বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ড. কলিমুল্লাহ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে বললেন, ষড়যন্ত্রের শিকার

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৭ আগস্ট, ২০২৫, ৬:২২ পিএম
ড. কলিমুল্লাহ দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে বললেন, ষড়যন্ত্রের শিকার

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • ড. কলিমুল্লাহ দুর্নীতির অভিযোগ, সাবেক ভিসি কলিমুল্লাহ বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর অন্যায় আবদারে না করায় তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মামলা হয়েছে ড. কলিমুল্লাহ দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আদালতে স্পষ্ট করে বলেন, তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে।
  • তিনি দাবি করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠা বজায় রেখেছেন এবং ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থে সরকারি অর্থ ব্যবহার করেননি।
  • বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে হাজির হয়ে ড. কলিমুল্লাহ বলেন, “আমি ২০১৭ সাল থেকে রংপুরেই ছিলাম এবং দায়িত্ব পালন করেছি।

ড. কলিমুল্লাহ দুর্নীতির অভিযোগ, সাবেক ভিসি কলিমুল্লাহ বলেন, শিক্ষামন্ত্রীর অন্যায় আবদারে না করায় তাঁর বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে মামলা হয়েছে

ড. কলিমুল্লাহ দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে আদালতে স্পষ্ট করে বলেন, তাঁকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি দাবি করেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালনকালে সর্বোচ্চ সততা ও নিষ্ঠা বজায় রেখেছেন এবং ব্যক্তিগত কোনো স্বার্থে সরকারি অর্থ ব্যবহার করেননি।

বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালতে হাজির হয়ে ড. কলিমুল্লাহ বলেন, “আমি ২০১৭ সাল থেকে রংপুরেই ছিলাম এবং দায়িত্ব পালন করেছি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে থাকাকালে দীপু মনির বিভিন্ন অন্যায় আবদারে বাধ্য করা হতো। আমি রাজি না হওয়ায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে।”

ড. কলিমুল্লাহ দুর্নীতির অভিযোগ
ড. কলিমুল্লাহ

বিচারক জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কি নিয়োগ বোর্ডে ছিলেন? জবাবে কলিমুল্লাহ বলেন, “সব নিয়োগ সরকারিভাবে হয়েছে, আমি কাউকে নিজের মতো করে নিয়োগ দিইনি।”

বিচারক মন্তব্য করেন, “আপনি একইসঙ্গে ভিসি, বিভাগীয় প্রধান ও ডিন ছিলেন—এটা অস্বাভাবিক।” জবাবে ড. কলিমুল্লাহ বলেন, “রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তবতা ভিন্ন। আগের ভিসিরাও একইভাবে দায়িত্ব পালন করেছেন।”

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মন্তব্য করেন, “উনি টিভিতে নিয়মিত টকশো করতেন, অথচ দাবি করেন ১৭ ঘণ্টা অফিস করতেন।” এর জবাবে কলিমুল্লাহ বলেন, “আমি সব সময় কাজ করেছি, টকশো ছিল বিশ্ববিদ্যালয় এবং দেশের ভাবমূর্তি রক্ষার অংশ।”

আদালত শেষ পর্যন্ত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিলেও বলেন, “আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ কীভাবে এসেছে, তা একমাত্র আপনি, আল্লাহ এবং পরে দুদক জানবে। যতদিন জেলে থাকবেন, ভালো থাকবেন।”

উল্লেখ্য, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদক ১৮ জুন কলিমুল্লাহসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করে। মামলায় যে অভিযোগগুলো আনা হয়েছে, তার মধ্যে রয়েছে: অনুমোদিত ডিজাইন উপেক্ষা করে নকশা পরিবর্তন, চুক্তি ছাড়াই টাকা দেওয়া, নিরাপত্তা জামানতের টাকা অন্যভাবে ব্যবহার, দ্বিতীয় পরামর্শক নিয়োগে অনিয়ম ইত্যাদি।

তবে ড. কলিমুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন, “আমি সব সময় নিয়ম মেনে চলেছি, আর এ কারণেই কিছু প্রভাবশালী মহল আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। আমি নিয়োগ বাণিজ্যের বিরুদ্ধে ছিলাম, কোনো দুর্নীতিতে যুক্ত ছিলাম না।”

