নোয়াখালী শিশু হত্যার ঘটনা: সৎমা গ্রেপ্তার, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ নোয়াখালী শিশু হত্যার ঘটনা বেগমগঞ্জে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
৩ বছর বয়সী কুলসুম সুমাইয়া হত্যার অভিযোগে তার সৎমা শিউলি আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
নোয়াখালী শিশু হত্যার ঘটনা: সৎমা গ্রেপ্তার, আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ
নোয়াখালী শিশু হত্যার ঘটনা বেগমগঞ্জে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ৩ বছর বয়সী কুলসুম সুমাইয়া হত্যার অভিযোগে তার সৎমা শিউলি আক্তারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তাকে বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে রবিবার বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের খানপুর গ্রামে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সুমাইয়া সৌদি প্রবাসী ফয়সাল আহমদের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমাইয়া তার সৎ মায়ের সঙ্গে চৌমুহনী পৌরসভার একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। শনিবার দুপুরে তুচ্ছ ঘটনায় শিউলি শিশুটিকে মারধর করে, পরে গোসল করিয়ে ঘুম পাড়ান। বিকেলে ঘুমন্ত অবস্থায় শিশুটি মারা যায়। প্রবাসী স্বামীর পরামর্শে শিউলি মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে স্বামীর গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান দাফনের জন্য।
পরদিন সকালে গোসল দেওয়ার সময় স্থানীয়রা শিশুর গলা ও কানে আঘাতের চিহ্ন দেখে ৯৯৯-এ খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্তে আঘাতের প্রমাণ পায় এবং শিউলিকে গ্রেপ্তার করে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
নিহত শিশুর দাদী মারজাহান বেগম বাদী হয়ে সৎমাকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতে হাজির করলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নোয়াখালী শিশু হত্যার ঘটনা নিয়ে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, দড়ানীপাড়া গ্রামের খালেদা আক্তার (৭০) ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম টিটু (৩৫)। খালেদা আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা। টিটু সম্পর্কে তার ভাইয়ের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক জমি নিয়ে খালেদা আক্তার ও তার ভাই বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তাদের আরেক ভাই আবু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যায় জমি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।
একপর্যায়ে আবু মিয়া দা দিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম টিটুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইমা হক রিফাত বলেন, সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। দুজনের শরীরেই একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর অভিযুক্ত আবু মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল মুরাদনগর উপজেলায় হওয়ায় মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
ঘটনার কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।
প্রজাপতি চলেছে ডানা মেলে।
মনের আনন্দে তারা খেলা খেলে।
নদীতে নতুন জোয়ার এসেছে।
ঝর্ণায় এক অপূর্ব রূপ ধারণ করেছে।
পাহাড় যেনো দৃশ্যময়, রূপ ছড়িয়েছে।
সকলেই যেনো, আজকের দিনের বার্তা পেয়েছে।
আকাশ আজ রংধনুতে রঙিন হলো।
সূর্য এক নতুন আলো নিয়ে এলো।
চাঁদ যেন আজ ভিন্ন এক রূপ পেলো।
প্রকৃতি এক মায়াবী আবেশ দিলো।
ফুলগুলো আজ সুবাস ছড়ালো।
বাতাস আজ শীতল হলো।
মাটির কোমলতা যেন আরও বাড়ালো।
সকল কিছুই জানান দিলো—
জন্মদিন তোমার শুভ হলো।
আমিও জানাই শুভ কামনা।
পূর্ণ হোক তোমার মনের সকল ভাবনা।
মিলিত হোক যে যার ঠিকানা।
বন্ধ হোক প্রতিটি মানুষের ছলনা।
তোমার জন্য করি এই প্রার্থনা।
নতুন করে সাজিয়ে তোলো, তোমার জীবন।
ছিঁড়ে ফেলো না, প্রিয়জনের বাঁধন।
স্মরণ করিও আমায়, যদি হয় কখনো প্রয়োজন।
জীবন থেকে একেবারে, করিও না বিয়োজন।
শুভ জন্মদিন।
সময় হয়তো ভালো হবে, কোনো একদিন।
শুভ—শুভ জন্মদিন।
শুভ হোক তোমার জীবনের প্রতিটি দিন।
ভালো কাটুক তোমার আগামী দিন।
দোয়া করি সুখে থেকো তুমি চিরদিন।
শুভ জন্মদিন।
শোধ করে নিও, তোমার জীবনের সকল ঋণ।
হয়ো না যেনো কারো প্রশ্নের সম্মুখীন।
মেনে চলিও ইসলামের দ্বীন।
