমেট ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

পরে ২০০৮ সালে ইতালির সর্বোচ্চ প্রশাসনিক আদালত এ আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে জানায়, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক কারণে পুরো মুখ ঢাকা পোশাক পরা যেতে পারে। তবে পরিচয় শনাক্ত করার প্রয়োজন হলে মুখ উন্মুক্ত করতে হবে।

মেলোনির জোটসঙ্গী ও অভিবাসনবিরোধী লিগ পার্টিও চলতি বছরের শুরুতে সিনেটে একটি বিল উত্থাপন করেছে। ওই বিলে ক্রীড়া অনুষ্ঠান বা উপাসনালয়ের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্র ছাড়া মুখ ঢাকা পোশাক ও হেলমেট পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

ইতালির স্কুলগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা সীমিত রাখার নিয়ম আগে থেকেই রয়েছে। তবে এই নিয়মে ঠিক কী পরিবর্তন আনা হবে, সে বিষয়ে মেলোনি বিস্তারিত জানাননি।

ইতালির জাতীয় পরিসংখ্যান ইনস্টিটিউট (আইএসটিএটি) অনুযায়ী, দেশটির স্কুলগুলোর মোট শিক্ষার্থীর প্রায় ১২ শতাংশ বিদেশি। ২০১০ সাল থেকে প্রতিটি শ্রেণি ও স্কুলে বিদেশি শিক্ষার্থীর হার সর্বোচ্চ ৩০ শতাংশ রাখার নিয়ম চালু রয়েছে।

তবে ইতালীয় ভাষায় পর্যাপ্ত দক্ষতা থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এই সীমা বাড়ানো যায়। ইতালিতে জন্ম নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীরাও এ সুবিধা পেতে পারে। বিপরীতে ভাষাগত দক্ষতা দুর্বল হলে নির্ধারিত সীমা আরও কমানো হতে পারে।

অপ্রতিম হত্যার রেশ কাটেনি, কুমিল্লায় আবারো কলেজছাত্রী অপহরণ কুমিল্লায়

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৫২ এএম
অপ্রতিম হত্যার রেশ কাটেনি, কুমিল্লায় আবারো কলেজছাত্রী অপহরণ কুমিল্লায়

“অটোরিকশা থামিয়ে তুলে নেওয়ার অভিযোগ, ৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার”

কুমিল্লা নগরীতে প্রাইভেট পড়তে যাওয়ার পথে আনিসা তাছনিম তনয়া (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীকে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর নগরীর আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।

এ ঘটনায় অনন্য চৌধুরী (২১) নামে এক তরুণসহ অজ্ঞাত আরও ২ থেকে ৩ জনের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তনয়ার বাবা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতেই তিনি এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, তনয়া কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত অনন্য তাদের প্রতিবেশী। পরিবারের অভিযোগ, গত ৩ থেকে ৪ দিন ধরে কলেজ ও প্রাইভেটে যাতায়াতের পথে এবং বাসার সামনে অনন্য তনয়াকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও হয়রানি করে আসছিলেন। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযুক্তের মাকে জানানো হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, রোববার বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তনয়ার মা তাকে অটোরিকশায় তুলে সরকারি মহিলা কলেজের সামনে প্রাইভেট পড়তে পাঠান। পথে পুলিশ লাইন মোড় এলাকায় অনন্য চৌধুরীসহ অজ্ঞাত ২ থেকে ৩ জন অটোরিকশাটির গতিরোধ করেন। পরে তারা তনয়াকে টেনে-হিঁচড়ে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে তনয়া বাসায় না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। তবে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে শুরু করেন।

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আলেখারচর বিশ্বরোডের ওষুধ মার্কেট এলাকার একটি দোকানের সামনে তনয়াকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পান স্থানীয় এক দোকানদার। পরে ওই দোকানদার নিজের মোবাইল ফোন থেকে তনয়ার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে স্বজনরা অটোরিকশাযোগে সেখানে গিয়ে তাকে বাসায় নিয়ে আসেন।

পরিবারের দাবি, উদ্ধারের পর তনয়া তাদের জানান, তাকে একটি গাড়িতে করে আলেখারচর এলাকার একটি বাড়ির একটি কক্ষে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। এ সময় তার সঙ্গে থাকা একটি বাটন মোবাইল ফোন এবং কলেজ ব্যাগে থাকা বই-খাতা নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

পরিবারের আরও দাবি, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তনয়ার মুখ বেঁধে তাকে আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় ফেলে যাওয়া হয়।

এদিকে তনয়াকে উদ্ধারের পর রোববার রাতে হালিমা আক্তার তার নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লেখেন, “আলহামদুলিল্লাহ তনয়াকে পাওয়া গেছে। ও আমার আন্টির মেয়ে। ওর নামে উল্টাপাল্টা বলবেন না, ও বিবাহিত। আর ওরে কিডন্যাপ করা হয়েছিল।”

দৈনিক আজকের কথা
আলহামদুলিল্লাহ, তনয়াকে পাওয়া গেছে। সে আমার আন্টির মেয়ে। তার নামে উল্টাপাল্টা কিছু বলবেন না। সে বিবাহিত। তাকে কিডন্যাপ করা হয়েছিল। বিস্তারিত আগামীকাল বলা যাবে। পুরো পরিবার এখন থানায় রয়েছে। তনয়াকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ।
— হালিমা আক্তার
তনয়ার স্বজন

পোস্টে হালিমা আক্তার আরও জানান, এ বিষয়ে বিস্তারিত পরদিন বলা যাবে এবং পুরো পরিবার থানায় রয়েছে। দ্রুত তনয়াকে উদ্ধারের জন্য পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদও জানান তিনি।

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন তনয়ার বাবা মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন।

সোমবার সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, “এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।”

তবে তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা: জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৯ এএম
দ্বিতীয় স্ত্রীকে আত্মহত্যায় প্ররোচনা: জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী গ্রেপ্তার

ন্যাম ভবনে দ্বিতীয় স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পর জিজ্ঞাসাবাদ, পরে মামলায় গ্রেপ্তার

আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ। রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান।

তিনি জানান, শেরেবাংলা নগর থানায় সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
— মো. ইবনে মিজান
উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি), তেজগাঁও বিভাগ, ডিএমপি

এর আগে রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলার ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাট থেকে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে সিআইডির ফরেনসিক টিমকে ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ঘটনায় রোববার রাতে এমপি গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ। পরে আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর কারণ কী এবং এ ঘটনায় কারও দায় রয়েছে কি না—তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

×
ENG