বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

মব বিতর্কে কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী, সম্পাদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম
কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ

কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • আন্দোলনের সময়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন।
  • তার বিরুদ্ধে এখন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে।
  • সদ্য লন্ডন থেকে সেখানেও ‘মব’ ইস্যুতে একটি পুলিশি জটিলতার জন্ম দিয়ে দেশে ফিরেই সংসদ গরম করেছেন!

আন্দোলনের সময়ে ১০ নম্বর জার্সি পরে তিনি পরিচিতি পেয়েছিলেন। তার বিরুদ্ধে এখন সুযোগসন্ধানী রাজনীতি ও মব সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে।

সদ্য লন্ডন থেকে সেখানেও ‘মব’ ইস্যুতে একটি পুলিশি জটিলতার জন্ম দিয়ে দেশে ফিরেই সংসদ গরম করেছেন! এই তরুণ নেতা যাকে দেশের সর্বত্র জানে চিনে কালাপাঠা ও অনেকের মতে টোকাই, সেই টোকাই দেহমনে বেশ বলিষ্ঠ! আর তাই কণ্ঠেও বেশ ‘উত্তাপ’ ছড়ান। যেখানে যান, সেখানেই তিনি নিজের শরীরের ‘গরম’ ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন! শরীর আর কণ্ঠের জোরে সব জয় করতে চান! উনি হয়তো ধরেই নিয়েছেন যে ঠাণ্ডা মাথার কাজ কম; মাথা গরম তো শরীরও গরম। আর গরম শরীরে সব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়; নিজে গরম থাকবেন, কিন্তু অন্যকে ‘ঠাণ্ডা’ করতে পারবেন! তারুণ্যের এই গরম শরীর নিয়ে তিনি যখন জুলাইয়ের আন্দোলনে মাঠ কাঁপান, তখন সবাই তাঁকে খুব বিশ্বাস করে আন্দোলনে শরিক হয়েছিল। তরুণ শিক্ষার্থীরা তাঁকে ও তাঁর অন্য সঙ্গীদের ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ ভেবে ঘর ছেড়ে রাস্তায় নেমেছিল।

  প্রতিবেদনে উল্লিখিত তথ্য

কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহ ২০২৪ সালের জুলাইয়ের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে আসা তিনি একসময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অমর একুশে হলে অবস্থান করতেন। বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, তিনি অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

আন্দোলনের সময় ১০ নম্বর জার্সি পরে অংশ নেওয়ার কারণে তিনি ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তবে পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে সুযোগসন্ধানী রাজনীতি এবং ‘মব সন্ত্রাস’কে উৎসাহ দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এসব অভিযোগ তুলেছেন তাঁর আন্দোলনেরই কয়েকজন সাবেক সহযোদ্ধা।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিলেও তাঁর বিরুদ্ধে সংবাদকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ প্রয়োগের অভিযোগও সামনে আসে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP)-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, সময় টিভির কয়েকজন কর্মীর চাকরিচ্যুতির ঘটনায় তাঁর প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া তাঁর বিলাসী জীবনযাপন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় দেশের একটি শীর্ষ জাতীয় দৈনিককে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট সংবাদটি ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।

আন্দোলন হলো, জয় এলো। তাদের ‘মনমতো’ অন্তর্বর্তী সরকার হলো। আর রাতারাতি বদলে যেতে থাকল সবকিছু। ব্যক্তিস্বাধীনতা, ভিন্নমত, বৈষম্যহীন শোষণমুক্ত সমাজ, ছাত্রদের অধিকার ইত্যাদি যত দাবিদাওয়া সামনে রেখে আন্দোলন হয়েছিল; সব মেবালুম ভুলে গিয়ে বিরোধী মত দমনের কঠিন মিশন নিয়ে চলতে শুরু করলেন।

তাঁর শরীর আর পেশি যে কত গরম, তা বুঝতে শুরু করল দেশবাসী। ঠাণ্ডা মাথার আর কোনো কাজই নেই! হাসনাত মানেই যেন হুমকি-ধমকি!

