প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩

এমপি মনিরুল হকের দাড়িকে ‘রবীন্দ্রনাথের দাড়ি’ বলার অভিযোগে মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় মামলা

এমপি মনিরুল হক চৌধুরী
খাদিজা বেগম, বিশেষ প্রতিবেদক :

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দাড়িকে রবীন্দ্রনাথের দাড়ি বলে মন্তব্য করাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সংক্ষেপে ঘটনা

  • এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারের অভিযোগে মামলা।
  • ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমকে আসামি করা হয়েছে।
  • ২০ জুন সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার।
  • বাদীর যুবদল পরিচয় অস্বীকার করেছে কুমিল্লা মহানগর যুবদল।
  • ইসলামী আন্দোলনের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
  • পুলিশ জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।

গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলার পর বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউটিউবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে।

এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পোস্ট দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করেছেন। তবে তার এই পরিচয় অস্বীকার করেছে কুমিল্লা মহানগর যুবদল।

কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান বলেন, “জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো নেতা বা কর্মী নন। তিনি পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।”

তবে জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি যুবদলেরই কর্মী এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক। বিএনপির একজন সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতার মানহানি হয়েছে বলেই তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন।

এদিকে মামলার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফের দেওয়া এক পোস্টে মামলাটিকে ‘ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

একই পোস্টে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও তোলা হয়।

কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, “মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। আমরা বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।”

মামলা গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।”

মামলাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।

প্রিন্ট করুন