

এনসিপির ছকবাঁধা ষড়যন্ত্র? জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) পাঁচ শীর্ষ নেতার আকস্মিক কক্সবাজার সফর ঘিরে দেশজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কেন্দ্রের অনুমতি ছাড়াই তারা কক্সবাজারে গেছেন, বিলাসবহুল হোটেলে উঠেছেন এবং রহস্যজনকভাবে গোপনে হোটেল পরিবর্তন করেছেন।
বুধবার (০৬ আগস্ট) দুপুরে সাদা রঙের ভিআইপি গাড়িতে করে নেতারা সি-পার্ল রিসোর্ট ত্যাগ করেন। এরপর কলাতলীর শালিক রেস্টুরেন্টে খাওয়া শেষে ‘প্রাসাদ প্যারাডাইস’ হোটেলে উঠেন—গোপনে। প্রশাসন ও দলীয় নেতারা বিষয়টি প্রথমে বুঝতেই পারেননি।

কক্সবাজারে অবস্থানকারী এনসিপির পাঁচ শীর্ষ নেতা হোটেলে ত্যাগ করার চিত্র। ছবি : আজকের কথা
মঙ্গলবার (০৫ আগস্ট) সকাল ১১টা ২৫ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের ফ্লাইটে কক্সবাজারে নামেন এনসিপির শীর্ষ পাঁচ নেতা—হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, ডা. তাসমিন জারা, নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী ও খালেদ সাইফুল্লাহ। ইনানীর সি-পার্ল রিসোর্টের ৫০০১–৫০০৩ নম্বর কক্ষে তারা অবস্থান নেন।
তাদের এই সফরকে কেন্দ্র করে গুঞ্জন উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে গোপন বৈঠক হয়েছে। যদিও হোটেল ও নিরাপত্তা সূত্র একে গুজব বলেই দাবি করছে।
তবে এনসিপির গোপন এজেন্ডা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন দলীয় নেতারাই। কেন্দ্র থেকে ৫ জন নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলা পুলিশ কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজার এয়ারপোর্টে তাদের নামে ফেরার কোনো বুকিং নেই। এনসিপির নেতাদের গোপন কার্যকলাপ ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করাকে দলীয় শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনসিপির ছকবাঁধা ষড়যন্ত্র নিয়ে এখন জাতীয় রাজনীতিতে চলছে তীব্র বিতর্ক।