কি গণমাধ্যম, কি পুলিশ-সেনাবাহিনী, কি সুধী-শিল্পী-বাউল-মুক্তিযোদ্ধা—সবাইকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার নতুন সংস্কৃতির বিস্তার ঘটতে থাকল শিগগিরই। কিছু হলেই একে-তাকে উড়িয়ে দেওয়ার হুংকার। দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাকারী সেনাবাহিনীকেও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতে পিছপা হননি এই তরুণ।

অথচ যখনই সংকটে পড়েছেন কিংবা মানুষের রোষানলে পড়েছেন, তখনই তাঁকে (কনির) হাত থেকে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ।

কাউকে ‘শায়েস্তা’ করার কথা মনে হলেই ভিন্ন চোহারা ধারণ করেন এই টোকাই হাসনাত! চোখ-মুখ বাঁকিয়ে গগনবিদারী হুংকার যাকে বলে! যাকে-তাকে দেওয়া তাঁর হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতির নমুনা দেখে সাধারণ মানুষও বুঝতে শুরু করল যে অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষার জন্ম দেওয়া এই টোকাই হাসনাতরা আসলে মানুষের কোনো অধিকার নয়, বরং নিজেদের আখের গোছাতে মানুষকে ভুল বুঝিয়ে আন্দোলনে নামিয়ে, সব ভুলে এখন তারা ক্ষমতার স্বাদ নেওয়া, সামাজিক মূল্যবোধের ভিত নাড়িয়ে দেওয়া, মুক্তিযুদ্ধ, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির শত সহস্র বছরের অর্জনকে ভূলুণ্ঠিত করতেই এতসব আয়োজন সম্পন্ন করেছেন। হাসনাতের মধ্যে আগামী দিনের নেতৃত্বের যে সম্ভাবনা ও গুণাবলি ছিল, তার অপব্যবহার করতে সময় লাগেনি। যখনই একচ্ছত্র ক্ষমতা হাতে চলে আসে, তখন থেকেই হাসনাত নিজের মতকেই সব মতের ঊর্ধ্বে তুলে ধরতে শুরু করেন। ‘নিজের মতই সেরা মত’—এই মন্ত্রে উজ্জীবিত হাসনাত নিজের নেতৃত্বগুণকে কাজে লাগিয়ে সারা দেশে ‘মব সন্ত্রাস’কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে যান!

গ্রামের একজন রাজমিস্ত্রির সন্তান হয়ে নিজেকে ‘প্রলেতারিয়েত’ শ্রেণির অংশ ভাবা সেই টোকাই হাসনাত রাতারাতি ‘বুর্জোয়া’ মানসিকতা রপ্ত করতে থাকেন! গাড়ি আর টাকার নেশাও পেয়ে বসে তাঁকে।

কেমনে কেমনে যেন সব চলে আসে হাতের নাগালে। কোটি কোটি টাকার বরাদ্দ চোখের পলকে তাঁর হাতে এসে ধরা দেয়। অথচ প্রশ্নও তোলা যায় না। যিনি প্রশ্ন করবেন তখনই চোখ-রাঙানি! কার ঘাড়ে কত মাথা যে হাসনাতের মব সন্ত্রাসের ভীতির মধ্যে এসব নিয়ে প্রশ্ন করে? কুমিল্লা জেলা পরিষদের ২৫ কোটি টাকার বরাদ্দ চোখের ইশারায় হাসনাত আর আরেক এনসিপি নেতা আসিফ মিলেঝিলে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা স্থানীয় জেলা পরিষদ প্রশাসক মুস্তাক মিয়া মুখ ফসকে বলে ফেলার পর হাসনাতের চোখ-রাঙানিতে সব ঠাণ্ডা। বিরোধী দলকে শায়েস্তা করার প্রসঙ্গে একবার শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘দুইটা হোন্ডা, ছয়জন গুণ্ডা, বিরোধী দল ঠাণ্ডা। ’ অনেকটা ওই রকম আর কি! দেশে মব সন্ত্রাসকে সামনে থেকে উচ্চে তুলে ধরার কারিগর হাসনাত আবদুল্লাহ সময়ের সঙ্গে সংসদ সদস্যও হলেন। কিন্তু মবকে এখনো ‘না’ বলতে পারেননি। দেশজুড়ে মব দিয়ে সব হাসিল করে শিখে গেছেন এটিই সময়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার, যা ব্যবহার করে যাকে প্রয়োজন ঠাণ্ডা করে রাখা যাবে! কিছু হলেই সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানকে জিম্মি করে কাজ হাসিল করে নেওয়ার অভিনব কৌশল তিনি ভালোই রপ্ত করে নেন অন্তর্বর্তীর দুই বছরে। এটি এখন সংসদ সদস্য হয়ে যাওয়ার পর ভুলে যেতে পারতেন! কিন্তু না, সেই পথে যাননি তিনি। সুযোগ পেলে পার্লামেন্টকেও ‘শাহবাগ’ বানিয়ে ফেলেন, যদিও তাঁর আরেক সহকর্মীকে এরই মধ্যে পার্লামেন্টকে শাহবাগ না বানানোর বিষয়টি স্পিকারের আসন থেকে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়।

জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী গত দুই বছরের বিভিন্ন ঘটনাপরম্পরা বিশ্লেষণ করে আরো জানা যায়, সমন্বয়ক হিসেবে আন্দোলনের মাঠে নেতৃত্ব দিলেও ক্ষমতার কেন্দ্রে আসার পর তাঁর বিরুদ্ধে ‘মব সংস্কৃতি’ বা উসকানিমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে সরব থাকার কথা থাকলেও গণমাধ্যমকর্মীদের চাকরিচ্যুতিতে চাপ প্রয়োগ এবং বিলাসবহুল জীবন নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করায় একটি জাতীয় দৈনিককে হুমকির অভিযোগ তাঁর ভাবমূর্তিকে আগেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সমালোচকদের ‘আওয়ামী দোসর’ বা ‘ভারতের দালাল’ আখ্যা দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের সংস্কৃতিকেও অনেকে গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছেন।

টোকাই হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার যে অভিযোগটি উঠেছে, তা বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বেশ গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হচ্ছে। যদিও তিনি আন্দোলনের সময় ন্যায়বিচারের কথা বলতেন, কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাঁর কর্মকাণ্ডে সেই ন্যায়বিচারের ধারণার পরিবর্তে মব সংস্কৃতি বা গণপিটুনিসদৃশ রাজনৈতিক আচরণের ছাপ পাওয়া গেছে বলে সমালোচকদের অভিমত।

কালাপাঠা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযোগ হলো, তিনি ও তাঁর অনুসারীরা রাজনৈতিকভাবে ভিন্নমত পোষণকারী বা সমালোচনাকারীদের ওপর সরাসরি হামলা না করে বরং তাঁদের সামাজিকভাবে ‘ট্যাগিং’ করে কোণঠাসা করেন। বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বা তাঁর সমর্থকরা যাঁদের পছন্দ করেন না, তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে আওয়ামী দোসর, ভারতের দালাল বা ফ্যাসিবাদী শক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন। এই ধরনের আখ্যা দেওয়ার ফলে ওই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে জনরোষ তৈরি হয়, যা পরোক্ষভাবে মব ভায়োলেন্স বা গণপিটুনির ক্ষেত্র প্রস্তুত করে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় কথা বলার পরিবর্তে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগ এসেছে। নির্দিষ্ট কোনো সংবাদমাধ্যম বা সাংবাদিক তাঁর বিলাসী জীবনধারা বা দুর্নীতির খতিয়ান নিয়ে প্রতিবেদন করলে সেখানে সরাসরি আইনি পথে না গিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উসকানি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ওই সাংবাদিক বা প্রতিষ্ঠানটি সামাজিক হেনস্তার শিকার হয় এবং এক পর্যায়ে সংবাদ সরিয়ে নিতে বাধ্য হয়। এটি পরোক্ষভাবে গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধের একটি মব পদ্ধতি হিসেবে গণ্য হচ্ছে।

কুমিল্লাসহ বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ, বিশেষ করে বিএনপি বা অন্যান্য দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে তাঁর দেওয়া বক্তব্যগুলোকে অনেকেই ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে দেখেন। তিনি যখন জনসভায় বলেন যে কারো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার জায়গা থাকবে না, তখন তাঁর সমর্থক গোষ্ঠী বা স্থানীয় ক্যাডাররা সেই বক্তব্যকে পুঁজি করে ভীতি প্রদর্শনের পথ বেছে নেয়। সমালোচকদের মতে, তিনি সরাসরি লাঠিয়াল বাহিনী ব্যবহার না করলেও তাঁর বক্তৃতার উত্তাপ মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মব সন্ত্রাসে উসকানি দেয়।

