কুমিল্লায় এসএসসি কেন্দ্রে ঢুকে লাইভ, নিয়ম ভাঙায় তোপের মুখে এমপি সেলিম ভূঁইয়া
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা উপেক্ষা করে এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রের ভেতর প্রবেশ করে ফেসবুকে লাইভ করার অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে কুমিল্লার হোমনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়া কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এমপি’ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। প্রায় ৮ মিনিট ৫৭ সেকেন্ডের ওই লাইভে তাকে কেন্দ্রের ভেতরে বিভিন্ন কক্ষে ঘুরে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি একটি কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে জানতে চান, “পরীক্ষা সহজ হয়েছে নাকি?” এ সময় শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ আসনে বসে পরীক্ষা দিচ্ছিল। আরেক কক্ষে গিয়ে তিনি শিক্ষককে ইশারায় নিজের কাজ চালিয়ে যেতে বলেন। পুরো সময়জুড়ে তার সঙ্গে থাকা দুজন ব্যক্তিকে ভিডিও ধারণ করতে দেখা যায়।
এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলে বিস্ময় ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তাদের মতে, চলমান পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ এড়াতে শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষ থেকে জনপ্রতিনিধিদের কেন্দ্র পরিদর্শনে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেন্দ্রের ভেতরে গিয়ে লাইভ করা অনভিপ্রেত।
জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সাবেক সভাপতি মো. শাহ আলমগীর খান বলেন, পরীক্ষার হলে জনপ্রতিনিধির উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণেই মন্ত্রণালয় থেকে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একজন সংসদ সদস্যের এ ধরনের আচরণ অপ্রত্যাশিত।
কেন্দ্র সচিব ও হোমনা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম বলেন, আমাকে জানানো হয়, এমপি স্যার এসেছেন। আমি গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করি। পরে প্রশ্নপত্র সংক্রান্ত কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। এরপর কী হয়েছে, তা আমার জানা নেই। ফেসবুক লাইভের বিষয়েও আমি অবগত নই।
এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে—কোনো জনপ্রতিনিধি কাউকে সঙ্গে নিয়ে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করবেন না। সেখানে ফেসবুক লাইভ করা তো প্রশ্নই আসে না। ঘটনাটি সত্য হলে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব।
সংসদ সদস্য সেলিম ভূঁইয়ার বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ
মুরাদনগরের গকুলনগরে মহাসড়কে পড়ে ছিল অজ্ঞাত নারীর লাশ
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মুরাদনগর উপজেলার গকুলনগর এলাকায় সড়কের ওপর পড়ে থাকা এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতগতির কোনো অজ্ঞাত যানবাহনের চাপায় ওই নারীর মৃত্যু হয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) ভোর সাড়ে ৩টার দিকে গকুলনগর এলাকার গাউছিয়া সুপার মার্কেট সংলগ্ন বদিউল আলম মিয়ার পুকুরপাড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ভোররাতে মহাসড়কে টহলরত অবস্থায় মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ সড়কের পাশে এক নারীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। নিহত নারীর বয়স আনুমানিক ৫৫ বছর। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন বলে স্থানীয়দের ধারণা।
মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. আক্তারুজ্জামান জানান, অজ্ঞাত পরিচয়ের একটি দ্রুতগামী যানবাহন ওই নারীকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
তিনি আরও জানান, নিহত নারীর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
আবেগঘন পোস্টে আলোড়ন
বিয়ের ছবি প্রকাশ করলেন দীপ্তি, স্বামীকে নিয়ে আবেগঘন বার্তা ভাইরাল
‘মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন…’
বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বামীকে নিয়ে আবেগঘন এক বার্তা শেয়ার করে আলোচনায় এসেছেন জনপ্রিয় উপস্থাপক দীপ্তি চৌধুরী। বিয়ের একাধিক ছবি প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “মাস্টার সাহেব, আপনি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছেন, তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব!”— যা মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
