সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

রাজনীতিতে ফিরবে কি সমঝোতা?

ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৩ পিএম
ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি

ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি। ছবি : সংগৃহিত

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে গেছে।
  • ওই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা শুধু তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশকেই রক্তাক্ত করেনি; এর অভিঘাতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার দূরত্বও ক্রমশ গভীর হয়েছে।
  • প্রশ্ন হলো—এই ঘটনার আগে কি দুই দলের সম্পর্ক এতটাই বৈরী ছিল?

ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গভীর ক্ষত তৈরি করে গেছে। ওই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা শুধু তৎকালীন বিরোধী দল আওয়ামী লীগের সমাবেশকেই রক্তাক্ত করেনি; এর অভিঘাতে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার দূরত্বও ক্রমশ গভীর হয়েছে। প্রশ্ন হলো—এই ঘটনার আগে কি দুই দলের সম্পর্ক এতটাই বৈরী ছিল?

আমার দেখা রাজনৈতিক বাস্তবতা কিন্তু কিছুটা ভিন্ন। বিএনপি ও আওয়ামী লীগ পরস্পরের কঠোর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ছিল, সংসদে ও রাজপথে একে অপরের তীব্র সমালোচনা করেছে; কিন্তু ব্যক্তিগত ও সামাজিক পর্যায়ে একটা সৌজন্যবোধও ছিল। এমন সময়ও দেখেছি, বিকেলে মাঠের বক্তৃতায় একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেছেন, অথচ রাতে একই ডিনার টেবিলে পাশাপাশি বসেছেন। দুই দলের নেতাদের পরস্পরের সামাজিক অনুষ্ঠানেও দেখা যেত।

এরশাদবিরোধী আন্দোলনে একসঙ্গে দুই দল

১৯৯০ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের পতন ঘটায়। এরপর ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ চলে যায় বিরোধী দলে।

ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি। ছবি : সংগৃহিত
ইতিহাসের সত্যিটা কী? ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা যেভাবে বদলে দিল বাংলাদেশের রাজনীতি। ছবি : সংগৃহিত

তখন আওয়ামী লীগ সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের দাবি তোলে। বিএনপির তৎকালীন অবস্থান ছিল রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার পক্ষে। কিন্তু বিরোধী দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শেষ পর্যন্ত সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তিত হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়েও সমঝোতা

১৯৯৪ সালে মাগুরার একটি উপনির্বাচনে ভোট কারচুপির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি তোলে। বিএনপি প্রথমদিকে সেই দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও রাজনৈতিক পরিস্থিতির চাপে শেষ পর্যন্ত সংসদে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করে।

১৯৯৬ সালে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। বিএনপি চলে যায় বিরোধী দলে। এরপর নানা ইস্যুতে দুই দলের মধ্যে আন্দোলন-সংগ্রাম চললেও রাজনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে এক ধরনের সৌজন্য তখনও বিদ্যমান ছিল।

দৈনিক আজকের কথা
রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, তবে প্রতিহিংসা নয়। দেশের স্বার্থে রাজনৈতিক সহাবস্থান ও সমঝোতার পথেই ফিরতে হবে।
— এবিএম আতিকুর রহমান বাশার
প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি- দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাব

উগ্রবাদের ধারাবাহিক হামলা

এরই মধ্যে দেশে ধারাবাহিক বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা এবং ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বোমা হামলা ছিল বাংলা সংস্কৃতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার ওপর উগ্রবাদী হামলার ভয়াবহ দৃষ্টান্ত।

২০০১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হয়। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করে। আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থেকে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রাম চালিয়ে যায়।

এরপর আসে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট।

২১ আগস্ট বদলে দিল রাজনীতির গতিপথ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকায় আওয়ামী লীগের সমাবেশে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। হামলায় আওয়ামী লীগের তৎকালীন মহিলা বিষয়ক সম্পাদক আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন এবং শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন।

