কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধে অচল দেবীদ্বার, অতিরিক্ত টোলের প্রতিবাদে সিএনজি চালকদের বিক্ষোভ

অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভে অংশ নেন সিএনজি ও অটোরিকশা চালকরা। ছবি : আজকের কথা
দুই ঘণ্টার অবরোধে শত শত যানবাহন আটকা, প্রশাসনের আশ্বাসে স্থগিত টোল আদায়; ভোগান্তিতে রোগী ও যাত্রীরা
কুমিল্লার দেবীদ্বারে অতিরিক্ত পৌর টোল (জিপি) আদায়ের প্রতিবাদে কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ সিএনজি ও অটোরিকশা চালক। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স, দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যানসহ শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও সাধারণ যাত্রীরা।
রোববার (২ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরে এ অবরোধ, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান। তিনি আন্দোলনকারী চালকদের সঙ্গে আলোচনা করে জানান, প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সিএনজি মালিক ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো ইজারাদার টোল (জিপি) আদায় করতে পারবেন না। পরে একই সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে চালকরা অবরোধ প্রত্যাহার করেন।
অভিযোগ অতিরিক্ত টোল আদায়ের
সিএনজি চালকদের অভিযোগ, ২০২৩ সালে অতিরিক্ত টোল আদায়, নিবন্ধন ফি বাবদ হাজার হাজার টাকা আদায়সহ নানা অনিয়মের অভিযোগে সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছিল। পরে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা রক্ষার লক্ষ্যে সাতটি সিএনজি, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড পুনরায় ইজারা দেওয়া হয়।
গত ৩০ জুলাই পৌরসভা প্রায় দুই কোটি টাকা রাজস্বের বিপরীতে সাতটি স্ট্যান্ড ইজারা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে মহাসড়কের একটি অংশও ইজারার আওতায় আনা হয়েছে। ইজারা পাওয়ার পরদিন ৩১ জুলাই থেকেই কোনো নীতিমালা, নির্ধারিত ভাড়া বা টোলের হার প্রকাশ না করেই বিভিন্ন স্ট্যান্ডে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে টোল আদায় শুরু হয়।
‘৭০ টাকা ভাড়া, ১৫০ টাকা টোল’
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া সিএনজি চালক জমির আলী বলেন, “আজ সকালে মাত্র ৭০ টাকা ভাড়া পেয়েছি, অথচ চার জায়গায় ১৫০ টাকা টোল দিতে হয়েছে। একটি টোল রসিদের মাধ্যমে পুরো পৌর এলাকায় চলাচলের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।”
সংবাদ সম্মেলনে এমপির ক্ষোভ
রোববার বিকেল ৩টায় নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাত (হাসনাত আব্দুল্লাহ) সিএনজি স্ট্যান্ড ইজারা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেই এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। পাশাপাশি প্রতিটি স্ট্যান্ডে যাত্রীভাড়া, টোলের হার এবং সংশ্লিষ্ট ইজারাদারের নাম উল্লেখ করে সাইনবোর্ড টানানোর নির্দেশনা দেন। মহাসড়ক ‘টাংক রোড’ নামে ইজারা দেওয়ার বিষয়টিও খতিয়ে দেখার কথা জানান তিনি।
প্রশাসনের বক্তব্য
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, সাতটি সিএনজি, অটোরিকশা ও মাইক্রোবাস স্ট্যান্ড ইজারা দেওয়া হয়েছে। তবে মহাসড়ক ইজারা দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা নেই। খুব শিগগিরই প্রশাসন, ইজারাদার, চালক, সাংবাদিক ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
দেবীদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, চালকদের অভিযোগ ছিল প্রতিটি স্ট্যান্ডে ৩০ থেকে ৪০ টাকা করে টোল আদায় করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত টোল আদায় স্থগিত রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
অপ্রতিম হত্যায় নতুন প্রশ্ন: আসামিরা সত্যিই কিশোর তো? ডিএনএ টেস্ট চান মা

কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে পুরোনো বিরোধের যোগসূত্র খতিয়ে দেখার দাবি, প্রয়োজনে আইন সংশোধনেরও আহ্বান
কুমিল্লায় আলোচিত কিশোর ইশরাত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ড ঘিরে নতুন তথ্য ও তিন দফা দাবি জানিয়েছেন তার মা এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম। গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তারা প্রকৃতপক্ষে কিশোর কি না—তা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলচত্বরে শিক্ষক সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব তথ্য ও দাবি তুলে ধরা হয়। অপ্রতিমের মায়ের পক্ষে তার সহকর্মী বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. কামরুন নাহার বক্তব্য দেন।
মানববন্ধনে কুবি শিক্ষক সমিতির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জুলহাস উদ্দিনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার, শিক্ষক সমিতির আহ্বায়ক শামীমা নাসরিন, ইউট্যাব কুবি ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. শাহাদাৎ হোসেনসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও হলের প্রভোস্টরা।
মানববন্ধনে ড. কামরুন নাহার জানান, অপ্রতিম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদকে (১৬) ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে অপ্রতিমের বাবার প্রতিষ্ঠানে বিনা বেতনে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।
এ ছাড়া অপ্রতিমের মা ড. নাহিদা বেগম কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মাদকবিরোধী অভিযানে কুমিল্লার স্থানীয় কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্যকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছিলেন বলে মানববন্ধনে জানানো হয়। ওই কিশোর গ্যাংয়ের নেতৃত্বে মামলার আরেক আসামি সাইফুল ইসলাম তুহিন ছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
অপ্রতিমের মা মনে করছেন, অতীতে ওই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপের সঙ্গে তার ছেলেকে হত্যার কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
তার দ্বিতীয় দাবি, মামলায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যাদের অপ্রাপ্তবয়স্ক হিসেবে দেখানো হয়েছে, তাদের প্রকৃত বয়স ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করতে হবে।
এ ছাড়া অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে আইন সংশোধনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি।

