সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

জমির বিরোধে রক্তাক্ত পরিণতি

জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরের দড়ানী পাড়ায় ফুফু-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১২ পিএম
জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরে ফুফু-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা

জমি নিয়ে বিরোধ, মুরাদনগরে ফুফু-ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যা। ছবি : দৈনিক আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
  • সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
  • নিহতরা হলেন, দড়ানীপাড়া গ্রামের খালেদা আক্তার (৭০) ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম টিটু (৩৫)।

কুমিল্লার মুরাদনগরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফুফু ও ভাতিজাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার দড়ানীপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, দড়ানীপাড়া গ্রামের খালেদা আক্তার (৭০) ও তার ভাতিজা মনজুরুল আলম টিটু (৩৫)। খালেদা আক্তার ওই গ্রামের বাসিন্দা। টিটু সম্পর্কে তার ভাইয়ের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক জমি নিয়ে খালেদা আক্তার ও তার ভাই বাচ্চু মিয়ার সঙ্গে তাদের আরেক ভাই আবু মিয়ার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যায় জমি নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়।

একপর্যায়ে আবু মিয়া দা দিয়ে খালেদা আক্তার ও মনজুরুল আলম টিটুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন বলে অভিযোগ। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।

গৌরীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাইমা হক রিফাত বলেন, সন্ধ্যার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। দুজনের শরীরেই একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।

ঘটনার পর অভিযুক্ত আবু মিয়া পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

দৈনিক আজকের কথা
খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাস্থল মুরাদনগর উপজেলায় হওয়ায় মুরাদনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে।
— সাজেদুল হক
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), দাউদকান্দি থানা।

ঘটনার কারণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

জন্মদিন: শুভকামনা, প্রার্থনা আর ভালো থাকার প্রত্যাশা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৬ পিএম
জন্মদিন: শুভকামনা, প্রার্থনা আর ভালো থাকার প্রত্যাশা

জন্মদিন
আলেয়া মান্নান

শুভ জন্মদিন।
আজ দিনটা সেজেছে মাতোয়ারা।
পাখিরা উড়ে যেতে চায় পাগলপারা।
খুশিতে ঝরে পড়েছে যেনো ফুলের ছড়া।
ভ্রমরগুলো ঘুরে বেড়াচ্ছে জোড়ায় জোড়া।

প্রজাপতি চলেছে ডানা মেলে।
মনের আনন্দে তারা খেলা খেলে।
নদীতে নতুন জোয়ার এসেছে।
ঝর্ণায় এক অপূর্ব রূপ ধারণ করেছে।
পাহাড় যেনো দৃশ্যময়, রূপ ছড়িয়েছে।
সকলেই যেনো, আজকের দিনের বার্তা পেয়েছে।

আকাশ আজ রংধনুতে রঙিন হলো।
সূর্য এক নতুন আলো নিয়ে এলো।
চাঁদ যেন আজ ভিন্ন এক রূপ পেলো।
প্রকৃতি এক মায়াবী আবেশ দিলো।
ফুলগুলো আজ সুবাস ছড়ালো।
বাতাস আজ শীতল হলো।
মাটির কোমলতা যেন আরও বাড়ালো।
সকল কিছুই জানান দিলো—
জন্মদিন তোমার শুভ হলো।

আমিও জানাই শুভ কামনা।
পূর্ণ হোক তোমার মনের সকল ভাবনা।
মিলিত হোক যে যার ঠিকানা।
বন্ধ হোক প্রতিটি মানুষের ছলনা।
তোমার জন্য করি এই প্রার্থনা।

নতুন করে সাজিয়ে তোলো, তোমার জীবন।
ছিঁড়ে ফেলো না, প্রিয়জনের বাঁধন।
স্মরণ করিও আমায়, যদি হয় কখনো প্রয়োজন।
জীবন থেকে একেবারে, করিও না বিয়োজন।

শুভ জন্মদিন।
সময় হয়তো ভালো হবে, কোনো একদিন।
শুভ—শুভ জন্মদিন।
শুভ হোক তোমার জীবনের প্রতিটি দিন।
ভালো কাটুক তোমার আগামী দিন।
দোয়া করি সুখে থেকো তুমি চিরদিন।

