শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

চিকিৎসার আড়ালে ব্যবসা? দেবীদ্বার সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর অভিযোগ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৯ পিএম
চিকিৎসার আড়ালে ব্যবসা? দেবীদ্বার সরকারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গুরুতর অভিযোগ

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করেন।
  • প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে সহস্রাধিক রোগী এখানে চিকিৎসা নেন।
  • তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন ও কথিত ভেজাল ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ উঠেছে।

ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও আশপাশের জেলার মানুষ চিকিৎসা সেবার জন্য দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভিড় করেন। প্রতিদিন ইনডোর ও আউটডোর মিলিয়ে সহস্রাধিক রোগী এখানে চিকিৎসা নেন। তবে অতিরিক্ত রোগীর চাপের সুযোগ নিয়ে কিছু অসাধু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অনুমোদনহীন ও কথিত ভেজাল ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ২০৩ নম্বর কক্ষে কর্মরত জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. গোলাম রাশেদের বিরুদ্ধে এক ষাটোর্ধ্ব নারীকে অনুমোদনহীন ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লেখার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী ওই নারী চিকিৎসা নেওয়ার পর স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে গেলে সেখানে কর্মরতরা জানান, প্রেসক্রিপশনে লেখা দুটি ঔষধ—Inj. Galphar-D3 (300000 IU) ও Cap. Glujoint—অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়।

অভিযোগ রয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে দেবীদ্বারের বেশ কিছু চিকিৎসক জড়িত। অতীতেও একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়দের দাবি। সাম্প্রতিক ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই বিষয়টির সাথে স্বাস্থ্য বিভাগের কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত চিকিৎসক ডা. গোলাম রাশেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অভিযোগ ওঠার পর তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই কর্মস্থল ত্যাগ করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি স্বনামধন্য ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধি (এসআর) বলেন, “কিছু অসাধু চিকিৎসক অবৈধ কোম্পানির কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে এসব ঔষধ প্রেসক্রিপশনে লিখছেন। এতে রোগীরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে পড়ছেন।”

অন্যদিকে, এক ফার্মেসি মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা এসব ঔষধ রাখতে না চাইলে স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপ ও হুমকির মুখে পড়তে হয়। অনেক সময় মারধরের ভয়ও দেখানো হয়। অথচ একই ধরনের ভালো কোম্পানির ঔষধ ১০০-১২০ টাকায় পাওয়া গেলেও এসব নিম্নমানের ঔষধ ৪০০-৫০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়।”

এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. মহিবুস সালাম বলেন, “উল্লিখিত ঔষধগুলো সম্পর্কে আমি অবগত নই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।”

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলীনুর বশির বলেন, “এ ধরনের অভিযোগ আমাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আসেনি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

গ্যাস সংকটে যাত্রী হয়রানি

দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে জরিমানা

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৯:৩৫ পিএম
দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ে জরিমানা

কুমিল্লার দেবীদ্বারে গ্যাস সংকটের অজুহাতে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশন, মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ এবং সড়কে ট্রাক পার্কিং করে যানজট সৃষ্টির অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়েছে। অভিযানে ১২টি মামলায় মোট ১৯ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় এসআই বাকেরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক ও দেবীদ্বার-চান্দিনা সড়কে গ্যাস সংকটের অজুহাতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগে সাত সিএনজিচালককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় সাতটি মামলায় মোট ৬ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করা হয়।

নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় আজকের অভিযান আমাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে নাগরিকদের খাদ্য ও ওষুধের নিরাপত্তা, যানজটমুক্ত পরিবেশে চলাচল এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ভোগান্তি রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
অশোক বিক্রম চাকমা
দেবীদ্বার, কুমিল্লা

এ ছাড়া অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার তৈরি ও পরিবেশনের দায়ে দুই হোটেল মালিককে ৫ হাজার টাকা করে মোট ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে একটি ফার্মেসিকে ১ হাজার টাকা এবং সড়কে ট্রাক পার্কিং করে যানজট সৃষ্টির অভিযোগে এক ট্রাক্টর মালিককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

উপজেলা প্রশাসন জানায়, নাগরিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অনিরাপদ খাদ্য ও ওষুধ বিক্রি এবং সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষায় এ অভিযান নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের আওতায় খাদ্য ও ওষুধের নিরাপত্তা, যানজটমুক্ত চলাচল এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ভোগান্তি বন্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।

