কুমিল্লায় একই স্থানে বিএনপির দুই গ্রুপের সমাবেশে নগরজুড়ে আতঙ্ক

রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা—কুমিল্লায় বিএনপির দুই গ্রুপের সমাবেশে নগরজুড়ে আতঙ্ক
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা—কুমিল্লা নগরীর কান্দিরপাড়ের ঐতিহ্যবাহী টাউন হল মাঠে একই দিনে বিএনপির দুই গ্রুপ আলাদা সমাবেশ ঘোষণায় গোটা শহরে উদ্বেগ ও অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশাসন বিষয়টি জানার পরও সময়মতো সমন্বয় করতে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষ আশঙ্কা করছেন, সরাসরি মুখোমুখি অবস্থান তৈরি হলে পরিস্থিতি যেকোনো মুহূর্তে সহিংসতায় গড়াতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) কুমিল্লা-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর গণসংযোগ এবং মনোনয়ন বঞ্চিত বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবেক এমপি হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সমর্থকদের দোয়া-মিলাদ—দুটিই একই স্থানে অনুষ্ঠানের কথা।
মনিরুল হক চৌধুরী আগেই অনুমতি নিলেও ইয়াছিনপন্থী গ্রুপ দাবি করছে, টাউন হল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে অন্য কোনো কর্মসূচি সম্পর্কে জানায়নি—ফলে প্রশ্ন উঠছে, প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবে বিষয়টি এড়িয়ে গেল কি না।
দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ ওয়াসিম বলেছেন,
“আমরা তিন দিন আগে অনুমতি নিয়েছি। সমঝোতা চাই, সংঘাত চাই না।”
কিন্তু বাস্তবে মাঠে-মহল্লায় দুই পক্ষের উত্তেজনা এতটাই বেড়েছে যে, সমঝোতার ডাক কার্যত অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে।
কুমিল্লা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন—দুটো আবেদনই এসেছে; সমঝোতার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কিন্তু নাগরিকদের প্রশ্ন—
সরকার ও প্রশাসন যখন জানত একই স্থানে দুই গ্রুপ আসছে, তখন কি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব ছিল না?
আরও উদ্বেগজনক হলো, পুলিশ সুপার নাজির আহম্মেদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি—এমন আচরণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের প্রস্তুত থাকা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা—একই দলের দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে শহরবাসী এখন দিশেহারা
রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা—এবার তা কেবল দলের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা নয়; প্রশাসনের উদাসীনতা, পুলিশের নীরবতা ও সরকারের নিয়ন্ত্রণহীনতা মিলিয়ে পুরো শহরকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। নাগরিকরা মনে করছেন, সরকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা না করে যেন ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলার সুযোগ সৃষ্টি করছে, যার মূল্য দিতে হবে সাধারণ জনগণকেই।
আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাঁচপুরে টার্মিনালের কাজ শেষ হবে : সড়ক পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ

সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেছেন,আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ঢাকা যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবো এবং নাগরিক সুবিধা দিতে পারবো, শেষ হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকাকে যানজট মুক্ত করার জন্য সমন্বিত বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।এরই অংশ হিসেবে ঢাকা যাত্রাবাড়ী সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কিছু অংশ কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের কাচঁপুরে স্থানান্তর করার কাজ চলমান রয়েছে।
বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল কাজের পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক,প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান,নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত।
এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,বিগত সরকারের আমলে চারটি বাস টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করেছিলো। সেহেতু সাধারণ মানুষ যানজটে ভোগান্তির শিকার হয়েছিলো।
বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষকে যানযট মুক্ত করার লক্ষ্যে যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা বাস টার্মিনাল গুলো পরিদর্শন করছি।এছাড়াও ঢাকা সিলেট হাইওয়ের উন্নয়ন কাজ ৪৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। দেশের সকল সড়ক মহাসড়কের কাজ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
ঢাকার সব সিগনাল পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।
১৪ মাস পর ক্যাম্পেইন
ঝালকাঠিতে ৮২ হাজার শিশুকে দেয়া হবে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল

