সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩

নতুন ঝামেলায় ড. ইউনুস: টিউলিপ সিদ্দিকের মুখোমুখি হওয়ার চাপ

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৮ জুন, ২০২৫, ৬:২১ পিএম
নতুন ঝামেলায় ড. ইউনুস: টিউলিপ সিদ্দিকের মুখোমুখি হওয়ার চাপ
google news দৈনিক আজকের কথা এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

ড. ইউনুস লন্ডন সফর নতুন করে আন্তর্জাতিক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একতরফা ও প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে চেয়ে তার সাথে সরাসরি আলোচনার আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক। এই সফরকে ঘিরে এখন নানা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রশ্ন উঠে এসেছে, যা ইউনুসকে এক প্রকার ‘উভয় সংকট’-এর মধ্যে ফেলেছে।

টিউলিপ সিদ্দিকের খোলা চিঠি

চারবার নির্বাচিত ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্য এবং স্বেচ্ছায় মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পরও জনপ্রিয় টিউলিপ সিদ্দিক ড. ইউনুসকে একটি উন্মুক্ত চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে অনুরোধ করেছেন, লন্ডন সফরের সময় ড. ইউনুস যেন তার সাথে দেখা করেন এবং বাংলাদেশের দুর্নীতি নিয়ে যে আন্তর্জাতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে মুখোমুখি আলোচনা করেন।

লন্ডনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতি

জানা গেছে, ড. ইউনুসের এই সফরে তার সাথে থাকবেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরও। এতে ইঙ্গিত মিলেছে, এই সফর নিছক ব্যক্তিগত নয়, বরং আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ও প্রশ্নবিদ্ধ পদক্ষেপ নিয়ে ব্যাখ্যার একটি চেষ্টাও থাকতে পারে।

সাক্ষাৎ না দিলে বিপদ, সাক্ষাৎ দিলেও বিব্রতকর প্রশ্ন

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি ড. ইউনুস টিউলিপ সিদ্দিকের আহ্বানে সাড়া না দেন, তবে ব্রিটিশ সরকার ও জনগণের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ আরও বিতর্কিত হয়ে উঠবে। আর যদি সাক্ষাৎ করেন, তাহলে তাকে যে কঠিন ও বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, তার প্রস্তুতি এখনই নিতে হবে। কারণ, ইউনুসপন্থীরা দাবি করছেন, টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন।

ড. ইউনুস লন্ডন সফর
ড. ইউনুস লন্ডন সফর

ইউনুসের জন্য লন্ডন সফর এখন চরম দ্বিধার

এই পরিস্থিতিতে ড. ইউনুসের লন্ডন সফর পরিণত হয়েছে এক রকমের ‘উভয় সংকট’ বা Dilemma-তে। তিনি যেটিই করুন না কেন, বিতর্ক তার পিছু ছাড়বে না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

🌐 পর্যবেক্ষণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

ড. ইউনুসের বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে ইতোমধ্যে দেশ-বিদেশে প্রশ্ন উঠেছে। তাকে লক্ষ্য করে দুদকের পদক্ষেপের সময়, প্রক্রিয়া এবং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না—তা নিয়ে বিতর্ক চলছে। একদিকে ইউনুস একজন নোবেলজয়ী আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব, অন্যদিকে তিনি সরকারের বিরোধী ভাবমূর্তির এক প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

টিউলিপ সিদ্দিকের মতো একজন প্রভাবশালী ব্রিটিশ এমপির সরাসরি এই ইস্যুতে যুক্ত হওয়া শুধুমাত্র ব্যক্তিগত উদ্বেগ নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থানকেও প্রভাবিত করতে পারে। টিউলিপের পরিবারিক শিকড় বাংলাদেশে হলেও, তার অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি ব্রিটিশ সংসদের একটি অংশের প্রতিফলন।

যদি ড. ইউনুস এই আলোচনায় অংশগ্রহণ না করেন, তাহলে আন্তর্জাতিক মহলে এটি দুর্নীতির অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়া বলেই প্রতিপন্ন হতে পারে। অন্যদিকে, তিনি যদি মুখোমুখি হন, তবে সরকারপন্থী মহলে সেই বক্তব্যকে আবার ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হতে পারে।

এ থেকে বোঝা যায়, বিষয়টি কেবল একটি ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং ভাবমূর্তির সংঘাতে রূপ নিচ্ছে।

রাজনৈতিক বার্তা:

ড. ইউনুস লন্ডন সফর এই পরিস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে, দেশের ভেতরের যে রাজনীতিক সংঘাত, তা এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ছে। এতে সরকারের প্রতিপক্ষ, বিদেশি মিডিয়া এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভূমিকাও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইউনুসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিতর্ক ভবিষ্যতে নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted

মাঠে কাজ, প্রাণ গেল

সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

শফিকুল ইসলাম সুমন, মানিকগঞ্জ থেকে : প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১:৫৩ এএম
সিংগাইরে বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু

মাঠে কাজ করার সময় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর এলাকায় এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

⚡ এক নজরে ঘটনা

রোববার সন্ধ্যায় সিংগাইরের কাঞ্চননগর এলাকায় কৃষিকাজ করার সময় বজ্রপাতে
কবির হোসেন (৩০)শহিদুল ইসলাম (২৫) নামে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতরা হলেন কাঞ্চননগর গ্রামের নেওয়াজ উদ্দিনের ছেলে কবির হোসেন (৩০) এবং রফি মিস্ত্রির ছেলে শহিদুল ইসলাম (২৫)। তারা দুজনই কৃষিকাজের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করতেন।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, রোববার বিকেলে নিজ নিজ জমিতে কৃষিকাজ করছিলেন কবির ও শহিদুল। এ সময় হঠাৎ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির মধ্যেই মাঠে অবস্থানকালে আকস্মিক বজ্রপাতে তারা গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাদের উদ্ধার করে সাভারের হেমায়েতপুর এলাকার জামাল ক্লিনিকে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার খবরে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।

সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বৈরী আবহাওয়ার সময় খোলা মাঠ, জলাশয় ও উঁচু স্থানে অবস্থান না করার জন্য সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

নিখোঁজের পর মিলল লাশ

টিসি দেওয়ার কয়েকদিন পরই নিখোঁজ ছাত্রী, ৬ দিন পর কবরস্থানের ঝোপে মিলল খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ

রোমানা আক্তার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১১:৩৬ পিএম
টিসি দেওয়ার কয়েকদিন পরই নিখোঁজ ছাত্রী, ৬ দিন পর কবরস্থানের ঝোপে মিলল খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার ছয় দিন পর এক স্কুলছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

▶ যা জানা গেছে

নিখোঁজের ছয় দিন পর কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে স্কুলছাত্রীর খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
ঘটনার আগে বিদ্যালয়ে শৃঙ্খলাজনিত একটি ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুই শিক্ষার্থীকে টিসি দেওয়া হয়েছিল।
তদন্তের অংশ হিসেবে এক শিক্ষার্থীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।

রোববার (২১ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার জামির্তা ইউনিয়নের চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানসংলগ্ন ঝোপ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

নিহত কিশোরী উপজেলার শায়েস্তা ইউনিয়নের সাহরাইল উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিলেন।

পুলিশ, বিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন বিদ্যালয়ের টিফিন বিরতির সময় একটি শ্রেণিকক্ষে ওই ছাত্রী ও দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ঘিরে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ ওঠে।

বিদ্যালয়ের সিসিটিভি ফুটেজে বিষয়টি ধরা পড়ার পর উভয় শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দুই শিক্ষার্থীকে ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) দিয়ে প্রতিষ্ঠান ছাড়ার নির্দেশ দেয় বলে জানা গেছে।

এ ঘটনার পরপরই ওই ছাত্রী নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি রেখে যায়।

এরপর আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজের ছয় দিন পর রোববার বিকেলে চন্দননগর এলাকার একটি কবরস্থানের পাশে ঝোপের মধ্যে মরদেহের অংশ দেখতে পান স্থানীয়রা।

পরে তারা পুলিশে খবর দিলে সিংগাইর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে খণ্ডবিখণ্ড মরদেহ উদ্ধার করে।

প্রাথমিকভাবে নিহতের স্বজনরা মরদেহটি নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বলে শনাক্ত করেন। পরে সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ওই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ঘটনার পেছনে কারা জড়িত এবং কীভাবে ওই কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে—সেসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় নিহতের পরিবার দ্রুত হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

নারী উদ্যোক্তা মহলে শোক

নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১০:০৯ পিএম
নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক এমপি সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই

দেশের বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, শিল্পোদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ মেরী আর নেই। থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (২১ জুন) বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

মৃত্যুকালে তিনি দেশের অন্যতম শিল্পগোষ্ঠী নিটল-নিলয় গ্রুপ⁠ এর ভাইস চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তিনি দেশের ব্যবসায়ী সমাজে নারী নেতৃত্ব বিকাশ এবং নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে অগ্রণী ভূমিকার জন্য বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।

❝ সেলিমা আহমাদ মেরী সম্পর্কে যা জানা যাচ্ছে ❞

নারী উদ্যোক্তা ও সাবেক সংসদ সদস্য সেলিমা আহমাদ থাইল্যান্ডের
ব্যাংককে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তিনি BWCCI-এর
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং নিটল-নিলয় গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।
কর্মজীবনে তিনি Oslo Business for Peace Awardসহ একাধিক জাতীয় ও
আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হন।

পারিবারিক ও প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ সেলিমা আহমাদ থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাদ ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সেখানেই তার মৃত্যু হয়। আগামী মঙ্গলবার তার মরদেহ দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিটল-নিলয় গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিরো মোটোকর্প নিলয় বাংলাদেশ⁠-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিজয় কুমার মণ্ডল তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সেলিমা আহমাদ ছিলেন দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তিনি নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ব্যবসায় নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তার প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি দেশের নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পরিচিত।

রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয় ছিলেন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর মনোনয়নে কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক লিমিটেড⁠-এর পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি দেশ-বিদেশে একাধিক সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হন। ২০১৪ সালে ব্যবসা ও সামাজিক দায়বদ্ধতায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি আন্তর্জাতিক Oslo Business for Peace Award অর্জন করেন। এছাড়া ২০২২ সালে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য তিনি বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা পদক লাভ করেন। এর আগে ২০১২ সালে Islamic Development Bank Award এবং Priyadarshini Award-এও সম্মানিত হন।

তার মৃত্যুতে ব্যবসায়ী সমাজ, নারী উদ্যোক্তা মহল, রাজনৈতিক অঙ্গন এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তারা বলেন, সেলিমা আহমাদের মৃত্যু দেশের নারী উদ্যোক্তা আন্দোলনের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। নারী ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

📊 অনলাইন জরিপ

স্বাধীনতা যুদ্ধে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, এটি একটি ঐতিহাসিক সত্য। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের এই বক্তব্যে আপনি কি একমত?

ফলাফল দেখুন

×
CLOSE X
0
Would love your thoughts, please comment.x
()
x