মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

আপসহীন সাংবাদিকতার দীর্ঘ যাত্রা

অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় দুই দশকের পথচলা: মুরাদনগরের পরিচিত মুখ শরিফুল আলম চৌধুরী

আজকের কথা ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬, ৩:৫৯ এএম
মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। ছবি : আজকের কথা

সংবাদের মূল সারসংক্ষেপ

  • দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন কুমিল্লার মুরাদনগরে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী।
  • প্রায় আড়াই দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, দুর্নীতি, সামাজিক অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন।
  • প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক ১৯৯৯ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশায় সক্রিয় রয়েছেন শরিফুল আলম চৌধুরী।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবন

কুমিল্লার মুরাদনগরে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় স্থানীয় সমস্যা তুলে ধরা এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে পরিচিতি পেয়েছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী। প্রায় আড়াই দশকের সাংবাদিকতা জীবনে তিনি স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, দুর্নীতি, সামাজিক অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের অধিকার সংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে সংবাদ প্রকাশ করে আলোচনায় এসেছেন।

    প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ দিক
  • ১৯৯৯ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশায় সক্রিয় রয়েছেন শরিফুল আলম চৌধুরী।
  • জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের মাধ্যমে স্থানীয় নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরেছেন।
  • বর্তমানে দৈনিক আজকের কথা-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
  • ২০২০ সালের আলোচিত হামলার পরও নির্ভীকভাবে সাংবাদিকতা চালিয়ে যাচ্ছেন।
  • মুরাদনগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
  • জনস্বার্থ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতাকে অগ্রাধিকার দিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে দায়িত্ব পালন করেছেন। মাঠপর্যায়ের সাংবাদিক হিসেবে তিনি তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধান এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করেছেন। বর্তমানে তিনি অনলাইন সংবাদমাধ্যম দৈনিক আজকের কথা-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

১৯৯৯ সালে সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা করেন শরিফুল আলম চৌধুরী। শুরু থেকেই মফস্বলের বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় দৈনিক সংবাদসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজের সুযোগ পান। পরে জাতীয় দৈনিক সমকাল-এর মুরাদনগর উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করেন।

স্থানীয় পর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহের পাশাপাশি সাংবাদিকদের পেশাগত অধিকার প্রতিষ্ঠায়ও ভূমিকা রাখেন তিনি। মুরাদনগর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের মধ্যে পেশাগত ঐক্য, প্রশিক্ষণ এবং সংগঠনকে আরও সক্রিয় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের জন্য একাধিকবার বিভিন্ন মহলের চাপ, হুমকি ও প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার অভিজ্ঞতাও রয়েছে তাঁর। স্থানীয় পর্যায়ে অনিয়ম, দুর্নীতি ও জনভোগান্তির বিভিন্ন বিষয় ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরার কারণে একাধিকবার আলোচনায় আসেন তিনি।

২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় সরকারি ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর একটি বহুল আলোচিত হামলার শিকার হন শরিফুল আলম চৌধুরী। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর প্রকাশিত প্রতিবেদনের জের ধরে একদল দুর্বৃত্ত তাঁর বাড়িতে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় তিনি ছাড়াও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আহত হন। ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি করে এবং সাংবাদিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।

হামলার পর বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন, মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিও জানানো হয়। তবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সাংবাদিকতা থেকে সরে না গিয়ে তিনি আবারও সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের কাজে ফিরে আসেন।

সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি গণমাধ্যম উদ্যোক্তা হিসেবেও কাজ করছেন। ডিজিটাল সংবাদ পরিবেশনের প্রসারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন অনলাইন নিউজ পোর্টাল দৈনিক আজকের কথা। স্থানীয় সংবাদকে জাতীয় পরিসরে পৌঁছে দেওয়া, প্রান্তিক মানুষের কথা তুলে ধরা এবং দ্রুত সংবাদ প্রকাশে এই প্ল্যাটফর্ম কাজ করে যাচ্ছে।

জনসেবার লক্ষ্য নিয়েও তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেছেন। ২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাচাই-বাছাইয়ে প্রাথমিক জটিলতা সৃষ্টি হলেও নির্বাচন কমিশনের আপিলে তাঁর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করা হয়।

স্থানীয় সাংবাদিকদের মতে, মফস্বল সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা। সেই বাস্তবতায় দীর্ঘ সময় ধরে সংবাদপেশায় টিকে থাকা এবং নিয়মিত মাঠপর্যায়ে কাজ করে যাওয়া নিজেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সহকর্মীদের ভাষ্য, শরিফুল আলম চৌধুরী সংবাদ সংগ্রহে মাঠমুখী, নিয়মিত এবং জনস্বার্থের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করে থাকেন। স্থানীয় মানুষের নানা সমস্যা, অবকাঠামোগত সংকট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আইন-শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক অনিয়ম নিয়ে তাঁর প্রকাশিত বহু প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

