মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার: দোষ স্বীকারে প্রস্তুত মূল অভিযুক্ত বাচ্চু মেম্বার

মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার মামলায় চাঞ্চল্যকর অগ্রগতি ঘটেছে। কুমিল্লার মুরাদনগরে একই পরিবারের তিনজনকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বাচ্চু মেম্বার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হয়েছেন। রোববার (৬ জুলাই) তাকে কুমিল্লার ৫ নম্বর আমলি আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ তাঁর বক্তব্য রেকর্ডের প্রক্রিয়া শুরু করেন।
একই মামলায় এজাহারভুক্ত আরও চার আসামি—রবিউল আওয়াল (৫৫), দুলাল (৪৫), আতিকুর রহমান (৪২), বায়েজ মাস্টার (৪৩) এবং আকাশ (২৪)-কে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আদালত তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কোর্ট পরিদর্শক ইন্সপেক্টর সাদেকুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

র্যাব-১১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন শনিবার (৫ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মোবাইল চুরির অভিযোগ থেকে এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত। বাচ্চু মেম্বার শুরু থেকেই নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে জড়িত ছিলেন।
এর আগে শনিবার ভোরে সেনাবাহিনী কুমিল্লা থেকে এজাহারভুক্ত আসামি বাবুল মিয়া (৫০) ও ছবির মিয়াকে (৪৫) গ্রেপ্তার করে। এ নিয়ে মামলায় মোট আটজন গ্রেপ্তার হয়েছে। তবে রোববার সন্ধ্যা পর্যন্ত নতুন কাউকে গ্রেপ্তারের খবর নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার-এর ঘটনায় নিহতদের নাম—রোকসানা বেগম ওরফে রুবি (৫৩), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে তাসপিয়া আক্তার ওরফে জোনাকি (২৯)। তাদেরকে ৩ জুলাই সকাল সাড়ে আটটা থেকে নয়টার মধ্যে বাঙ্গরা বাজার থানার কড়ইবাড়ী গ্রামে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। গুরুতর আহত হন রোকসানার আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (২৭), যিনি বর্তমানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পরদিন শনিবার নিহত রোকসানার বড় মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে বাচ্চু মেম্বারসহ ৩৮ জনকে আসামি করে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।
উল্লেখ্য- মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার নিয়ে বাঙ্গরা বাজার থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, “এ পর্যন্ত ৮ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়।”
পুলিশের দেওয়া তথ্যমতে, গত ১১ মাসে এ উপজেলায় ১০টি খুন এবং ৩০টি ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
শেরপুরে বাউল শিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ভুক্তভোগী উদ্ধার, আরও ৭ আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান
বগুড়ার শেরপুরে এক বাউল শিল্পীকে ধর্ষণের অভিযোগে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শেরপুর উপজেলার দুবলাগাড়ি গ্রামের মো. রায়হান (২৮) ও তাজপাড়া গ্রামের পারভেজ হাসান (২৬)। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁদের সঙ্গে আরও সাতজনকে আসামি করা হয়েছে।

ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। গ্রেপ্তার দুজনকে রোববার আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হবে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী স্থানীয় একজন বাউল শিল্পী। শুক্রবার সন্ধ্যায় রায়হানের সঙ্গে দেখা করতে তিনি শেরপুর শহরে আসেন। এ সময় রায়হান তাঁকে চাচার বাসায় পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলে কৌশলে সঙ্গে নিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে পৃথক দুটি স্থানে রায়হান ও পারভেজ ওই নারীকে ধর্ষণ করেন বলে মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় আরও কয়েকজন তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে এগিয়ে এসে অভিযুক্ত দুইজনকে আটক করেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর দেওয়া হলে শনিবার ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে এবং রায়হান ও পারভেজকে থানায় নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে শেরপুর থানায় ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার দুই আসামিকে রোববার আদালতে হাজির করে জেলহাজতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
ইউএনও বদলির খবরে মুরাদনগরে আনন্দ, স্বস্তির বাতাস

