তিস্তার ভয়াবহ নদীভাঙন
সুন্দরগঞ্জে তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন, এক সপ্তাহে নদীগর্ভে বিলীন ৫ শতাধিক বসতভিটা

তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় বসতভিটা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ছবি : আজকের কথা
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বেলকা, হরিপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা এবং তারাপুর, দহবন্দ, শান্তিরাম, কঞ্চিবাড়ি, শ্রীপুর, চণ্ডিপুর ইউনিয়ন ও পৌরসভার একাংশ বর্তমানে নদীভাঙনের উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভাটিতে তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের মিলনস্থল হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলে ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যায়। সাম্প্রতিক উজানের পাহাড়ি ঢল এবং নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির পর পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাপাসিয়া ইউনিয়নের উত্তর লালচামার, ভোরের পাখি, উজান বুড়াইল, কেরানীরচর ও ভাটি বুড়াইল এলাকা। নদীর তীব্র স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে বসতভিটা, কৃষিজমি, গাছপালা ও বাঁশঝাড় নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অনেক পরিবার ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র কিংবা গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়ারও সময় পাচ্ছে না।
ক্ষতিগ্রস্ত আবুল হোসেন, রবিউল ইসলাম, শাহ কামাল, জাহাঙ্গীর, জাফর আলী, জয়নাল আবেদীন ও মমিনুল ইসলামসহ স্থানীয়রা জানান, প্রতিবছরই নদী তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা গ্রাস করছে। কিন্তু স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় তারা বারবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন। এবারও পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেবেন এবং কীভাবে নতুন করে জীবন শুরু করবেন, সেই অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তাদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি স্থানে পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেললেও তা ভাঙনের ভয়াবহতার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন ছাড়া এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জু মিয়া এবং ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও হাবিজার রহমান জানান, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করা হচ্ছে, যাতে সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছে দেওয়া যায়।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফ্ফাত জাহান তুলি বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুতের জন্য সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে বিশেষ বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া মাত্র ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা বিতরণ করা হবে।
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই তিস্তার ভয়াবহ ভাঙন সুন্দরগঞ্জের নদীতীরবর্তী জনপদে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিবছরের অস্থায়ী প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নয়, দ্রুত টেকসই নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীভাঙনকবলিত মানুষের জীবন, বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।
দুই স্বাস্থ্যকর্মীর হাতে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি স্বাভাবিক প্রসব

নিরাপদ মাতৃত্বে আস্থার প্রতীক নাজমা-শিরিনা
কখনো গভীর রাতে, কখনো ভোরের আগে—প্রসববেদনায় কাতর মায়ের পাশে ছুটে যেতে হয়েছে তাঁদের। দীর্ঘদিনের দক্ষতা, আন্তরিকতা ও সেবার মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দুটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসবের ক্ষেত্রে তাঁরা হয়ে উঠেছেন আস্থা ও ভরসার নাম। তাঁদের তত্ত্বাবধানে পৃথিবীর আলো দেখেছে সাড়ে ১০ হাজারের বেশি শিশু।
এই দুই স্বাস্থ্যকর্মী হলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলার দরিয়াদৌলত ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা নাজমা আক্তার এবং বিজয়নগর উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রের পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা শিরিনা চৌধুরী।
পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, নাজমা আক্তার গত ১২ বছরে প্রায় ৩ হাজার এবং শিরিনা চৌধুরী ৩৪ বছরে ৭ হাজার ৫৭৩টি স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন।
নাজমার সুনাম ছড়িয়েছে আশপাশেও
নাজমা আক্তার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ছয়ফুল্লাহকান্দি ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের বাসিন্দা। ২০১৪ সালের ১০ ডিসেম্বর চাকরিতে যোগ দেন তিনি। ২০১৯ সালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় মাসের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তাঁর দক্ষতা ও সুনাম আরও বাড়ে।
বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর ছাড়াও পাশের নবীনগর, নরসিংদী এবং কুমিল্লার হোমনা থেকেও প্রসূতিরা তাঁর কাছে আসেন।