শুভ জন্মদিন।
শোধ করে নিও, তোমার জীবনের সকল ঋণ।
হয়ো না যেনো কারো প্রশ্নের সম্মুখীন।
মেনে চলিও ইসলামের দ্বীন।
শুভ হোক তোমার শুভ জন্মদিন।


কবির পরিচিতি

আলেয়া মান্নান একজন কবি ও সাহিত্যপ্রেমী। তাঁর লেখা ৫০টিরও বেশি কবিতা জাতীয় পত্রিকা ও লিটল ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ভ্রমণপ্রেমী এবং ঘুরতে ভালোবাসেন। শৈশব থেকেই ছিলেন দুরন্ত ও প্রাণবন্ত।

কবির পরিচয়ের সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, কর্মজীবন ও জীবনসংগ্রামের নানা অভিজ্ঞতা। তিনি একজন মা, সংসারী, চাকরিজীবী এবং দায়িত্বশীল মানুষ। মানুষের বিপদে পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন—মানবিকতাকেই তিনি নিজের বড় পরিচয় হিসেবে মনে করেন।

জন্মস্থান: কলমাকান্দা উপজেলা, নেত্রকোনা জেলা
বর্তমান ঠিকানা: যাত্রাবাড়ী, ঢাকা
এনআইডি অনুযায়ী নাম: মোসাঃ আলেয়া খাতুন
সাহিত্যিক নাম: আলেয়া মান্নান

দৈনিক আজকের কথা
জন্মদিন শুধু আনন্দ-উৎসবের একটি দিন নয়; এটি নতুন করে জীবনকে সাজানোর, প্রিয়জনদের স্মরণ করার এবং আগামী দিনগুলো আরও সুন্দরভাবে কাটানোর প্রত্যয়েরও দিন। ‘জন্মদিন’ কবিতার মাধ্যমে প্রিয় মানুষের জন্য শুভকামনা, ভালো থাকার প্রার্থনা এবং জীবনের প্রতি ইতিবাচক বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।
— কবি আলেয়া মান্নান
কবি ও সাহিত্যিক

 

দেবীদ্বারে প্রাইভেট হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, ১২ প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৫৮ পিএম
দেবীদ্বারে প্রাইভেট হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, ১২ প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা

কুমিল্লার দেবীদ্বারে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালিয়ে ১১টি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান ও একটি রেস্তোরাঁসহ মোট ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে দেবীদ্বার দক্ষিণ ও পৌর এলাকার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং একটি রেস্তোরাঁয় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. সারোয়ার আকবর, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুমিল্লার সহকারী পরিচালক মো. কাওসার মিয়া, দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সাদাত ইরতিশাম, উপজেলা নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক কামরুন নাহার, জেলা ও প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতির সভাপতি মো. তাজুল ইসলাম সরকার, সাধারণ সম্পাদক মো. ময়নাল হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দেবীদ্বার থানার ওসি (তদন্ত) মো. ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য মোতায়েন ছিলেন।

যেসব প্রতিষ্ঠানে জরিমানা

অভিযানে দেবীদ্বার সদর এলাকার

মনোয়ারা হাসপাতালকে ৯০ হাজার টাকা, দেবীদ্বার মেডিকেল সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা, আবদুল্লাহ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৭০ হাজার টাকা, মদিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৮০ হাজার টাকা, মেডিনোভা হাসপাতালকে ৫ হাজার টাকা, অ্যাপোলো হাসপাতালকে ৮০ হাজার টাকা, আলিফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ৪০ হাজার টাকা এবং দি গোমতী মেডিক্যাল সেন্টারকে ৪৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া দেবীদ্বার দক্ষিণ এলাকার বাগুর মা-মনি মেডিক্যাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ২০ হাজার টাকা এবং চান্দিনা মেডিনোভা হাসপাতালকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানের সংবাদ পেয়ে ডক্টরস ল্যাব’ বন্ধ করে কর্তৃপক্ষ সরে যাওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া দেবীদ্বারের কয়লা রেস্তোরাঁকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

মালিকের ক্ষোভ

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি বেসরকারি হাসপাতালের মালিক বলেন, হাসপাতাল পরিচালনার বিভিন্ন নিয়ম-কানুন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাদের কাছে পাঠালেও অভিযানে যেসব কারণে জরিমানা করা হয়েছে, সেসব বিষয়ে আগে তাদের অবহিত করা হয়নি।

তার প্রশ্ন, “যে বিষয়গুলো আগে জানানো হয়নি, সেগুলোতেই হঠাৎ করে জরিমানা করা হলো কেন?”

