দাম্পত্যের তিন দশকের ভালোবাসা
তিন দশকের দাম্পত্য বন্ধনে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার দম্পতি

তিন দশকের দাম্পত্য বন্ধনে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার দম্পতির পরাবার। ছবি : আজকের কথা
দাম্পত্য বন্ধনে প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার দম্পতির কেটে গেল তিন দশক। কুমিল্লার দেবীদ্বারের সুপরিচিত প্রবীণ সাংবাদিক, কলামিস্ট, লেখক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক এবিএম আতিকুর রহমান বাশারের দাম্পত্য জীবনের ৩০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায় সিক্ত হয়েছেন পরিবার, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী এবং সামাজিক-রাজনৈতিক অঙ্গনের অসংখ্য মানুষ। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের সুখ-দুঃখ, সংগ্রাম ও ভালোবাসার পথচলার এই বিশেষ দিনটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও দেখা গেছে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া।
শুক্রবার (২৯ মে) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক আবেগময় স্ট্যাটাসে এবিএম আতিকুর রহমান বাশার লিখেন—
“২৯ পেরিয়ে ৩০ বছরে পদার্পণ
—
যুগল বন্ধনে আটক থেকে এক সাথে পথ চলায় আজ ২৯ পেরিয়ে ৩০শে পদার্পণ।
এরই মাঝে অর্জণ ‘প্রতিভা- প্রজ্ঞা- ওয়াফি’।
ওরা যেন মানুষের মতো মানুষ হতে পারে এবং আমাদের জন্যও দোয়া করবেন।”
তার এই স্ট্যাটাস প্রকাশের পরপরই শুভেচ্ছা ও অভিনন্দনের বন্যায় ভেসে যায় কমেন্ট বক্স। সাংবাদিক, রাজনীতিক, শিক্ষক, সাহিত্যিক, সামাজিক সংগঠকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শুভকামনা জানান এই গুণী সাংবাদিক দম্পতিকে।
দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে এবিএম আতিকুর রহমান বাশার কেবল সংবাদ পরিবেশনেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি; বরং সমাজের নানা অসঙ্গতি, মানুষের অধিকার, স্থানীয় ইতিহাস এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণে নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তিনি কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটির নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। বর্তমানে তিনি প্রেসক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন।
জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা এবিএম আতিকুর রহমান বাশার স্থানীয় সাংবাদিকতায় এক পরিচিত ও সম্মানিত নাম। পেশাগত জীবনের সততা, সাহসী অবস্থান এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার কারণে তিনি কুমিল্লাসহ বৃহত্তর অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছেন। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে তিনি একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।
সম্প্রতি বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস উপলক্ষে কুমিল্লায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে “নিরাপদ সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে বিশেষ অবদান” রাখার জন্য তাকে বিশেষ সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। সহকর্মীদের মতে, সংবাদপত্রের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা অনুকরণীয়।
সাংবাদিকতার বাইরে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও স্থানীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণেও রয়েছে তার অসামান্য অবদান। বিশেষ করে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে দেবীদ্বার অঞ্চলের বীরত্বগাথা, শহীদদের স্মৃতি এবং যুদ্ধকালীন নানা ঘটনার তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে বিভিন্ন সভা-সেমিনার, আলোচনা সভা এবং স্মৃতিচারণমূলক কার্যক্রমেও সক্রিয় অংশগ্রহণ করে থাকেন তিনি।
এছাড়াও সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি একজন সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসনের রাজনীতির সাথেও দীর্ঘদিন ধরে সম্পৃক্ত রয়েছেন। শিক্ষা বিস্তার, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, মানবিক কর্মকাণ্ড এবং স্থানীয় উন্নয়নমূলক বিভিন্ন উদ্যোগে তাকে সবসময় সরব দেখা যায়।
ব্যক্তিজীবনে একজন দায়িত্বশীল পরিবারপ্রেমী মানুষ হিসেবেও পরিচিত এবিএম আতিকুর রহমান বাশার। দীর্ঘ দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে এসেছে তিন সন্তান— প্রতিভা, প্রজ্ঞা ও ওয়াফি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া তার স্ট্যাটাসে সন্তানদের “মানুষের মতো মানুষ” হওয়ার যে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন, তা অনেকের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
সহকর্মীরা বলছেন, একজন সাংবাদিক হিসেবে যেমন তিনি নীতিবান ও সাহসী, তেমনি ব্যক্তি জীবনেও অত্যন্ত বিনয়ী, মানবিক ও পারিবারিক মূল্যবোধসম্পন্ন একজন মানুষ। জীবনের প্রতিটি সংগ্রামে সহধর্মিণীর সহযোগিতা ও সমর্থন তাকে সামনে এগিয়ে যেতে শক্তি যুগিয়েছে বলেও অনেকে মন্তব্য করেছেন।
দাম্পত্য জীবনের ৩০ বছরে পদার্পণ উপলক্ষে শুভানুধ্যায়ীরা এই গুণী দম্পতির সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও সুখী জীবনের কামনা করেছেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকতা, গবেষণা ও সমাজসেবায় এবিএম আতিকুর রহমান বাশারের অবদান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে— এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের সংকট নিরসন সম্ভব নয়: আহমেদ আবু জাফর