স্বাস্থ্যকর্মী শিরিনা চৌধুরী ও নাজমা আক্তার স্বাভাবিক প্রসবে জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় ও দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত নাজমার তত্ত্বাবধানে ২ হাজার ৪৪১টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম সাত মাসেই তিনি ২৮০টি প্রসবে সহায়তা করেছেন।
২০২২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে টানা শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা হয়েছেন নাজমা। ২০২৪, ২০২৫ ও চলতি বছরেও তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ হয়েছেন।
গত ১৬ জুন দরিয়াদৌলত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, নাজমার কক্ষে রোগীর ভিড়। প্রসববেদনা নিয়ে পাশের কক্ষে অপেক্ষা করছিলেন এক প্রসূতি। আগের দিন বিকেল থেকে পরবর্তী ১৭ ঘণ্টায় পাঁচটি স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করেন তিনি। এক দিনে সর্বোচ্চ ছয়টি প্রসব করানোর অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। তাঁর তত্ত্বাবধানে এ পর্যন্ত ১৫ জোড়া যমজ শিশুর জন্ম হয়েছে।
নাজমা আক্তার বলেন, দীর্ঘ সময় কাজ করে ক্লান্ত হয়ে পড়লেও সুস্থ নবজাতকের জন্মের পর সেই ক্লান্তি থাকে না। বর্তমানে তিনি প্রতি মাসে গড়ে ৪০ থেকে ৪৫টি স্বাভাবিক প্রসবে সহায়তা করেন। ২০১৯ সালের মিডওয়াইফারি প্রশিক্ষণের পর তাঁর দক্ষতা বাড়ার পাশাপাশি মানুষের আস্থাও বেড়েছে।
দরিয়াদৌলত গ্রামের আনসার আলী জানান, তাঁর এক নাতির জন্মও এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হয়েছে। নাজমার সুনাম এখন শুধু ইউনিয়ন নয়, পুরো উপজেলা ও আশপাশের এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে।
৩৪ বছরে শিরিনার ৭ হাজার ৫৭৩ প্রসব
বিজয়নগরের পাহাড়পুর ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে শিরিনা চৌধুরী ১৯৯২ সালের জুনে পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা হিসেবে যোগ দেন। স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯২ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মাসে গড়ে ৮ থেকে ৯টি এবং ২০১০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ২৫ থেকে ৩০টি স্বাভাবিক প্রসব করিয়েছেন তিনি।
হিসাব অনুযায়ী, ৩৪ বছরে তাঁর তত্ত্বাবধানে ৭ হাজার ৫৭৩টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে এক মাসেই ৪৭টি প্রসব করিয়ে রেকর্ড গড়েন তিনি।
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ২০১৯ সাল থেকে অনলাইনে প্রসবের তথ্য সংরক্ষণ করছে। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের জুলাই পর্যন্ত বিজয়নগরের ১০টি স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্রে মোট ৫ হাজার ৫৫২টি স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। এর মধ্যে শিরিনা একাই করিয়েছেন ২ হাজার ৪৩৯টি।
বর্তমানে উপজেলার চারটি কেন্দ্রে স্বাভাবিক প্রসব কার্যক্রম চালু রয়েছে। বাকি ছয়টি কেন্দ্রে প্রসব কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
শিরিনা চৌধুরী বলেন, চাকরির শুরুর দিকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রসব করাতে হতো। পরে মানুষকে সচেতন করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রমুখী করা হয়। সেবার সাফল্যের খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রসূতিদের আস্থাও বেড়েছে। দূরদূরান্ত থেকেও এখন অনেকে এখানে আসেন। অসংখ্য নির্ঘুম রাত পার হলেও সুস্থ নবজাতকের জন্মের মুহূর্তে সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়।
স্বাস্থ্যসেবায় অবদানের জন্য শিরিনা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একাধিকবার পুরস্কৃত হয়েছেন। ২০১০ সাল থেকে তিনি উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং পাহাড়পুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রও শ্রেষ্ঠ হয়ে আসছে। ২০১৫ সালে জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ পরিবারকল্যাণ পরিদর্শিকা এবং ২০১৮ সালে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ জয়িতা পুরস্কার পান তিনি।
দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন দুই স্বাস্থ্যকর্মী
জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপপরিচালক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মী শিরিনা চৌধুরী ও নাজমা আক্তার স্বাভাবিক প্রসবে জেলায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তাঁরা অসাধারণ কাজ করে যাচ্ছেন।
স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞদের সংগঠন অবস্টেট্রিক্যাল অ্যান্ড গাইনোকোলজিক্যাল সোসাইটি অব বাংলাদেশের (ওজিএসবি) সাবেক সভাপতি রওশন আরা বেগম তাঁদের প্রশংসা করে বলেন, এই দুই স্বাস্থ্যকর্মীকে সাধুবাদ ও স্যালুট জানানো উচিত। সারা দেশে স্বাভাবিক প্রসবের যে ধারা রয়েছে, তা অব্যাহত রাখার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
নাজমা আক্তার ও শিরিনা চৌধুরী জানান, কোনো প্রসূতির শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন মনে হলে তাঁরা দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত স্থানান্তরের সুবিধার্থে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখার পরামর্শও দেন তাঁরা।
দাউদকান্দির ইউএনওকে বদলি, এআই কণ্ঠে ‘নিউজ সরানোর’ দাবি—অখ্যাত পেজে অডিও, গভীর ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

