বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

ঈদের আনন্দে শোকের মাতম

গলায় মাংস আটকে চুয়াডাঙ্গা-জামালপুরে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৯ মে, ২০২৬, ৬:০৬ পিএম
গলায় মাংস আটকে মৃত্যু

গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ঈদের খাবারেই ঝরল দুই শিশুর প্রাণ, গলায় মাংস আটকে চুয়াডাঙ্গা-জামালপুরে মর্মান্তিক মৃত্যু পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও জামালপুরে।
  • পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসাথে খাবার খেতে বসে গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী।
  • পৃথক দুই ঘটনায় মারা যাওয়া শিশুদের একজন মাদ্রাসাছাত্রী এবং অপরজন স্কুলশিক্ষার্থী।

ঈদের খাবারেই ঝরল দুই শিশুর প্রাণ, গলায় মাংস আটকে চুয়াডাঙ্গা-জামালপুরে মর্মান্তিক মৃত্যু

পবিত্র ঈদুল আজহার আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে পরিণত হয়েছে চুয়াডাঙ্গা ও জামালপুরে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে একসাথে খাবার খেতে বসে গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছে দুই শিক্ষার্থী। পৃথক দুই ঘটনায় মারা যাওয়া শিশুদের একজন মাদ্রাসাছাত্রী এবং অপরজন স্কুলশিক্ষার্থী। ঈদের উৎসবের মধ্যেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনায় দুই জেলাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায়। বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুরে উপজেলার লোকনাথপুর গ্রামে খাবার খাওয়ার সময় গলায় মাংস আটকে মারা যায় আখিতারা খাতুন ওরফে আঁখি (১১) নামে এক মাদ্রাসাছাত্রী।

নিহত আঁখি স্থানীয় ডিএস দাখিল মাদ্রাসার পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। সে লোকনাথপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ হকের মেয়ে। পরিবারের একমাত্র আদরের সন্তান হওয়ায় তার মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে পরিবারের সবাই একসঙ্গে দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে আঁখির গলায় মাংসের টুকরো আটকে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সে শ্বাস নিতে না পেরে ছটফট করতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান। তিনি বলেন, হাসপাতালে আনার সময় শিশুটি আর জীবিত ছিল না। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, আঁখি অত্যন্ত মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছাত্রী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে সহপাঠী, শিক্ষক এবং প্রতিবেশীদের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে। ঈদের দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো গ্রামে শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে।

এক প্রতিবেশী বলেন, “সকালেও মেয়েটাকে হাসিখুশি দেখেছি। দুপুরের মধ্যেই এমন খবর শুনতে হবে ভাবতেই পারিনি। পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে গেছে।”

অন্যদিকে একই দিনে প্রায় একই ধরনের আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলায়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খাবার খেতে বসে গলায় মাংস আটকে মারা যায় মো. ইয়াসিন (১৪) নামে এক কিশোর।

বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দুপুর ৩টার দিকে উপজেলার পোড়ারচর ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত ইয়াসিন ওই এলাকার মো. রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে স্থানীয় বটচর নিম্নমাধ্যমিক উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের দুপুরে সবাই একসঙ্গে খাবার খাচ্ছিলেন। খাওয়ার একপর্যায়ে হঠাৎ ইয়াসিনের গলায় মাংস আটকে যায়। এতে সে শ্বাসকষ্টে ছটফট করতে শুরু করে। পরিবারের লোকজন দ্রুত তাকে ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু তাহের জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ইয়াসিনের মৃত্যু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গলায় মাংস আটকে শ্বাসরোধ হওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে শিশুদের খাবার খাওয়ার সময় পরিবারের সদস্যদের সতর্ক থাকতে হবে। বড় মাংসের টুকরো বা শক্ত খাবার শিশুদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। খাবার ভালোভাবে চিবিয়ে খাওয়ার বিষয়েও সচেতনতা জরুরি।

দুই জেলায় একই দিনে এমন মর্মান্তিক ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, ঈদের আনন্দের সময় অসাবধানতাবশত এমন দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। শিশুদের খাবার পরিবেশন ও খাওয়ার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

এদিকে দুই পরিবারের স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে হাসপাতাল ও বাড়ির পরিবেশ। আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীরা নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