শুভ হোক তোমার শুভ জন্মদিন।
কবির পরিচিতি
আলেয়া মান্নান একজন কবি ও সাহিত্যপ্রেমী। তাঁর লেখা ৫০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ভ্রমণপ্রেমী এবং ঘুরতে ভালোবাসেন। শৈশব থেকেই ছিলেন দুরন্ত ও প্রাণবন্ত।
কবির পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, কর্মজীবন ও জীবনসংগ্রামের নানা অভিজ্ঞতা। তিনি একজন মা, সংসারী, চাকরিজীবী এবং দায়িত্বশীল মানুষ। মানুষের বিপদে পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন—মানবিকতাকেই তিনি নিজের বড় পরিচয় হিসেবে মনে করেন।
জন্মস্থান: কলমাকান্দা উপজেলা, নেত্রকোনা জেলা বর্তমান ঠিকানা: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা এনআইডি অনুযায়ী নাম: মোসাঃ আলেয়া খাতুন সাহিত্যিক নাম: আলেয়া মান্নান
জন্মদিন শুধু আনন্দ-উৎসবের একটি দিন নয়; এটি নতুন করে জীবনকে সাজানোর, প্রিয়জনদের স্মরণ করার এবং আগামী দিনগুলো আরও সুন্দরভাবে কাটানোর প্রত্যয়েরও দিন। ‘জন্মদিন’ কবিতার মাধ্যমে প্রিয় মানুষের জন্য শুভকামনা, ভালো থাকার প্রার্থনা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ১১টি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ও একটি রেস্তোরাঁসহ মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেবীদ্বার দক্ষিণ ও পৌর এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একটি রেস্তোরাঁয় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সারোয়ার আকবর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাওসার মিয়া, দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদাত ইরতিশাম, উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুন নাহার, জেলা ও প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেবীদ্বার থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।
যেসব প্রতিষ্ঠানে জরিমানা
অভিযানে দেবীদ্বার সদর এলাকার
মনোয়ারা হাসপাতালকে ৯০ হাজার টাকা, দেবীদ্বার মেডিকেল সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা, আবদুল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৭০ হাজার টাকা, মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৮০ হাজার টাকা, মেডিনোভা হাসপাতালকে ৫ হাজার টাকা, অ্যাপোলো হাসপাতালকে ৮০ হাজার টাকা, আলিফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা এবং দি গোমতী মেডিক্যাল সেন্টারকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ ছাড়া দেবীদ্বার দক্ষিণ এলাকার বাগুর মা-মনি মেডিক্যাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২০ হাজার টাকা এবং চান্দিনা মেডিনোভা হাসপাতালকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানের সংবাদ পেয়ে ‘ডক্টরস ল্যাব’ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ সরে যাওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ ছাড়া দেবীদ্বারের কয়লা রেস্তোরাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
মালিকের ক্ষোভ
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে পাঠালেও অভিযানে যেসব কারণে জরিমানা করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে আগে তাদের অবহিত করা হয়নি।
তার প্রশ্ন, “যে বিষয়গুলো আগে জানানো হয়নি, সেগুলোতেই হঠাৎ করে জরিমানা করা হলো কেন?”
৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টিতে অভিযান
দেবীদ্বারে মোট ৩৯টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ১১টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
যেসব অনিয়মের অভিযোগ
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অভিযানে চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত ফি আদায়, অপারেশন থিয়েটারে কাঠের তৈরি ফার্নিচার ও দরজা ব্যবহার, ল্যাবে এসি না থাকা, ফ্রিজে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং ফ্রিজে নিয়মবহির্ভূতভাবে ওষুধ সংরক্ষণের মতো বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া সি-ক্যাটাগরির হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বি-ক্যাটাগরির নিয়ম অনুসরণ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ও ৫২ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেবীদ্বারের সব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের নিয়ম-কানুন মেনে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।