বদলির পর ছড়ানো অডিও ঘিরে নতুন বিতর্ক
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাছরীন আক্তারকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক আদেশে এ বদলি করা হলেও আদেশ জারির এক সপ্তাহ পরও তিনি দাউদকান্দি থেকে বিদায় নেননি।
গত ২৩ আগস্ট জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. বর্মন হোসেন স্বাক্ষরিত আদেশে নাছরীন আক্তারকে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়। আদেশে তাঁকে নিজ অধিক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৪৪ ধারার অধীনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হওয়ার কথা বলা হয়।
তবে আদেশ জারির প্রায় এক সপ্তাহ পরও নাছরীন আক্তার দাউদকান্দিতে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে তাঁর সরকারি মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে বদলি ও এ-সংক্রান্ত বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (সাধারণ) সাইফুল ইসলাম বদলির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ডিসি স্যার তাঁকে এ আদেশের বিষয়ে জানিয়েছেন। সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া; মন্ত্রণালয় চাইলে যেকোনো কর্মকর্তাকে বদলি করতে পারে।
এদিকে ইউএনও নাছরীন আক্তারকে ঘিরে নতুন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। কয়েকটি অখ্যাত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও ফেসবুক পেজে তাঁর কণ্ঠসদৃশ একটি অডিও ছড়িয়ে দিয়ে বিভিন্ন নিউজ সরিয়ে নেওয়ার দাবি করা হচ্ছে। তবে অডিওটি সত্যিই নাছরীন আক্তারের কণ্ঠ কি না, কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে কণ্ঠটি তৈরি বা পরিবর্তন করা হয়েছে কি না—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সরকারি চাকরিতে বদলি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। মন্ত্রণালয় চাইলে যে কাউকেই বদলি করতে পারে।
অডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের কেউ কেউ এটিকে ইউএনও নাছরীন আক্তারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত ও গভীর ষড়যন্ত্র বলেও মন্তব্য করেছেন। বিশেষ করে বদলির খবর প্রকাশের পর এ ধরনের অডিও ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ২৩ জুলাই দাউদকান্দি উপজেলা চেয়ারম্যানের বাসভবন ভেঙে মালামাল নিলামে না দিয়ে বিক্রি করার অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হয়েছিল। তবে ওই অভিযোগের সঙ্গে নাছরীন আক্তারের বর্তমান বদলির সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন তথ্য সরকারি আদেশে উল্লেখ নেই।
সরকারি কর্মকর্তার কণ্ঠসদৃশ কোনো অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সেটির সত্যতা যাচাই না করে প্রচার করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে। ফলে অডিওটির উৎস, সত্যতা এবং এটি এআই-নির্মিত কি না—তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেবীদ্বারে বীর মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় মোবাইল চুরি, ২ চোর আটক

১১ মোবাইল চুরির অভিযোগ
কুমিল্লার দেবীদ্বারে কৃষি অধিদপ্তরের সাবেক উপপরিচালক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কৃষিবিদ এম. এ. আউয়াল মোল্লার জানাজার নামাজে মোবাইল চুরির অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। পরে তাদের গণপিটুনি দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ১১টি মোবাইল চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে, যার মধ্যে তিনটি আইফোন রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বাদ জোহর দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা মোল্লা বাড়িতে মরহুম হারুন অর রশিদের ছেলে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. আউয়াল মোল্লার জানাজার সময় এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মরহুমকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক অজয় চক্রবর্তীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাষ্ট্রীয় সালাম প্রদান করে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন রাষ্ট্রীয় সম্মান গ্রহণ করেন।
আটক দুজন হলেন—ঢাকার যাত্রাবাড়ীর সায়েদাবাদ এলাকার দুলাল দেবনাথের ছেলে রতন চন্দ্র দেবনাথ (৪২) এবং শনির আখড়া এলাকার আতিক মিয়ার ছেলে মিন্টু মিয়া (৫৫)।
পুলিশের দাবি, আটক ব্যক্তিরা একটি পেশাদার চোর চক্রের সঙ্গে জড়িত। দেশের বিভিন্ন এলাকায় পরিচিত বা প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মৃত্যুর পর তাদের জানাজার তথ্য সংগ্রহ করে তারা সেখানে মুসল্লির ছদ্মবেশে উপস্থিত হতো। পরে জানাজার ভিড় ও আবেগঘন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে মুসল্লিদের পকেট থেকে মোবাইল চুরি করে পালিয়ে যেত।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গার্ড অব অনার শেষে জানাজার নামাজ চলাকালে মুসল্লিদের ভিড়ের মধ্যে মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করা দুই ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করেন উপস্থিত লোকজন।
দেবীদ্বার থানা পুলিশ জানিয়েছে, আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. আউয়াল মোল্লাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়ন কর্তৃক গঠিত বিশেষ গেরিলা বাহিনীর সদস্য ছিলেন। পরে দেবীদ্বার, মুরাদনগর ও চান্দিনা থানা কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন।





