মব সন্ত্রাসের অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া। হাসনাত আবদুল্লাহর কর্মকাণ্ডে অনেক ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণের বদলে আন্দোলনের নাম ভাঙিয়ে তাৎক্ষণিক বিচার বা শাস্তির সংস্কৃতিকে উৎসাহিত করার অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে বা প্রশাসনিক এলাকায় গিয়ে নিজের প্রভাব খাটিয়ে কাউকে বরখাস্ত বা হেনস্তা করার প্রবণতা মব কালচারকে উসকে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে বড় ধরনের স্ববিরোধিতার অভিযোগ হলো, একদিকে তিনি প্রকাশ্য জনসভায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতা বা কর্মীদের ‘ফ্যাসিস্ট’ বা ‘টাকা খাওয়া’ গোষ্ঠী হিসেবে গালিগালাজ করছেন এবং মব উসকে দিচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁর বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়রের মতো বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে গোপনে সমঝোতার অভিযোগ রয়েছে। সমালোচকদের মতে, এই দ্বিমুখী নীতি প্রমাণ করে যে মব সন্ত্রাস তাঁর জন্য একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার।

হাসনাত আবদুল্লাহর মতো সমন্বয়কদের বিরুদ্ধে মব সন্ত্রাস উসকে দেওয়ার যে অভিযোগগুলো উঠেছে, তা শুধু ব্যক্তিগত আচরণের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, এই প্রবণতা ডালপালা মেলার পেছনে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অভাব এবং পরোক্ষ প্রশ্রয় একটি বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে।

মব সন্ত্রাস যখনই কোনো এলাকায় মাথাচাড়া দিয়েছে, সরকার সেগুলোকে কঠোর হাতে দমন করার পরিবর্তে অনেক ক্ষেত্রে নীরবতা পালন করেছে। হাসনাত আবদুল্লাহ বা তাঁর মতো নেতাদের উসকানিমূলক বক্তব্যের পর যখন মাঠ পর্যায়ে সহিংসতা বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটেছে, তখন প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান আইনি ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, হাসনাত আবদুল্লাহর এই আচরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত হুমকিস্বরূপ। প্রথমত, এটি ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। দ্বিতীয়ত, আইনের শাসন থমকে যায়। তৃতীয়ত, সমন্বয়কদের প্রতি আস্থা কমে যায়। সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণ, যারা জুলাই বিপ্লবের সময় তাঁদের ওপর আস্থা রেখেছিল, তারা এখন এই মব সংস্কৃতির চর্চায় চরম হতাশ ও বিরক্ত।

গণমাধ্যম বা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে যখন বারবার হাসনাত আবদুল্লাহর বিতর্কিত জীবনযাপন, ক্ষমতার অপব্যবহার বা মব কালচার নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, তখন সরকার সেটিকে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখেছে। কিন্তু সুধীসমাজ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি একটি পরিকল্পিত ‘রাজনৈতিক কৌশল’, যেখানে মব ভায়োলেন্সকে ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে দমানো হচ্ছে। সরকারের এই প্রশ্রয়ই আজ হাসনাত আবদুল্লাহকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে তিনি যেকোনো রাজনৈতিক দল, সরকারি সংস্থা, প্রতিষ্ঠান, এমনকি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধেও উসকানিমূলক মন্তব্য করার সাহস পাচ্ছেন।

মোটাদাগে বলতে গেলে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযোগ হলো, তিনি আন্দোলনের সময় যে স্বৈরাচারবিরোধী অবস্থানের কথা বলতেন, আজ তিনি নিজেই সেই ক্ষমতার দাপট ব্যবহার করে ভিন্নমত দমন এবং মব কালচারকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

তনু হত্যা মামলায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:১৫ পিএম
তনু হত্যা মামলায় দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ

জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের অবস্থান শনাক্তে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা

কুমিল্লার আলোচিত সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. জাহিদুজ্জামান ও মো. শাহীন আলমের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থা (ইন্টারপোল)।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে এ রেড নোটিশ জারি করে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে দুজনকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ অভিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দৈনিক আজকের কথা
ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারির মাধ্যমে পলাতক দুই অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত ও তাদের আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া আরও এগিয়ে গেল।
— তরিকুল ইসলাম
পরিদর্শক ও তনু হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, পিবিআই।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, তনু হত্যা মামলার তদন্তের একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের প্রয়োজন দেখা দেয়। তবে বর্তমানে জাহিদুজ্জামান ও শাহীন আলমের অবস্থান অজ্ঞাত এবং তারা পলাতক রয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, ঘটনার সময় জাহিদুজ্জামান কুমিল্লা সেনানিবাসে সার্জেন্ট এবং শাহীন আলম সৈনিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক তারিকুল ইসলাম জানান, গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জের নিজ বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য হাফিজুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি বর্তমানে কুমিল্লা কারাগারে রয়েছেন। হাফিজুর রহমান সেনাবাহিনীর সাবেক সিনিয়র ওয়ারেন্ট অফিসার এবং ২০২৩ সালে অবসর নেন। তনু হত্যাকাণ্ডের সময় তিনিও কুমিল্লা সেনানিবাসে কর্মরত ছিলেন।

পলাতক দুই অভিযুক্তকে আন্তর্জাতিকভাবে শনাক্ত, তাদের অবস্থান নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট দেশের আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পিবিআইয়ের অনুরোধে বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবি-ঢাকা ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া শুরু করে। প্রয়োজনীয় তথ্য ও নথি যাচাই শেষে ইন্টারপোল তাদের বিরুদ্ধে পৃথক রেড নোটিশ জারি করে।

রেড নোটিশের মাধ্যমে ইন্টারপোলের সদস্যদেশগুলোর আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের শনাক্ত ও অবস্থান নির্ণয়ে পারস্পরিক পুলিশি সহযোগিতা করতে পারবে। কোনো দেশে তাদের অবস্থান শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট দেশের আইন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার কাঠামো অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

যেভাবে হত্যা করা হয় তনুকে

২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি সোহাগী জাহান তনু। পরে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়।

পরদিন তনুর বাবা ও তৎকালীন ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল ও ১২ জুন দুই দফা ময়নাতদন্তে তনুর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ পাওয়া যায়নি বলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগ জানায়।

বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ

এবিএম আতিকুর রহমান বাশার, বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:০৭ পিএম
দেবীদ্বারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের খবরে শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ

“মেয়াদোত্তীর্ণ, অনিবন্ধিত ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রি থেকে ফার্মেসি মালিকদের বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র সংরক্ষণ ও নির্ধারিত রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখা জরুরি।”

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবৈধ, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল বিক্রির বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের খবর পেয়ে নিউমার্কেট এলাকার শতাধিক ফার্মেসি বন্ধ করে মালিকরা সরে পড়েন। পরে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়ে ৮টিতে অনিয়ম পাওয়ায় মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দেবীদ্বার পৌরসভার নিউমার্কেট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

খোলা ১৫টির ৮টিতে অনিয়ম, জরিমানা ৪৬ হাজার; বাসকেও ৫ হাজার টাকা দণ্ড

দেবীদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে নিউমার্কেটের মোট ১১৮টি ফার্মেসির মধ্যে খোলা থাকা ১৫টি ফার্মেসি পরিদর্শন করা হয়। এর মধ্যে ৮টি ফার্মেসিতে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ এবং ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল পাওয়া যায়।

পরে ঔষধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩-এর প্রযোজ্য ধারায় সংশ্লিষ্ট ৮টি ফার্মেসিকে মোট ৪৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

দৈনিক আজকের কথা
অভিযানের খবর পেয়ে যেসব ফার্মেসি মালিক দোকান বন্ধ করে পালিয়েছেন, তাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও অভিযানে সহযোগিতা না করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তাদের শোকজ করা হবে।
— মো. ফয়সল উদ্দিন
সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, দেবীদ্বার।

অভিযানকালে কুমিল্লা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. ফখরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। দেবীদ্বার থানা পুলিশ ও আনসার সদস্যদের একটি দল অভিযানে সহযোগিতা করে।