মোহাম্মদপুর থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে পাঁচ আসামির বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।

ড. কলিমুল্লাহ দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে এই মামলাকে তিনি রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রতিশোধমূলক বলে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে—এটি কেবল তাঁকে হেয় করার অপচেষ্টা, প্রকৃতপক্ষে তিনি একজন সৎ ও জনদরদি শিক্ষাপ্রশাসক।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
এলাকার খবর

কৃষিমন্ত্রীর মায়ের প্রয়াণে কায়েস মীরের গভীর শোক, ‘আমরা হারালাম একজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবক’

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২৯ পিএম
কৃষিমন্ত্রীর মায়ের প্রয়াণে কায়েস মীরের গভীর শোক, ‘আমরা হারালাম একজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবক’

আমেনা বেগমের রুহের মাগফিরাত কামনা

কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের মা আমেনা বেগমের (১০৩) মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবীণ রাজনীতিক, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর

এক শোকবার্তায় সৈয়দ কায়েস আহমেদ মীর বলেন, “আমেনা বেগম ছিলেন একজন রত্নগর্ভা, ধর্মপ্রাণ ও স্নেহময়ী মা। সন্তানদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবককে হারালাম।”

দৈনিক আজকের কথা
আমেনা বেগম ছিলেন একজন রত্নগর্ভা, ধর্মপ্রাণ ও স্নেহময়ী মা। সন্তানদের সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে তুলে তিনি যে অবদান রেখে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর মৃত্যুতে আমরা একজন শ্রদ্ধেয় অভিভাবককে হারালাম।
— সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর
প্রবীণ রাজনীতিক, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী।

তিনি মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। মহান আল্লাহ যেন শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই অপূরণীয় ক্ষতি সহ্য করার শক্তি দান করেন—এ দোয়াও করেন তিনি।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত জটিলতায় আমেনা বেগম শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তিনি চার ছেলে, পাঁচ মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

মরহুমার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ পৃথক শোকবার্তায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের পরানপুর গ্রামের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুমা আমেনা বেগমের জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

আমেনা বেগমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর।

সৈয়দ একেএম কায়েস আহমেদ মীর
প্রবীণ রাজনীতিক, সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী

দেবীদ্বারে মাদকবিরোধী বিক্ষোভে বাড়ি ভাঙচুর, পরিবার গ্রামছাড়া

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৪৯ পিএম
দেবীদ্বারে মাদকবিরোধী বিক্ষোভে বাড়ি ভাঙচুর, পরিবার গ্রামছাড়া

প্রায় সহস্রাধিক মানুষের বিক্ষোভ; ভাঙচুরের ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে মাদকবিরোধী বিক্ষোভের এক পর্যায়ে কথিত মাদক কারবারির বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও তছনছের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় সহস্রাধিক মানুষ মাদকবিরোধী মিছিল নিয়ে বাড়িটিতে হামলা চালিয়ে অন্তত আটটি কক্ষের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ওই পরিবারের সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

দৈনিক আজকের কথা
মাদকবিরোধী আন্দোলনের নামে কোনো নিরপরাধ পরিবার যেন হয়রানির শিকার না হয়। প্রকৃত মাদক কারবারি থাকলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে, আর কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটিরও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।
— স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা

ঘটনাটি ঘটে গত রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নোয়াবগঞ্জ (কোটনা) গ্রামের কাজীবাড়িতে। বাড়িটির মালিক অবসরপ্রাপ্ত মাদ্রাসাশিক্ষক আলহাজ্ব মাওলানা কাজী আব্দুস সালাম পীর (৮২)।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে একদল লোক ওই বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায়। এ সময় বাড়ির দরবার কক্ষসহ প্রায় আটটি কক্ষ তছনছ করা হয়। ঘরে থাকা খাট, চৌকি, চারটি ফ্রিজ, দুটি সোফাসেট, টেলিভিশন, রান্নাঘর, মাটির চুলা, বাথরুম-টয়লেট, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ও মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করেছেন, ভাঙচুরের সময় বাড়ির মূল্যবান কিছু জিনিসপত্রও নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

