‘ইউনূস পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে চান’ — অন্তর্বর্তী সরকারের নামে দীর্ঘমেয়াদি শাসনের অভিযোগে তোলপাড়

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন। খ্যাতনামা সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক খালেদ মুহিউদ্দীন সম্প্রতি একটি টেলিভিশন টকশোতে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “ড. ইউনূস আসলে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকার স্বপ্ন দেখছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের নাম করে তিনি দীর্ঘমেয়াদি একটি শক্তিশালী শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছেন।”
🔥 “ইউনূস ক্ষমতা ছাড়তে চান না”—মুহিউদ্দীনের অভিযোগ
“একটা অন্তর্বর্তী সরকার কখনোই পাঁচ বছরের পরিকল্পনা করে না,”—এমন মন্তব্য করে খালেদ মুহিউদ্দীন বলেন, “ড. ইউনূসের কথাবার্তা, বিদেশি রাষ্ট্রদূতদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা, এবং গণমাধ্যমে তার পক্ষে পরিচালিত প্রচারণা স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দেয়, তিনি এই সরকারকে দীর্ঘমেয়াদি শাসনের প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করতে চাইছেন।”
তিনি আরো বলেন, “ড. ইউনূস বারবার ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে আগের সরকারের সমালোচনা করেন। আমি তাকে চ্যালেঞ্জ করে বলছি—একটা চুক্তি দেখান তো, যেটা তিনি বাতিল করেছেন ভারতের সঙ্গে! ভারতের স্বার্থে কিছুই তো বন্ধ হয়নি। বরং প্রথমেই তিনি টাকা বরাদ্দ করেছেন যেসব প্রকল্প ভারতের সাথে সংযুক্ত।”
🏛️ “বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করছেন”—কাদের উদ্দেশ্যে বললেন মুহিউদ্দীন?
সাবেক উপদেষ্টা পরিষদসহ বিভিন্ন ‘জাতীয়’ ব্যক্তিত্ব ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী যে আজকের সরকারের পর্দার আড়ালের চালক—তা নিয়েও মুখ খুলেছেন মুহিউদ্দীন। তিনি বলেন, “যারা এখন ইউনূসের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তারাই বিদেশিদের স্বার্থ রক্ষা করছেন। তাদের মুখে বিএনপিকে লুটপাটকারী বলাটা হাস্যকর। কারণ জনগণের কাছে দায়বদ্ধ না হয়ে বিদেশিদের খুশি করাই যদি মূল উদ্দেশ্য হয়—তাহলে সেটা কি গণতন্ত্র?”
📢 সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার ঝড়
খালেদ মুহিউদ্দীনের বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
একজন টুইটার ব্যবহারকারী লিখেছেন,
“ড. ইউনূস কি সত্যিই একজন নিরপেক্ষ অন্তর্বর্তী নেতা, নাকি করপোরেট ফ্যাসিজমের নতুন মুখ?”
ফেসবুকে একজন সাংবাদিক লিখেছেন,
“যে সরকার জনগণের ভোটে আসেনি, সে যদি ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়—তা গণতন্ত্রের জন্য ভয়ঙ্কর সংকেত।”
অন্যদিকে কিছু নেটিজেন তার এই মন্তব্যকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।
🧠 রাজনৈতিক বিশ্লেষক: “ড. ইউনূস নিজেই হয়ে উঠছেন একটি বিকল্প ক্ষমতাকাঠামো”
রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. তানভীর হাসান বলেন, “একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন নীতিগতভাবে নিরপেক্ষ থাকা উচিত, তখন যদি তার প্রধান নিজেই ভবিষ্যতের রোডম্যাপ নির্ধারণ করতে শুরু করেন, সেটি স্পষ্টতই সাংবিধানিক প্রশ্ন তোলে। ইউনূস এখন শুধু একজন প্রশাসক নন, তিনি হয়ে উঠছেন একটি বিকল্প ক্ষমতার কেন্দ্র।”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “বিকল্প রাজনীতি বলেই শুরু হয়েছিল, এখন সেটি কি বিকল্প স্বৈরতন্ত্রে পরিণত হচ্ছে?”
🛡️ ইউনূসপন্থী প্রতিক্রিয়া: “অসৎ উদ্দেশ্যেই এসব বলা হচ্ছে”
এই বিতর্কের প্রেক্ষিতে ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক ড. রাশেদ আনোয়ার বলেন, “খালেদ মুহিউদ্দীনের বক্তব্য বিভ্রান্তিকর। ইউনূস কখনো বলেননি তিনি পাঁচ বছর থাকতে চান। এসব বলা হচ্ছে তাকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বিতর্কিত করার জন্য। বাস্তবে তিনি একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করাই মূল লক্ষ্য বলে বারবার বলেছেন।”
📌 উপসংহার
ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে প্রশ্ন নতুন নয়, তবে খালেদ মুহিউদ্দীনের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বিতর্ক যেন নতুন মাত্রা পেয়েছে। এখন সময় বলবে, এই বিতর্ক আগামী নির্বাচনী পরিবেশ কতটা প্রভাবিত করে।
আপনার মতামত দিন
আপনার এলাকায় অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম কেমন চলছে? কমেন্টে জানান অথবা আমাদের ইনবক্সে লিখুন।
সংবাদটি লিখেছেন: প্রতিবেদক দল, জয় বাংলার জয়
যোগাযোগ: news@dainikajkerkotha.com
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
































