বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লার চণ্ডীমূড়া মন্দিরে জমি দখল নিয়ে উত্তেজনা, ইউএনওর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: সোমবার, ২৩ জুন, ২০২৫, ১:৪৬ এএম
কুমিল্লার চণ্ডীমূড়া মন্দিরে জমি দখল নিয়ে উত্তেজনা, ইউএনওর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মন্দির ফটকের সামনের ছয় শতক জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। ছবি- সংগৃহিত।

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
  • মন্দির ফটকের সামনের ছয় শতক জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এ বিরোধের জেরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উভয় পক্ষকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।
  • প্রায় ১,৪০০ বছরের পুরোনো শিব চণ্ডী মন্দিরটি কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত এবং এটি ‘চণ্ডীমূড়া মন্দির’ নামে সুপরিচিত।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মন্দির ফটকের সামনের ছয় শতক জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এ বিরোধের জেরে দুই পক্ষ মুখোমুখি হলে ঘটনাস্থলে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উভয় পক্ষকে স্থাপনা সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেন।

প্রায় ১,৪০০ বছরের পুরোনো শিব চণ্ডী মন্দিরটি কুমিল্লার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত এবং এটি ‘চণ্ডীমূড়া মন্দির’ নামে সুপরিচিত। চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ মূলত মন্দির কর্তৃপক্ষ ও আবদুল আলী নামের এক স্থানীয় বাসিন্দার মধ্যে। বিএস খতিয়ানে জমিটি মন্দিরের নামে রেকর্ড হলেও আবদুল আলী জমিটিকে তার পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে শনিবার সেখানে একটি টিনের ঘর নির্মাণ করেন।

কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে উত্তেজনা।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ে অবস্থিত প্রাচীন চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মন্দির ফটকের সামনের ছয় শতক জমি দখলকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া এ বিরোধের সৃষ্টি হয়। ছবি- সংগৃহিত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মন্দিরের প্রবেশপথ সংলগ্ন পশ্চিম পাশে ছয় শতক জমি নিয়ে বর্তমানে আদালতে মামলা চলছে। সম্প্রতি সেখানে মন্দির কর্তৃপক্ষ বিশ্রামাগার নির্মাণ করে। কিন্তু শনিবার সকালে আবদুল আলী নতুন করে ঘর নির্মাণ শুরু করলে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বাধা দিতে গেলে মন্দিরের সেবায়েত চন্দনা রাহুতের সঙ্গে আবদুল আলীর লোকজনের কথা–কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার ইউএনও রুবাইয়া খানম ও থানার ওসি রফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তারা দুই পক্ষকে মৌখিক নির্দেশ দেন যেন কেউ স্থায়ী কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করে এবং আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত জমির ওপর কোনো দাবি বাস্তবায়নের চেষ্টা না করে। উভয় পক্ষ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সম্মত হয়।

আবদুল আলী বলেন, ‘আমার বাবা এই জমি কিনেছিলেন, তবে রেকর্ডে তা মন্দিরের নামে চলে গেছে। আমরা রেকর্ড সংশোধনের মামলা করেছি। ইউএনও স্যারের নির্দেশে আমরা ঘর সরিয়ে নিচ্ছি।’

শিব চণ্ডী মন্দির কমিটির সভাপতি দীপক সাহা বলেন, ‘জমিটি মন্দিরের নামে রেকর্ডভুক্ত। সেখানে আমরা বিশ্রামাগার করেছি, কিন্তু তারা হঠাৎ টিনের ঘর তুলতে গেলে প্রশাসনের সহযোগিতা নিই।’

এ বিষয়ে ইউএনও রুবাইয়া খানম বলেন, ‘দুই পক্ষকেই বলেছি, আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত কেউ কোনো স্থাপনা রাখতে পারবে না। পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত।’

প্রসঙ্গত, কুমিল্লা নগর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের এই মন্দিরটি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তীর্থস্থান হিসেবে পরিচিত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, সপ্তম শতকে রাজা দেব খড়গ এখানে চণ্ডী ও শিব মন্দির নির্মাণ করেন। প্রতি বছর পূজা ও মেলায় বহু দর্শনার্থী এ মন্দিরে ভিড় করেন।