ঘটনার দুই দিন পর মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িটির বিভিন্ন অংশ বিধ্বস্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ভাঙা আসবাবপত্র ও ঘরের বিভিন্ন সামগ্রী। পুরো বাড়িতে ছিল সুনসান নীরবতা। পরিবারের কোনো সদস্যকে সেখানে দেখা যায়নি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে অনেকেই প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পঞ্চাশোর্ধ্ব একাধিক প্রতিবেশী দাবি করেন, কাজী আব্দুস সালামের ছেলে কাজী এনামুল হক (৩৩) দীর্ঘদিন ধরে ইয়াবা, ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদ বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তাদের দাবি, এনামুল এর আগে মাদক ও নারী নির্যাতন-সংক্রান্ত মামলায় গ্রেপ্তারও হয়েছেন।

প্রতিবেশীদের ভাষ্য, গত রমজান মাস ও কোরবানির ঈদের সময় গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে এনামুল ও তার দুই ভাইকে মাদক ব্যবসা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার অনুরোধ করা হয়। এমনকি কয়েক দফায় সময় দেওয়ার পাশাপাশি পুনর্বাসন, ব্যবসা কিংবা বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান।

তাদের দাবি, এরপর গত আগস্ট মাসে মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে স্থানীয় মসজিদগুলোতে সভা এবং মাইকিংও করা হয়।

ইয়াবাসহ দুই যুবক আটকের পর উত্তেজনা

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে ওই বাড়ির সামনের এলাকা থেকে ইয়াবাসহ দুই যুবককে আটক করা হয়। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—মুরাদনগর উপজেলার উত্তর ত্রিশ গ্রামের মো. রিপন হোসেন (২৮) ও সাগর (২৪)। স্থানীয়দের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে তারা কাজী এনামুল হকের কাছ থেকে ইয়াবা কেনার কথা বলেছে এবং বিকাশের মাধ্যমে অর্থ পরিশোধের কথাও জানিয়েছে।

এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর মাদকবিরোধী বিক্ষোভ আরও উত্তাল হয়ে ওঠে। পরে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ মিছিল নিয়ে কাজী এনামুলের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায় বলে স্থানীয়রা জানান।

তবে এ ঘটনার বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্যও পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি দাবি করেন, এনামুল একসময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও গ্রামবাসীর সিদ্ধান্ত মেনে তিনি সরে আসার চেষ্টা করেছিলেন। তার ভাষ্য, আটক দুই যুবকের কাছ থেকে এনামুলের নাম আসার পরই মূলত বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে।

ওই ব্যক্তি আরও দাবি করেন, আটক যুবকরা প্রকৃতপক্ষে অন্য একটি এলাকার মাদক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে থাকতে পারেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

তিনি বলেন, “কাজী আব্দুস সালাম এলাকায় দীর্ঘদিনের সম্মানিত ব্যক্তি। মাদকবিরোধী অবস্থান নিতে গিয়ে তার পরিবারের বাড়িঘর এভাবে ভাঙচুর এবং সবাইকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা কোনোভাবেই সমাধান হতে পারে না। অভিযোগ থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

থানায় অভিযোগ নেই, তদন্তের সুযোগ রাখার কথা পুলিশের

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “এনামুল হক একজন নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ী। তার বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা ও একটি নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা রয়েছে।”

বাড়িঘর ভাঙচুরের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে সংবাদ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছে।”

স্থানীয়দের দাবি, মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযানের আড়ালে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি বা পরিবারের ওপর হামলা, ভাঙচুর কিংবা সামাজিকভাবে হয়রানির ঘটনাও যেন না ঘটে—এমন প্রত্যাশা তাদের।

দেবীদ্বারে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ এএম
দেবীদ্বারে প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগ: অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ-মানববন্ধন

সামাজিক সালিসে অভিযুক্ত ও তার দুই ছেলেকে গ্রামছাড়া করার অভিযোগ, পরিবারকে নিয়ে উঠেছে মানবাধিকার প্রশ্ন

কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার পৈরাংকুল গ্রামে বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীকে (৪০) জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগে ফারুক হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ইউছুফপুর ইউনিয়নের পৈরাংকুল আব্দু মার্কেট এলাকায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও মামলার একমাত্র আসামি ফারুক হোসেনকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তাঁদের দাবি, ঘটনার শুরুতে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ‘সালিসের মাধ্যমে মীমাংসা’র কথা বলে মামলা দায়েরে বিলম্ব ঘটিয়েছেন।

দৈনিক আজকের কথা
বাকপ্রতিবন্ধী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত গ্রেপ্তার হয়নি। দ্রুত তাকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনতে হবে। অন্যথায় থানা ঘেরাওসহ বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
— মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয় বাসিন্দারা

পরে মামলা হলেও অভিযুক্ত এখনো গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন বক্তারা। দ্রুত গ্রেপ্তার করা না হলে থানা ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচিতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তাঁরা।

সামাজিক সালিসে অভিযুক্তসহ দুই ছেলেকে গ্রামছাড়া

এদিকে ঘটনার পর গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় স্থানীয়ভাবে অনুষ্ঠিত এক সালিসে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনের সঙ্গে তাঁর দুই কর্মক্ষম ছেলেকেও গ্রাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাঁর দুই ছেলে—রাজমিস্ত্রি খায়রুল ইসলাম (২৩) ও অটোরিকশাচালক মো. রুহুল আমিন (২০)। তবে পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যদের মানবিক বিবেচনায় বাড়িতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

এ ঘটনায় সামাজিক সালিসের সিদ্ধান্ত নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সালিসদার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অপরাধের অভিযোগ যার বিরুদ্ধে, তার সঙ্গে পরিবারের উপার্জনক্ষম দুই ছেলেকে গ্রামছাড়া করা যুক্তিসঙ্গত হয়নি। এতে পরিবারটির জীবিকা ও মানবিক অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

‘বাবাকে আইনের আওতায় আনতে সহায়তা করেনি’—সালিসদারের দাবি

স্থানীয় স্কুলশিক্ষক মো. আলী হোসেন বলেন, “সালিসে অভিযুক্ত ফারুক হোসেনসহ তাঁর দুই ছেলেকে গ্রাম থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। কারণ, তাঁরা তাঁদের অভিযুক্ত বাবাকে আইনের আওতায় আনতে সহযোগিতা করেননি। ফারুক গ্রেপ্তার হলে তাঁর দুই ছেলে গ্রামে ফিরে আসতে পারবে।”

তবে এ সিদ্ধান্তের ন্যায়সংগততা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় এক সালিসদার। তাঁর মতে, ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের দায় পরিবারের অন্য সদস্যদের ওপর চাপানো উচিত নয়।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

স্থানীয় সূত্র ও মামলার তথ্য অনুযায়ী, ইউছুফপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের পৈরাংকুল-কোনাহাটি এলাকার বাসিন্দা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে গত ৩০ আগস্ট সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে একই এলাকার আব্দুল কাইয়ুমের মুদি দোকানের পেছনে ওই বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা এবং মামলা দায়েরে বিলম্বের অভিযোগ ওঠে।

পরে ভুক্তভোগী নারীর ভাই মো. হান্নান মিয়া বাদী হয়ে গত ১ সেপ্টেম্বর রাতে দেবীদ্বার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলায় ফারুক হোসেনকে একমাত্র আসামি করা হয়েছে।

তবে অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।

পুলিশের অভিযান অব্যাহত

এ বিষয়ে দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “প্রতিবন্ধী নারী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান অব্যাহত রেখেছে।”

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইউপি সদস্য মো. বাছির, মো. খাইরুল আমীন, আবুল হাসেম, মো. ছোটন মিয়া, মো. রায়হান মোরশেদ, মো. সোহেলসহ স্থানীয়রা।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক। একই সঙ্গে অভিযুক্তের পরিবারের নিরপরাধ সদস্যদের সামাজিকভাবে হয়রানি বা শাস্তির আওতায় না আনার বিষয়টিও নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

×
ENG