৩৯ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১টিতে অভিযান

দৈনিক আজকের কথা
দেবীদ্বারে মোট ৩৯টি প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে সোমবার ১১টি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
— মো. ময়নাল হোসেন
সম্পাদক, দেবীদ্বার প্রাইভেট হাসপাতাল মালিক সমিতি।

যেসব অনিয়মের অভিযোগ

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, জনস্বার্থে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানে চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে সরকারি নির্ধারিত ফি-এর অতিরিক্ত ফি আদায়, অপারেশন থিয়েটারে কাঠের তৈরি ফার্নিচার ও দরজা ব্যবহার, ল্যাবে এসি না থাকা, ফ্রিজে তাপমাত্রা মাপার যন্ত্র না থাকা, মেয়াদোত্তীর্ণ যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং ফ্রিজে নিয়মবহির্ভূতভাবে ওষুধ সংরক্ষণের মতো বিভিন্ন অনিয়ম পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া সি-ক্যাটাগরির হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে বি-ক্যাটাগরির নিয়ম অনুসরণ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার অভিযোগসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।

এসব অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪০ ও ৫২ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে বলে জানান নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে দেবীদ্বারের সব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের নিয়ম-কানুন মেনে চিকিৎসাসেবা পরিচালনার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

‘টোকাই’ থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে, আসিফের বিরুদ্ধে এবার হাজার কোটি টাকার অভিযোগের তদন্ত করবে দুদক

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
‘টোকাই’ থেকে ক্ষমতার কেন্দ্রে, আসিফের বিরুদ্ধে এবার হাজার কোটি টাকার অভিযোগের তদন্ত করবে দুদক

আসিফ আমলের নিয়োগ-পদোন্নতির নথি দুদকে, উঠছে হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়েছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করে অনিয়ম বা আইন-বিধির ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দুদক।

দুদকের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর মন্ত্রণালয়ের কাছে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চাওয়া হয়। পরে মন্ত্রণালয় থেকে অধিকাংশ নথি দুদকে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

দুদকের ওই কর্মকর্তা জানান, অনুসন্ধানের স্বার্থেই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথিপত্র তলব করা হয়েছিল। প্রাপ্ত নথিগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে। আইন ও বিধি লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

চার ধরনের নথি তলব

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অনুসন্ধানের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরদিনই যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে বিভিন্ন নথিপত্র চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

এর মধ্যে আসিফ মাহমুদ দায়িত্ব পালনকালে মন্ত্রণালয়ে সম্পন্ন হওয়া সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথি এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকের ভিত্তিতে সম্পন্ন বদলির নথিও রয়েছে।

নতুন অভিযোগেও অনুসন্ধান

এরই মধ্যে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আরও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক।

দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানিয়েছেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। নতুন অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই শেষে আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে তদন্ত করা হবে।

নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়ন, ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন টেন্ডার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে কমিশন গ্রহণের অভিযোগ আনা হয়েছে।

১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

দুদকের কাছে করা অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, এর মধ্যে দুবাইয়ে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ কোটি, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনারও অভিযোগ রয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
আসিফ একজন টোকাই। যার কাছে এখনো মানুষ রুটি-কলার পয়সা পায়। সেই টোকাই আজ ১৩ হাজার কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে পাচার করেছে—এটা কীভাবে সম্ভব? বিষয়টি জনগণের সামনে পরিষ্কার হওয়া দরকার।
— আনিস আলমগীর
সিনিয়র সাংবাদিক ও টকশো ব্যক্তিত্ব

তবে এসব অর্থ পাচারের অভিযোগ এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাইয়ের পর অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং ৩৬ জন জেলা প্রশাসক পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেন হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

প্রকল্প নিয়েও গুরুতর অভিযোগ

অভিযোগে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ, ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানোর বিষয়ও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে অর্থ লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ, এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

মুরাদনগরের প্রকল্প নিয়েও অভিযোগ

অভিযোগে আসিফ মাহমুদের নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং সেই বরাদ্দ ও অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