চণ্ডীমূড়া মন্দির জমি বিরোধ নিয়ে সম্প্রতি সৃষ্টি হওয়া উত্তেজনা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিষয়টি এখনো আদালতের বিচারাধীন। তাই দুই পক্ষকে আইন মেনে চলার নির্দেশনা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

মাদক সেবনের দায়ে দেবীদ্বারে যুবদল নেতা আব্দুল হাই কায়সার বহিষ্কার

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৫ এএম
মাদক সেবনের দায়ে দেবীদ্বারে যুবদল নেতা আব্দুল হাই কায়সার বহিষ্কার

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদক সেবনের দায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডে দণ্ডিত উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই কায়সারকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দপ্তরের দায়িত্বে) মিনহাজুল ইসলাম ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে কুমিল্লা উত্তর জেলার আওতাধীন দেবীদ্বার উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই কায়সারকে প্রাথমিক সদস্য পদসহ দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।”

এতে আরও বলা হয়, যুবদল কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন। বহিষ্কৃত ব্যক্তির কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নেবে না। একই সঙ্গে যুবদলের সব পর্যায়ের নেতাকর্মীকে তার সঙ্গে সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দেবীদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির খামারে মাদক সেবনের সময় আব্দুল হাই কায়সারসহ তিন যুবককে আটক করে পুলিশ। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়।

আদালত আব্দুল হাই কায়সারকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় বিধি অনুযায়ী আরও ১৪ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ফলে মোট ২১ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে তাকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

আব্দুল হাই কায়সার (৫০) দেবীদ্বার উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বজলুর রহমান মাস্টারের ছেলে।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি কেন্দ্রীয় যুবদলের নেতাদের নজরে আসে। পরে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা বলেন, দলের দায়িত্বশীল কোনো নেতা মাদক সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়িত হলে তা দলের ভাবমূর্তির পাশাপাশি সমাজের জন্যও ক্ষতিকর। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

দেবীদ্বার উপজেলা যুবদলের সভাপতি নুরুজ্জামান বহিষ্কারের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দলের যে কাউকে শৃঙ্খলাবিরোধী বা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে দল ও সংগঠন থেকে বহিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দেবীদ্বারে মুরগির ফার্মে মাদক সেবন, যুবদল নেতাসহ ৩ জনের ২১ দিনের কারাদণ্ড

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:০৮ এএম
দেবীদ্বারে মুরগির ফার্মে মাদক সেবন, যুবদল নেতাসহ ৩ জনের ২১ দিনের কারাদণ্ড

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মুরগির একটি ফার্মে মাদক সেবনের সময় উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতিসহ তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় প্রত্যেকের কারাদণ্ডের মেয়াদ বেড়ে দাঁড়ায় ২১ দিনে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির খামারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শ্রীপুর গ্রামের বজলুর রহমান মাস্টারের ছেলে ও দেবীদ্বার উপজেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুল হাই কায়সার (৫০), একই গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুল আজিজ (৩৬) এবং ধলিপুস্কুরনী গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে সোহেল (৩২)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির ফার্মের নির্জন স্থানে ওই তিনজন মাদক সেবন করছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমার নেতৃত্বে পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে।

পরে ঘটনাস্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসানো হয়। আদালত আব্দুল হাই কায়সারকে ৭ হাজার টাকা জরিমানা ও সাত দিনের কারাদণ্ড এবং আব্দুল আজিজ ও সোহেলকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা ও সাত দিনের কারাদণ্ড দেন। তিনজনের মোট জরিমানা হয় ২০ হাজার টাকা।

আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, জরিমানার টাকা অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ১৪ দিনের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। তারা জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় মোট ২১ দিনের কারাদণ্ড দিয়ে তাদের কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক বিএনপি নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দলের দায়িত্বশীল নেতারা মাদক সেবন বা বিক্রির সঙ্গে জড়ালে সমাজ থেকে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও ক্ষতিকর।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তিনজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করার পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। আদালত প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং একজনকে ৭ হাজার টাকা ও অপর দুজনকে ৬ হাজার ৫০০ টাকা করে জরিমানা করেন। জরিমানার টাকা পরিশোধ না করায় প্রত্যেকের মোট ২১ দিনের কারাদণ্ড হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর এলাকায় একটি মুরগির ফার্মে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে প্রত্যেককে সাত দিনের কারাদণ্ড ও মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে প্রত্যেককে আরও ১৪ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার
০১৭৬১৭৪০২২৭
২৯/০৯/২০২৬