চ্যানেল আইয়ের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘টু দ্য পয়েন্ট’ ও ‘স্ট্রেইট কাট’-এর মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত মুখ দীপ্তি চৌধুরীর বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয়েছে শুক্রবার (৫ জুন)। রাজধানীর বাংলামোটরের একটি রেস্তোরাঁয় পারিবারিক আয়োজনে দুই পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন ও ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয় এ অনুষ্ঠান।
দীপ্তি চৌধুরীর জীবনসঙ্গী মুশতাক ইবনে আইয়ুব পেশায় একজন শিক্ষক ও গবেষক। তিনি যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের পর University of Oxford থেকে পিএইচডি সম্পন্ন করেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
দীপ্তির পরিবারের একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানায়, শুক্রবার আকদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বৈবাহিক জীবন শুরু হয়েছে। পরবর্তীতে বড় পরিসরে বিবাহোত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে।
আকদের পর সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বেশ কয়েকটি বিয়ের ছবি প্রকাশ করেন দীপ্তি। ছবিগুলোতে নবদম্পতিকে প্রাণবন্ত ও হাস্যোজ্জ্বল মুহূর্তে দেখা যায়। তবে ছবির চেয়েও বেশি আলোচনায় আসে স্বামীকে ‘মাস্টার সাহেব’ সম্বোধন করে লেখা তার আবেগঘন ক্যাপশন।
পোস্টটি প্রকাশের পর থেকেই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনে ভরে ওঠে মন্তব্যের ঘর। সহকর্মী, বন্ধু, শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভক্তরা নবদম্পতির সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন।
জানা গেছে, দীপ্তির ব্যবহৃত উক্তিটি কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর একটি জনপ্রিয় সংলাপ থেকে অনুপ্রাণিত। মূল সংলাপে ছিল, “ডাক্তার সাহেব, তুমি আমার জন্য দুফোঁটা চোখের জল ফেলেছ! তার প্রতিদানে আমি জনম জনম কাঁদিব।” দীপ্তি সেই বিখ্যাত সংলাপের ‘ডাক্তার সাহেব’-এর স্থলে ‘মাস্টার সাহেব’ ব্যবহার করে নিজের ভালোবাসা ও আবেগ প্রকাশ করেছেন।
নতুন জীবনে পা রাখা দীপ্তি চৌধুরী ও মুশতাক ইবনে আইয়ুবের জন্য শুভকামনা জানিয়েছেন তাদের অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগী।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ
হাজারো নেতাকর্মীর শক্তি প্রদর্শন, নোয়াখালীতে ছাত্রলীগের মিছিলে পিছু হটল পুলিশ
নোয়াখালী সদর উপজেলায় হাজারো নেতাকর্মীর অংশগ্রহণে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। বিপুলসংখ্যক মিছিলকারীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে সরে যান বলে জানা গেছে।
শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের পর সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের বাঁধের হাট বাজার এলাকায় এ বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
শেখ হাসিনার সমর্থনে বিক্ষোভ, জনসমাগমে নিয়ন্ত্রণ হারায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি সংহতি প্রকাশ করে মিছিলের আয়োজন করা হয়। জুমার নামাজ শেষে এক হাজারেরও বেশি নেতাকর্মী ও সমর্থক বাঁধের হাট বাজার এলাকায় জড়ো হয়ে মিছিল বের করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে পুলিশ মিছিল ঠেকানোর চেষ্টা করলেও বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতির কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নেন।
মিছিল-পরবর্তী সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন নোয়ান্নই ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আশরাফুল করিম চৌধুরী বাবু। তিনি বলেন, “দেশে অন্যায়, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই আমরা রাজপথে নেমেছি। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে না আসা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।”
তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের কর্মী হিসেবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া তাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে, মিছিলকারীদের বিপুল উপস্থিতির কারণে পুলিশ সদস্যদের সরে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, মিছিলের খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায় এবং প্রথমে কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে। তবে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ে।
ওসি বলেন, “পুলিশের ছয় সদস্যের একটি টিম সেখানে ছিল। কিন্তু মিছিলকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় আমরা নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান নিয়েছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।”



















