নথি লুটেরও অভিযোগ
দুধ দিয়ে গোসল করে আ.লীগ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া চেয়ারম্যানকে ঘিরে তাণ্ডব, ইউপি সচিবকে পিটিয়ে আহত; ৩৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

দেবীদ্বারের ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যানের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুরের পর ইউপি কার্যালয়ের চিত্র এবং দুধ দিয়ে গোসল করে আওয়ামী লীগ ছাড়ার ঘোষণা দেওয়া চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের সংগৃহীত ছবি। আজকের কথা
দুধ দিয়ে গোসল করা কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান মাসুদের পুনর্বহালকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, ভাঙচুর, ইউপি সচিবকে মারধর এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে ৩৮ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এ মামলায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার ৬ নম্বর ফতেহাবাদ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবু হানিফ রানা বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
কামরুজ্জামান মাসুদ ফতেহাবাদ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ কার্যক্রম) সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর তিনি দুধ দিয়ে গোসল করে আওয়ামী লীগ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে আলোচনায় আসেন। পরে জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে রুবেল হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হন এবং দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ, লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে সোমবার কামরুজ্জামান মাসুদের চেয়ারম্যান হিসেবে পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের সামনে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। একপর্যায়ে উত্তেজনার মধ্যে একদল ব্যক্তি ইউপি সচিব আবু হানিফ রানার কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করে। হামলাকারীরা চেয়ার-টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
খবর পেয়ে দেবীদ্বার থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত ইউপি সচিবকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একাধিক মামলার আসামি হয়ে কামরুজ্জামান মাসুদ দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। এ সময় তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিন মাসের ছুটিতে যান এবং ইউপি সদস্য মো. সালাউদ্দিন রুহুলকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দেন।
পরবর্তীতে উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে হাজির হলে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। প্রায় এক মাস আগে তিনি আবারও উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। পরে বিভাগীয় কমিশনারের কাছে আবেদন করলে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব ফিরে পান এবং সোমবার দায়িত্ব গ্রহণের কথা ছিল।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. সালাউদ্দিন রুহুল বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় ইউপি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও গণঅধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকেরা ইউপি সচিবের কক্ষে ঢুকে তাকে মারধর করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে কামরুজ্জামান মাসুদের চেয়ারম্যান পদে পুনর্বহাল হওয়া কঠিন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে কামরুজ্জামান মাসুদ বলেন, “বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশেই আমি আমার পদে যোগদান করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু মব সন্ত্রাসের আশঙ্কায় যেতে পারিনি। এখন প্রশাসন কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।”
মামলার বাদী ও হামলার শিকার ইউপি সচিব আবু হানিফ রানা বলেন, তিনি নিয়মিত দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনের জন্য কার্যালয়ে গেলে জাকির হোসেন ও মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি তার কক্ষে ঢুকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা কিল-ঘুষি, লাথি ও লাঠি দিয়ে মারধর করেন এবং একপর্যায়ে চেয়ার দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। হামলাকারীরা তাকে মেঝেতে ফেলে মারধরের পাশাপাশি অফিসের চেয়ার-টেবিলসহ আসবাবপত্র ভাঙচুর, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছিঁড়ে ফেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিপত্র নিয়ে যায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে থানায় মামলা দায়ের করেন।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “মামলা দায়েরের পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”
দেবীদ্বারে বিএনপির রাজনীতিতে চরম তোলপাড়: তারিখহীন চিঠিতে বিলুপ্ত সব ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটি

কুমিল্লার দেবীদ্বারে ওই উপজেলা বিএনপির অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিজ্ঞপ্তির মূল প্যাডে কোনো প্রকার ‘তারিখ’ ও ‘স্মারক/সূত্র নম্বর’ উল্লেখ না থাকায় বিষয়টি নিয়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে চরম তোলপাড় ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
সম্প্রতি দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন এবং সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলকে আরও গতিশীল ও পুনর্গঠন করার লক্ষ্যেই অধীনস্থ সকল ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটি একযোগে বিলুপ্ত করা হলো। বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবুল হাশেমের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।
তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিটিতে কোনো প্রকাশনার তারিখ উল্লেখ না থাকায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। নেতাকর্মীদের একাংশের মতে, দাপ্তরিক চিঠিতে তারিখ না থাকা সাংগঠনিক নিয়মরীতির স্পষ্ট ব্যাঘাত ঘটায়। অন্যদিকে, কমিটি বিলুপ্তির এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলা বিএনপির দায়িত্বশীলদের সূত্রে জানানো হয়েছে, দলকে আরও সুসংগঠিত করতে এবং নিষ্ক্রিয়তা দূর করতে শীঘ্রই নতুন প্রক্রিয়ায় এসব কমিটি পুনর্গঠনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে দেবীদ্বার উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জসিম উদ্দিন ও সদস্য সচিব আবুল কালাম আজাদের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাদের কোন সাড়া পাওয়া যায়নি।
২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী ৩২ সাবেক ডিসিকে বাধ্যতামূলক অবসর