ঝালকাঠিতে দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস বন্ধ থাকার পর শিশুকে দেয়া হবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৮ জুন ঝালকাঠি জেলায় ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।
মূল তথ্য এক নজরে
- ২৮ জুন ঝালকাঠি জেলায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।
- জেলার ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
- ৬-১১ মাস বয়সী ১০ হাজার ১১ জন শিশু পাবে নীল রঙের ক্যাপসুল।
- ১২-৫৯ মাস বয়সী ৭২ হাজার ৪৯০ জন শিশু পাবে লাল রঙের ক্যাপসুল।
- ক্যাপসুল সংকটের কারণে প্রায় ১৪ মাস পর আবার শুরু হচ্ছে এ কর্মসূচি।
- সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে চলবে ক্যাম্পেইন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার চারটি উপজেলার সব ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একযোগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১০ হাজার ১১ জন শিশুকে নীল (লীল) রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৭২ হাজার ৪৯০ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সব মিলিয়ে জেলার মোট ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশু এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন আয়োজনের কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ মাসের পর আর কোনো ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে প্রায় ১৪ মাস পর আবারও শিশুদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে ক্যাম্পেইনের আওতায় এনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাদীর পরিচয় নিয়ে বিতর্ক
এমপি মনিরুল হকের দাড়িকে ‘রবীন্দ্রনাথের দাড়ি’ বলার অভিযোগে মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লায় মামলা

কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর দাড়িকে রবীন্দ্রনাথের দাড়ি বলে মন্তব্য করাসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক, বিদ্বেষমূলক ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের অভিযোগে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সংক্ষেপে ঘটনা
- এমপি মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানহানিকর প্রচারের অভিযোগে মামলা।
- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির মুফতি ফয়জুল করীমকে আসামি করা হয়েছে।
- ২০ জুন সদর দক্ষিণ মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার।
- বাদীর যুবদল পরিচয় অস্বীকার করেছে কুমিল্লা মহানগর যুবদল।
- ইসলামী আন্দোলনের দাবি, মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
- পুলিশ জানিয়েছে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।
গত ২০ জুন জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলার পর বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও ইউটিউব চ্যানেলে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীকে নিয়ে কটূক্তি, বিদ্রুপ ও মানহানিকর বক্তব্য প্রচার করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, ইউটিউবে প্রচারিত একটি ভিডিওতে সংসদ সদস্যের দাড়ি, টুপি ও পোশাক নিয়ে বিদ্রুপাত্মক মন্তব্য করা হয়েছে।
এছাড়া একটি ফেসবুক আইডি থেকে তার ছবি ব্যবহার করে তাকে ‘গুপ্ত আওয়ামী লীগ নেতা’ এবং ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে পোস্ট দেওয়া হয় বলেও মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার বাদী জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার নিজেকে কুমিল্লা মহানগরীর ২৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক হিসেবে দাবি করেছেন। তবে তার এই পরিচয় অস্বীকার করেছে কুমিল্লা মহানগর যুবদল।
কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্যসচিব রোমান হাসান বলেন, “জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার যুবদলের কোনো নেতা বা কর্মী নন। তিনি পূর্বে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।”
তবে জালাল আহমেদ খোকন তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, তিনি যুবদলেরই কর্মী এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক। বিএনপির একজন সংসদ সদস্য ও রাজনৈতিক নেতার মানহানি হয়েছে বলেই তিনি মামলাটি দায়ের করেছেন।
এদিকে মামলার বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফের দেওয়া এক পোস্টে মামলাটিকে ‘ফ্যাসিবাদের অপতৎপরতা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
একই পোস্টে মামলার বাদীর বিরুদ্ধে অতীতে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগও তোলা হয়।
কুমিল্লা মহানগর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সভাপতি এম এম বিলাল হোসাইন বলেন, “মুফতি ফয়জুল করীমের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। আমরা বিষয়টি আইনগতভাবে মোকাবিলা করব।”
মামলা গ্রহণের বিষয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, “ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে মামলাটি গ্রহণ করা হয়েছে।”
মামলাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লার রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। একদিকে বাদীর রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে বিতর্ক, অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে মামলাটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করায় ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে।