দেবীদ্বারে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন, সভাপতি আহমেদ হোসাইন ও সম্পাদক শফিউল আলম রাজীব
গণমাধ্যমের ওপর দোষ চাপিয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসন করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে আয়োজিত স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, “আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এ বি এম আতিকুর রহমান বাশারের সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। সাংবাদিকদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা জরুরি।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বিএমএসএফের সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক এবং সংগঠনটির কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন কমিটির সহসভাপতি মনোয়ার হোসেন ও মো. আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়, দৈনিক আজকালের খবরের দেবীদ্বার প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের প্রতিনিধি এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, ডা. মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন ও অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমানসহ স্থানীয় সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী। গীতা পাঠ করেন ভজন সাহা। পরে সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত পরিবেশিত হয়।
সভায় সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ, সাংবাদিকদের ঐক্য সুদৃঢ় করা এবং অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
২১ সদস্যের উপজেলা কমিটি ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশের কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটিতে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি এ আর আহমেদ হোসাইনকে সভাপতি এবং দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে।
কমিটির অন্য পদধারীরা হলেন—সহসভাপতি ময়নাল হোসেন (ভিপি), দৈনিক মুক্ত খবর; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন হাজারী, দৈনিক জবাবদিহি; সাংগঠনিক সম্পাদক জনি ফারুক, দৈনিক ইনকিলাব; সহসাংগঠনিক সম্পাদক এম এ হালিম, দৈনিক বাংলার আলোড়ন; দপ্তর সম্পাদক মনির মোশাররফ, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; অর্থবিষয়ক সম্পাদক ডা. মো. শাহিন; প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এ কে এম মিজানুর রহমান কাউছার, দৈনিক ঢাকা নিউজ; তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক সম্পাদক শিক্ষক মো. শাখাওয়াত হোসেন; আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. আনিছুর রহমান খান; সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ জালাল; শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. রুহুল আমিন, সহকারী প্রধান শিক্ষক; পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, দৈনিক দিন প্রতিদিন; মামলা ও নির্যাতন মনিটরিং সেলের দায়িত্বে বিল্লাল হোসেন, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার; জরুরি সহায়তা ও চিকিৎসাবিষয়ক দায়িত্বে ডা. মাসুদ হাসান।
নির্বাহী সদস্য করা হয়েছে আব্দুল আউয়াল, দৈনিক আমার প্রাণের বাংলাদেশ এবং আব্দুল আলিম, ফেইস দ্য পিপল নিউজকে। সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন এমজে মামুন, দৈনিক নাগরিক ভাবনা; রাসেল সরকার, দৈনিক মানবজমিন এবং মামুনুর রশীদ, দৈনিক খবরের আয়না।
কুমিল্লার লালমাইয়ে পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই শিশুর

লালমাইয়ে মর্মান্তিক ঘটনা, নিহত দুই শিশু সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই
কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় পুকুরের পানিতে ডুবে আবদুর রহমান (৪) ও জুবায়ের (৫) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার বাগমারা দক্ষিণ ইউনিয়নের বরইয়া গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত আবদুর রহমান ওই গ্রামের প্রবাসী সোহেল রানার ছেলে। অন্যদিকে জুবায়ের একই গ্রামের জুয়েল রানার সন্তান। তারা সম্পর্কে চাচাতো-জেঠাতো ভাই।
স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে বাড়ির কাছেই খেলাধুলা করছিল দুই শিশু। খেলার একপর্যায়ে তারা পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে শিশু দুটিকে দীর্ঘ সময় দেখতে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পুকুরে তাদের ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন। এরপর দ্রুত স্থানীয় বাগমারা বাজারে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা শেষে তাদের মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে।
লালমাই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
নিজ ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মুরোদ নেই, দুই উপজেলার ২২ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা!

মুরাদনগর ও বাঙ্গরায় এনসিপির প্রার্থী বাছাই নিয়ে কামাল ভূঁইয়ার কড়া সমালোচনা, বক্তব্যের ভিডিও ভাইরাল
কুমিল্লার মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ ও প্রার্থী বাছাইয়ের উদ্যোগ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার কঠোর সমালোচনা করেছেন মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া।
কামাল ভূঁইয়া বলেন, “যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।”
২৬ অক্টোবর বিকেলে বাঙ্গরা উপজেলার আকুবপুর ইউনিয়নের আমতলী বাজারসংলগ্ন এনসিপির কার্যালয়ে প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হয়। এতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া উপস্থিত থেকে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার নেন।

যার নিজের ওয়ার্ডে মেম্বার হওয়ার মতো অবস্থান নেই, তিনি দুই উপজেলার ২২টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষণা করতে এসেছেন—এটা হাস্যকর।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা উপজেলার ২২টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে দলীয় সমর্থন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছিল এনসিপি। তবে সব ইউনিয়ন থেকে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ নিয়ে কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, সে বিষয়ে দলটির স্থানীয় নেতাদের কেউ নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
এনসিপির এ উদ্যোগের সমালোচনা করে বিএনপি নেতা কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া দাবি করেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নিজের এলাকায় রাজনৈতিক জনসমর্থন নেই। এমনকি নিজের ভোট মুরাদনগর থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করে চলে যেতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
কামাল ভূঁইয়া আরও বলেন, মুরাদনগর ও বাঙ্গরার মাটিতে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করা হবে।
তাঁর এ বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটি ঘিরে অনলাইনে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যের প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন বলে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
তবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া কিংবা এনসিপির পক্ষ থেকে কামাল ভূঁইয়ার এসব বক্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।






























