

এনসিপি ব্যর্থতা এখন স্পষ্ট—গায়ের জোরে কথা বলা, বিতর্কিত নেতৃত্ব আর ইউনূসের ছায়ায় রাজনীতি করে জনগণের আস্থা অর্জনে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মাসুদ কামালের মতে, এনসিপি যদি কোনোভাবে একটি আসনে জামানত রক্ষা করতেও সক্ষম হয়, সেটিই হবে তাদের রাজনীতির সর্বোচ্চ সাফল্য।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাংবাদিক ও বিশ্লেষক মাসুদ কামাল। সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে তিনি বলেন, “এনসিপি গায়ের জোরে কথা বলে, তাদের নেতাদের আচার-আচরণে রাজনীতির ছিটেফোঁটা নেই।”
তার মতে, এনসিপির রাজনৈতিক ব্যর্থতা এখনই সুস্পষ্ট। তারা এখনো নিবন্ধিত দল নয়, তবু একটি তোষামোদভিত্তিক অবস্থান তৈরি করে রেখেছে ইউনূসের আশপাশ ঘিরে। মাসুদ বলেন, “তারা বলে, নিবন্ধন চাইলে পেয়ে যাবে; ইউনূস সাহেব আছেন না!”
তিনি ড. ইউনূসের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিবৃতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তার ভাষায়, “এই যৌথ বিবৃতির ভাষা কি জনগণের? সাংবাদিকদেরও নয়। এটা আসলে কার জন্য?”

সাংবাদিক মাসুদ কামাল- ছবি : সংগৃহিত।
বিশ্লেষক মাসুদ কামাল অভিযোগ করেন, ড. ইউনূস কোনো রাজনৈতিক দলের মতামত ছাড়াই এককভাবে এপ্রিল মাসে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার মতো সিদ্ধান্ত নেন, যেন সেটি মহান কোনো পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা হবে। কিন্তু তার সে ধারণা ভ্রান্ত প্রমাণিত হয়েছে।
তিনি বলেন, “ঘোষণার পর ইউনূস নিজেই বুঝে গেছেন তিনি ভুল করেছেন। বিএনপির সমর্থন ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।”
এর আগে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে নারী কুপ্রস্তাবের অভিযোগ ও অডিও ফাঁস ঘিরে বিতর্ক ছড়ায়। সারোয়ার তুষারের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিরা দলের মুখপাত্র হয়ে উঠলে জনআস্থা আরও তলানিতে যায়।
এনসিপি ব্যর্থতা শুধু নির্বাচনী মাঠেই নয়, নেতৃত্বের গুণগত ঘাটতি ও জনবিচ্ছিন্ন সিদ্ধান্তেও স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। মাসুদ কামালের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউনূসের ভাবমূর্তি ব্যবহার করেও জনসম্পৃক্ততা অর্জনে ব্যর্থ হওয়া একটি দলের জন্য সবচেয়ে বড় বার্তা— রাজনীতি মুখ নয়, বিশ্বাসের জায়গা।
এনসিপি ব্যর্থতা একটি প্রমাণিত বাস্তবতা হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ইউনূসের প্রভাবকে পুঁজি করে জনআস্থা অর্জনের প্রচেষ্টা ভেস্তে গেছে। দলটির নেতাদের বিতর্কিত আচরণ, জনবিচ্ছিন্ন বক্তব্য ও সাংগঠনিক দুর্বলতা এ ব্যর্থতাকে আরও তীব্র করেছে। জনগণ এখন এনসিপিকে বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে দেখতে প্রস্তুত নয়।