আগামী ছয় মাসের মধ্যে কাঁচপুরে টার্মিনালের কাজ শেষ হবে : সড়ক পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ

বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল কাজের পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। ছবি : আজকের কথা
সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ বলেছেন,আগামী ছয় মাসের মধ্যেই ঢাকা যাত্রাবাড়ী বাস টার্মিনালের সার্বিক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবো এবং নাগরিক সুবিধা দিতে পারবো, শেষ হবে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকাকে যানজট মুক্ত করার জন্য সমন্বিত বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।এরই অংশ হিসেবে ঢাকা যাত্রাবাড়ী সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কিছু অংশ কেরানীগঞ্জ ও নারায়ণগঞ্জের কাচঁপুরে স্থানান্তর করার কাজ চলমান রয়েছে।
বুধবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুরে বাস টার্মিনাল কাজের পরিদর্শনে এসে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ জিয়াউল হক,প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ ময়নুল হাসান,নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাংসদ আজহারুল ইসলাম মান্নান, জেলা প্রশাসক রায়হান কবির ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত।
এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,বিগত সরকারের আমলে চারটি বাস টার্মিনালকে ডিপো হিসেবে ব্যবহার করেছিলো। সেহেতু সাধারণ মানুষ যানজটে ভোগান্তির শিকার হয়েছিলো।
বর্তমান সরকার সাধারণ মানুষকে যানযট মুক্ত করার লক্ষ্যে যে সকল উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সেগুলো বাস্তবায়ন করার জন্যই আমরা বাস টার্মিনাল গুলো পরিদর্শন করছি।এছাড়াও ঢাকা সিলেট হাইওয়ের উন্নয়ন কাজ ৪৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। দেশের সকল সড়ক মহাসড়কের কাজ দ্রুত সময়ে সম্পন্ন করা হবে।
ঢাকার সব সিগনাল পয়েন্টে পর্যায়ক্রমে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।
পার্শ্ববর্তী দেশের পানি বৈষম্যের কারণে আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে: দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রী

মানিকগঞ্জে খাল খনন প্রকল্পের কাজ পরিদর্শন করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে শিবালয় উপজেলার কাসাদহ খালের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বৃক্ষরোপণ করেন এই দুই মন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, পার্শ্ববর্তী একটি দেশের পানি বৈষম্যের কারণে আমাদের নদীগুলো শুকিয়ে যাচ্ছে। আমরা ঠিকমতো পানি পাচ্ছি না। তিস্তা এখন মরুভূমি হয়ে গেছে। এর জন্য তিস্তা মহা পরিকল্পনা এবং পদ্মা মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকার গ্রহণ করেছে।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। নদীগুলো অবহেলায় অযত্নে অবজ্ঞার কারণে নদীগুলো খালে পরিণত হয়েছে। সেগুলাকে পুনঃক্ষণনের মহা পরিকল্পনা রয়েছে।
আগাম বৃষ্টির কারণে খাল খননের কাজ কিছুটা বাঁধাগ্রস্থ হচ্ছে। আগামী শুকনো মৌসুমে অসম্পূর্ণ কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। খাল খননে দুর্নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
ইমো কলে বন্দিদশার বর্ননা
লক্ষ্মীপুরে দুই মাস ধরে নিখোঁজ কলেজছাত্রী নিশি, মেয়েকে ফিরে পেতে মায়ের আকুতি

লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের নিখোঁজ কলেজছাত্রী এখনো উদ্ধার হয়নি। সে ওই কলেজের ডিগ্রি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তার নিশি গত দুই মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছে। তার সন্ধানে পুলিশ কাজ করলেও এখন পর্যন্ত কোনো খোঁজ মেলেনি। এ অবস্থায় মেয়েকে সুস্থভাবে ফিরে পেতে আকুতি জানিয়েছেন তার মা ছকিনা বেগম।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী মুর্শিদা আক্তার নিশি ২২ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ।
- ২৫ এপ্রিল তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
- গত ৩ জুন ইমো কলে নিশি মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্দিদশায় থাকার দাবি করে।
- নিশির ভাষ্য অনুযায়ী, তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে এবং একজন মহিলা খাবার দেন।
- পুলিশ বলছে, তদন্ত অব্যাহত রয়েছে; এখনো তার অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
- পরিবার দ্রুত নিশিকে উদ্ধার করে ফিরিয়ে আনার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছে।
পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিশি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল খালেকের মেয়ে। গত ২২ এপ্রিল সকালে কলেজে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে সে নিখোঁজ রয়েছে। এরপর আর তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের তিন দিন পর, ২৫ এপ্রিল নিশির বাবা লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিশির মা ছকিনা বেগম জানান, নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক মাস পর গত ৩ জুন একটি ইমো আইডি থেকে নিশি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। কথোপকথনের সময় নিশি দাবি করে, তাকে একটি ঘরে আটকে রাখা হয়েছে। ঘরের বাইরে যেতে না পারায় সে কোথায় রয়েছে, সেটিও বলতে পারেনি।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন কলেজে যাওয়ার পথে নিশি প্রথমে একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশায় ওঠে। পথে অটোরিকশাটি বিকল হয়ে গেলে ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের সূতারগোপ্টা এলাকায় তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে অন্য একটি অটোরিকশায় ওঠার পর সেখান থেকে কেউ তার মুখে স্প্রে করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় বলে নিশি তাকে জানিয়েছে।
আবেগঘন কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি শুধু আমার মেয়েকে ফিরে চাই। দুই মাস হয়ে গেল, এখনো তার কোনো খোঁজ পেলাম না।”
নিশির চাচা আবুল বাশার বলেন, “নিশি ইমো কলে জানিয়েছে তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়েছে। একজন মহিলা নিয়মিত তাকে খাবার দিয়ে যায়। ওই মহিলার মোবাইল ফোন থেকেই নিশি তার মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। এতদিন পেরিয়ে গেলেও মেয়েটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তাকে দ্রুত উদ্ধার করার অনুরোধ জানাচ্ছি।”
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবীর বলেন, “২২ এপ্রিল কলেজছাত্রী নিশি নিখোঁজ হওয়ার পর ২৫ এপ্রিল তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মেয়েটি মাঝে মধ্যে ইমোর মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। তবে ইমো কলের মাধ্যমে তার অবস্থান নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। আমাদের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনাটি অপহরণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নাও হতে পারে। তবে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেল পর্যন্ত কোথাও নিশির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যরা এখনও তার নিরাপদ ফিরে আসার অপেক্ষায় দিন গুনছেন।
১৪ মাস পর ক্যাম্পেইন
ঝালকাঠিতে ৮২ হাজার শিশুকে দেয়া হবে ভিটামিন এ প্লাস ক্যাপসুল

ঝালকাঠিতে দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস বন্ধ থাকার পর শিশুকে দেয়া হবে ভিটামিন এ ক্যাপসুল। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৮ জুন ঝালকাঠি জেলায় ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
এ উপলক্ষে ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান ঝালকাঠির সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।
মূল তথ্য এক নজরে
- ২৮ জুন ঝালকাঠি জেলায় অনুষ্ঠিত হবে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন।
- জেলার ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
- ৬-১১ মাস বয়সী ১০ হাজার ১১ জন শিশু পাবে নীল রঙের ক্যাপসুল।
- ১২-৫৯ মাস বয়সী ৭২ হাজার ৪৯০ জন শিশু পাবে লাল রঙের ক্যাপসুল।
- ক্যাপসুল সংকটের কারণে প্রায় ১৪ মাস পর আবার শুরু হচ্ছে এ কর্মসূচি।
- সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার সব ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে চলবে ক্যাম্পেইন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত জেলার চারটি উপজেলার সব ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে একযোগে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১০ হাজার ১১ জন শিশুকে নীল (লীল) রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৭২ হাজার ৪৯০ জন শিশুকে লাল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। সব মিলিয়ে জেলার মোট ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশু এ কর্মসূচির আওতায় আসবে।
জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী বছরে দুইবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন আয়োজনের কথা থাকলেও ক্যাপসুল সংকটের কারণে গত বছরের মার্চ মাসের পর আর কোনো ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত হয়নি। ফলে প্রায় ১৪ মাস পর আবারও শিশুদের জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ভিটামিন ‘এ’ শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টি প্রতিরোধ এবং দৃষ্টিশক্তি সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তাই নির্ধারিত বয়সের সব শিশুকে ক্যাম্পেইনের আওতায় এনে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।






















