মাদক সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির অভিযোগ
গোদাগাড়ী থানার এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে হেরোইন বিক্রির অভিযোগ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে উদ্ধারকৃত হেরোইন বিক্রি, মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, তার কর্মকাণ্ডে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, মাদক উদ্ধার অভিযানে আটককৃত আসামিদের কাছ থেকে জব্দ করা আসল হেরোইনের বড় অংশ সরিয়ে ফেলে তার জায়গায় নকল বা মাদক সদৃশ বস্তু প্রতিস্থাপন করা হয়। পরে সেই জব্দকৃত আলামত আদালতে উপস্থাপন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১০ এপ্রিল বিকেলে ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আলিয়ারা বেগম নামে এক নারীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা (এফআইআর নং-২১, জিআর নং-১০৯) দায়ের করা হয়।
তবে অভিযোগ উঠেছে, জব্দ করা ১০০ গ্রাম হেরোইনের মধ্যে ৯০ গ্রাম বিক্রি করে দেওয়া হয় এবং মাত্র ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। পরে বাকি অংশে মাদক সদৃশ বস্তু যুক্ত করে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।
এছাড়া ফসলি জমির টপসয়েল কাটা সিন্ডিকেট ও স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগও রয়েছে এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে। অভিযোগকারীদের দাবি, বিভিন্ন মামলায় আপোষ-মীমাংসার নামে বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষকে থানায় ডেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়।
এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, পুলিশের একজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা জরুরি। অন্যথায় জনমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আস্থা সংকট আরও বাড়তে পারে।

