বিচারের দাবিতে উত্তাল দেবীদ্বার

ফরিদা হত্যা: দেবীদ্বারে থানা ঘেরাও করে লাইলীসহ খুনিদের ফাঁসির দাবি

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৭:০৬ পিএম
ফরিদা হত্যা: দেবীদ্বারে থানা ঘেরাও করে লাইলীসহ খুনিদের ফাঁসির দাবি

ফরিদা হত্যা, কুমিল্লার দেবীদ্বারে চাঞ্চল্যকর ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে অবশেষে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয়রা। মিছিল থেকে হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লাইলী আক্তারসহ জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবি জানানো হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে উপজেলা পরিষদ গেট থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবীদ্বার নিউমার্কেট মুক্তিযুদ্ধ চত্বরের স্বাধীনতা স্তম্ভের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ও পরে দেবীদ্বার থানার ভেতরেই উত্তাল স্লোগানে অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবাদ সভা।

সভায় বক্তারা বলেন, গহনা ও টাকার লোভে বাসার ভাড়াটিয়া সেজে লাইলী আক্তারের নেতৃত্বে ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ঘুমন্ত একজন নারীকে শ্বাসরোধে হত্যার পর তাঁর মরদেহ দা দিয়ে কুপিয়ে অর্ধশতাধিক খণ্ডে বিভক্ত করার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

বক্তারা বলেন, এমন বর্বর হত্যাকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। তাঁরা ফরিদা ইয়াসমিন হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত লাইলী আক্তারসহ জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বক্তারা আরও বলেন, দেশে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে অনেক অপরাধী উপযুক্ত শাস্তি না পেয়ে পুনরায় অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তাঁদের দাবি, লাইলী আক্তার এর আগেও একটি শিশু হত্যা মামলায় আসামি ছিলেন এবং ওই মামলায় গ্রেপ্তারের পর কয়েক বছরের মধ্যে জামিনে মুক্তি পান।

সরকারের কাছে আমার দাবি, আমার স্ত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি চাই। এমন সাজা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অপরাধীরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়।
মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া
স্বামী, নিহত ফরিদা ইয়াসমিন

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেন, ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে পরকীয়াজনিত বিরোধের জেরে সাত বছরের শিশু ফাহিমাকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় লাইলী বেগমসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে কয়েক বছরের মধ্যে আসামিরা জামিনে মুক্ত হন। বক্তাদের দাবি, ওই মামলায় কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক সাজা নিশ্চিত হলে পরবর্তী সময়ে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি ঠেকানো সম্ভব হতো।

নিহত ফরিদা ইয়াসমিনের স্বামী মো. মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “সরকারের কাছে আমার দাবি, আমার স্ত্রীর হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ফাঁসি চাই। এমন সাজা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে অপরাধীরা এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সাহস না পায়।”

প্রতিবাদ সভায় আরও বক্তব্য দেন নিহতের দুই মেয়ে রাবেয়া বসরী ও মরিয়ম আক্তার, কাজী নাসির উদ্দিন, সিয়াম আহমেদ, মোশাররফ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলামসহ স্থানীয়রা।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে দেবীদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ। পরে শনিবার (৮ আগস্ট) বিকেলে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মোহনা আবাসিক এলাকায় মফিজুল ইসলাম ভূঁইয়ার মালিকানাধীন বাসা থেকে তাঁর মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনাটি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

তিনজনের এক ফ্রেমেই কারও কারও ‘জ্বালা’

বিশ্ববাটপার ইউনূস-বিরোধী তিন প্রতিবাদী কণ্ঠ এক ফ্রেমে, আনিস আলমগীরের পোস্টে ‘জ্বালা-পোড়া’র বিস্ফোরক বার্তা

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:১২ পিএম
বিশ্ববাটপার ইউনূস-বিরোধী তিন প্রতিবাদী কণ্ঠ এক ফ্রেমে, আনিস আলমগীরের পোস্টে ‘জ্বালা-পোড়া’র বিস্ফোরক বার্তা