এদিকে, নির্ধারিত স্থানে বাস পার্কিং না করে সড়কে যানজট সৃষ্টির দায়ে এমএইচ ও নিউ সুগন্ধা পরিবহনের দুটি যাত্রীবাহী বাসকে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর প্রযোজ্য ধারায় মোট ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফার্মেসি মালিকদের অ্যান্টিবায়োটিক বিক্রির ক্ষেত্রে চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট রেজিস্টার নিয়মিত হালনাগাদ রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে অবৈধ, অনিবন্ধিত, ঔষধ কোম্পানির স্যাম্পল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রি না করার জন্য সতর্ক করা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, ঔষধের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং সড়কে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:২৮ এএম
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়াম উন্নয়নে ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ

আধুনিক প্যাভিলিয়ন, ড্রেনেজ ও উন্নত মাঠ পাবে ক্রীড়াঙ্গন

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। উপজেলা সদরের মিনি স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রায় ৬ কোটি টাকার প্রাক্কলন অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশনের সমাজকল্যাণ অবকাঠামো বিভাগ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পাশাপাশি মিনি স্টেডিয়ামটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়া কমপ্লেক্সে রূপ নেবে।

দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়নে ৬ কোটি টাকার এই বরাদ্দ নিঃসন্দেহে আমাদের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য একটি বড় অর্জন। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন স্টেডিয়াম হলে এলাকার তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহ বাড়বে এবং এখান থেকেই জাতীয় পর্যায়ের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় উঠে আসবে। তাই প্রকল্পের কাজ দ্রুত ও মানসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
— সৈয়দ এস এম কায়েস মীর
সভাপতি, দারোরা দীনেশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় ও বিশিষ্ট সমাজসেবক

অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় প্রথমেই ভূমি ও খেলার মাঠের উন্নয়ন করা হবে। মাঠে দোআঁশ মাটি ভরাট, মানসম্মত ঘাস লাগানো, নেটসহ দুটি গোলপোস্ট স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় ইটের গাঁথুনির কাজ করা হবে।

প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে ৭০ ফুট বাই ৪০ ফুট আয়তনের দুইতলা আধুনিক প্যাভিলিয়ন ভবন। শক্তিশালী পাইলিং ফাউন্ডেশনের ওপর নির্মিত ভবনটিতে থাকবে অফিস কক্ষ ও আধুনিক টয়লেট ব্লক। ভবনের সামনে দর্শনার্থীদের চলাচলের সুবিধা ও নান্দনিকতা বাড়াতে নির্মাণ করা হবে ১০ ফুট চওড়া স্ট্যাম্পড প্লাজা।

স্টেডিয়ামের সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে প্যাভিলিয়ন ভবনের ওপর এমএস পাইপ ও প্রোফাইল শিটের সমন্বয়ে স্টিলের দৃষ্টিনন্দন ছাউনি নির্মাণ করা হবে। পাশের অংশে থাকবে গ্যালভালুম ক্ল্যাডিং এবং দর্শকদের জন্য বসার সুব্যবস্থা।

দৈনিক আজকের কথা
মুরাদনগর মিনি স্টেডিয়ামের উন্নয়ন শুধু একটি অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়; এটি আমাদের নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর ক্রীড়া পরিবেশ তৈরির উদ্যোগ। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হলে এলাকার অসংখ্য প্রতিভাবান তরুণ নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ পাবে।
— মো. হাবিবুর রহমান
সভাপতি, মুরাদনগর উপজেলা প্রেসক্লাব।

খেলোয়াড়দের সুবিধার জন্য প্যাভিলিয়ন ভবনে প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সরবরাহের পাশাপাশি পুরো স্টেডিয়ামে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে প্রকল্পে।

এদিকে, মিনি স্টেডিয়ামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে পুরো এলাকা ঘিরে আরসিসি ও সারফেস ড্রেন নির্মাণ করা হবে। ফলে বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি জমে থাকার সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী ও উদীয়মান খেলোয়াড়রা এ উদ্যোগে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, উন্নয়নকাজ দ্রুত শেষ হলে মুরাদনগরের তরুণরা আধুনিক পরিবেশে নিয়মিত অনুশীলনের সুযোগ পাবেন। এতে স্থানীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক ও জাতীয় পর্যায়ে ক্রীড়াবিদ তৈরির পথও আরও সুগম হবে।

×
ENG