বিরোধী দলের একটি রাজনৈতিক সমাবেশে এমন নারকীয় হামলা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। পরবর্তী সময়ে এই হামলার তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে নানা বিতর্ক, বিশেষ করে ‘জজ মিয়া’ কাহিনি, আওয়ামী লীগের মধ্যে বিএনপিকে ঘিরে গভীর অবিশ্বাস ও ক্ষোভ তৈরি করে।

আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের মধ্যে তখন এই ধারণা শক্তিশালী হয় যে, তাদের নেতৃত্বকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই হামলাটি ঘটানো হয়েছিল। সেই ক্ষোভ ও অবিশ্বাস পরবর্তী সময়ে দুই দলের রাজনৈতিক সম্পর্ককে সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে যায়।

২০০৮-এর পর প্রতিশোধের রাজনীতি?

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপির বিরুদ্ধে কঠোর রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার কারাবন্দিত্ব, তারেক রহমানের দীর্ঘদিন দেশে ফিরতে না পারা এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল—সব মিলিয়ে দুই দলের দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে।

একই সময়ে উগ্রবাদ ও ধর্মীয় রাজনীতিকে ঘিরেও আওয়ামী লীগ সরকারের নানা নীতি ও রাজনৈতিক সমঝোতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। বিএনপিকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করার কৌশল এবং ২১ আগস্টের ক্ষত থেকে তৈরি হওয়া প্রতিশোধের রাজনীতি—দুই পক্ষের সম্পর্ককে আরও সংঘাতপূর্ণ করে তোলে।

আওয়ামী লীগের পতন, কিন্তু ইতিহাসের প্রশ্ন থেকেই যায়

পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর পেছনে রাজনৈতিক আন্দোলন, জনঅসন্তোষ, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন বিতর্ক এবং উগ্রবাদী ও স্বাধীনতাবিরোধী শক্তির সক্রিয় ভূমিকা—সবকিছুর সমন্বিত প্রভাব ছিল বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষণে নানা মত রয়েছে।

তবে একটি বিষয় অস্বীকার করার উপায় নেই—বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যকার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দূরত্ব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ভারসাম্যকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।

আজ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—বাংলাদেশের মতো একটি দেশে দীর্ঘদিনের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দল এবং সেই দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিপুল জনগোষ্ঠীকে কি রাজনীতির বাইরে রেখে দেওয়া সম্ভব?

ইতিহাস অন্তত একটি শিক্ষা দেয়—রাজনৈতিক দলকে কেবল দমন করে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া সহজ নয়। গত ১৫ বছর নানা চাপ ও রাজনৈতিক প্রতিকূলতার মধ্যেও বিএনপিকে বিলীন করা সম্ভব হয়নি। আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রেও ইতিহাসের সেই বাস্তবতা প্রযোজ্য হতে পারে।

শেষ প্রশ্ন—সমঝোতার রাজনীতি কি ফিরবে?

বাংলাদেশের রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সম্ভবত প্রতিশোধ নয়, রাজনৈতিক সহাবস্থান ও গণতান্ত্রিক সমঝোতা।

বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা যদি শত্রুতায় পরিণত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় রাষ্ট্র, গণতন্ত্র এবং সাধারণ মানুষ।

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের রক্তাক্ত অধ্যায় তাই শুধু একটি রাজনৈতিক দলের ওপর হামলার ইতিহাস নয়; এটি বাংলাদেশের রাজনীতির বিভাজনেরও একটি বড় বাঁক।

ইতিহাসের সত্য পুরোপুরি কখনো এক বাক্যে ধরা পড়ে না। সময়ের সঙ্গে নতুন তথ্য, নতুন দলিল ও নতুন বিচার সেই ইতিহাসকে আরও পরিষ্কার করে।

বাংলাদেশে প্রতিহিংসার রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে ‘রিকনসিলিয়েশন’ বা রাজনৈতিক পুনর্মিলনের রাজনীতি কখনো প্রতিষ্ঠিত হবে কি না—সেই উত্তরই এখন ভবিষ্যতের হাতে।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ এএম
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।

পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।

পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।

কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
ENG