ছবির ক্যাপশন: দেবীদ্বারে মাদক সেবনের দায়ে যুবদল নেতাসহ তিনজনকে আটকের পর থানায় নেওয়া হয়। ছবি: পুলিশ

প্রেস ক্লাবের কমিটিও এমপির! লাকসামে সাংবাদিক সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩২ পিএম
প্রেস ক্লাবের কমিটিও এমপির! লাকসামে সাংবাদিক সংগঠনের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন

‘স্বাধীন সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ’ নিয়ে ক্ষোভ, এমপি বললেন—‘আমার এলাকা হিসেবে কমিটি দিয়েছি’

কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. আবুল কালামের নির্দেশে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠনের কথা উল্লেখ করে তালিকা প্রকাশের পর এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার প্রকাশিত ওই কমিটিতে মুজিবুর রহমান দুলালকে সভাপতি, মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে সাধারণ সম্পাদক, তমিজ উদ্দিন আহম্মদ চুন্নুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সেলিম চৌধুরী হীরাকে সাংগঠনিক সম্পাদক এবং এম. এ জলিলকে প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটি গঠনের কারণ হিসেবে প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, লাকসামে দীর্ঘদিন ধরে একাধিক প্রেস ক্লাব ও সাংবাদিক সংগঠন থাকায় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং প্রকৃত গণমাধ্যমকর্মীদের মান-মর্যাদা রক্ষার লক্ষ্যে এমপি আবুল কালামের নির্দেশে কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়।
দৈনিক আজকের কথা
দলের উপরমহলের সঙ্গে কথা বলে যদি একজন এমপি প্রেস ক্লাবের কমিটি দেন, তাহলে স্পষ্ট প্রশ্ন হলো—রাজনৈতিক দল বা জনপ্রতিনিধির কি সাংবাদিকদের সংগঠনের কমিটি গঠনে হস্তক্ষেপ করার অধিকার আছে? আর সেই কমিটি যদি এমপির নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে তাঁর বা তাঁর দলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকরা কীভাবে স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশ করবেন?
— মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী
কন্ট্রিবিউটিং রিপোর্টার, বাংলাদেশ International Federation of Journalists (IFJ)
তবে একজন সংসদ সদস্যের নির্দেশে প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠনের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাংবাদিক নেতারা। তারা বলছেন, প্রেস ক্লাব কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়; ফলে এর সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বিষয়টি স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তৈরি করে।
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী বলেন, ‘বিষয়টি মারাত্মক। কুমিল্লার সাবেক এমপি বাহার সাংবাদিকতায় হস্তক্ষেপ করতেন। আজকে দেখলাম লাকসাম প্রেস ক্লাবেও একই চিত্র। কোনো পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না।’
কুমিল্লা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ জিতু বলেন, ‘একজন এমপি উপজেলা প্রেস ক্লাবের কমিটি দিয়েছেন—এটা লজ্জাজনক। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর হস্তক্ষেপ। যদি বিষয়টি সঠিক হয়ে থাকে, তাহলে এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।’
নবগঠিত লাকসাম উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন চৌধুরীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি পরে কথা বলবেন বলে জানান।
এদিকে কমিটি গঠনে নিজের নির্দেশনার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালাম বলেন, ‘আমি আংশিক কমিটি দিয়েছি। আমি প্রেস ক্লাবের প্যাডে কমিটি দিয়েছি।’
প্রেস ক্লাব কোনো দলীয় সংগঠন নয়—এ অবস্থায় একজন সংসদ সদস্য হিসেবে কমিটি দেওয়ার এখতিয়ার আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমার এলাকা হিসেবে আমি কমিটি দিয়েছি। এ বিষয়ে আমি আমার উপরস্থ মহলের কথা বলেছি। আমার দলের সঙ্গে কথা বলে দিয়েছি। আমি তো আইনপ্রণেতা হিসেবে নতুন এসেছি।’
এ ঘটনায় লাকসাম প্রেস ক্লাবের কমিটি গঠন, এর প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
×
ENG