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনকারী ৩২ জন সাবেক জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার।
সোমবার (২৭ জুলাই) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানায়। বর্তমানে তারা যুগ্ম সচিব পদমর্যাদায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী তাদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী ২৫ বছর চাকরিকাল পূর্ণ হওয়া কর্মকর্তাদের কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই অবসরে পাঠানোর ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী সব অবসর-সুবিধা পাবেন।
বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়া কর্মকর্তারা সবাই বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ২০তম ব্যাচের সদস্য। এর আগে ২০২৫ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তাদের বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল।
অবসরে পাঠানো কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— চাঁদপুরের মো. মাজেদুর রহমান খান, কুমিল্লার মো. আবুল ফজল মীর, কুষ্টিয়ার মো. আসলাম হোসেন, নেত্রকোনার মঈনউল ইসলাম, বান্দরবানের মোহাম্মদ দাউদুল ইসলাম, নাটোরের মো. শাহরিয়ার, শরীয়তপুরের কাজী আবু তাহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এ জেড এম নুরুল হক, ময়মনসিংহের মো. মিজানুর রহমান, চট্টগ্রামের মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন, লক্ষ্মীপুরের অঞ্জন চন্দ্র পাল, রাঙামাটির এ কে এম মামুনুর রশিদ, কক্সবাজারের মো. কামাল হোসেন, সুনামগঞ্জের মো. আব্দুল আহাদ, পাবনার মো. জসিম উদ্দিন, ঝিনাইদহের সরোজ কুমার নাথ, খাগড়াছড়ির মো. শহিদুল ইসলাম, ফেনীর মো. ওয়াহিদুজ্জামান, বরিশালের এস এম অজিয়র রহমান, ভোলার মোহাম্মদ মাসুদ আলম ছিদ্দিক, পটুয়াখালীর মো. মতিউল ইসলাম চৌধুরী, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, রাজশাহীর এস এম আব্দুল কাদের, মাগুরার মো. আলী আকবর, হবিগঞ্জের মাহমুদুল কবীর মুরাদ, কিশোরগঞ্জের মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, খুলনার মোহাম্মদ হেলাল হোসেন, শেরপুরের আনার কলি মাহবুব, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন, মানিকগঞ্জের এস এম ফেরদৌস এবং চুয়াডাঙ্গার গোপাল চন্দ্র দাশ।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে ভোটগ্রহণের আগের রাতে ব্যালটে সিল দেওয়ার অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। এ কারণেই নির্বাচনটি বিভিন্ন মহলে ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিতি লাভ করে।
কুমিল্লায় ভুয়া কর পরিদর্শক সেজে নির্বাচন অফিসে, আটক ২ প্রতারক

ভুয়া কর পরিদর্শক পরিচয় এবং জাল সনদ ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের চেষ্টা করতে গিয়ে কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে দুই প্রতারককে আটক করা হয়েছে। পরে তাদের কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে নগরীর ছোটরা এলাকায় অবস্থিত কুমিল্লা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে এ ঘটনা ঘটে।
আটকরা হলেন, চান্দিনা উপজেলার বামতিয়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদ এবং দেবীদ্বার উপজেলার ইউসুফপুর গ্রামের শামছুল হক।
নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, আবুল কালাম আজাদ নিজেকে কর পরিদর্শক পরিচয় দিয়ে অন্য এক ব্যক্তির জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য অফিসে আসেন। একই সময়ে শামছুল হক জাল সনদ ব্যবহার করে তার এক স্বজনের এনআইডি সংশোধনের চেষ্টা করেন। তাদের আচরণ ও উপস্থাপনায় সন্দেহ হলে নির্বাচন অফিসের কর্মকর্তারা জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে তারা প্রতারণার বিষয়টি স্বীকার করলে তাদের আটক করে কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, নির্বাচন অফিস থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর আটক দুজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।





