অভিযোগে তার বাবা বিল্লাল হোসেন, এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ও পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধেও ঠিকাদারি সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ, প্রশাসনের ওপর প্রভাব বিস্তার, ঘুষ লেনদেনে তদবির ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে দুদকের অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ অস্বীকার আসিফের

তবে দুদকের অনুসন্ধানে ওঠা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগে কখনো ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, কখনো ১১ হাজার কোটি টাকা আবার কখনো ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার কথা বলা হচ্ছে। অভিযোগের অঙ্কের এমন পার্থক্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারকে আগে নিজেদের মধ্যে বিষয়টি পরিষ্কার করতে হবে।

দৈনিক আজকের কথা
১১ হাজার কোটি টাকার এই সংখ্যাটি আগে ঠিকমতো নিজেদের মধ্যে বসে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হয়। একবার শুনি ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, এরপর ১১ হাজার কোটি টাকা, আবার কয়েকদিন আগে শুনলাম ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা। ২ কোটি ৭৬ লাখ থেকে ১১ হাজার কোটিতে উঠে যায়—তাহলে বিষয়টি নিয়ে সরকারের নিজেদের মধ্যে আগে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। সরকার যদি সিদ্ধান্ত নেয় কাউকে পাকড়াও করবে, তাহলে এর অনেক পদ্ধতি রয়েছে। আমরা দেখছি আগে দুদক কী কী করছে।
— আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া
সাবেক উপদেষ্টা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও মুখপাত্র, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অতীতে যেভাবে দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, ভবিষ্যতেও একইভাবে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে। আওয়ামী লীগ আমলের দুর্নীতি নিয়েও দুদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

একাধিক কর্মকর্তার নাম

দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন, উপসচিব মো. মাসুম আহমেদসহ আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম এসেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর অনুসন্ধানের তথ্য প্রকাশের পর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্যের প্রতিবাদ করেছিলেন আসিফ মাহমুদ। তিনি ওই বক্তব্যে নিজের মানহানি হয়েছে বলেও দাবি করেন। পরে ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপপরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবিতে আইনি নোটিশ পাঠানোর কথাও জানান তিনি।

তবে ৯ সেপ্টেম্বর দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে।

দুদকের অনুসন্ধান শেষ না হওয়া পর্যন্ত অভিযোগগুলোর সত্যতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। অনুসন্ধানে নথিপত্র, আর্থিক লেনদেন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাইয়ের পরই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।

তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন

সমালোচকদের কেউ কেউ আরও বলছেন, আসিফ মাহমুদ ও সরকারের পক্ষ থেকে পরস্পরের সঙ্গে নিগোসিয়েশন বা সমঝোতার মাধ্যমে একের পর এক অভিযোগ ও তদন্তের নাটক সাজানো হচ্ছে—যার শেষ পর্যন্ত বাস্তব কোনো ফল হবে না। তাদের ভাষায়, আসিফের অনিয়ম দূর্নীতি দিনের আলোর মতো সত্য হলেও, অভিযোগের অঙ্ক কখনো হাজার কোটি, কখনো অন্য কোনো পরিমাণ; কিন্তু দৃশ্যমানভাবে দায় নির্ধারণ বা অর্থ উদ্ধারের কার্যকর উদ্যোগ কতটা হচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন।

তাদের দাবি, জনগণকে একদিকে ব্যস্ত ও বিভ্রান্ত রাখতে এবং অন্যদিকে মূল বিষয়গুলো থেকে দৃষ্টি সরিয়ে দিতে সময়-সময় নতুন অভিযোগ সামনে আনা হচ্ছে। ফলে তদন্তের নামে যদি শেষ পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা না হয়, অর্থ উদ্ধার না হয় কিংবা কোনো মামলার কার্যকর পরিণতি না আসে, তাহলে পুরো প্রক্রিয়াটিই লোক দেখানো ও জনগণের সঙ্গে তামাশা হিসেবে বিবেচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে আসিফ মাহমুদ ও সরকারের মধ্যে এমন কোনো সমঝোতা হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ্যে পাওয়া না গেলেও সচেতন মহল এটা প্রকাশ্যেই বলে বেড়াচ্ছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং তদন্তের প্রকৃত উদ্দেশ্য নির্ধারণের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুসন্ধান ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করছে।

×
ENG