মাত্র পাঁচ মাসেই বদলি, ‘হাফ ছেড়ে বাঁচলেন’ অনেকে; নতুন ইউএনওকে ঘিরে প্রত্যাশা
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ.বি.এম. সারওয়ার রাব্বীর বদলির খবরে স্থানীয়দের একটি অংশের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি ও আনন্দ। মাত্র প্রায় পাঁচ মাস দায়িত্ব পালনের পর তাঁর বদলির খবর ছড়িয়ে পড়তেই বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা। অনেকেই বলছেন, “অবশেষে বদলি হলো”—এমন প্রতিক্রিয়াও শোনা যাচ্ছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সম্প্রতি প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে মুরাদনগরের ইউএনও এ.বি.এম. সারওয়ার রাব্বীকে বদলি করা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ প্রকাশ্যে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ নতুন ইউএনওর কাছে নতুন প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন।

বদলির খবর শুনে সত্যিই ভালো লেগেছে। মনে হচ্ছে মুরাদনগরের মানুষ একটু স্বস্তি পাবে। এখন এমন একজন ইউএনও চাই, যিনি কোনো পক্ষের হয়ে নয়—সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করবেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের একটি অংশের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে অবৈধ ড্রেজার, ইটভাটা ও বিভিন্ন অনিয়মের বিষয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছিল বলে দাবি স্থানীয়দের।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ইউএনওর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের কেউ কেউ আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও নাগরিক সেবার ক্ষেত্রে সবসময় প্রত্যাশিত স্বচ্ছতা ও সমন্বয় দেখা যায়নি। ফলে বদলির খবরকে তারা প্রশাসনে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।
এদিকে ইউএনওর বদলির খবরে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলেও নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও মিষ্টি বিতরণ করে আনন্দ প্রকাশের খবরও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া গেছে। তবে এর সঙ্গে কারা কী উদ্দেশ্যে যুক্ত ছিলেন, তা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, নতুন ইউএনও দায়িত্ব গ্রহণের পর মুরাদনগর উপজেলা প্রশাসনে আইনের শাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও জোরদার হবে। অবৈধ ড্রেজার, ইটভাটা, সরকারি রাস্তা দখল কিংবা অন্য যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা তাদের।
তাদের ভাষ্য, কোনো কর্মকর্তা কতদিন দায়িত্ব পালন করলেন সেটিই বড় বিষয় নয়; বরং সাধারণ মানুষ তাঁর কাছ থেকে কতটা ন্যায়সংগত ও নিরপেক্ষ সেবা পেলেন—সেটিই হওয়া উচিত প্রশাসনের সাফল্যের মাপকাঠি।
মুরাদনগরবাসীর এখন অপেক্ষা—নতুন ইউএনও কে আসছেন এবং তাঁর হাত ধরে উপজেলা প্রশাসনে সত্যিই কি পরিবর্তনের নতুন বার্তা আসে।
দেবীদ্বারে অবৈধ ড্রেজারবিরোধী অভিযান: ৫ ড্রেজার ও ১,৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে পাঁচটি ড্রেজার ও ১ হাজার ৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করেছে উপজেলা প্রশাসন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও গ্রাম পুলিশ সদস্যরা সহযোগিতা করেন।

অবৈধ ড্রেজারবিরোধী অভিযানে ৫টি ড্রেজার ও ১ হাজার ৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে। কৃষিজমি, পরিবেশ ও জনস্বার্থ রক্ষায় অবৈধভাবে মাটি কাটা এবং ড্রেজার ব্যবহারের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ফসলি জমি নষ্ট করে অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে সুলতানপুর ইউনিয়নের বক্রিকান্দি এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি ড্রেজার ও ৫০০ ফুট পাইপ, রামের দিঘির পাড় এলাকায় দুটি ড্রেজার ও ৩০০ ফুট পাইপ এবং কুরছাপ এলাকায় একটি ড্রেজার ও ৫০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়।
অভিযানে মোট পাঁচটি ড্রেজার ও ১ হাজার ৩০০ ফুট পাইপ বিনষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষিজমি রক্ষা, পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রবণতা বন্ধে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।
