এক ফ্রেমে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীর, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক শাহেদ আলম এবং চিকিৎসক, উপস্থাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার। তিনজনের একসঙ্গে তোলা একটি ছবি প্রকাশ করে আনিস আলমগীরের দেওয়া কড়া ক্যাপশন ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিশ্ববাটপার ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অবৈধ অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনায় তিনজনেরই প্রকাশ্য অবস্থান রয়েছে। ফলে তাঁদের এক ফ্রেমে উপস্থিতি এবং আনিস আলমগীরের ব্যঙ্গাত্মক ক্যাপশনকে অনেকেই ইউনূস ও তাঁর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া একটি কড়া রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখছেন।

ইউনূস-সমর্থকদের ‘জ্বালা’ ধরিয়ে এক ফ্রেমে তিন মুখ, আনিস আলমগীরের বিস্ফোরক পোস্ট
ইউনূস-সমর্থকদের ‘জ্বালা’ ধরিয়ে এক ফ্রেমে তিন মুখ, আনিস আলমগীরের বিস্ফোরক পোস্ট। ছবি : আজকের কথা

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ছবিটি প্রকাশ করে আনিস আলমগীর লিখেছেন—

“আজ দুপুরে তিনজন এক ফ্রেমে- কারও কারও জ্বালা শুরু হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট! আমরা কথা বলি তথ্য, যুক্তি দিয়ে জোরে, হাসিও দিই জোরে। কে জ্বলল, কে পুড়ল- এসবের হিসাব রাখি না!”

ক্যাপশনের ‘কারও কারও জ্বালা’, ‘কে জ্বলল, কে পুড়ল’—এমন শব্দচয়নকে নিছক রসিকতা হিসেবে দেখছেন না অনেকে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশের মতে, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি ড. ইউনূসকে ঘিরে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিতর্কের মধ্যেই দেওয়া একটি ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা।

বিশেষ করে তিনজনই যখন বিভিন্ন সময়ে সেই বাটপার ইউনূস সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, নীতি ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলেছেন, তখন একই ফ্রেমে তাঁদের উপস্থিতি এবং এমন কড়া ভাষার ক্যাপশন পোস্টটিকে বাড়তি রাজনৈতিক তাৎপর্য দিয়েছে।

বার্তার সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ—“আমরা কথা বলি তথ্য, যুক্তি দিয়ে জোরে”। অর্থাৎ তাঁদের বক্তব্যের বিরুদ্ধে সমালোচনা বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া এলেও তথ্য ও যুক্তির ভিত্তিতে কথা বলা থেকে তাঁরা সরে যাবেন না—এমন অবস্থানই ফুটে উঠেছে পোস্টে।

আর শেষের বাক্য—“কে জ্বলল, কে পুড়ল- এসবের হিসাব রাখি না”—সেটিই যেন পুরো পোস্টের রাজনৈতিক খোঁচাটাকে আরও স্পষ্ট করেছে।

আজ দুপুরে তিনজন এক ফ্রেমে- কারও কারও জ্বালা শুরু হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট! আমরা কথা বলি তথ্য, যুক্তি দিয়ে জোরে, হাসিও দিই জোরে। কে জ্বলল, কে পুড়ল- এসবের হিসাব রাখি না।
আনিস আলমগীর
সাংবাদিক, কলামিস্ট এবং শিক্ষক

ছবিতে থাকা তিনজনের পরিচয়ও বিশ্বজুড়ে কম তাৎপর্যপূর্ণ নয়। আনিস আলমগীর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা কাভার করেছেন এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষণ ও টকশো বক্তব্যের জন্য পরিচিত। শাহেদ আলমও দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত। আর ডা. আব্দুন নূর তুষার চিকিৎসক পরিচয়ের পাশাপাশি উপস্থাপক, লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে জনপরিসরে সক্রিয়।

তাই ছবিটি শুধু তিনজন পরিচিত মানুষের একসঙ্গে দাঁড়ানোর ছবি নয়—এর সঙ্গে যুক্ত ক্যাপশনটি বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় ইউনূস-বিরোধী অবস্থানের একটি ব্যঙ্গাত্মক প্রকাশ হিসেবেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছে।

সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করেও আনিস আলমগীরের বার্তা যেন স্পষ্ট—কারও ‘জ্বালা’ বা ‘পোড়া’র হিসাব না রেখে তথ্য ও যুক্তি দিয়েই কথা বলবেন তাঁরা।

×
ENG