ডিজিটাল যুগে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সাংবাদিকতার গুরুত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং তথ্য যাচাইভিত্তিক সংবাদ প্রকাশের ওপরও তিনি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অভিজ্ঞতা, মাঠপর্যায়ের কাজ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে ধারাবাহিক সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী মুরাদনগর অঞ্চলের সাংবাদিক অঙ্গনে একটি পরিচিত মুখ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। ভবিষ্যতেও বস্তুনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার মাধ্যমে মানুষের আস্থা ধরে রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদের জন্য যুক্ত থাকুন:
সম্পাদকীয় নোট

প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভিত্তিতে প্রস্তুত ও পুনর্লিখন করা হয়েছে। নতুন বা ভিন্ন কোনো তথ্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনটি হালনাগাদ করা হবে।

মোহাম্মদ শরিফুল আলম চৌধুরী

সম্পাদক- দৈনিক আজকের কথা
0 0 votes
রেটিং দিন।
Subscribe
Notify of
guest
0 মন্তব্যসমূহ
Oldest
Newest Most Voted
এলাকার খবর

বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:২৮ এএম
বাঙ্গরায় একই নারীর সঙ্গে প্রেমের বিরোধ, মামাকে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগে ভাগনে গ্রেপ্তার

কুমিল্লার মুরাদনগরে একই নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে বিরোধের জেরে মামা মাসুদ মিয়াকে (৪০) ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর আপন ভাগনে মিলন মিয়া ওরফে শিপন মিয়ার (২৩) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিপনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার কোড়েরপাড় গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন রোববার সকালে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

নিহত মাসুদ মিয়া কোড়েরপাড় গ্রামের মৃত হাসন আলীর ছেলে। তিনি নিজ গ্রামে ভাঙারির ব্যবসা করতেন। অভিযুক্ত শিপন মিয়া একই উপজেলার কুরবানপুর গ্রামের আনিস মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার রাতে মাসুদ মিয়া নিজের দোকানের পাশের একটি মুদিদোকানে গেলে শিপন তাঁকে সেখান থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু দূরে যাওয়ার পর তাঁকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করা হয়। এ সময় ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে শিপন পালিয়ে যান। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই মাসুদের মৃত্যু হয়।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে মাসুদের স্ত্রী তাঁদের তিন সন্তানকে রেখে তাঁকে ছেড়ে চলে যান। এরপর থেকে মাসুদ নিজের ভাঙারির দোকানেই রাত কাটাতেন। প্রায় দুই বছর আগে মুরাদনগরের শ্রীকাইল ইউনিয়নের একটি গ্রামের দুই সন্তানের জননী এক বিধবা নারীর সঙ্গে মুঠোফোনে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদের বড় ভাইয়ের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগমের দাবি, ওই নারীর সঙ্গে মামার সম্পর্কের বিষয়টি জানার পর শিপন কৌশলে তাঁর কাছ থেকে নারীর মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করেন। পরে শিপনও ওই নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে মামা-ভাগনের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

পরিবারের দাবি, প্রায় ১৫ দিন আগে ওই নারীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্দেশ্যে শিপন তাঁর মামার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের অভিযোগ তোলেন। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২০ অক্টোবর মাসুদ শিপনকে মারধর করেন। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, ওই বিরোধের জেরেই মাসুদকে হত্যা করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহতের বোন সুফিয়া বেগম রোববার বিকেলে বাঙ্গরা বাজার থানায় হত্যা মামলা করেন।

বাঙ্গরা বাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, একই নারীর সঙ্গে মামা-ভাগনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে।

তিনি আরও বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানার কুটি ভাঙ্গানগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিপনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হত্যায় ব্যবহৃত ছুরি উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে। হত্যা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবিতে রোববার সকালে বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের নিয়ে বিস্ফোরক অভিজ্ঞতা জানালেন কাজী শাহ আরেফীন

শপথের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপদে রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন দাবি করে তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও রাজনৈতিক বিরোধে ব্যক্তিগত সম্মান বজায় রাখার আহ্বান

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের শপথ অনুষ্ঠানের আগের রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের নিরাপত্তার জন্য তাঁদের থাকার ব্যবস্থা করেছিলেন বলে দাবি করেছেন কাজী শাহ আরেফীন। ওই রাতের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, সংকটে কেউ সহযোগিতা করলে পরবর্তীতে মতবিরোধ তৈরি হলেও তার প্রতি কৃতজ্ঞতা ও সম্মান বজায় রাখা উচিত।

সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন এসব কথা লেখেন। তিনি ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের ছোট ভাই।

পোস্টে কাজী শাহ আরেফীন দাবি করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের আগের দিন কে এম নাজমুল হক তাঁকে ফোন করে জানান, ছাত্রদের পক্ষ থেকে যাঁরা উপদেষ্টা হবেন, তাঁদের নিরাপত্তার জন্য লন্ডন থেকে নির্দেশনা এসেছে। সে কারণে তাঁদের ওই রাতে নিরাপদ স্থানে রাখার ব্যবস্থা প্রয়োজন। তখন তিনি তাঁদের নির্দিষ্ট ঠিকানায় নিয়ে আসতে বলেন এবং নিজের লোকজনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন।

তিনি লেখেন, নাজমুলের অনুরোধ সত্ত্বেও ওই রাতে ছাত্র প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করা বা পরিচিত হওয়ার আগ্রহ তাঁর ছিল না। তাঁদের দেখাশোনার জন্য একটি দল দায়িত্বে ছিল এবং আপ্যায়নে কোনো কমতি রাখা হয়নি বলেও তিনি দাবি করেন।

কাজী শাহ আরেফীনের বর্ণনা অনুযায়ী, পরদিন টেলিভিশনে শপথ অনুষ্ঠান দেখার সময় দায়িত্বে থাকা দলের একজন নেতা তাঁকে জানান, আগের রাতে যাঁদের দেখাশোনা করা হয়েছিল, তাঁরা চলে যাওয়ার সময় ধন্যবাদ জানানো তো দূরের কথা, টয়লেটের স্যান্ডেল ও কম্বলও নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে পোস্টে এ ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়নি।

পোস্টে তিনি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, তারেক রহমান তাঁদের বিভিন্নভাবে আগলে রেখেছিলেন ও সহায়তা করেছিলেন বলে তাঁর বিশ্বাস। সেই সহযোগিতার কথা স্বীকার না করলেও তাঁকে হেয় করে কথা বলা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

রাজনীতি নিয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে কাজী শাহ আরেফীন বলেন, রাজনৈতিক মতবিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু সেটিকে ব্যক্তিগত শত্রুতায় পরিণত করা ঠিক নয়। তাঁর ভাষায়, মতের বিরোধ থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কের জায়গায় সম্মান বজায় রাখা উচিত।

পোস্টের শেষাংশে তিনি ইংরেজিতে লেখেন, কেউ সংকটে সহযোগিতা করার পর পরবর্তীতে কষ্ট দিলেও তার আগের উপকার মনে রাখা উচিত। প্রতিশোধ না নিয়ে মর্যাদা বজায় রেখে দূরে সরে যাওয়াই শ্রেয়।

কাজী শাহ আরেফীনের এই পোস্টে অন্তর্বর্তী সরকারের শপথের আগের রাতের অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক কৃতজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের মর্যাদা রক্ষার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

আজকের কথা ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:২১ পিএম
‘অনারিয়াম’ নামের আড়ালে টাকা আদায়ের অভিযোগ, চাপে কুমিল্লার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধানরা

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারের বিরুদ্ধে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও বিভিন্ন প্রশাসনিক কাজের নামে অর্থ দাবির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ‘অনারিয়াম’ নামে প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিচালক ও কার্যালয়ের গবেষণা কর্মকর্তা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর পরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে যায়। এ সময় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের প্রধানের কাছে ১০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাবি করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। কয়েকজন প্রতিষ্ঠানপ্রধান টাকা দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন। লাকসামের গণ উদ্যোগ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ পরিদর্শনের সময় ৩২ হাজার টাকা দাবি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির দাতা সদস্য আবুল কালাম মজুমদার। তাঁর দাবি, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে পরে চারজনের জন্য ২০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানপ্রধান অভিযোগ করেন, পরিদর্শনের সময় প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের আগেই তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। পরে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে ‘অনারিয়াম’ নামে অর্থ চাওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষকদের এমপিওভুক্তিসহ বিভিন্ন কাজে জনপ্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। এসব অর্থ গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলমের মাধ্যমে আদায় করা হয় বলে দাবি করেছেন এক প্রতিষ্ঠানপ্রধান।

অভিযোগের বিষয়ে সহকারী পরিদর্শক মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গবেষণা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো ঘুস বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত নন এবং তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়।

কুমিল্লা আঞ্চলিক পরিচালক অধ্যাপক মো. শহিদ উল্লা মজুমদারও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অর্থ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কার্যালয়ের কেউ এমন কাজ করে থাকলে প্রমাণ পাওয়া সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
ENG