আমি অপ্রতিমের মায়ের সঙ্গে দেখা করেছি। তার অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও তিনি আমাকে কয়েকটি দাবি জানাতে বলেছেন। তার পক্ষ হয়ে আমি এসব দাবি জানিয়েছি।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এরই মধ্যে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে কয়েকজন আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আসামিদের ভূমিকা এবং তাদের বয়স নিয়ে ওঠা প্রশ্নেরও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন অপ্রতিমের মা।
আদমদীঘিতে বাবার চেয়ে মেয়ের বয়স ১৫ বছর বেশি!

এনআইডিতে মেয়ের জন্ম ১৯২২, জন্মনিবন্ধনে ১৯৮৯
বগুড়ার আদমদীঘিতে জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) তথ্যের ভুলে অদ্ভুত বিড়ম্বনায় পড়েছেন রাজিয়া সুলতানা নামে এক নারী। সরকারি নথিতে তাঁর বয়স বাবার চেয়েও ১৫ বছর বেশি দেখাচ্ছে। এনআইডির তথ্য অনুযায়ী, রাজিয়ার জন্ম ১৯২২ সালের ২০ জুন। সে হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ১০৪ বছর। অথচ তাঁর বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডিতে জন্মতারিখ ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে বাবার বয়স ৮৯ বছর।
অর্থাৎ সরকারি নথির হিসাব অনুযায়ী, মেয়ের বয়স বাবার চেয়ে ১৫ বছর বেশি!
জানা গেছে, রাজিয়া সুলতানা আদমদীঘি উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম ইউনিয়নের ইন্দইল গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম খন্দকারের সর্বকনিষ্ঠ মেয়ে। চার বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি সবার ছোট।
রাজিয়ার জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী, তাঁর জন্ম ১৯৮৯ সালের ১২ এপ্রিল। সেই হিসাবে তাঁর বর্তমান বয়স ৩৭ বছর। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রে ভুল করে জন্মতারিখ ১৯২২ সালের ২০ জুন উল্লেখ হওয়ায় সরকারি নথিতে তাঁর বয়স দেখাচ্ছে ১০৪ বছর।
অন্যদিকে, রাজিয়ার বাবা আব্দুর রহিম খন্দকারের এনআইডি অনুযায়ী জন্ম ১৯৩৭ সালের ৫ আগস্ট। সে হিসাবে তাঁর বয়স ৮৯ বছর। ফলে এনআইডির তথ্য অনুযায়ী বাবা-মেয়ের বয়সের হিসাবেই তৈরি হয়েছে এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।
ভুক্তভোগী রাজিয়া সুলতানার অভিযোগ, জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরির সময় নির্বাচন অফিসের সংশ্লিষ্টদের ভুলের কারণে তাঁর প্রকৃত জন্মসাল ১৯৮৯-এর পরিবর্তে ১৯২২ লেখা হয়েছে। এই ভুল সংশোধনের জন্য দীর্ঘদিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করেও কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি তিনি।
এনআইডির তথ্যের সঙ্গে প্রকৃত বয়সের মিল না থাকায় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাজে তাঁকে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে বলেও জানান রাজিয়া।
এ বিষয়ে বগুড়া জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা ফজলুল করিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
কুমিল্লায় ৭৪ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি জব্দ

সীমান্তের ১০০ গজ ভেতরে বিজিবির অভিযান, জব্দ শাড়ির মূল্য ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৭৪ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) এর আমানগন্ডা বিওপির একটি টহল দল সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব শাড়ি জব্দ করে। পরে দুপুরে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানায় বিজিবি।
বিজিবি জানায়, মাদক ও চোরাচালানবিরোধী নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে আমানগন্ডা বিওপির টহল দল সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ১০০ গজ দূরে সোনাপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিভিন্ন ধরনের ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়।
জব্দ করা শাড়িগুলোর আনুমানিক মূল্য ৭৪ লাখ ২০ হাজার টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জব্দ করা মালামালের বিষয়ে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