ঈদের আনন্দের দিনে দুই শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যু যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের অসাবধানতাই কেড়ে নিতে পারে একটি তাজা প্রাণ।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

দেবীদ্বারে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাদাত জুটের শ্রমিকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩৪ পিএম
দেবীদ্বারে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সাদাত জুটের শ্রমিকদের বিক্ষোভ-মানববন্ধন

দুই শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে ছড়ানো তথ্যের তদন্ত দাবি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের দুই শ্রমিক নেতাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও প্রচারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন শ্রমিক-কর্মচারীরা।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীদ্বার উপজেলার জাফরপুর এলাকায় সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিপুলসংখ্যক শ্রমিক-কর্মচারী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধন থেকে সাদাত জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ওয়ার্কার্স অ্যান্ড এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশিদ এবং ক্রীড়া সম্পাদক সোহেল রানা শুভর বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত বিভিন্ন অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, ভুয়া বা ফেক ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে মামুনুর রশিদ ও সোহেল রানা শুভর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাদক সেবনসংক্রান্ত কথিত ভিডিও তৈরি করে প্রচার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার না চালিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা উচিত। অভিযোগের সত্যতা থাকলে তদন্তের মাধ্যমে তা প্রমাণিত হবে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

তারা আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোনো শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে শুধু ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করা হচ্ছে না, এতে প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মানববন্ধনে শ্রমিক নেতা ফয়সাল, জরিনা বেগম, আমেনা আক্তার, জুবায়ের আহমেদ, শিউলি আক্তারসহ আরও অনেকে বক্তব্য দেন।

বক্তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর সঙ্গে জড়িত হিসেবে ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক ও তার সহযোগী মোস্তফা, সোহেল মিয়া, আবু মিয়া, আবদুল হাকিমসহ সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করে তদন্তসাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইন্দ্রজিৎ ভৌমিক বলেন, তিনি কয়েকদিন ধরে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি প্রচারের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং তাঁর নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকেও কোনো পোস্ট করা হয়নি। তবে তিনি বলেন, “ঘটনাটি সত্য না হলে কি আর মানুষ প্রচার করে?”

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তারা।

দেবীদ্বারে অভিভাবক সমাবেশ: শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, মেধার গুণগত মান বাড়াতে হবে

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম
দেবীদ্বারে অভিভাবক সমাবেশ: শিক্ষার্থীর সংখ্যা নয়, মেধার গুণগত মান বাড়াতে হবে

শিক্ষার্থীর সংখ্যা বা পাসের হার বাড়ানোর চেয়ে তাদের মেধা ও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. লেফটেন্যান্ট মো. সফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, বর্তমানে শিক্ষার গুণগত মানের পরিবর্তে সংখ্যার হিসাব ও পাসের হারের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একইভাবে কারিগরি ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার চেয়ে শুধু সনদ অর্জনকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতা বিকাশে গুরুত্ব দিতে হবে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ছোটনা মডেল হাই স্কুলের শিক্ষার মানোন্নয়নে আয়োজিত অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, “বর্তমানে আমরা শিক্ষার গুণগত মানের চেয়ে সংখ্যার বা পাসের হারের দিকে বেশি নজর দিচ্ছি। কারিগরি শিক্ষার চেয়ে সনদের গুরুত্ব দিচ্ছি বেশি। এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের বদলাতে হবে। শিক্ষার্থীদের সংখ্যার চেয়ে মেধার গুণগত মান উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।”

শিক্ষার্থীদের সংখ্যার চেয়ে মেধার গুণগত মান উন্নয়নে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। পাসের হার বা সনদের চেয়ে দক্ষতা ও প্রকৃত শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।
প্রফেসর ড. মো. সফিকুল ইসলাম
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, কুমিল্লা

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের নতুন শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত করতে হবে। শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদান নয়, তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করতে হবে। সব ধরনের হানাহানি ও বিদ্বেষ ভুলে একটি সুন্দর, শান্তিপূর্ণ ও বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ে তুলতে নতুন প্রজন্মকে প্রস্তুত করতে হবে।

বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. সানাউল্লাহর সভাপতিত্বে এবং সফিউল্লাহর সঞ্চালনায় অভিভাবক সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক সৈয়দ আহমেদ খান।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, অভিভাবকদের দায়িত্ব, পড়াশোনার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আলোচনায় অংশ নেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খালিদ হোসেন, দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, কাজী মো. ফরহাদ হোসেন, মো. রফিকুল ইসলাম, মো. মোজাম্মেল হক, মো. নবী নেওয়াজ, সাফায়েত হোসেন, আনিসুর রহমান, সফিউল আলম ভূঁইয়া, সার্জেন্ট মেজর নজরুল ইসলাম, সুমি রানী পাল, বিল্লাল হোসেন, এনামুল হক প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত মান অর্জনে বিদ্যালয়, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন। শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল নয়, একজন শিক্ষার্থীকে ভবিষ্যতের জন্য দক্ষ, সৃজনশীল, দায়িত্বশীল ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

সমাবেশে অভিভাবকদেরও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

আলোচনা শেষে বিদ্যালয়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে বৃত্তি ও সম্মাননা স্মারক বিতরণ করা হয়।

দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫১ এএম
দেবীদ্বারে এসএসসিতে তাক লাগানো সাফল্য জাকিয়ার, ১২৫০ নম্বরে পেয়েছে ১২১৭

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়ার দাবি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

কুমিল্লার দেবীদ্বারে এবারের এসএসসিতে পরীক্ষার ফলাফলে দারুণ সাফল্য অর্জন করেছে মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভা। ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় সে পেয়েছে ১২১৭ নম্বর। তার এই অসাধারণ ফলাফলে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভাসছে দেবীদ্বার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও সৃষ্টি হয়েছে আনন্দের পরিবেশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর জাকিয়া সুলতানা ইভার এই সাফল্যের বিষয়টি সামনে আসে। বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৬১ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়টির মোট পাসের হার ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ।

তবে বিদ্যালয়ের এবারের ফলাফলের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থী জাকিয়া সুলতানা ইভার ১২১৭ নম্বর অর্জন। ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পেয়ে সে বিদ্যালয়ের ফলাফলে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।
দেবীদ্বারে এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে ১২৫০ নম্বরের মধ্যে ১২১৭ নম্বর পাওয়া জাকিয়া সুলতানা ইভা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমানের সঙ্গে। পাশে তার প্রাপ্ত নম্বরের ফর্দের সংগৃহীত ছবি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যাচ্ছে, এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জাকিয়া সুলতানা ইভা কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত হওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

জাকিয়া সুলতানা ইভার এমন ফলাফল শুধু তার ব্যক্তিগত অর্জন নয়, এটি পুরো বিদ্যালয়ের জন্যও অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। তার এই সাফল্যে বিদ্যালয় পরিবারের সবাই আনন্দিত ও গর্বিত।
মো. মজিবুর রহমান
প্রধান শিক্ষক- দেবীদ্বার মফিজ উদ্দিন আহমেদ মডেল পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়

তিনি বলেন, “জাকিয়ার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের এই স্বীকৃতি তার ভবিষ্যৎ পথচলায় আরও বড় সাফল্যের অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুক। তার এই অর্জন আমাদের বিদ্যালয়ের জন্যও অনন্য গৌরবের বিষয়।”

জাকিয়া সুলতানা ইভাকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান শিক্ষক মো. মজিবুর রহমান আরও বলেন, “তোমার সাফল্যে আমরা গর্বিত।”

বিদ্যালয়ের এমন সাফল্যে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে ১২৫০ নম্বরের পরীক্ষায় ১২১৭ নম্বর পাওয়ার বিষয়টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, জাকিয়া সুলতানা ইভার এই ফলাফল তার দীর্ঘদিনের মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের প্রতিফলন। একই সঙ্গে ৬১ জন শিক্ষার্থীর জিপিএ-৫ অর্জন এবং ৯৪ দশমিক ৯২ শতাংশ পাসের হার বিদ্যালয়ের সামগ্রিক শিক্ষার মান ও শিক্ষার্থীদের সাফল্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে।

জাকিয়ার এমন সাফল্যে দেবীদ্বারের শিক্ষাঙ্গনেও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ভবিষ্যতেও জাকিয়া তার মেধা ও যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।

×
CLOSE X
ENG